শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
রাজনীতি ডাকসু নির্বাচন : প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে বন্ধুকে সমর্থন

ডাকসু নির্বাচন : প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে বন্ধুকে সমর্থন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাহিত্য সম্পাদক পদে এক আবেগঘন সিদ্ধান্ত নিলেন দুই প্রার্থী। আল আমিন ও সাইদুর রহমান শাহিন স্বেচ্ছায় প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে একই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বন্ধু রায়হান আহমেদ সিব্বিরকে সমর্থন জানিয়েছেন।

ফেসবুকে দেওয়া দীর্ঘ স্ট্যাটাসে আল আমিন লেখেন, যোগাযোগের অসামঞ্জস্যের কারণে তারা তিন বন্ধু একই পদে মনোনয়ন নিলেও শেষ পর্যন্ত ‘যোগ্যতমকে সমর্থন’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, ‘এখন আমাদের মধ্যে ‘মেধা ও নেতৃত্বগুণ’ উভয় দিক থেকেই সেরা রায়হানকে রেখে আমি আর শাহিন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছি। একের হয়ে এখন তিনে মিলে লড়ব।’

তিনি উল্লেখ করেন, রায়হানের জন্য পিছু হটার তিনটি প্রধান কারণ হলো— ১. সে সবার চেয়ে ভালো কবিতা লেখে। ২. অসামান্য নেতৃত্বগুণ। ৩. অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন মনোভাব।

আল আমিন ২০২৩ সালের একটি ঘটনার বর্ণনা দেন, যখন রায়হানের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের দাপটের সময় পুরো ব্যাচ মিনি গেস্টরুম নির্যাতনের প্রতিবাদে রাতভর কার্জন হলে অবস্থান নেয়। আল আমিনের ভাষায়— ‘যে প্রার্থী লীগের দুর্ধর্ষতার সামনে মাথা নত করেনি, সে যে ছাত্রদলের কোনো অন্যায়ের সামনেও আপসষ করবে না, তা সহজেই অনুমেয়।’

অন্যদিকে, সাইদুর রহমান শাহিন নিজের পোস্টে লেখেন, ‘আমার যত শুভাকাঙ্ক্ষী আছেন হলে, যে ভোটটা আমাকে দিতে চাইতেন, সেটা নির্দ্বিধায় রায়হানের ব্যালট বক্সে দিন। তার সাহিত্যচর্চা, বিশ্লেষণ ক্ষমতা, দর্শন, সব মিলিয়ে সে আমাদের চেয়ে যোগ্য।’

শাহিন আরো যোগ করেন, ‘অন্তত এইটুকু নিশ্চিত করে বলতে পারি— সে কোনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করবে না। মাঝেমধ্যে আমরা হেরেও জিতে যাই। আমি জিতে গেছি। Friendship WON, Politics LOST।’

শিক্ষার্থীদের অনেকে সামাজিকমাধ্যমে এই সিদ্ধান্তকে ছাত্ররাজনীতিতে বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অনেকেই বলছেন, এই উদাহরণ প্রমাণ করে— বন্ধুত্ব ও যোগ্যতার প্রতি শ্রদ্ধা দলমতের ঊর্ধ্বে গিয়ে রাজনীতিকেও ছাপিয়ে যেতে পারে।

খুঁজুন