শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
রাজনীতি দেশ যেন মৌলবাদের অভয়ারণ্য না হয়

দেশ যেন মৌলবাদের অভয়ারণ্য না হয়

দেশে ‘মৌলবাদ যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে' বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।  জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় কবিতা পরিষদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘এই দেশের মালিকানার একমাত্র দাবিদার জনগণ। এই সত্যটাকে যদি আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই, তাহলে মানুষের ভোটাধিকারের প্রশ্নে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য, বাক- স্বাধীনতার পক্ষে একটা অবাধ, সুষ্ঠ নির্বাচনের পক্ষে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অর্থাৎ একটি একাউন্ট অবস্থা দেশে তৈরি করা একান্ত প্রয়োজন।’

কবি-সাহিত্যিকদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘এখানে আপনারা কবি-সাহিত্যিকরা লেখার স্বাধীনতার কথা বলেছেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলেছেন, আপনারা মত-পার্থক্য তুলে ধরার কথা বলেছেন, সমালোচনার কথা বলেছেন। আমরা সেই অধিকারগুলোকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি, যদি একটি একাউন্টে রাষ্ট্র ব্যবস্থা করে তুলতে সক্ষম হই। সেটি একমাত্র করা সম্ভব মানুষের ভোটের অধিকার রক্ষার মাধ্যমে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সকল শহীদের রক্তের দায় পরিশোধের সময় এসেছে আজ। এদেশের একজন কৃতজ্ঞ সন্তান হিসেবে আজ এই সুন্দর অনুষ্ঠানে আপনাদের-আমাদের সকলের কণ্ঠে ঐক্যের প্রতিধ্বনি উচ্চারিত হোক।’

সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে একটি প্রত্যাশিত বাংলাদেশ, জনগণের একটি প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করে আপনাদের সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।’

দেশের বর্তমান অবস্থা প্রেক্ষাপটে তুলে ধরে তারেক বলেন, ‘আজকের এই শ্রাবণ দিনে যে বিশ্বাস আর প্রত্যয়ের কথা বহু বক্তা এখানে বলেছেন, ঐক্যবদ্ধভাবে উচ্চারণ করেছেন আমাদের অবস্থান। আমাদের আদর্শিক অবস্থান আমি মনে করি এক এবং অভিন্ন। এদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব গণতন্ত্রের প্রতি আপনাদের দৃঢ় অবস্থানের সঙ্গে আমাদের বিন্দুমাত্র পার্থক্য নাই। যে স্বৈরাচারকে বাংলাদেশের মানুষ কিছুদিন আগে বিতাড়িত করেছে, সেই স্বৈরাচারের পুনর্জাগরণ প্রতিহত করতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ আপনাদেরই মতো।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে হয়তো আপনাদের সকলের আদর্শিক অবস্থান এক নাও হতে পারে। পলিটিক্যাল আইডোলিজ এক নাও হতে পারে। কিন্তু এটি কোনো সমস্যার বিষয় নয়, এটিকে কেউ দয়া করে সমস্যা হিসেবে দেখবেন।’

তারেক রহমান বলেন, ‘কিছু বক্তা এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করেছেন, আমিও একইভাবে বলতে চাই যে, এই দেশে কোনো চরমপন্থা বা মৌলবাদের অভয়ারণ্যে যেন কোনো দিন পরিণত হতে না পারে, সেটিও আমাদের প্রত্যাশা, সেটি আমাদের লক্ষ্য।’

তিনি বলেন, ‘কবি সাহিত্যিকরা যুগে যুগে নিজেদের মাত্রাকে এতটা উঁচুতে নিয়ে গেছেন, যার ফলে অনেক সময় দেখেছি, আমরা তাদের নিজেদের পরিচয় দেশ এবং জাতির পরিচয় সমার্থক হয়ে উঠেছে। যেমন উইলিয়াম শেকসপিয়র বা উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ ব্যক্তির থেকে ইংরেজী সাহিত্যে নাম হয়ে উঠেছেন। একইভাবে আমরা বলতে পারি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হয়ে উঠেন, এই মহাদেশের পরিচয়ের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ। ঠিক এমনিভাবে কবিতা ও দেশাত্মবোধ সংগীতকে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে একাকার করে স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষে দেশ গঠন ও দেশাত্মবোধের প্রেরণা নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ, জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ’ এই গানকে তার দল বিএনপির দলীয় সংগীতে পরিণত করেছে অনুপ্রেরণার গভীর শ্রদ্ধাবোধ থেকে। শহীদ জিয়ার সেই আদর্শ আজও সমুন্নত জাতীয়তাবাদের আদেশের প্রতিটি নেতার কর্মীর মাঝে।’

অনুষ্ঠানে কবিতা পরিষদের পক্ষ থেকে বাক-স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কিছু দাবিনামাও তুলে ধরা হয়। কবি-সাহিত্যিকরা তাদের লেখার স্বাধীনতার কথাও বলেন।

কবি-সাহিত্যিকদের এই মতবিনিময় অনুষ্ঠানটি শুরু হয় জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। এবং এরপর একমিনিট দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধসহ ’২৪ সালে ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানে আত্মদানকারীদের প্রতি।

কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হানের সভাপতিত্বে ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারির সঞ্চালনায় এই মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান কবি নুরুল ইসলাম মনি, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদি আমীন, আমাদের সময়ের সম্পাদক লেখক আবু সাঈদ খান, কবিতা পরিষদের উপদেষ্টা কবি মতিন বৈরাগী, সাধারণ সম্পাদক কবি রেজাউল উদ্দিন স্ট্যালিন, সহসভাপতি কবি অনামিকা হক লিলি, কবি এবিএম সোহেল রশীদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবি শ্যামল জাকারিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক কবি নুরুন্নবী সোহেল, কবি শাহিন চৌধুরী বক্তব্য দেন।

খুঁজুন