শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
রাজনীতি ডিবি পরিচয়ে অপহরণ, মুক্তিপণ, মব ভায়োলেন্স ও মাদক কারবারের অভিযোগে যুবদল নেতা মাউরা সায়মন বহিষ্কার

ডিবি পরিচয়ে অপহরণ, মুক্তিপণ, মব ভায়োলেন্স ও মাদক কারবারের অভিযোগে যুবদল নেতা মাউরা সায়মন বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজধানীর মগবাজার, বাংলা মোটর, কারওয়ান বাজার ও হাতিরঝিল এলাকায় ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) পরিচয়ে ব্যবসায়ী ও ভিন্ন রাজনৈতিক দলের লোকজনকে অপহরণ, নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়, মব সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি, লুটপাট এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে যুবদল নেতা ফেরদৌস আহমেদ সায়মন ওরফে মাউরা সায়মনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানায়।

বহিষ্কৃত ফেরদৌস আহমেদ সায়মন হাতিরঝিল থানার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দলীয় পদ ও প্রভাব খাটিয়ে তিনি এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র গড়ে তুলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে উঠে এসেছে—এই চক্রে মাউরা সায়মন ছাড়াও ভেজাল তাহের, কাইল্লা রিদয় ও ভুট্টো রিদয়সহ আরও কয়েকজন সক্রিয় ছিল।

স্থানীয় ভুক্তভোগী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সায়মন গং দীর্ঘদিন ধরে পুরো এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালেই কিংবা দরকষাকষি করলেই সন্ত্রাসীরা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীকে তুলে নিয়ে যেত। তাদের কাছে ভুয়া ডিবি জ্যাকেট ও ওয়াকিটকিও ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বাংলা মোটর এলাকায় একটি গোপন টর্চার সেলে ভুক্তভোগীদের আটকে রেখে চালানো হতো নির্মম নির্যাতন। মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় না হলে হাত-পা বেঁধে হত্যা ও লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেওয়া হতো। অনেক ভুক্তভোগী প্রাণভয়ে জমি বা ব্যবসায়িক সম্পদ বিক্রি করে চাঁদার টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের পাশাপাশি সায়মনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, লুটপাট, চুরি, ছিনতাই এবং মাদক বিক্রির মতো শতাধিক অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে তিনি মগবাজার এলাকায় তথাকথিত ‘মব জাস্টিস’ বা মব ভায়োলেন্সের নাটক সাজিয়ে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে রাখতেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সায়মনের অপকর্মের সর্বশেষ শিকার হন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের নেতা ও ব্যবসায়ী কাজী রিয়াদ হাসনাত। অভিযোগ রয়েছে, ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে তাঁকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে সারারাত নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের ক্ষতচিহ্নসহ তাঁর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

সায়মনের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ কেন্দ্রীয় নেতাদের নজরে আসার পর তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ফেরদৌস আহমেদ সায়মন ওরফে মাউরা সায়মনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।

দীর্ঘদিন ধরে মাউরা সায়মন ও তার সহযোগী ভেজাল তাহের, কাইল্লা রিদয় ও ভুট্টো রিদয়সহ এই সংঘবদ্ধ চক্রের ভয়ে আতঙ্কে থাকা মগবাজার ও বাংলা মোটর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে বহিষ্কারের খবরে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, শুধু দলীয় বহিষ্কার যথেষ্ট নয়—অপহরণ, নির্যাতন ও লুটপাটের মতো গুরুতর অভিযোগের ঘটনায় দ্রুত সায়মনকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

খুঁজুন