শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
রাজনীতি এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা ঢাকা দক্ষিনের সদস্য সচিব

এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা ঢাকা দক্ষিনের সদস্য সচিব

এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা ঢাকা দক্ষিনের সদস্য সচিব সর্দার আমিরুল ইসলাম বোমা ফাটালেনঃ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বিমল দত্ত

সর্দার আমিরুল ইসলাম এনসিপির প্রভাব শালি ঢাকা দক্ষিনের সদস্য সচিব ছিলেন, তিনি সেচছায় দল থেকে পদত্যাগ করেছেন।

কেন পদত্যাগ করলেন এনসিপি হতে? 
আমি অনেক আশা ভরসা নিয়ে এনসিপিতে যোগদান করেছিলাম, আমি ভেবেছিলাম এনসিপি হয়ত মধ্যমপন্থি নতুন রাজনীতি দেশের মানুষ কে দিতে পারবেন, জনগনও ভেবেছিল এখান থেকে হয়ত দেশে ভালো রাজনৈতিক দল গঠিত হবে যা হবে ব্যাতিক্রমি রাজনৈতিক দল।

বাস্তবে দেখতে পেলাম অন্য কিছু,  এনসিপি গতানুগতিক ধারার রাজনীতি করছে, তারা ডানপন্থি রাজনীতির সাথে জড়িত, তাদের ভিতর কোন রকম নতুনত্ব খুজে পাইনি।

আমিতো নতুন ধারার রাজনীতি করতে এসেছিলাম, পুরান ধারার অনেক রাজনৈতিক দল আছে, সেখানে যেতে চাইনি, এনসিপি হয়ত দুর্নীতি মুক্ত, চাঁদা মুক্ত, আসল বাংলাদেশী হয়ে রাজনীতি করবে, কোন দেশের আধিপত্য কে তারা মানবে না।

বাস্তব চিত্র ভিন্ন, তারা জামায়াতের সাথে ডানপন্থি রাজনীতি শুরু করেছে, যেটা থেকে বের হয়ে আসতে পারবে না, জামায়াত দলটিকে গিলে ফেলেছে, এখান থেকে বের হওয়ার কোন সুযোগ নেই।

এনসিপির কোন নিজস্ব তহবিল নেই, ২৪/ ২৫ সালে গোচ্ছিত টাকা দিয়ে তারা নির্বাচন করতে পারত না, তারা জামায়াতের টাকায় রাজনীতি করে, জামায়াত চালালে তারা চলতে পারবে, তাছাড়া তাদের নিজস্ব কোন আর্থিক খাত নেই।

তারা তো দলের সদস্যদের চাঁদায় চলে এমন টি শুনেছিলাম, আপনি কি জানেন, একটু বলবেন কি? 

আমিও এমনটি শুনতে পেয়েছিলাম কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন, তাদের দলের কতজন টকশো করেন, তাদের দলের মধ্যে প্রতি মাসে চাঁদা দেওয়ার মতো সামর্থ্যবান কেউ নেই, কারন দলের কারো কোন ব্যবসায় বানিজ্য নেই, কেউ কোন চাকুরীও কীেন না,তাহলে টাকা কোথা থেকে আসবে?

তারা একটি ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসের আমলে একটি টিভি চ্যানেলের অনুমোদন নিয়েছে, তাছাড়া তাদের আয়ের উৎস কোথায়?  আমিতো দেখতে পাইনা, এখন জনগন কোথায় তাদের আয় দেখেন তা জানি না।

এনসিপির সংসদ সদস্যগন ছাড়া তাদের কোন রাজনীতি নেতার অঢেল টাকা আসার মতো ব্যক্তিও নেই, সংসদ সদস্যগন নিশ্চয়ই বেতনের টাকা দিয়ে দল চালান না।

এনসিপির পকেট কমিটি হতে অবশ্য টাকা আসে, যারা কমিটি করে দেন তাদের আয় রোজগার আছে তবে সেটা ফান্ডে জমা হয় না।

এনসিপি দেশের বিরাজমান সমস্যা নিয়ে কথা বলেন না,তারা সরকার কে আক্রান্ত করতে যত সব বক্তব্য দেয়া ছাড়া তাদের কোন এজেন্ডা নেই, তারা জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে সব সময় মরিয়া থাকে।

তাদের মুল এজেন্ডা ভারতে বিরুদ্ধচারন করা, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে সরকারের বিরুদ্ধে বলা,গনভোট, আর আওয়ামীলীগকে দেশে রাজনীতি না করার প্রতিজ্ঞা ছাড়া তারা কোন কথা বলেন না।

রাষ্ট্রে বহু সমস্যা রয়েছে, হামে শিশু মারা গিয়েছে, দুর্নীতি হচ্ছে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অনেক সমস্যা আছে কিন্তু সেদিকে তারা ফোকাস করে না।

তারা নিজেদের কে ফোকাসে রাখতে সরকারের বড় বড় নেতাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করে থাকেন।তারা নিজেরা রাষ্ট্রের মানুষের কাছে পরিচিত পেতে চান।

এনসিপি কি আগামীতে সঠিক পন্থায় রাজনীতিতে এগিয়ে যেতে পারবেন বলে মনে করেন?

না, তারা এক সময় এক দলের একজন নেতায় পরিণত হতে পারেন,যেমন হয়েছে হাসানুল হক ইনু,মেনন।

আমি তাদের রাজনীতিতে নিজস্ব কোন আদর্শ দেখতে পাইনি, তারা ভাড়া করা আদর্শ নিয়ে চলেন, এমন ভাড়া করা আদর্শ নিয়ে রাজনীতিতে টিকে থাকা যায়না।

তারা যতটা না আওয়ামীলীগের বিরোধিতা করে, তার চেয়ে বেশি তারা আওয়ামীলীগকে কাছে টানতে মরিয়া, তাদের আওয়ামীলীগ বিরোধিতার মুল উদ্দেশ্য লীগকে এনসিপিতে যোগদান করানো।

আসলে তারা ঢাবির ছাত্র হলেও রাজনৈতিক পারদর্শী নয় তারা,তাই বোকা বোকা ভাবনা।

জুলাই সনদ ও গনভোট নিয়ে কি বলবেন আপনি? 

গনভোট অবৈধ এটা আমি আপনি সবাই জানে, গনভোট অবৈধ হলে জুলাই সনদও অবৈধ হয়ে যায়, সরকার গনভোট বাতিল করেছে, জুলাই সনদ সরকার হুবহু বাস্তবায়ন করবে না এটা এনসিপি জামায়াত জানে বোঝে।

বিএনপির দেয়া ৩১ দফার মধ্যে জুলাই সনদের অনেক মিল রয়েছে, তাই সরকার যা ই বলুক না কেন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে না, ৩১ দফার পথেই হাটবে সরকার।

আওয়ামীলীগ নিয়ে যদি কিছু বলতেন। 

আওয়ামীলীগ একটি ঐতিহ্যবাহি দল, তাদের কিছু কর্মকান্ড বিতর্কিত এবং নিন্দনীয় এবং অপরাধযোগ্য,  সেখানে যারা অপরাধ করেছেন,তাদের হয়ত সাজা হতে পারে কিন্তু দলের কোটি কোটি সদস্য তো আর অপরাধী নয়,তাই তাদের নিষিদ্ধ করেও রাজনীতি বন্ধ রাখতে পারবে না।

রাজনীতিতে কাউকে নিষিদ্ধ করে ঠেকিয়ে রাখা যায় না এবং সরকার হয়ত ধীরে ধীরে তাদের দলের রাজনীতি করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিবে, সরকার না দিলে কোনভাবেই কারো সাহায্য নিয়ে তাদের রাজনীতি করার সুযোগ কম।

আপনাকে দল বহিষ্কার করল কেন? 

আমাকে দল বহিষ্কার করেননি, তাদের রাজনৈতিক আদর্শ এবং ডানপন্থি রাজনীতি তথা জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার যে রাজনীতি, সেখানে আমি যত ক্ষুদ্র ই হই না কেন, তাদের সাথে এক মত হতে পারিনা, বিধায় আমি আগে পদত্যাগ 
পত্র নাহিদ ইসলাম বরাবর জমা দিয়েছিলাম দুপুরে। 

তারা সেই পদত্যাগ পত্র গ্রহণ না করে বিকালে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কার করার কথা বলে জয়ী হতে চেয়েছে এবং ক্যাডিট নিয়েছে।

খুঁজুন