আবার ঘরের আগুনে পুড়ছে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা)। জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও দলটির পৃষ্ঠপোষক বেগম রওশন এরশাদ আগামী ২৬ নভেম্বর জাতীয় পার্টির কাউন্সিল ডেকেছেন।
এই কাউন্সিল ডাকার এক দিনের মধ্যে রওশন এরশাদকে সরিয়ে গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতারা। বিরোধীদলীয় নেতার পদে জি এম কাদেরকে মনোনয়ন দিতে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে চিঠিও দিয়েছে পার্টির সংসদীয় দল। এর মধ্য দিয়ে জাপায় সেই পুরোনো গৃহবিবাদ আবার নতুন করে শুরু হয়েছে। পার্টির কেন্দ্র থেকে তৃণমূল সর্বত্র দেখা দিয়েছে বিভক্তি সুর। এক পক্ষ রওশন এরশাদের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। অন্য পক্ষ বলছে, দলের ভবিষ্যৎ হিসেবে জি এম কাদেরের বিকল্প নেই। তাই জি এম কাদেরের সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়ে তার পরামর্শে হাঁটছেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নানা বৈঠকে দুজন দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছিলেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের গড়া দল জাতীয় পার্টি ভেঙেছে বেশ কয়েকবার। দলটির সাবেক মহাসচিবদের নেতৃত্বে আলাদা কয়েকটি দল এখনো সক্রিয় রয়েছে। এরশাদের মৃত্যুর পর দলের কর্তৃত্ব নিয়ে কাদের ও রওশনের বিরোধে দলটি আবার ভাঙনের মুখে পড়েছিল। তখন সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে সমঝোতা হয়। সেই সমঝোতায় রওশনকে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার পাশাপাশি দলে প্রধান পৃষ্ঠপোষকের পদ দেওয়া হয়। আর কাদের দলের চেয়ারম্যানের পদ রাখার পাশাপাশি সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা হন।
অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকা রওশন এরশাদ দেশে ফিরে দল নিয়ে নিজের ক্ষোভ জানিয়েছিলেন। তিনি চান পুরোনো নেতাদের ফিরেয়ে এনে দল শক্তিশালী করতে। এর জন্য একটি পক্ষ ব্যাপক তৎপর। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী নভেম্বরে দলের কাউন্সিল ডাকা হয়। দলের কারো সঙ্গে আলাপ না করে হঠাৎ একটি চিঠিতে কাউন্সিল ডাকায় ক্ষুব্ধ হন দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের।
এরপরই পরিস্থিতি গরম হতে থাকে। তবে এটি কোথায় গিয়ে ঠেকবে বলা মুশকিল। এর পেছনে তৃতীয় একটি পক্ষ আছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের অনুমতি ছাড়া তার অনুপস্থিতিতে জাতীয় পার্টির পার্লামেন্টারি কমিটির সভা ডাকার এখতিয়ার দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের নেই বলে দাবি করেছেন রওশন এরশাদের রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসীহ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের বলেন, বেগম রওশন এরশাদের নাম ব্যবহার করে তৃতীয়পক্ষ কোনো একটা এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে। রওশন এরশাদ শারীরিকভাবে অসুস্থ। তিনি সংসদে অংশ নিতে পারছেন না। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারছেন না। আবার কখনো কখনো বেগম রওশন এরশাদকে দিয়ে কিছু মহল এমন কিছু বক্তব্য, বিবৃতি ও বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন; যা সার্বিকভাবে দলীয় অবস্থানের বিপক্ষে চলে যাচ্ছে। জাতীয় পার্টির সংসদীয় কমিটির সদস্যরা মনে করছেন, অসুস্থতা ও বয়সের কারণে তিনি বিরোধীদলীয় নেতার ভূমিকা সঠিকভাবে পালন করতে পারছেন না। তিনি শ্রদ্ধার পাত্র, আমাদের শ্রদ্ধার আসনেই আছেন। তবে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা পার্টির বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে দেবে না।
জাপায় আবারও গৃহবিবাদ নতুন করে শুরু
জাপায় আবারও গৃহবিবাদ নতুন করে শুরু
আবার ঘরের আগুনে পুড়ছে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা)। জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও দলটির পৃষ্ঠপোষক বেগম রওশন এরশাদ আগামী ২৬ নভেম্বর জাতীয় পার্টির কাউন্সিল ডেকেছেন।এই কাউন্সিল ডাকার এক দিনের মধ্যে রওশন এরশাদকে সরিয়ে গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতারা। বিরোধীদলীয় নেতার পদে জি এম কাদেরকে মনোনয়ন দিতে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে চিঠিও দিয়েছে পার্টির সংসদীয় দল। এর মধ্য দিয়ে জাপায় সেই পুরোনো গৃহবিবাদ আবার নতুন করে শুরু হয়েছে। পার্টির কেন্দ্র থেকে তৃণমূল সর্বত্র দেখা দিয়েছে বিভক্তি সুর। এক পক্ষ রওশন এরশাদের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। অন্য পক্ষ বলছে, দলের ভবিষ্যৎ হিসেবে জি এম কাদেরের বিকল্প নেই। তাই জি এম কাদেরের সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়ে তার পরামর্শে হাঁটছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নানা বৈঠকে দুজন দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছিলেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের গড়া দল জাতীয় পার্টি ভেঙেছে বেশ কয়েকবার।
দলটির সাবেক মহাসচিবদের নেতৃত্বে আলাদা কয়েকটি দল এখনো সক্রিয় রয়েছে। এরশাদের মৃত্যুর পর দলের কর্তৃত্ব নিয়ে কাদের ও রওশনের বিরোধে দলটি আবার ভাঙনের মুখে পড়েছিল। তখন সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে সমঝোতা হয়। সেই সমঝোতায় রওশনকে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার পাশাপাশি দলে প্রধান পৃষ্ঠপোষকের পদ দেওয়া হয়। আর কাদের দলের চেয়ারম্যানের পদ রাখার পাশাপাশি সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা হন।অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকা রওশন এরশাদ দেশে ফিরে দল নিয়ে নিজের ক্ষোভ জানিয়েছিলেন। তিনি চান পুরোনো নেতাদের ফিরেয়ে এনে দল শক্তিশালী করতে। এর জন্য একটি পক্ষ ব্যাপক তৎপর। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী নভেম্বরে দলের কাউন্সিল ডাকা হয়। দলের কারো সঙ্গে আলাপ না করে হঠাৎ একটি চিঠিতে কাউন্সিল ডাকায় ক্ষুব্ধ হন দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের। এরপরই পরিস্থিতি গরম হতে থাকে। তবে এটি কোথায় গিয়ে ঠেকবে বলা মুশকিল। এর পেছনে তৃতীয় একটি পক্ষ আছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের অনুমতি ছাড়া
তার অনুপস্থিতিতে জাতীয় পার্টির পার্লামেন্টারি কমিটির সভা ডাকার এখতিয়ার দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের নেই বলে দাবি করেছেন রওশন এরশাদের রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসীহ।এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের বলেন, বেগম রওশন এরশাদের নাম ব্যবহার করে তৃতীয়পক্ষ কোনো একটা এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে। রওশন এরশাদ শারীরিকভাবে অসুস্থ। তিনি সংসদে অংশ নিতে পারছেন না। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারছেন না। আবার কখনো কখনো বেগম রওশন এরশাদকে দিয়ে কিছু মহল এমন কিছু বক্তব্য, বিবৃতি ও বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন; যা সার্বিকভাবে দলীয় অবস্থানের বিপক্ষে চলে যাচ্ছে। জাতীয় পার্টির সংসদীয় কমিটির সদস্যরা মনে করছেন, অসুস্থতা ও বয়সের কারণে তিনি বিরোধীদলীয় নেতার ভূমিকা সঠিকভাবে পালন করতে পারছেন না। তিনি শ্রদ্ধার পাত্র, আমাদের শ্রদ্ধার আসনেই আছেন। তবে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা পার্টির বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে দেবে না।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত