শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
পর্যটন কিং ফাহাদের ঝর্ণা: জেদ্দার লোহিত সাগরের অপূর্ব সৌন্দর্য

কিং ফাহাদের ঝর্ণা: জেদ্দার লোহিত সাগরের অপূর্ব সৌন্দর্য

কিং ফাহাদের ঝর্ণা লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত সৌদি আরবের জেদ্দা শহর শুধু তার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির জন্যই নয়, বরং অপূর্ব স্থাপত্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যও বিশ্বব্যাপী খ্যাত। এই শহরের অন্যতম আকর্ষণ হলো কিং ফাহাদের ঝর্ণা, যা জেদ্দা ফোয়ারা নামেও পরিচিত। 

১৯৮৫ সালে উদ্বোধন করা এই ঝর্ণা বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু কৃত্রিম ফোয়ারা হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে স্থান করে নিয়েছে। এর অপরূপ সৌন্দর্য ও স্থাপত্যগত নৈপুণ্য জেদ্দাকে পর্যটনের মানচিত্রে একটি বিশেষ স্থান দিয়েছে। কিং ফাহাদের ঝর্ণা সৌদি আরবের প্রয়াত শাসক রাজা ফাহাদ বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদের নামে নামকরণ করা হয়েছে। ১৯৮০ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং প্রায় চার বছরের নিখুঁত পরিকল্পনা ও প্রকৌশলের পর ১৯৮৩ সালে এটি সম্পন্ন হয়। ১৯৮৫ সালে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়, এবং তখন থেকেই এটি জেদ্দা শহরের একটি প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। রাজা ফাহাদের এই উপহার জেদ্দার উপকূলীয় সৌন্দর্য ও পর্যটন খ্যাতিকে আরও উজ্জ্বল করেছে।

কিং ফাহাদের ঝর্ণার নকশা সৌদি আরবের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক প্রকৌশলের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। এর ভিত্তি একটি ঐতিহ্যবাহী ধূপদানির (মাবখারা) আকৃতি থেকে অনুপ্রাণিত, যা সৌদি সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। ঝর্ণাটি লোহিত সাগরের মাঝে স্থাপিত, এবং এর পানি ঘণ্টায় ৩৫০ কিলোমিটার বেগে ৩১২ মিটার (১,০২৪ ফুট) উচ্চতায় উৎক্ষিপ্ত হয়। এই অসাধারণ উচ্চতা এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু কৃত্রিম ফোয়ারা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। রাতের বেলা ৫০০টিরও বেশি উচ্চ-তীব্রতার স্পটলাইট দ্বারা আলোকিত হয়ে ঝর্ণাটি এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য সৃষ্টি করে, যা দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।
হজ বা ওমরাহ উপলক্ষে জেদ্দায় আগত পর্যটকরা এই ঝর্ণার অপূর্ব দৃশ্য দেখতে ভিড় করেন। বিশেষ করে সন্ধ্যার সময়, যখন আলোকসজ্জায় ঝর্ণাটি ঝলমল করে, তখন এটি একটি অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা প্রদান করে। এর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য এটিকে জেদ্দার পর্যটনের একটি কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে।

কিং ফাহাদের ঝর্ণা সন্ধ্যা ছয়টা থেকে কার্যক্রম শুরু করে এবং মধ্যরাতের পর বন্ধ হয়। এই সময়সূচী জেদ্দা শহরের সন্ধ্যার কার্যকলাপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারিত হয়েছে। তবে, রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বছরে প্রায় তিন সপ্তাহ বা দক্ষিণামুখী বাতাসের সময় ঝর্ণাটি বন্ধ থাকে, যাতে কাছাকাছি ভবনগুলিতে পানির ছিটা না পড়ে। এই সতর্কতা ঝর্ণার দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ ও শহরের পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
মরমী কবি লিখেছেন,
‘আরব-সাগর-পাড়ি-দেব-নাইগো-আমার-কড়ি, 
পাখি-নইক-উড়ে-যাবো-ডানাতে-ভর-করি।’
কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ‘বাঁধন হারা’ পত্র উপন্যাসে লোহিত সাগরের মনোমুগ্ধকর বর্ণনা দিয়েছেন:
‘তোমার পানির সাথে লইয়া যাও রে আমার চোখের পানি, 
লইয়া যাওরে এই নিরাশের দীর্ঘ নিশ্বাস খানি।’
কিং ফাহাদের ঝর্ণা জেদ্দার লোহিত সাগরের তীরে একটি জীবন্ত শিল্পকর্ম হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে, যা প্রকৃতি ও মানব নির্মাণের এক অপূর্ব মিলন ঘটিয়েছে।

খুঁজুন