অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী :
এক ছিল মানুষ, যে ভাবত প্রতিশোধেই শান্তি। কেউ তাকে আঘাত করলে, সে মনে রাখত। ভেতরে ভেতরে প্রতিশোধের আগুনে জ্বলত। কিন্তু একদিন সে গল্প শুনল,
একজন মহামানব, যাঁর নাম হযরত মুহাম্মদ (সাঃ), এক শহরে গিয়েছিলেন শুধু মানুষকে সত্যের পথে ডাকতে। কিন্তু শহরের মানুষ তাঁকে পাথর মেরে রক্তাক্ত করল। তখন ফেরেশতা প্রস্তাব দিল, "আমি চাইলে পুরো শহর পাহাড় চাপা দিয়ে ধ্বংস করে দিতে পারি।"
কিন্তু হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বললেন,
"না, আমি ধ্বংস চাই না। আমি চাই, তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে ঈমানদার মানুষ জন্ম নিক।"
যে মানুষ রক্তাক্ত অবস্থায়ও ক্ষমা করতে পারে, তার চেয়ে মহৎ আর কে হতে পারে?
আরেক গল্প, হযরত ইউসুফ (আঃ) । ভাইয়েরা ষড়যন্ত্র করে তাঁকে কূপে ফেলে দিয়েছিল। বছরের পর বছর যন্ত্রণা ভোগ করেছেন। কিন্তু যখন তিনি মিসরের শাসক হলেন, তখন তাঁর হাতে ছিল প্রতিশোধের সুযোগ।
তবু তিনি বললেন,
"আজ তোমাদের কোনো অপরাধ নেই।"
ভুলে যাওয়া নয়, বরং ক্ষমাই পরিবারের ভাঙা সম্পর্ককে জোড়া লাগাল।
আবার ধরুন নেলসন ম্যান্ডেলা। ২৭ বছর কারাগারে কাটানোর পর যখন মুক্তি পেলেন, তাঁর হাতে ছিল ক্ষমতা। যদি তিনি প্রতিশোধ চাইতেন, দক্ষিণ আফ্রিকা রক্তে ভেসে যেত।
কিন্তু তিনি ক্ষমা বেছে নিলেন। বললেন,
"আমরা একসাথে চলব, শত্রু হয়ে নয়, সহযাত্রী হয়ে।"
এ এক মহৎ ক্ষমার ইতিহাস, যা একটি জাতিকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাল।
গল্প শুধু ইতিহাসে নয়, না, এগুলো গল্প নয়, সত্যের কিছু উদাহরণ, আজও আমাদের চারপাশে এমন অনেক সত্যের আলো ছড়িয়ে থাকে,
বন্ধু ভুল করলে ক্ষমা করলে বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় হয়;
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি হলে ক্ষমাই তাদের ভালোবাসাকে টিকিয়ে রাখে;
অফিসে সহকর্মীর ভুল ক্ষমা করলে কাজের পরিবেশ উষ্ণ থাকে;
ক্ষমার আসল শক্তি,
প্রতিশোধ ভেতরে আগুন জ্বালায়, ক্ষমা সেই আগুন নিভিয়ে দেয়;
প্রতিশোধ সম্পর্ক ভাঙে, ক্ষমা সম্পর্ক জোড়া লাগায়;
প্রতিশোধ মানুষকে ছোট করে, ক্ষমা মানুষকে মহান করে তোলে;
গল্পের মানুষটি শেষে বুঝল,
ক্ষমাই মানুষের আসল অলঙ্কার।
ক্ষমা মানে দুর্বলতা নয়, বরং সর্বোচ্চ শক্তি।
তাই আসুন,
আমরা প্রতিশোধ ভুলে গিয়ে ক্ষমার আলোতে জীবন সাজাই;
ক্ষমা করি অন্যকে, ক্ষমা করি নিজেকেও;
কারণ ক্ষমা ছাড়া ফুলের মতো সুন্দর জীবন গড়া যায় না।
সবশেষে, মহান সৃষ্টিকর্তা, পরম করুনাময় মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি,
তিনি যেন আমাদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করেন, আমাদের হৃদয়ে ক্ষমার গুণ দান করেন,
যাতে আমরা একে অপরকে ক্ষমা করতে পারি এবং নতুন করে শুরু করার শক্তি পাই।
কারণ তিনি-ই ক্ষমাশীল, তিনি-ই পরম দয়ালু।
ক্ষমা, জীবনের সবচেয়ে সুন্দর শক্তি
ক্ষমা, জীবনের সবচেয়ে সুন্দর শক্তি
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী :এক ছিল মানুষ, যে ভাবত প্রতিশোধেই শান্তি। কেউ তাকে আঘাত করলে, সে মনে রাখত। ভেতরে ভেতরে প্রতিশোধের আগুনে জ্বলত। কিন্তু একদিন সে গল্প শুনল, একজন মহামানব, যাঁর নাম হযরত মুহাম্মদ (সাঃ), এক শহরে গিয়েছিলেন শুধু মানুষকে সত্যের পথে ডাকতে। কিন্তু শহরের মানুষ তাঁকে পাথর মেরে রক্তাক্ত করল। তখন ফেরেশতা প্রস্তাব দিল, "আমি চাইলে পুরো শহর পাহাড় চাপা দিয়ে ধ্বংস করে দিতে পারি।"কিন্তু হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বললেন, "না, আমি ধ্বংস চাই না। আমি চাই, তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে ঈমানদার মানুষ জন্ম নিক।"যে মানুষ রক্তাক্ত অবস্থায়ও ক্ষমা করতে পারে, তার চেয়ে মহৎ আর কে হতে পারে?আরেক গল্প, হযরত ইউসুফ (আঃ) । ভাইয়েরা ষড়যন্ত্র করে তাঁকে কূপে ফেলে দিয়েছিল। বছরের পর
বছর যন্ত্রণা ভোগ করেছেন। কিন্তু যখন তিনি মিসরের শাসক হলেন, তখন তাঁর হাতে ছিল প্রতিশোধের সুযোগ।তবু তিনি বললেন, "আজ তোমাদের কোনো অপরাধ নেই।"ভুলে যাওয়া নয়, বরং ক্ষমাই পরিবারের ভাঙা সম্পর্ককে জোড়া লাগাল।আবার ধরুন নেলসন ম্যান্ডেলা। ২৭ বছর কারাগারে কাটানোর পর যখন মুক্তি পেলেন, তাঁর হাতে ছিল ক্ষমতা। যদি তিনি প্রতিশোধ চাইতেন, দক্ষিণ আফ্রিকা রক্তে ভেসে যেত।কিন্তু তিনি ক্ষমা বেছে নিলেন। বললেন, "আমরা একসাথে চলব, শত্রু হয়ে নয়, সহযাত্রী হয়ে।"এ এক মহৎ ক্ষমার ইতিহাস, যা একটি জাতিকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাল।গল্প শুধু ইতিহাসে নয়, না, এগুলো গল্প নয়, সত্যের কিছু উদাহরণ, আজও আমাদের চারপাশে এমন অনেক সত্যের আলো ছড়িয়ে থাকে, বন্ধু ভুল করলে ক্ষমা করলে বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় হয়;স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি হলে ক্ষমাই তাদের
ভালোবাসাকে টিকিয়ে রাখে;অফিসে সহকর্মীর ভুল ক্ষমা করলে কাজের পরিবেশ উষ্ণ থাকে;ক্ষমার আসল শক্তি, প্রতিশোধ ভেতরে আগুন জ্বালায়, ক্ষমা সেই আগুন নিভিয়ে দেয়;প্রতিশোধ সম্পর্ক ভাঙে, ক্ষমা সম্পর্ক জোড়া লাগায়;প্রতিশোধ মানুষকে ছোট করে, ক্ষমা মানুষকে মহান করে তোলে;গল্পের মানুষটি শেষে বুঝল, ক্ষমাই মানুষের আসল অলঙ্কার।ক্ষমা মানে দুর্বলতা নয়, বরং সর্বোচ্চ শক্তি।তাই আসুন, আমরা প্রতিশোধ ভুলে গিয়ে ক্ষমার আলোতে জীবন সাজাই;ক্ষমা করি অন্যকে, ক্ষমা করি নিজেকেও; কারণ ক্ষমা ছাড়া ফুলের মতো সুন্দর জীবন গড়া যায় না।সবশেষে, মহান সৃষ্টিকর্তা, পরম করুনাময় মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করেন, আমাদের হৃদয়ে ক্ষমার গুণ দান করেন,যাতে আমরা একে অপরকে ক্ষমা করতে পারি এবং নতুন করে শুরু করার শক্তি পাই।কারণ তিনি-ই ক্ষমাশীল, তিনি-ই পরম দয়ালু।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত