‘নিজস্ব প্রতিনিধি, শেরপুর:
‘কি বলবো আর, কত যে কষ্ট নিয়ে চলছি, আপনাদের আসলে বোঝাতে পারবো না। গ্রেনেড হামলার বিচার হয়েছে, এতে খুশি হয়েছি। এখন আমি অপেক্ষায় আছি রায় কার্যকরের। মরার আগে বিচারের রায় কার্যকর দেখে মরতে চাই’ একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার শিকার শেরপুরের নকলার সৈয়দা উম্মে কুলছুম রেনু এভাবেই নিজের অভিব্যক্তি তুলে ধরেন।
শুক্রবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে শেরপুরের নকলা উপজেলার ধানহাটি এলাকার বাসিন্দা সৈয়দা উম্মে কুলছুম রেনুর সাথে আলাপকালে তিনি এসব বলেন।
গ্রেনেড হামলার ঘটনার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রেনু বলেন, ‘ওটা ছিল জামাত-বিএনপি জোট সরকারের পরিকল্পিত গ্রেনেড হামলা। একুশে আগস্ট যখন গ্রেনেড হামলার শিকার হই, তখন আমি ছিলাম ঢাকা মহনগর দক্ষিণ মহিলা আ’লীগের সদস্য। আইভী আপা (তৎকালীন মহিলা আ’লীগের সভাপতি আইভী রহমান) আমাকে খুব স্নেহ করতেন। তার সঙ্গে সঙ্গেই থাকতাম। হামলায় আইভী আপা শহীদ হয়েছেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আল্লাহর বিশেষ রহমতে বেঁচে যান। আমিও সেই গ্রেনেড হামলায় আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছি।’
সৈয়দা উম্মে কুলছুম রেনু বলেন, ‘ভয়ংকর ছিল গ্রেনেড হামলার সেই ঘটনাটি। আমি মঞ্চের কাছেই বসেছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ, চারদিক ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন, চিৎকার, চেঁচামেচি। চোখ দু’টি মরিচের মতো জ্বলছিল। তারপরই চোখেমুখে অন্ধকার। এরপর আর আমার কিছু মনে নেই। তখন আমি কোমায় ছিলাম। ১৪ দিন পর আমার জ্ঞান ফিরলে দেখি ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে। শুনেছি কে যেন আমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে রেনাল জেনারেল হাসপাতাল। আমার স্মৃতিশক্তি তখন লোপ পেয়েছিল। কিছুই মনে করতে পারিনি। মাথায়-পায়ে গ্রেনেডের স্প্রিন্টার ঢুকেছিল। অপারেশনের পর সাভারের সিআরপিতে আট মাস ছিলাম। তারপর কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরি।
তিনি আরো বলেন, ‘পায়ে এখনও সাতটি স্প্রিন্টার রয়েছে। সেগুলো মাঝেমধ্যেই জ্বালাতন করে। অসহ্য সে যন্ত্রণা। নিজেই এখন ফিজিওথেরাপি করে কোনমতে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছি। জীবনে যতদিন বাঁচবো, এ নরক যন্ত্রণা নিয়েই বাঁচতে হবে।’
রেনু বলেন, গ্রেনেড হামলার বিচার হয়েছে। যেদিন রায় হয়েছে, সেদিন অঝোরে কেঁদেছি। চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। এখন বিচারের রায় কার্যকর দেখে মরতে চাই।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে (তৎকালীন বাংলাদেশ আ’লীগের সভাপতি) হত্যার উদ্দেশ্যে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউর জনসভায় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট পরিচালিত হয়েছিল নারকীয় গ্রেনেড হামলা। ওই জনসভায় উপস্থিত ছিলেন উম্মে কুলছুম রেনু। ওই হামলায় নিহত আইভী রহমানসহ অন্যান্যদের পাশেই গুরুতর আহত, রক্তাক্ত, অজ্ঞান অবস্থায় পড়েছিলেন উম্মে কুলছুম রেনু। সে সময়কার পত্র-পত্রিকায় মৃতদের সঙ্গে তারও নিথর দেহের ছবি ছাপা হয়। পরে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের স্প্রিন্টার নিয়ে এখনও যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন। স্বাভাবিক জীবনযাপন অনেকটা সূদুর পরাহত।
আ’লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দু’দফায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ২০ লাখ টাকা এফডিআর হিসেবে অনুদান দেয়া হয় তাকে। সেই অনুদানের টাকার লভ্যাংশের পুরোটা দু’বছর আগে তিনি জেলা প্রশাসকের করোনা প্রতিরোধ সহায়তা তহবিলে দান করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
নকলা উপজেলা পরিষদের সাবেক সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দা উম্মে কুলছুম রেনু বর্তমানে নকলা উপজেলা আ’লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) মহিলা আ’লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মরার আগে গ্রেনেড হামলার রায় কার্যকর দেখতে চাই’
মরার আগে গ্রেনেড হামলার রায় কার্যকর দেখতে চাই’
‘নিজস্ব প্রতিনিধি, শেরপুর:‘কি বলবো আর, কত যে কষ্ট নিয়ে চলছি, আপনাদের আসলে বোঝাতে পারবো না। গ্রেনেড হামলার বিচার হয়েছে, এতে খুশি হয়েছি। এখন আমি অপেক্ষায় আছি রায় কার্যকরের। মরার আগে বিচারের রায় কার্যকর দেখে মরতে চাই’ একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার শিকার শেরপুরের নকলার সৈয়দা উম্মে কুলছুম রেনু এভাবেই নিজের অভিব্যক্তি তুলে ধরেন।শুক্রবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে শেরপুরের নকলা উপজেলার ধানহাটি এলাকার বাসিন্দা সৈয়দা উম্মে কুলছুম রেনুর সাথে আলাপকালে তিনি এসব বলেন।গ্রেনেড হামলার ঘটনার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রেনু বলেন, ‘ওটা ছিল জামাত-বিএনপি জোট সরকারের পরিকল্পিত গ্রেনেড হামলা। একুশে আগস্ট যখন গ্রেনেড হামলার শিকার হই, তখন আমি ছিলাম ঢাকা মহনগর দক্ষিণ মহিলা আ’লীগের সদস্য। আইভী আপা (তৎকালীন মহিলা আ’লীগের সভাপতি আইভী রহমান) আমাকে খুব স্নেহ করতেন। তার সঙ্গে সঙ্গেই থাকতাম। হামলায় আইভী আপা শহীদ হয়েছেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আল্লাহর বিশেষ রহমতে বেঁচে যান। আমিও সেই গ্রেনেড হামলায় আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছি।’সৈয়দা উম্মে কুলছুম রেনু বলেন, ‘ভয়ংকর ছিল গ্রেনেড
হামলার সেই ঘটনাটি। আমি মঞ্চের কাছেই বসেছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ, চারদিক ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন, চিৎকার, চেঁচামেচি। চোখ দু’টি মরিচের মতো জ্বলছিল। তারপরই চোখেমুখে অন্ধকার। এরপর আর আমার কিছু মনে নেই। তখন আমি কোমায় ছিলাম। ১৪ দিন পর আমার জ্ঞান ফিরলে দেখি ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে। শুনেছি কে যেন আমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে রেনাল জেনারেল হাসপাতাল। আমার স্মৃতিশক্তি তখন লোপ পেয়েছিল। কিছুই মনে করতে পারিনি। মাথায়-পায়ে গ্রেনেডের স্প্রিন্টার ঢুকেছিল। অপারেশনের পর সাভারের সিআরপিতে আট মাস ছিলাম। তারপর কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরি।তিনি আরো বলেন, ‘পায়ে এখনও সাতটি স্প্রিন্টার রয়েছে। সেগুলো মাঝেমধ্যেই জ্বালাতন করে। অসহ্য সে যন্ত্রণা। নিজেই এখন ফিজিওথেরাপি করে কোনমতে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছি। জীবনে যতদিন বাঁচবো, এ নরক যন্ত্রণা নিয়েই বাঁচতে হবে।’রেনু বলেন, গ্রেনেড হামলার বিচার হয়েছে। যেদিন রায় হয়েছে, সেদিন অঝোরে কেঁদেছি। চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। এখন বিচারের রায় কার্যকর দেখে মরতে চাই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে (তৎকালীন বাংলাদেশ আ’লীগের সভাপতি)
হত্যার উদ্দেশ্যে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউর জনসভায় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট পরিচালিত হয়েছিল নারকীয় গ্রেনেড হামলা। ওই জনসভায় উপস্থিত ছিলেন উম্মে কুলছুম রেনু। ওই হামলায় নিহত আইভী রহমানসহ অন্যান্যদের পাশেই গুরুতর আহত, রক্তাক্ত, অজ্ঞান অবস্থায় পড়েছিলেন উম্মে কুলছুম রেনু। সে সময়কার পত্র-পত্রিকায় মৃতদের সঙ্গে তারও নিথর দেহের ছবি ছাপা হয়। পরে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের স্প্রিন্টার নিয়ে এখনও যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন। স্বাভাবিক জীবনযাপন অনেকটা সূদুর পরাহত।আ’লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দু’দফায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ২০ লাখ টাকা এফডিআর হিসেবে অনুদান দেয়া হয় তাকে। সেই অনুদানের টাকার লভ্যাংশের পুরোটা দু’বছর আগে তিনি জেলা প্রশাসকের করোনা প্রতিরোধ সহায়তা তহবিলে দান করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।নকলা উপজেলা পরিষদের সাবেক সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দা উম্মে কুলছুম রেনু বর্তমানে নকলা উপজেলা আ’লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) মহিলা আ’লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত