শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
রাজনীতি নতুন রাজনৈতিক জোট গড়ছে জাতীয় পার্টি

নতুন রাজনৈতিক জোট গড়ছে জাতীয় পার্টি

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে গিয়ে নতুন একটি রাজনৈতিক জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই নতুন নির্বাচনী জোট গঠনের চেষ্টা করছে সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি । এ প্রসঙ্গে জাপা নেতাদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে সমদূরত্ব বজায় রাখা দলগুলো নিয়েই তাদের এই জোট হবে। 

জাতীয় পার্টির একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, জাতীয় পার্টি ক্ষমতার কাছে থাকতে চায়। এজন্য তারা নির্বাচনের আগে একটি বড় বিরোধী রাজনৈতিক জোট করতে চায়। এ জোট ভারী করে আগামী সংসদ নির্বাচনের আগেই আত্মপ্রকাশ করবে এই জোট। বড় দুই দলের বাইরে নতুন জোটের মাধ্যমে ভোটের আগে দর কষাকষিতে গুরুত্ব বাড়াতে চায় জাপা। এছাড়া জাতীয়-আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগাযোগ করছে দলটি। পাশাপাশি বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক দুটি দলের সঙ্গে তাদের কথাবার্তা চলছে।

দেশের মানুষের কাছে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টির মার্কাকে (লাঙ্গল) আবারও সামনে তুলে ধরার পরিকল্পনা থেকেই সব আসনে প্রার্থী নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে জাতীয় পার্টি। দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি ঐক্যবদ্ধ। ব্যক্তি হিসেবে ক্লিন ইমেজ রয়েছে তার। সব মহলে জনপ্রিয়তাও রয়েছে। দলকে চাঙ্গা করতে তিনি এরই মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন। দলীয় নেতাকর্মীরাও তার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন আসনে ক্লিন ইমেজের আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রার্থী খোঁজা হচ্ছে। আর সামনের নির্বাচনে কেমন কীভাবে হবে কার সঙ্গে রাজনৈতিক জোট হবে এগুলো পরে ঠিক হবে, তবে এ নিয়ে নীতিনির্ধারণী কাজ করছেন জি এম কাদের।

জাপা সূত্র জানিয়েছে, চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়া মাওলানা মুহম্মদ ইসহাকের নেতৃত্বাধীন খেলাফত মজলিসসহ কয়েকটি ইসলাম ধর্মভিত্তিক দলের জোট হতে পারে।

২০০১ সালে নির্বাচনে জাপার সঙ্গে জোট করে ভোট করে ইসলামী আন্দোলন (তখন নাম ছিল ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন)। আবারও জোট হবে কিনা এমন প্রশ্নে জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, জাতীয় পার্টি ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী দল। ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় পার্টির নৈকট্য রয়েছে। তবে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে এখনো আলোচনা হয়নি। জাপার সঙ্গে আলোচনা হবে তা স্বীকার করেছেন ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনূস আহমদ। তিনি বলেন, বিভিন্ন ইসলামী দলের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় চলছে।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক হয়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করে। ভোটের পর বিএনপির সমালোচনা করে জোট ছাড়েন কাদের সিদ্দিকী। সরকারের সমালোচনা করলেও বিএনপির সঙ্গে দূরত্ব মেটেনি তার দলের। 

জাপা চেয়ারম্যানের বনানীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠকে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বাইরে গিয়ে সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে একটি জোট করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। 

কাদের সিদ্দিকী বলেন, মানুষের মর্যাদা ও অধিকার আদায়ের জন্যই এখন বিএনপি ও আওয়ামী লীগ থেকে সমদূরত্ব বজায় রেখে সব রাজনৈতিক শক্তিকে এক মোহনায় পৌঁছতে হবে। 

বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে। যারা সরকারের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে তারাই শুধু সরকারি জোটে ভোট দেবে। আর নির্বাচন সুষ্ঠু হলে নির্যাতিত-নিপীড়িত বিশাল জনগোষ্ঠী বিরোধী জোটে ভোট দেবে। তাই জাতীয় পার্টির অবস্থান পরিষ্কার। জাতীয় পার্টি সাধারণ মানুষের কাতারে নেতৃত্ব দেবে।

খুঁজুন