২০০২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সাদ্দাম হোসেনের শাসনামলে ইরাকের **জেনারেল মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টরেট** (General Military Intelligence Directorate)-এর একটি **টপ সিক্রেট প্রতিবেদন** প্রকাশ করে যে, সৌদি আরবের ওহাবিরা (যাদের সালাফি নামেও ডাকা হয়) আসলে **ইহুদি উৎস** থেকে উদ্ভূত এবং পশ্চিমা (বিশেষ করে ব্রিটিশ ও পরে আমেরিকান) স্বার্থে ইসলামকে ধ্বংস করার জন্য তৈরি করা একটি বিকৃত মতবাদ।
এই প্রতিবেদনের শিরোনাম: “The Emergence of Wahhabism and its Historical Roots” (বা “The Birth of Al-Wahabi Movement and Its Historic Roots”)। এটি ইরাকি এয়ার ডিফেন্স সিকিউরিটি সিস্টেমের অংশ হিসেবে তৈরি হয় এবং লেখক/অফিসার হলেন কল. সাঈদ মাহমুদ নাজম আল-আমিরি (Sa'id Mahmud Najm Al-'Amiri)। সাদ্দামের পতনের পর **ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব ডিফেন্স (U.S. Department of Defense)** এই নথি অনুবাদ করে প্রকাশ করে (ফেডারেল অ্যাকুইজিশন সার্ভিসের মাধ্যমে উপলব্ধ: irp.fas.org/eprint/iraqi/wahhabi.pdf)।
### প্রতিবেদনের মূল দাবি ও বিস্তারিত প্রমাণ
প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, **মুহাম্মদ ইবন আব্দুল ওহাবের** (ওহাবিবাদের প্রতিষ্ঠাতা) দাদা সুলায়মান আসলে **ইহুদি বংশোদ্ভূত** ছিলেন। তার আসল নাম ছিল **শুলম্যান (Shulman)** — তুরস্কের বুরসা (Bursa/Burstah) শহরের একজন ইহুদি ব্যবসায়ী, যিনি **দোঁনমে (Dönme)** সম্প্রদায়ের (ক্রিপ্টো-জু) অন্তর্গত। তিনি বাহ্যিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করে দাড়ি রাখেন এবং তুর্কি পাগড়ি পরেন, কিন্তু পরে ধরা পড়ে এবং বিতাড়িত হন। প্রতিবেদনে উল্লেখ: “Tawran confirms that Sulayman, the grandfather of the sheikh, is (Shulman); he is Jew from the merchants of the city of Burstah in Turkey...” এই দাবি আরবি সূত্র থেকে নেওয়া, যা ইংরেজিতে অনুবাদিত হয়নি কিন্তু ইরাকি গোয়েন্দারা নিশ্চিত করে।
একইভাবে, **মুহাম্মদ ইবন সৌদ** (সৌদি রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা) এবং তাঁর পরিবারকেও ইহুদি উৎসের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদন বলছে, ওহাব ও সৌদ উভয়েই ইহুদি বংশোদ্ভূত এবং তাদের মাধ্যমে ইসলামের ভিতরে বিভেদ সৃষ্টি করা হয়েছে।
### ব্রিটিশ গুপ্তচর মি. হেমফারের স্মৃতিকথার ভিত্তিতে পুরো ষড়যন্ত্র
প্রতিবেদনটি **মূলত মি. হেমফারের স্মৃতিকথা (Memoirs of Mr. Hempher, The British Spy to the Middle East / Confessions of a British Spy)**-এর ওপর নির্ভর করে। ১৮শ শতাব্দীর মাঝামাঝি (হিজরি ১১২২/১৭১০ সালে) ব্রিটিশ কলোনিয়াল মিনিস্ট্রি থেকে হেমফারকে মধ্যপ্রাচ্যে (ইজিপ্ট, ইরাক, হেজাজ, ইস্তাম্বুল) পাঠানো হয় ইসলামকে ভিতর থেকে ধ্বংস করার জন্য। তিনি বসরায় মুহাম্মদ ইবন আব্দুল ওহাবের (তখনকার এক যুবক) সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তাকে প্রশংসা করে, মদ-নারী ইত্যাদি দিয়ে প্রলুব্ধ করে এবং ইসলামের বিকৃত সংস্করণ তৈরি করান — যা পরে *ওহাবিবাদ* নামে পরিচিত হয়। হেমফার নিজেকে মুসলিম ছদ্মবেশে উপস্থাপন করে ওহাবকে বলেন যে, তিনি নতুন একটি মতবাদ প্রতিষ্ঠা করবেন যা ইসলামকে ভিতর থেকে ধ্বংস করবে।
হেমফারের স্মৃতিকথায় (যা ইরাকি প্রতিবেদনে বিস্তারিত উদ্ধৃত) বলা হয়েছে: ব্রিটিশরা ৫,০০০ গুপ্তচর নিয়োগ করে মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার পরিকল্পনা করে, পরে সংখ্যা বাড়িয়ে ১,০০,০০০ করার কথা। এটি **প্রটোকলস অফ দ্য এল্ডার্স অফ জায়ন**-এর মতো অ্যাঙ্গলোফোবিক ষড়যন্ত্র তত্ত্বের অংশ হিসেবে বর্ণিত, কিন্তু ইরাকি গোয়েন্দারা এটিকে ঐতিহাসিক সত্য হিসেবে গ্রহণ করে।
### ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা
- **উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি**: উসমানীয় সেনাবাহিনী এই আন্দোলনকে সাময়িকভাবে দমন করে।
- ব্রিটিশদের সহায়তায় ওহাবি ও সৌদি পৃষ্ঠপোষকরা ফিরে আসে এবং **১৯৩২ সালে** সৌদি আরব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে।
- তারপর থেকে সৌদিরা আমেরিকানদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে — তেলসম্পদের বিনিময়ে। তারা মৌলবাদী সংগঠন, আফগান জিহাদসহ মার্কিন গোপন অপারেশনে অর্থায়ন করে এবং ওহাবি মতবাদ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেয় — যা ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম প্রচারণা অভিযান।
এই প্রতিবেদন স্পষ্ট করে যে, ওহাবিবাদ কোনো স্বাভাবিক ইসলামী সংস্কার নয় — এটি **পশ্চিমা ষড়যন্ত্রের হাতিয়ার**, যা ইসলামের ঐক্য ধ্বংস করতে তৈরি। ইরাকি সরকার এটি জানত বলে সৌদি-ওহাবিদের বিরুদ্ধে সতর্ক ছিল।
প্রধান রেফারেন্স ও প্রমাণসূত্র (যাচাইযোগ্য লিঙ্কসহ):
- U.S. DoD-এর অফিসিয়াল অনুবাদিত প্রতিবেদন PDF: https://irp.fas.org/eprint/iraqi/wahhabi.pdf (৫৮ পৃষ্ঠা, সম্পূর্ণ নথি)।
- Wikipedia: Memoirs of Mr. Hempher (ইরাকি প্রতিবেদনে উল্লেখিত)।
- Harvard MESH Blog (2008): Anti-Wahhabism footnote — প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ।
- The Truth Seeker (2011): “2002 Iraqi Intel Reported Wahhabis Are of Jewish Origin”।
- Daniel Pipes ও অন্যান্য বিশ্লেষক: এটি তুর্কি ষড়যন্ত্র তত্ত্বের (আইয়ুব সাবরি পাশার যুগের) পুনরাবৃত্তি, কিন্তু ইরাকি অফিসিয়াল নথি হিসেবে স্বীকৃত।
এই প্রতিবেদনের শিরোনাম: “The Emergence of Wahhabism and its Historical Roots” (বা “The Birth of Al-Wahabi Movement and Its Historic Roots”)। এটি ইরাকি এয়ার ডিফেন্স সিকিউরিটি সিস্টেমের অংশ হিসেবে তৈরি হয় এবং লেখক/অফিসার হলেন কল. সাঈদ মাহমুদ নাজম আল-আমিরি (Sa'id Mahmud Najm Al-'Amiri)। সাদ্দামের পতনের পর **ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব ডিফেন্স (U.S. Department of Defense)** এই নথি অনুবাদ করে প্রকাশ করে (ফেডারেল অ্যাকুইজিশন সার্ভিসের মাধ্যমে উপলব্ধ: irp.fas.org/eprint/iraqi/wahhabi.pdf)।
### প্রতিবেদনের মূল দাবি ও বিস্তারিত প্রমাণ
প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, **মুহাম্মদ ইবন আব্দুল ওহাবের** (ওহাবিবাদের প্রতিষ্ঠাতা) দাদা সুলায়মান আসলে **ইহুদি বংশোদ্ভূত** ছিলেন। তার আসল নাম ছিল **শুলম্যান (Shulman)** — তুরস্কের বুরসা (Bursa/Burstah) শহরের একজন ইহুদি ব্যবসায়ী, যিনি **দোঁনমে (Dönme)** সম্প্রদায়ের (ক্রিপ্টো-জু) অন্তর্গত। তিনি বাহ্যিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করে দাড়ি রাখেন এবং তুর্কি পাগড়ি পরেন, কিন্তু পরে ধরা পড়ে এবং বিতাড়িত হন। প্রতিবেদনে উল্লেখ: “Tawran confirms that Sulayman, the grandfather of the sheikh, is (Shulman); he is Jew from the merchants of the city of Burstah in Turkey...” এই দাবি আরবি সূত্র থেকে নেওয়া, যা ইংরেজিতে অনুবাদিত হয়নি কিন্তু ইরাকি গোয়েন্দারা নিশ্চিত করে।
একইভাবে, **মুহাম্মদ ইবন সৌদ** (সৌদি রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা) এবং তাঁর পরিবারকেও ইহুদি উৎসের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদন বলছে, ওহাব ও সৌদ উভয়েই ইহুদি বংশোদ্ভূত এবং তাদের মাধ্যমে ইসলামের ভিতরে বিভেদ সৃষ্টি করা হয়েছে।
### ব্রিটিশ গুপ্তচর মি. হেমফারের স্মৃতিকথার ভিত্তিতে পুরো ষড়যন্ত্র
প্রতিবেদনটি **মূলত মি. হেমফারের স্মৃতিকথা (Memoirs of Mr. Hempher, The British Spy to the Middle East / Confessions of a British Spy)**-এর ওপর নির্ভর করে। ১৮শ শতাব্দীর মাঝামাঝি (হিজরি ১১২২/১৭১০ সালে) ব্রিটিশ কলোনিয়াল মিনিস্ট্রি থেকে হেমফারকে মধ্যপ্রাচ্যে (ইজিপ্ট, ইরাক, হেজাজ, ইস্তাম্বুল) পাঠানো হয় ইসলামকে ভিতর থেকে ধ্বংস করার জন্য। তিনি বসরায় মুহাম্মদ ইবন আব্দুল ওহাবের (তখনকার এক যুবক) সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তাকে প্রশংসা করে, মদ-নারী ইত্যাদি দিয়ে প্রলুব্ধ করে এবং ইসলামের বিকৃত সংস্করণ তৈরি করান — যা পরে *ওহাবিবাদ* নামে পরিচিত হয়। হেমফার নিজেকে মুসলিম ছদ্মবেশে উপস্থাপন করে ওহাবকে বলেন যে, তিনি নতুন একটি মতবাদ প্রতিষ্ঠা করবেন যা ইসলামকে ভিতর থেকে ধ্বংস করবে।
হেমফারের স্মৃতিকথায় (যা ইরাকি প্রতিবেদনে বিস্তারিত উদ্ধৃত) বলা হয়েছে: ব্রিটিশরা ৫,০০০ গুপ্তচর নিয়োগ করে মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার পরিকল্পনা করে, পরে সংখ্যা বাড়িয়ে ১,০০,০০০ করার কথা। এটি **প্রটোকলস অফ দ্য এল্ডার্স অফ জায়ন**-এর মতো অ্যাঙ্গলোফোবিক ষড়যন্ত্র তত্ত্বের অংশ হিসেবে বর্ণিত, কিন্তু ইরাকি গোয়েন্দারা এটিকে ঐতিহাসিক সত্য হিসেবে গ্রহণ করে।
### ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা
- **উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি**: উসমানীয় সেনাবাহিনী এই আন্দোলনকে সাময়িকভাবে দমন করে।
- ব্রিটিশদের সহায়তায় ওহাবি ও সৌদি পৃষ্ঠপোষকরা ফিরে আসে এবং **১৯৩২ সালে** সৌদি আরব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে।
- তারপর থেকে সৌদিরা আমেরিকানদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে — তেলসম্পদের বিনিময়ে। তারা মৌলবাদী সংগঠন, আফগান জিহাদসহ মার্কিন গোপন অপারেশনে অর্থায়ন করে এবং ওহাবি মতবাদ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেয় — যা ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম প্রচারণা অভিযান।
এই প্রতিবেদন স্পষ্ট করে যে, ওহাবিবাদ কোনো স্বাভাবিক ইসলামী সংস্কার নয় — এটি **পশ্চিমা ষড়যন্ত্রের হাতিয়ার**, যা ইসলামের ঐক্য ধ্বংস করতে তৈরি। ইরাকি সরকার এটি জানত বলে সৌদি-ওহাবিদের বিরুদ্ধে সতর্ক ছিল।
প্রধান রেফারেন্স ও প্রমাণসূত্র (যাচাইযোগ্য লিঙ্কসহ):
- U.S. DoD-এর অফিসিয়াল অনুবাদিত প্রতিবেদন PDF: https://irp.fas.org/eprint/iraqi/wahhabi.pdf (৫৮ পৃষ্ঠা, সম্পূর্ণ নথি)।
- Wikipedia: Memoirs of Mr. Hempher (ইরাকি প্রতিবেদনে উল্লেখিত)।
- Harvard MESH Blog (2008): Anti-Wahhabism footnote — প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ।
- The Truth Seeker (2011): “2002 Iraqi Intel Reported Wahhabis Are of Jewish Origin”।
- Daniel Pipes ও অন্যান্য বিশ্লেষক: এটি তুর্কি ষড়যন্ত্র তত্ত্বের (আইয়ুব সাবরি পাশার যুগের) পুনরাবৃত্তি, কিন্তু ইরাকি অফিসিয়াল নথি হিসেবে স্বীকৃত।