ওমরাহ একটি পবিত্র ইবাদত, যা অনেকের জীবনে একটি অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা। তবে এই যাত্রার শুরুতে বিমানবন্দরের প্রক্রিয়া অনেকের কাছে বিভ্রান্তিকর হতে পারে, বিশেষ করে যারা প্রথমবার ভ্রমণ করছেন। নিয়মিত ভ্রমণকারীদের জন্য এটি সহজ হলেও, নতুন যাত্রীদের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করলে অভিজ্ঞতা সুগম হয়।
লাগেজে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র
ওমরাহ যাত্রার লাগেজ প্রস্তুতিতে সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি। ফ্লাইটের ধরন অনুসারে ইহরাম পরার বিষয় বিবেচনা করুন।
১. ইহরামের ব্যবস্থা: জেদ্দায় সরাসরি ফ্লাইট হলে বাসা থেকে বা বিমানবন্দরে ইহরাম পরুন। মদিনায় ফ্লাইট হলে মক্কায় যাওয়ার দিন পরুন। ট্রানজিট থাকলে সেখানে পরুন। ইহরাম হ্যান্ড লাগেজে রাখুন।
২. পরিচিতদের দেওয়া জিনিসপত্র বহনে সতর্কতা : কোনো উপহার গ্রহণের সময় উপস্থিতিতে চেক করুন, যাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
৩. দৈনন্দিন প্রয়োজনীয়তা: সাবান, টুথপেস্ট, ইত্যাদি দেশ থেকে নিন, যাতে হোটেলের উপর নির্ভর না করতে হয়।
৪. ওষুধপত্র: জ্বর, সর্দি, মাথাব্যথা, গ্যাস্ট্রিক, বমি, ফুড পয়জনিংয়ের ওষুধ সাথে রাখুন। স্যালাইন এবং গ্লুকোজ নিন, কারণ হাঁটাহাঁটি বেশি হয়।
৫. জামাকাপড় বিতরণ: একাধিক লাগেজে জামাকাপড় ভাগ করে রাখুন, এমনকি হ্যান্ড লাগেজে ২ সেট রাখতে পারেন। লাগেজ হারানোর ক্ষেত্রে এটি সহায়ক।
৬. খাবারের উপকরণ: মেলামাইন প্লেট নিন, যাতে হোটেলের পার্সেলে খাওয়া সুবিধাজনক হয়।
৭. নথিপত্র: লাগেজে পাসপোর্ট এবং ভিসার কপি রাখুন। মূল নথি সহজপ্রাপ্য ব্যাগে রাখুন।
৮. চা-প্রেমীদের জন্য: চা-প্রিয় হলে সচেতন থাকুন, কারণ সেখানে চা (রঙ চা ২ রিয়াল, দুধ চা ৩ রিয়াল)।
৯. ইলেকট্রনিক্স: থ্রি-পিন অ্যাডাপ্টার নিন, কারণ সৌদিতে এটি প্রচলিত।
১০ চশমা ব্যবহার করলে অতিরিক্ত একটি নিন. ছাতা এবং সানগ্লাস নিন।
১১.রিয়াল ২-৩ জায়গায় ভাগ করে রাখুন, যাতে হারানোর ঝুঁকি কমে।
ওমরাহ যাত্রায় যেকোনো সন্দেহে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ নিন।
বিমানবন্দরে প্রবেশ
১. প্রবেশপথে নিরাপত্তা স্ক্যানিং: বিমানবন্দরে গাড়ি থেকে নামার পর প্রথমে একটি নিরাপত্তা স্ক্যানিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এটি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য সঙ্গীদের সাথে সমন্বয় করুন। যদি একাধিক যাত্রী থাকেন, তাহলে অন্তত দুজন একসাথে প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করুন। প্রথম ব্যক্তি শুধুমাত্র পাসপোর্ট ব্যাগ নিয়ে স্ক্যানিংয়ে যান এবং অপেক্ষা করুন। দ্বিতীয় ব্যক্তি লাগেজগুলো স্ক্যানিং মেশিনে প্রেরণ করুন। এতে লাগেজ হারানোর ঝুঁকি কমে, কারণ স্ক্যানিং চলাকালীন লাগেজ অযত্নে পড়ে থাকলে তা চুরি বা ভুল করে নেওয়া যেতে পারে।
২. চেক-ইন প্রক্রিয়া: স্ক্রিনে আপনার ফ্লাইটের চেক-ইন শুরু হওয়ার তথ্য দেখুন। এজেন্সির মাধ্যমে গেলে সবাই একসাথে চেক-ইন করুন। একা থাকলে আশেপাশের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসা করুন। যেকোনো সন্দেহে পরামর্শ গ্রহণ করুন, যা ইসলামী নির্দেশনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। চেক-ইনের সময় জানালার পাশের সিটের অনুরোধ করতে পারেন, যা কর্মকর্তাকে সরাসরি বলে সম্ভব।
৩. লাগেজ হস্তান্তর এবং নথিপত্র: চেক-ইনের সময় লাগেজের ওজন নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত যাত্রার শুরুতে লাগেজ হালকা থাকে। এখানে বোর্ডিং পাস এবং লাগেজ স্টিকার প্রাপ্ত হয়, যা গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর ছবি তুলে রাখুন যাতে কোনো সমস্যায় সহায়ক হয়।
৪. ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া: ওমরাহ যাত্রীদের জন্য ইমিগ্রেশন সাধারণত সহজ। এজেন্সির ক্ষেত্রে মুয়াল্লিমের সাথে কাগজপত্র দেখাতে হয়। কর্মকর্তারা সাধারণত তিনটি প্রশ্ন করেন: আপনার পেশা কী? সৌদি আরবে কোনো পরিবারের সদস্য আছে কি? রিটার্ন ফ্লাইট কবে? সরকারি চাকরিজীবী বা আথিক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) প্রয়োজন হয়। অন্যান্য পেশায় সাধারণত লাগে না, তবে সাথে রাখা উচিত।
৫. ইমিগ্রেশন পরবর্তী সময় ব্যবহার: ইমিগ্রেশন সম্পন্ন হলে ফ্লাইট নিশ্চিত হয়। অবশিষ্ট সময়ে নামাজ আদায় করুন, ইহরাম না পরা থাকলে পরুন, অথবা বিমানবন্দর ঘুরে দেখুন। ওয়াশরুম ব্যবহার করুন যাতে বিমানে প্রয়োজন না হয়। বিমানের ওয়াশরুমকে জরুরি ক্ষেত্রে বিবেচনা করুন।
৬. গেইটে চেক-ইন: টিকিটে উল্লিখিত গেইট নম্বর অনুসারে সময়ের আগে যান। এখানে চূড়ান্ত নিরাপত্তা চেক হয়, যেখানে বেল্ট, জুতা, মোবাইল, ব্যাগ ইত্যাদি হস্তান্তর করতে হয়। শুধুমাত্র পাসপোর্ট এবং বোর্ডিং পাস হাতে রাখুন।
৭. বিমানে উঠা এবং যাত্রা: কেবিন ক্রু সিট দেখিয়ে দেবেন। হ্যান্ড লাগেজ উপরের কম্পার্টমেন্টে রাখুন। উড্ডয়ন এবং অবতরণকালে কানে শব্দের কারণে অস্বস্তি হতে পারে, যা স্বাভাবিক এবং সাময়িক। ওই সময় দুরুদ শরিফ পড়তে পারেন। ফ্লাইটে সাধারণত দুই ঘণ্টা পর খাবার পরিবেশন হয়। কিছু এয়ারলাইন্সে জুস বা স্যান্ডউইচ প্রথমে দেওয়া হয়। চা-কফি পরবর্তীতে দেয়া হয়।
ওমরাহ যাত্রীর লাগেজ প্রস্তুতি ও বিমানবন্দরে করণীয়
ওমরাহ যাত্রীর লাগেজ প্রস্তুতি ও বিমানবন্দরে করণীয়
ওমরাহ একটি পবিত্র ইবাদত, যা অনেকের জীবনে একটি অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা। তবে এই যাত্রার শুরুতে বিমানবন্দরের প্রক্রিয়া অনেকের কাছে বিভ্রান্তিকর হতে পারে, বিশেষ করে যারা প্রথমবার ভ্রমণ করছেন। নিয়মিত ভ্রমণকারীদের জন্য এটি সহজ হলেও, নতুন যাত্রীদের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করলে অভিজ্ঞতা সুগম হয়। লাগেজে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রওমরাহ যাত্রার লাগেজ প্রস্তুতিতে সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি। ফ্লাইটের ধরন অনুসারে ইহরাম পরার বিষয় বিবেচনা করুন।১. ইহরামের ব্যবস্থা: জেদ্দায় সরাসরি ফ্লাইট হলে বাসা থেকে বা বিমানবন্দরে ইহরাম পরুন। মদিনায় ফ্লাইট হলে মক্কায় যাওয়ার দিন পরুন। ট্রানজিট থাকলে সেখানে পরুন। ইহরাম হ্যান্ড লাগেজে রাখুন।২. পরিচিতদের দেওয়া জিনিসপত্র বহনে সতর্কতা : কোনো উপহার গ্রহণের সময় উপস্থিতিতে চেক করুন, যাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।৩. দৈনন্দিন প্রয়োজনীয়তা: সাবান, টুথপেস্ট, ইত্যাদি দেশ থেকে নিন, যাতে হোটেলের উপর নির্ভর না করতে হয়।৪. ওষুধপত্র: জ্বর, সর্দি, মাথাব্যথা, গ্যাস্ট্রিক, বমি, ফুড পয়জনিংয়ের ওষুধ সাথে রাখুন। স্যালাইন এবং গ্লুকোজ নিন, কারণ হাঁটাহাঁটি বেশি হয়।৫. জামাকাপড় বিতরণ: একাধিক লাগেজে জামাকাপড় ভাগ করে রাখুন, এমনকি হ্যান্ড লাগেজে ২ সেট রাখতে পারেন। লাগেজ হারানোর ক্ষেত্রে এটি সহায়ক।৬. খাবারের উপকরণ: মেলামাইন প্লেট নিন, যাতে হোটেলের পার্সেলে খাওয়া সুবিধাজনক হয়।৭. নথিপত্র: লাগেজে পাসপোর্ট এবং ভিসার কপি রাখুন। মূল নথি সহজপ্রাপ্য ব্যাগে রাখুন।৮. চা-প্রেমীদের জন্য: চা-প্রিয় হলে সচেতন থাকুন, কারণ সেখানে চা (রঙ
চা ২ রিয়াল, দুধ চা ৩ রিয়াল)।৯. ইলেকট্রনিক্স: থ্রি-পিন অ্যাডাপ্টার নিন, কারণ সৌদিতে এটি প্রচলিত।১০ চশমা ব্যবহার করলে অতিরিক্ত একটি নিন. ছাতা এবং সানগ্লাস নিন।১১.রিয়াল ২-৩ জায়গায় ভাগ করে রাখুন, যাতে হারানোর ঝুঁকি কমে।ওমরাহ যাত্রায় যেকোনো সন্দেহে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ নিন।বিমানবন্দরে প্রবেশ ১. প্রবেশপথে নিরাপত্তা স্ক্যানিং: বিমানবন্দরে গাড়ি থেকে নামার পর প্রথমে একটি নিরাপত্তা স্ক্যানিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এটি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য সঙ্গীদের সাথে সমন্বয় করুন। যদি একাধিক যাত্রী থাকেন, তাহলে অন্তত দুজন একসাথে প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করুন। প্রথম ব্যক্তি শুধুমাত্র পাসপোর্ট ব্যাগ নিয়ে স্ক্যানিংয়ে যান এবং অপেক্ষা করুন। দ্বিতীয় ব্যক্তি লাগেজগুলো স্ক্যানিং মেশিনে প্রেরণ করুন। এতে লাগেজ হারানোর ঝুঁকি কমে, কারণ স্ক্যানিং চলাকালীন লাগেজ অযত্নে পড়ে থাকলে তা চুরি বা ভুল করে নেওয়া যেতে পারে।২. চেক-ইন প্রক্রিয়া: স্ক্রিনে আপনার ফ্লাইটের চেক-ইন শুরু হওয়ার তথ্য দেখুন। এজেন্সির মাধ্যমে গেলে সবাই একসাথে চেক-ইন করুন। একা থাকলে আশেপাশের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসা করুন। যেকোনো সন্দেহে পরামর্শ গ্রহণ করুন, যা ইসলামী নির্দেশনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। চেক-ইনের সময় জানালার পাশের সিটের অনুরোধ করতে পারেন, যা কর্মকর্তাকে সরাসরি বলে সম্ভব।৩. লাগেজ হস্তান্তর এবং নথিপত্র: চেক-ইনের সময় লাগেজের ওজন নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত যাত্রার শুরুতে লাগেজ হালকা থাকে। এখানে বোর্ডিং পাস এবং লাগেজ স্টিকার প্রাপ্ত হয়, যা গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর ছবি তুলে রাখুন
যাতে কোনো সমস্যায় সহায়ক হয়।৪. ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া: ওমরাহ যাত্রীদের জন্য ইমিগ্রেশন সাধারণত সহজ। এজেন্সির ক্ষেত্রে মুয়াল্লিমের সাথে কাগজপত্র দেখাতে হয়। কর্মকর্তারা সাধারণত তিনটি প্রশ্ন করেন: আপনার পেশা কী? সৌদি আরবে কোনো পরিবারের সদস্য আছে কি? রিটার্ন ফ্লাইট কবে? সরকারি চাকরিজীবী বা আথিক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) প্রয়োজন হয়। অন্যান্য পেশায় সাধারণত লাগে না, তবে সাথে রাখা উচিত।৫. ইমিগ্রেশন পরবর্তী সময় ব্যবহার: ইমিগ্রেশন সম্পন্ন হলে ফ্লাইট নিশ্চিত হয়। অবশিষ্ট সময়ে নামাজ আদায় করুন, ইহরাম না পরা থাকলে পরুন, অথবা বিমানবন্দর ঘুরে দেখুন। ওয়াশরুম ব্যবহার করুন যাতে বিমানে প্রয়োজন না হয়। বিমানের ওয়াশরুমকে জরুরি ক্ষেত্রে বিবেচনা করুন।৬. গেইটে চেক-ইন: টিকিটে উল্লিখিত গেইট নম্বর অনুসারে সময়ের আগে যান। এখানে চূড়ান্ত নিরাপত্তা চেক হয়, যেখানে বেল্ট, জুতা, মোবাইল, ব্যাগ ইত্যাদি হস্তান্তর করতে হয়। শুধুমাত্র পাসপোর্ট এবং বোর্ডিং পাস হাতে রাখুন।৭. বিমানে উঠা এবং যাত্রা: কেবিন ক্রু সিট দেখিয়ে দেবেন। হ্যান্ড লাগেজ উপরের কম্পার্টমেন্টে রাখুন। উড্ডয়ন এবং অবতরণকালে কানে শব্দের কারণে অস্বস্তি হতে পারে, যা স্বাভাবিক এবং সাময়িক। ওই সময় দুরুদ শরিফ পড়তে পারেন। ফ্লাইটে সাধারণত দুই ঘণ্টা পর খাবার পরিবেশন হয়। কিছু এয়ারলাইন্সে জুস বা স্যান্ডউইচ প্রথমে দেওয়া হয়। চা-কফি পরবর্তীতে দেয়া হয়।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত