একটি ঘোর অন্ধকারের মধ্য দিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি। আমাদের চোখে ঠুলি পরিয়ে রাখা হয়েছে। পড়াশোনা তো নতুন করে করছি না। ষাট দশকে পড়াশোনায় আমার হাতেখড়ি। কিন্তু এত বছর বইয়ের পাতায় চোখ রেখেও জানতে পারিনি যে, আমার প্রিয় রসূলের (সা:) সাথে কয়েকজন সাহাবী বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। রসূল ছিলেন তার জাতির নেতা ও অভিভাবক। কিন্তু ক্ষমতালোভী এসব সাহাবী রসূলের মনোনীত প্রতিনিধি হযরত আলীর হক কেড়ে নিয়ে নিজেরা খলিফা হয়ে বসেন। গোলাম হয়ে প্রভুকে শাসন করেছেন। প্রভুকে গোলাম বানিয়ে রেখেছেন। চৌদ্দ শত বছর ধরে এ ইতিহাস চেপে রাখা হয়েছে।
মক্কার অদূরে গাদিরে খুম আমাদের ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। গাদিরে খুমে রসূল তার চাচাতো ভাই ও মেয়ে জামাতা হযরত আলীকে তার উত্তরাধিকারী হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন।
কিন্তু এই ইতিহাসকে বর্তমান সৌদি শাসকগোষ্ঠী ভয় পায়। কাউকে গাদিরে খুমে যেতে দেয়া হয় না। তারপরও কঠোর বেষ্টনী ভেদ করে দুয়েকজন সেখানে প্রবেশ করার দু:সাহস দেখিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ও ফারসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড: আহসানুল হাদি কয়েক বছর আগে ওমরাহ করতে গিয়ে চুপিচুপি গাদিরে খুমে গিয়েছিলেন। আমি তার এ দু:সাহসী অভিযান আমার কারবালা বইয়ের দ্বিতীয় সংস্করণে যোগ করেছি। গত বছরের আগস্টে মোহাম্মদপুরে তার খানকায় তার সাথে আমার দেখা হয়। আমি তাকে একথা জানালে তিনি খুশি হন।
গাদিরে খুম সফর নিয়ে চট্টগ্রামের বাসিন্দা জুয়েলউদ্দিনের আরেকটি ভিডিও আমি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছি। ২০১৮ সালে জুয়েলউদ্দিন গাদিরে খুমে গিয়ে শুধু ধ্বংসস্তূপ দেখতে পান। সেখানে হযরত আলী অথবা অন্য সাহাবীরা একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। এ মসজিদ ভেংগে ফেলা হয়েছে। আছে মাত্র ইটের কয়েকটি টুকরো। সাক্ষী হিসেবে কয়েকটি গাছ দাঁড়িয়ে আছে। রসূল বিদায় হজ্জ শেষে মদিনায় ফিরে যাওয়ার পথে গাদিরে খুমে সুরা মায়েদার ৬৭ নম্বর আয়াত নাজেল হয়। এ আয়াতে রসূলকে তার রিসালাত পূর্ণ করার বা উত্তরাধিকারী নিয়োগের তাগিদ দেয়া হয়। জীবনের ইতি ঘটতে যাচ্ছে এ ইংগিত পেয়ে রসূল কাফেলাকে থামতে বলেন। নিজ নিজ বাড়িঘরের পথে ধাবমান সাহাবীদের ফিরিয়ে আনার আদেশ দেন। কয়েকটি গাছের নিচে রসূলের উটের জন্য মঞ্চ তৈরি করা হয়। লক্ষাধিক সাহাবীর সামনে রসূল বললেন: হে আমার সাহাবীগণ! তোমরা কি জান আমি মু'মিনদের কাছে তাদের জীবনের চেয়ে প্রিয়? সাহাবীরা সমস্বরে জবাব দেন: ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনি আমাদের নিজেদের জীবনের চেয়ে প্রিয়।
সাহাবীদের সম্মতি পেয়ে রসূল নিজের বেলায়েত ও অভিভাবকত্বের ঘোষণা দিয়ে হযরত আলীর হাত উচুঁ করে ধরে পুনরায় বললেন: তোমরা কি সাক্ষ্য দিচ্ছ যে, আমি তোমাদের সবার জীবনের আওলা (অভিভাবক)? সবাই হ্যাঁসূচক জবাব দিলে রসূল বললেন: তাহলে শোন, মান কুনতো মাওলা ফাহাজা আলীউন মাওলা। অর্থাৎ আমি যার মাওলা এই আলী তার মাওলা। রসূল হযরত আলীকে তার উত্তরাধিকারী হিসেবে ঘোষণা দেয়ার পর কুরআনের শেষ আয়াত নাজেল হয়।
আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ধর্ম হিসেবে ইসলামকে তোমাদের জন্য মনোনীত করলাম। (সুরা মায়েদা-৩)।
হযরত উমর হযরত আলীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন: হে আবি তালিবের পুত্র! তোমাকে অভিনন্দন। আজ থেকে তুমি সকল মু'মিন নরনারীর মাওলা।
কিন্তু পরবর্তীকালে সাহাবীরা রসূলের সিদ্ধান্ত অমান্য করেন। হযরত উমর রসূলের উত্তরাধিকারী হিসেবে হযরত আলীকে অভিনন্দন জানালেও তিনি রসূলের দাফন-কাফন বাদ দিয়ে মদিনার সাকিফা হাউসে হযরত আবু বকরের প্রতি হাত বাড়িয়ে দিয়ে তার বাইয়াত হন।রসূলের সিদ্ধান্ত অমান্য করার পরিণতি কী হতে পারে সহীহ বুখারীর ৬৫৫৬ নম্বর হাদিসে তার প্রমাণ পাওয়া যায়। সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের উদ্ধৃতি দিয়ে এ হাদিসে বলা হয়েছে: আমি (রসূল) তোমাদের আগে হাউসে কাউসারে পৌঁছাবো। আর সে সময় তোমাদের কতিপয় লোককে আমার সামনে উঠানো হবে। তারপর আমার সামনে থেকে তাদের সরিয়ে নেয়া হবে। তখন আমি আরজ করবো, এ আমার প্রতিপালক, তারা তো আমার সাহাবী। তখন বলা হবে, আপনার পরে তারা কী কীর্তি করেছে তা আপনি জানেন না৷
কাদের কার্যকলাপের প্রতি ইংগিত করে এ হাদিস লিপিবদ্ধ করা হয়েছে তা বুঝতে কষ্ট হয় না।
রসূলের সাথে তার কয়েকজন সাহাবী বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন
রসূলের সাথে তার কয়েকজন সাহাবী বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন
একটি ঘোর অন্ধকারের মধ্য দিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি। আমাদের চোখে ঠুলি পরিয়ে রাখা হয়েছে। পড়াশোনা তো নতুন করে করছি না। ষাট দশকে পড়াশোনায় আমার হাতেখড়ি। কিন্তু এত বছর বইয়ের পাতায় চোখ রেখেও জানতে পারিনি যে, আমার প্রিয় রসূলের (সা:) সাথে কয়েকজন সাহাবী বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। রসূল ছিলেন তার জাতির নেতা ও অভিভাবক। কিন্তু ক্ষমতালোভী এসব সাহাবী রসূলের মনোনীত প্রতিনিধি হযরত আলীর হক কেড়ে নিয়ে নিজেরা খলিফা হয়ে বসেন। গোলাম হয়ে প্রভুকে শাসন করেছেন। প্রভুকে গোলাম বানিয়ে রেখেছেন। চৌদ্দ শত বছর ধরে এ ইতিহাস চেপে রাখা হয়েছে। মক্কার অদূরে গাদিরে খুম আমাদের ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। গাদিরে খুমে রসূল তার চাচাতো ভাই ও মেয়ে জামাতা হযরত আলীকে তার উত্তরাধিকারী হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন।কিন্তু এই ইতিহাসকে বর্তমান সৌদি শাসকগোষ্ঠী ভয় পায়। কাউকে গাদিরে খুমে যেতে দেয়া হয় না। তারপরও কঠোর বেষ্টনী ভেদ করে দুয়েকজন সেখানে প্রবেশ করার দু:সাহস দেখিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ও ফারসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড: আহসানুল হাদি কয়েক বছর আগে ওমরাহ করতে গিয়ে চুপিচুপি গাদিরে খুমে গিয়েছিলেন। আমি তার এ দু:সাহসী অভিযান আমার কারবালা বইয়ের দ্বিতীয় সংস্করণে যোগ করেছি। গত বছরের আগস্টে মোহাম্মদপুরে তার খানকায় তার সাথে আমার দেখা হয়। আমি তাকে একথা জানালে তিনি খুশি হন। গাদিরে খুম
সফর নিয়ে চট্টগ্রামের বাসিন্দা জুয়েলউদ্দিনের আরেকটি ভিডিও আমি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছি। ২০১৮ সালে জুয়েলউদ্দিন গাদিরে খুমে গিয়ে শুধু ধ্বংসস্তূপ দেখতে পান। সেখানে হযরত আলী অথবা অন্য সাহাবীরা একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। এ মসজিদ ভেংগে ফেলা হয়েছে। আছে মাত্র ইটের কয়েকটি টুকরো। সাক্ষী হিসেবে কয়েকটি গাছ দাঁড়িয়ে আছে। রসূল বিদায় হজ্জ শেষে মদিনায় ফিরে যাওয়ার পথে গাদিরে খুমে সুরা মায়েদার ৬৭ নম্বর আয়াত নাজেল হয়। এ আয়াতে রসূলকে তার রিসালাত পূর্ণ করার বা উত্তরাধিকারী নিয়োগের তাগিদ দেয়া হয়। জীবনের ইতি ঘটতে যাচ্ছে এ ইংগিত পেয়ে রসূল কাফেলাকে থামতে বলেন। নিজ নিজ বাড়িঘরের পথে ধাবমান সাহাবীদের ফিরিয়ে আনার আদেশ দেন। কয়েকটি গাছের নিচে রসূলের উটের জন্য মঞ্চ তৈরি করা হয়। লক্ষাধিক সাহাবীর সামনে রসূল বললেন: হে আমার সাহাবীগণ! তোমরা কি জান আমি মু'মিনদের কাছে তাদের জীবনের চেয়ে প্রিয়? সাহাবীরা সমস্বরে জবাব দেন: ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনি আমাদের নিজেদের জীবনের চেয়ে প্রিয়। সাহাবীদের সম্মতি পেয়ে রসূল নিজের বেলায়েত ও অভিভাবকত্বের ঘোষণা দিয়ে হযরত আলীর হাত উচুঁ করে ধরে পুনরায় বললেন: তোমরা কি সাক্ষ্য দিচ্ছ যে, আমি তোমাদের সবার জীবনের আওলা (অভিভাবক)? সবাই হ্যাঁসূচক জবাব দিলে রসূল বললেন: তাহলে শোন, মান কুনতো মাওলা ফাহাজা আলীউন মাওলা। অর্থাৎ আমি যার মাওলা এই আলী তার মাওলা। রসূল
হযরত আলীকে তার উত্তরাধিকারী হিসেবে ঘোষণা দেয়ার পর কুরআনের শেষ আয়াত নাজেল হয়। আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ধর্ম হিসেবে ইসলামকে তোমাদের জন্য মনোনীত করলাম। (সুরা মায়েদা-৩)। হযরত উমর হযরত আলীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন: হে আবি তালিবের পুত্র! তোমাকে অভিনন্দন। আজ থেকে তুমি সকল মু'মিন নরনারীর মাওলা।কিন্তু পরবর্তীকালে সাহাবীরা রসূলের সিদ্ধান্ত অমান্য করেন। হযরত উমর রসূলের উত্তরাধিকারী হিসেবে হযরত আলীকে অভিনন্দন জানালেও তিনি রসূলের দাফন-কাফন বাদ দিয়ে মদিনার সাকিফা হাউসে হযরত আবু বকরের প্রতি হাত বাড়িয়ে দিয়ে তার বাইয়াত হন।রসূলের সিদ্ধান্ত অমান্য করার পরিণতি কী হতে পারে সহীহ বুখারীর ৬৫৫৬ নম্বর হাদিসে তার প্রমাণ পাওয়া যায়। সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের উদ্ধৃতি দিয়ে এ হাদিসে বলা হয়েছে: আমি (রসূল) তোমাদের আগে হাউসে কাউসারে পৌঁছাবো। আর সে সময় তোমাদের কতিপয় লোককে আমার সামনে উঠানো হবে। তারপর আমার সামনে থেকে তাদের সরিয়ে নেয়া হবে। তখন আমি আরজ করবো, এ আমার প্রতিপালক, তারা তো আমার সাহাবী। তখন বলা হবে, আপনার পরে তারা কী কীর্তি করেছে তা আপনি জানেন না৷ কাদের কার্যকলাপের প্রতি ইংগিত করে এ হাদিস লিপিবদ্ধ করা হয়েছে তা বুঝতে কষ্ট হয় না।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত