শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
লাইফস্টাইল সালোয়ার কামিজে নতুনত্ব থাকবে নকশায়

সালোয়ার কামিজে নতুনত্ব থাকবে নকশায়

ঈদ মানেই নতুন সাজগোজ, আনন্দ, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে একসঙ্গে হওয়ার উপলক্ষ। আর সেই উপলক্ষটাকে আরও সুন্দর করে তোলার অন্যতম অংশ হলো আমাদের পোশাক যা শুধু পোশাক নয়, আমাদের সংস্কৃতি, অনুভব ও সময়ের ছোঁয়া বহন করে। ঈদের উৎসবমুখরিত বাজার ঘুরে এ বছর ঈদে সালোয়ার-কামিজ, কুর্তি ও টপসের ডিজাইনে নতুনত্ব কী এসেছে বিস্তারিত জানাচ্ছেন রিয়ানা ইসলাম রিম্পা

২০১০-এর পর থেকে সময়ের সঙ্গে ঈদের পোশাকের ফ্যাশনও বদলেছে ক্লাসিক ডিজাইন থেকে এখন আধুনিক কাট ও ইন্দো-ওয়েস্টার্ন ফ্লেয়ার পর্যন্ত নানা পরিবর্তন এসেছে। ২০২৬ ঈদে নারী পোশাকে দেখা গেল একদম ভারী শাইন না হলেও সাবলীল রেশম, হালকা শিফন ও সিল্ক-ব্লেন্ডের নরম শেড, সেই আর্থ-স্মার্ট ব্যালান্সটাকে তুলে ধরে। এই শেডগুলোর মধ্যে যেমন আইস ব্লু, সেজ গ্রিন বা ডাস্টি পিংক এসব রঙ কাঁচা ফুলের মতো হালকা আর শুভ্র সতেজ ফেস্টিভ ভাইব এনে দেয়। 

এবার ঈদের পোশাকে এসেছে নতুনত্ব। সেই সঙ্গে কমফোর্ট আর ট্রেন্ড দু’দিকেই মিলছে গুরুত্ব। তাই ২০২৬ সালে ঈদের পোশাকে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি হলো রঙের প্যালেট ও ডিজাইনের হালকা নরম ভাব প্যাস্টেল শেড যেমন, ব্লাশ পিংক, মিট গ্রিন, আইস ব্লু ও পাউডার পিচ-এর মতো রঙগুলো দিনের আলোয় আরামদায়ক ও ফটো ফ্রেন্ডলি দেখাচ্ছে, যা সকালে নামাজ, মিলনমেলা এবং দুপুরের পরিবারের আড্ডা সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে চলছে। আবার সন্ধ্যার একান্ত পারিবারিক খাবারের জন্য একটু ভরপুর আলোকময় রঙের কম্বিনেশনে সিল্ক-ব্লেন্ড কুর্তি বা এম্ব্রয়ডারি কমলা ডিটেইলও ট্রেন্ডি হয়ে উঠেছে, যেখানে একদিকে খেয়ালি রঙের নরম ভাব আছে, অন্যদিকে একটু গ্ল্যামারেরও ছোঁয়া পাচ্ছে।

পোশাক উদ্যোক্তা ও ‘রঙ বাংলাদেশ’-এর স্বত্বাধিকারী সৌমিক দাস বলেন, ‘এবারের ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রঙ বাংলাদেশ এনেছে ২০২৬ সালের নতুন ঈদ কালেকশন যেখানে আরাম ও স্টাইলের সমন্বয়কে রাখা হয়েছে অগ্রাধিকার। দেশীয় সংস্কৃতির আবহের সঙ্গে ওয়েস্টার্ন ফিউশনের মেলবন্ধনে ডিজাইনগুলোকে করা হয়েছে সময়োপযোগী, ব্যবহারবান্ধব এবং ট্রেন্ডসচেতন।

 সৌমিক দাস আরও জানান, এবারের থিমে বিশ্বসংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ যুক্ত হয়েছে। ফিলিস্তিনের তাতরেজ, উজবেক সিরামিক, ইজিপশিয়ান ফ্লোরাল, তুরস্কের ব্লু মস্ক, ভারতীয় নকশার সৌন্দর্য ও পলিনেশিয়ান ট্যাটু অনুপ্রেরণায় তৈরি প্যাটার্নে এসেছে বৈচিত্র্য ও নতুনত্ব। ফ্যাব্রিক নির্বাচনে গুরুত্ব পেয়েছে আরাম ও স্বস্তি। জ্যাকার্ড কটন, কটন, সিল্ক, ক্রেপ সিল্ক, জয় সিল্ক, ভিসকস, জর্জেট ও হাফ সিল্কে তৈরি হয়েছে পোশাকগুলো। স্ক্রিন, ব্লক ও ডিজিটাল প্রিন্টের পাশাপাশি রয়েছে সূক্ষ্ম এমব্রয়ডারি, কারচুপি, হ্যান্ডওয়ার্ক ও ডায়িংÑ যা কালেকশনকে দিয়েছে নান্দনিক মাত্রা।

 সালোয়ার-কামিজে দেখা যাবে ফ্লোয়ি, এ-লাইন, সেমি-ফিটেড ও ঢিলাঢালা কাট। সঙ্গে রয়েছে শ্রাগ, প্লাজো, কাবলি সেট, ফারসি সালোয়ার ও কো-অর্ড। ব্যবহারিক সুবিধার কথা ভেবে যুক্ত হয়েছে পকেট, বক্স ও ইনভার্টেড প্লিট। বিশেষ আয়োজন হিসেবে অনেক কামিজের সঙ্গে রাখা হয়েছে ম্যাচিং হিজাবও। সব মিলিয়ে, সৌমিক দাসের মতে, এবারের ঈদ কালেকশন আধুনিকতার ছোঁয়ায় দেশীয় ঐতিহ্যের নতুন উপস্থাপন।

 এ ছাড়াও বিভিন্ন শপিং মল ও ফ্যাশন হাউস ঘুরে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ঈদে বেশি ভারী কাজের পোশাকের চেয়ে আরামদায়ক, চঞ্চল, কিন্তু যথেষ্ট উৎসবমুখর পোশাকটি নারীর কাছে বেশি জনপ্রিয় এবার। যে পোশাকগুলো দিনভর পরে আরাম পাওয়া যায় এবং সন্ধ্যাবেলায় অভিজাত অনুভূতি তৈরি করে এমন পোশাকই নারীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে এবার। তা ছাড়া এবার অন্যতম হাইলাইট হলো ওড়না ও শাড়ির সঙ্গে জোড়া ফ্লোচার ডিপ্লোমা এটি শুধু আনুষঙ্গিক নয়, বরং পুরো সাজটিকে আরও সম্পূর্ণ করে তুলছে। হালকা ওড়না শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে থাকলে তা আরও রঙিন ও নরম অনুভুতি দেয়, বিশেষ করে পারিবারিক ফটোশ্যুট বা ঈদে বেড়ানোর সময়।

ঈদের সাজে ফিউশন স্টাইলিংও এক বড় ট্রেন্ড যেখানে সরাসরি ট্র্যাডিশনাল থেকে একটু আধুনিক প্যাটার্নে যাওয়া হচ্ছে।

এবারের ঈদে, নারীরা শুধু তাদের সাজ নিয়ে ব্যস্ত হবেন না, অথবা শুধু ট্রেন্ড দেখে পোশাক কিনে নিচ্ছেন তা নয়। তাদের নিজেদের বডি-টাইপ, রঙের টোন ও আরাম-আনন্দে ফোকাস করে পোশাক বাছাই করতে দেখা গেছে। অনেকেই জানাচ্ছেন, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা ঈদ উদযাপনের সময় আরামই প্রধান চাহিদা কিন্তু সেটা অবশ্যই স্টাইলের সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করে না। ২০২৬ সালের ঈদ পোশাকে তাই নতুনত্ব এসেছেÑ যেখানে ক্লাসিক বৈচিত্র্য, স্বস্তিকর ফ্যাব্রিক ও আধুনিক কাট একসঙ্গে মিলছে। নারীর সাজ দেখতেও সুন্দর, পরতেও আরামদায়কÑ এটাই ২০২৬ ঈদ ফ্যাশনের মূল বার্তা।

খুঁজুন