রোকসান মনোয়ার : জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জাতীয়
সম্মেলনের দিকে নজর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের। নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে
সাংগঠনিক খুঁটি মজবুত দেখতে চান দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তৃণমূলের
সম্মেলন ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক সার্বিক অবস্থা জানতে আট বিভাগের
দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি।
বৈঠকের বিষয়ে
জানতে চাইলে উপস্থিত এক সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, আগামী নির্বাচন ও দলের
রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে, সে কথা উপস্থিত সম্পাদকদের স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। দলের ভেতরে
কোনো সমস্যা থাকলে তা সমাধানের জন্য করণীয় এবং সংগঠনকে আরো শক্তিশালী কীভাবে করা
যায়, তৃণমূলকে ঐক্যবদ্ধ কীভাবে করা যায়, তা নিয়ে ভাবতে বলেছেন। অপশক্তি-অরাজনৈতিক শক্তি, সাম্প্রদায়িক
অপশক্তি, বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত ও অপপ্রচারের
বিরুদ্ধে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের কীভাবে ঐক্যবদ্ধ করানো যায়; সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে
দায়িত্বপ্রাপ্ত সম্পাদকদের কাছে দলীয় সভাপতি জানতে চেয়েছেন, কোন
জেলায় কী অবস্থা।
বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে আট বিভাগের দলীয়
রিপোর্ট দলের প্রধানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এসব রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ
বিবেচনা করা হচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ে কোথায় কোথায় দ্বন্দ্ব-কোন্দল চলমান, কোথায়
এমপিরা ক্ষমতার প্রভাব দেখাচ্ছেন রিপোর্টে এসব বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। কয়টি জেলা ও
উপজেলায় সম্মেলন হয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কোথায় এবং কেন
নৌকা হেরেছে, তৃণমূলের দ্বন্দ্বের কারণ কী, এমপিরা কীভাবে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখছেন; সেসব
বিষয়ে সার্বিক চিত্র রিপোর্টে তুলে ধরেছেন সাংগঠনিক সম্পাদকরা।
বৈঠক উপস্থিত
নেতারা জানান, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলকে ঢেলে
সাজাতে চান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তবে করোনাভাইরাসসহ নানা কারণে দলটির
তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে তার বৈঠক হয়নি। পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হওয়ায় এখন থেকে
সিরিজ বৈঠকে বসছেন সভাপতি। বৈঠকের আগে সারা দেশের জেলা ও উপজেলা কমিটি গঠন কতটা
সম্পন্ন হয়েছে আর কতটা বাকি আছে এসব রিপোর্ট নিয়ে আগে থেকেই গণভবনে যাওয়ার
নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
আওয়ামী লীগ সূত্র
জানায়,
সারা দেশে দলটির ৭৮ সাংগঠনিক জেলা রয়েছে। এরমধ্যে ৪৪ জেলার সম্মেলন
হয়েছে। বাকিগুলোর ডিসেম্বরের আগেই শেষ করার প্রস্তুতি রয়েছে। উপজেলার প্রায়
অর্ধেকের সম্মেলন বাকি। শোকের মাস আগস্ট গেলেই সেগুলোর সম্মেলনের কার্যক্রম চলবে।
এজন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছেন।
মূলত দ্বাদশ জাতীয়
সংসদ নির্বাচনের চিন্তা মাথায় রেখেই চলতি বছর দলের ঐক্য ফিরিয়ে আনতে চান সভাপতি
শেখ হাসিনা। এজন্য পর্যায়ক্রমে প্রথমে দলের ৮ সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পরে
ধারাবাহিকভাবে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তিনি।
জানতে চাইলে
আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী
সংগঠনের সার্বিক বিষয় জানতে চেয়েছেন। সাংগঠনিক সম্পাদকদের কার কী অবস্থান, তা প্রত্যেকের কাছে জানতে চান। সম্পাদকরা সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি
বলেন, নেত্রী তৃণমূলে যেসব জেলা-উপজেলার সম্মেলন বাকি রয়েছে,
সেগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করতে বলেছেন। সারা দেশে দলের সদস্য
অভিযান চলমান রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্বাচনের আগে তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে
নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে বলেছেন। এ বৈঠকে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে ব্যাপকভাবে গুরুত্ব
দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, সাংগঠনিক
সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকের পর আগামী মাস থেকে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকে
বসবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সেখানে তৃণমূল নেতাদের কথা শুনবেন তিনি।
কোথাও সমস্যা থাকলে তাও সমাধান করে দেবেন। মূলত দলীয় প্রধানের টার্গেট হলো,
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগের ঐক্য
ফিরিয়ে আনা।
সাংগঠনিক খুঁটি মজবুত করতে চায় আ.লীগ
সাংগঠনিক খুঁটি মজবুত করতে চায় আ.লীগ
রোকসান মনোয়ার : জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জাতীয় সম্মেলনের দিকে নজর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের। নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক খুঁটি মজবুত দেখতে চান দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তৃণমূলের সম্মেলন ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক সার্বিক অবস্থা জানতে আট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি।বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে উপস্থিত এক সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, আগামী নির্বাচন ও দলের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে, সে কথা উপস্থিত সম্পাদকদের স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। দলের ভেতরে কোনো সমস্যা থাকলে তা সমাধানের জন্য করণীয় এবং সংগঠনকে আরো শক্তিশালী কীভাবে করা যায়, তৃণমূলকে ঐক্যবদ্ধ কীভাবে করা যায়, তা নিয়ে ভাবতে বলেছেন। অপশক্তি-অরাজনৈতিক শক্তি, সাম্প্রদায়িক অপশক্তি, বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের কীভাবে ঐক্যবদ্ধ করানো যায়; সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দায়িত্বপ্রাপ্ত সম্পাদকদের কাছে দলীয় সভাপতি জানতে চেয়েছেন, কোন জেলায় কী অবস্থা। বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে আট বিভাগের দলীয় রিপোর্ট দলের প্রধানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এসব রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ে কোথায়
কোথায় দ্বন্দ্ব-কোন্দল চলমান, কোথায় এমপিরা ক্ষমতার প্রভাব দেখাচ্ছেন রিপোর্টে এসব বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। কয়টি জেলা ও উপজেলায় সম্মেলন হয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কোথায় এবং কেন নৌকা হেরেছে, তৃণমূলের দ্বন্দ্বের কারণ কী, এমপিরা কীভাবে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখছেন; সেসব বিষয়ে সার্বিক চিত্র রিপোর্টে তুলে ধরেছেন সাংগঠনিক সম্পাদকরা।বৈঠক উপস্থিত নেতারা জানান, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলকে ঢেলে সাজাতে চান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তবে করোনাভাইরাসসহ নানা কারণে দলটির তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে তার বৈঠক হয়নি। পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হওয়ায় এখন থেকে সিরিজ বৈঠকে বসছেন সভাপতি। বৈঠকের আগে সারা দেশের জেলা ও উপজেলা কমিটি গঠন কতটা সম্পন্ন হয়েছে আর কতটা বাকি আছে এসব রিপোর্ট নিয়ে আগে থেকেই গণভবনে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, সারা দেশে দলটির ৭৮ সাংগঠনিক জেলা রয়েছে। এরমধ্যে ৪৪ জেলার সম্মেলন হয়েছে। বাকিগুলোর ডিসেম্বরের আগেই শেষ করার প্রস্তুতি রয়েছে। উপজেলার প্রায় অর্ধেকের সম্মেলন বাকি। শোকের মাস আগস্ট গেলেই সেগুলোর সম্মেলনের কার্যক্রম চলবে। এজন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছেন।মূলত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চিন্তা মাথায় রেখেই চলতি
বছর দলের ঐক্য ফিরিয়ে আনতে চান সভাপতি শেখ হাসিনা। এজন্য পর্যায়ক্রমে প্রথমে দলের ৮ সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পরে ধারাবাহিকভাবে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তিনি।জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংগঠনের সার্বিক বিষয় জানতে চেয়েছেন। সাংগঠনিক সম্পাদকদের কার কী অবস্থান, তা প্রত্যেকের কাছে জানতে চান। সম্পাদকরা সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নেত্রী তৃণমূলে যেসব জেলা-উপজেলার সম্মেলন বাকি রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করতে বলেছেন। সারা দেশে দলের সদস্য অভিযান চলমান রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্বাচনের আগে তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে বলেছেন। এ বৈঠকে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে ব্যাপকভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।জানা যায়, সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকের পর আগামী মাস থেকে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকে বসবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সেখানে তৃণমূল নেতাদের কথা শুনবেন তিনি। কোথাও সমস্যা থাকলে তাও সমাধান করে দেবেন। মূলত দলীয় প্রধানের টার্গেট হলো, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগের ঐক্য ফিরিয়ে আনা।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত