শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
রাজনীতি সার্বক্ষণিক' সাধারন সম্পাদকের খোঁজে আ.লীগ

সার্বক্ষণিক' সাধারন সম্পাদকের খোঁজে আ.লীগ

সদরুল আইনঃ

                দলের জন্য ২৪ ঘন্টা কাজ পারবেন এবং মন্ত্রীত্বে নেই বা থাকবেন না, এমন একজন সার্বক্ষণিক সাধারন সম্পাদক ডিসেম্বরের কাউন্সিলে বেছে নিতে পারে আ.লীগ।

 আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ডিসেম্বরের কাউন্সিলে এমন চিন্তাভাবনা রয়েছে দলটির হাইকমান্ডের। 

টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় যেতে আওয়ামী লীগ নিবেদিতপ্রাণ এমন একজন নেতার প্রয়োজন অনুভব করছে বলে জানা গেছে।

 শুরু থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, বর্তমানে কোনো সরকারের কোন পদে নেই এবং দলের জন্য সার্বক্ষণিক কাজ করতে পারবেন এবং সকলের কাছে সুপরিচিত ও গ্রহনযোগ্য এমন একজনকে খুঁজছে আ.লীগ।

আগামী বছর ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, প্রতিপক্ষ বিএনপির অংশগ্রহণে এই নির্বাচন হতে পারে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একজন দক্ষ ও যোগ্য যিনি সরকারে না থেকে দলের জন্য সার্বক্ষণিক সময় দিতে পারবেন, এমন কাউকে বেছে নিতে যাচ্ছে আ.লীগ ডিসেম্বরের কাউন্সিলে।

 দলের বঞ্চিত নেতাকর্মীদের সক্রিয় করতে, মন্ত্রী-এমপিদের স্বজনপ্রীতি ও নানা কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ  নিষ্ক্রিয় নেতা কর্মিদের দলে ভেড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে দলটি।বিশেষ করে তৃণমূলের অভিমানী ক্ষুব্ধ নিষ্ক্রিয় নেতা কর্মিদের সক্রিয় করতেই দলটির এ উদ্যোগ বলে জানা গেছে।

অনুপ্রবেশকারীদের দাপটে অতিষ্ঠ দলের পুরোনো ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের দলে ভিড়াতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এমন সিদ্ধান্ত দেশের মানুষের মধ্যে সাড়া ফেলবে বলে মনে করছেন হাইকমান্ড।তাছাড়া বর্তমান সংসদের শতাধিক এমপি আগামি জাতিয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত হতে পারেন এবং তারা কারা তার তালিকাও মোটামুটি প্রস্তুত বলে জানা গেছে।

দ্বাদ্বশ সংসদ নির্বাচনের তপসীলের পূর্বে সবশেষ জরিপ ও গোয়েন্দা তথ্যে জনপ্রিয়তা হারানো বর্তমান সংসদের অনেক এমপি যে আর মনোনয়ন পাবেন না তা নিশ্চিত বলে জানা গেছে।

এ কারনে নিরলসভাবে কাজ করে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারবেন। সরকারের মন্ত্রীত্বে থাকবেন না এমন একজন সার্বক্ষণিক সাধারন সম্পাদক বেছে নিতে যাচ্ছেন দলটির হাইকমান্ড ডিসেম্বরের কাউন্সিলে।

এ কারনে  দলমতনির্বিশেষে সবার কৌতূহল ও চোখ এখন ডিসেম্বরের সম্মেলণের দিকে, কে হচ্ছেন পরবর্তি সাধারণ সম্পাদক।

দলের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দলের  সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদের আর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা থাকলেও  টানা তৃতীয় মেয়াদে আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে থাকার নজিরও দলটিতে কম।

এছাড়া ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জার একের পর এক অভিযোগে অনেকটা বিব্রত ওবায়দুল কাদের। সাধারণ সম্পাদকের এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতা ক্ষমতাসীন দলকে নানা প্রশ্নের মুখোমুখিও করেছে।

সূত্র জানিয়েছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্পষ্ট ছাপ থাকবে আওয়ামী লীগের এবারের জাতীয় সম্মেলনে। দলের ঘোষণাপত্র প্রণয়ন, সম্মেলন আয়োজন এবং নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চিন্তা থেকে।

দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বলছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পেতে তেমন একজনকেই বেছে নেওয়া হতে পারে, যিনি হবেন আওয়ামী লীগের সার্বক্ষণিক সাধারণ সম্পাদক। অর্থাৎ সরকারি কোনো পদে থাকবেন না। দল ও সরকারকে আলাদা করতে এমন চেষ্টা অনেক আগে থেকেই করে আসছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, আবদুর রহমান ও ড. আবদুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, ড. হাছান মাহমুদ এবং আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের নাম আলোচনায় রয়েছে।

জাতীয় সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে কে আসবেন, তা পুরোপুরিভাবে নির্ভর করছে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিবেচনার ওপর।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এ বছর অক্টোবর-নভেম্বর নাগাদ সারা দেশে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির হাইকমান্ডের। 

এ ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা করা হচ্ছে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় নাগাদ সব সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের জাতীয় সম্মেলন শেষ করার। 

২০১৯ সালে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যেভাবে একই মঞ্চে সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, এবারও সেভাবেই সম্মেলন হবে। 

উল্লেখ্য,আওযামী লীগের সবশেষ জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালের ২০ ও ২১ ডিসেম্বর।

খুঁজুন