শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সবচেয়ে বড় রকেট ওড়াচ্ছে স্পেসএক্স

সবচেয়ে বড় রকেট ওড়াচ্ছে স্পেসএক্স

মহাকাশবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক স্বর্ণালি অধ্যায় তৈরি করতে যাচ্ছে মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্স। আগামী সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটি উৎক্ষেপণ করতে যাচ্ছে এযাবৎকালের সবচেয়ে উঁচু ও শক্তিশালী রকেট ‘স্টারশিপ’। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে টেক্সাসের স্টারবেজ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে আজ ২১ মে এই ঐতিহাসিক অভিযান শুরু হতে পারে। বিস্তারিত জানাচ্ছেন আজহারুল ইসলাম অভি

উচ্চতা ও শক্তিতে ছাড়িয়ে গেছে সবাইকে : স্পেসএক্সের তৈরি স্টারশিপ রকেটের মূলত দুটি অংশ- ওপরের অংশটি ‘স্টারশিপ’ এবং নিচের অংশটি ‘সুপার হেভি’। এবারের অভিযানে এই দুই অংশেরই সম্পূর্ণ নতুন সংস্করণ ‘ভার্সন ৩’ ব্যবহার করা হচ্ছে। পুরো রকেটটির মোট উচ্চতা ১২৪ মিটার, যা স্পেসএক্সের আগের সংস্করণের চেয়ে প্রায় ১ মিটার বেশি। এটি নাসার বর্তমান স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (SLS) তো বটেই, এমনকি ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে চাঁদে মানুষ পাঠানো বিখ্যাত ‘স্যাটার্ন ৫’ রকেটের (১১১ মিটার) উচ্চতাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

উচ্চতার পাশাপাশি এর শক্তিও বিস্ময়কর। উৎক্ষেপণের সময় এটি প্রায় ৭৫ হাজার কিলোনিউটন ধাক্কা (Thrust) তৈরি করতে পারবে, যা নাসার এসএলএস রকেটের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড ইউনিভার্সিটির গবেষক অ্যালিস্টারের মতে, এই রকেটের সব ইঞ্জিন যখন পূর্ণ শক্তিতে চালু হবে, তখন তা জার্মানির পুরো দেশের উৎপাদিত মোট বিদ্যুতের চেয়েও বেশি শক্তি তৈরি করবে।

প্রযুক্তিতে ব্যাপক পরিবর্তন : গত বছরের অক্টোবরে স্টারশিপের একাদশ পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। এরপর থেকে রকেটের নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে স্পেসএক্স। এবারের দ্বাদশ পরীক্ষায় রকেটের দুই অংশেই ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যাধুনিক ‘র?্যাপ্টর ভার্সন ৩’ ইঞ্জিন।

রকেটের সুপার হেভি অংশে গ্রিড ফিনের সংখ্যা চার থেকে কমিয়ে তিন করা হলেও এগুলোর আকার প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে, যা রকেটটিকে বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে পৃথিবীতে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে স্টারশিপ অংশে যুক্ত করা হয়েছে বড় জ্বালানি ট্যাংক, কক্ষপথে জ্বালানি ভরার প্রযুক্তি এবং বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় উত্তাপ প্রতিরোধী উন্নত টাইলস।

নাসার চন্দ্রাভিযানের বড় ভরসা : এই অভিযানের দিকে কড়া নজর রাখছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ২০২৮ সালের মধ্যে আবারও চাঁদে মানুষ পাঠানোর যে মহাপরিকল্পনা নাসা হাতে নিয়েছে, তার সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করছে এই স্টারশিপের ওপর।

ইলন মাস্কের মূল লক্ষ্য মঙ্গলে মানুষ পাঠানো হলেও আপাতত নাসার ‘আর্টেমিস’ চন্দ্রাভিযানের জন্য এটি একটি বড় ভরসা। চাঁদে মানুষ নামানোর জন্য নাসা স্পেসএক্সের স্টারশিপ এবং জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিনের ল্যান্ডার নির্বাচন করেছে। নাসার সাম্প্রতিক নথি অনুযায়ী, ২০২৮ সালের ‘আর্টেমিস-৪’ অভিযানে নভোচারীরা প্রথমে নাসার এসএলএস রকেটে চড়ে মহাকাশে যাবেন। পরে সেখানে স্পেসএক্স বা ব্লু অরিজিনের ল্যান্ডারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তারা চাঁদের মাটিতে পা রাখবেন।

‘দ্রুত ব্যর্থ হও, দ্রুত শেখো’ নীতি : সিলিকন ভ্যালির জনপ্রিয় কৌশল ‘দ্রুত ব্যর্থ হও, দ্রুত শেখো’ (Fast failure, fast learning) নীতিতে বিশ্বাসী স্পেসএক্স। এর আগের ১১টি পরীক্ষার মধ্যে ছয়টি সফল এবং পাঁচটি ব্যর্থ হয়েছে।

লন্ডনের কিংস্টন ইউনিভার্সিটির গবেষক পিটার শ বলেন, ‘রকেটবিজ্ঞান অত্যন্ত জটিল। এখানে ব্যর্থতা আসবেই। তবে স্পেসএক্স প্রতিটি ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়।’ গবেষকদের মতে, এবারের পরীক্ষাটি কোনো প্রাথমিক নমুনা বা প্রটোটাইপ নয়; এটি মূলত চূড়ান্ত উৎপাদন মডেলের প্রথম পরীক্ষা। এখন স্পেসএক্সের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো- এই বিশাল প্রযুক্তিকে পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য করে তোলা।

খুঁজুন