শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
শিক্ষা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সপ্তাহে ৩ দিন বন্ধের সিদ্ধান্ত আসছে

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সপ্তাহে ৩ দিন বন্ধের সিদ্ধান্ত আসছে

মইনুল ইসলাম মিতুল : জ্বালানি সাশ্রয়ে নানা পদক্ষেপের অংশ হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সপ্তাহে তিন দিন বন্ধ রাখার চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সপ্তাহে তিন দিন বন্ধ রাখলে গাড়িতে জ্বালানি তেলের ব্যবহারও কম হবে। অন্য দিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের কারণে সুনির্দিষ্ট পরিমাণ বিদ্যুতের সাশ্রয় হবে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আসা-যাওয়ায় ব্যক্তিগত গাড়ির সর্বোচ্চ ব্যবহারও নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

কোভিডের কারণে দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। এর মধ্যে আবার বন্ধ রাখলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি হতে পারে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সপ্তাহে তিন দিন বন্ধের এ সুপারিশ করব। বাকিটা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বিষয়। তারা চাইলে এটা করতে পারে। তিনি আরো বলেন, ‘সপ্তাহে তিন দিন বাসায় থেকেও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে পারবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সপ্তাহে তিন দিন বন্ধ রাখলে অনেক বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে।

জ্বালানি সাশ্রয়ে আরো কিছু পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। এতে ‘কার হলিডে’ করার মতো পদক্ষেপও আছে। বিদেশের আদলে কার হলিডে দেওয়া অর্থাৎ সপ্তাহে এক দিন গাড়ি বন্ধ রাখা।

এছাড়া রাজধানীসহ সারা দেশে বড় বড় শপিংমল পালাক্রমে (বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী) বন্ধ রাখার কথাও চিন্তা করছে সরকার। বর্তমানে রাত ৮টা পর্যন্ত মার্কেট খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছে সরকার।

এদিকে অকটেন-পেট্রলের দাম আবার বাড়ানোর কথাও ভাবা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহেই এ ব্যাপারে সরকারি ঘোষণা আসতে পারে। এর মাধ্যমে জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি ভর্তুকি কমিয়ে আনতে চায় সরকার।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখার মাধ্যমে সরকারের প্রত্যাশিত সাশ্রয় হচ্ছে না। বিপিসি থেকে জ্বালানি বিভাগকে জানানো হয়েছে, তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সাশ্রয়ের মাধ্যমে মোট জ্বালানি তেল ব্যবহারের মাত্র ৭-৮ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয় হয়। দেশে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল ব্যবহার হয়, বিশেষ করে ডিজেল ব্যবহার হয়, তার ৯০ শতাংশই ব্যবহার হয় পরিবহন খাতে। ফলে সরকার পরিবহন খাতে ব্যবহৃত জ্বালানি তেল কমিয়ে আনার জন্য বেশ কিছু কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে।

জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, সরকার আপাতত অকটেন এবং পেট্রলের দাম একটু বেশি পরিমাণে বাড়াতে চায়। অর্থাৎ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বিদেশ থেকে যে দামে অকটেন আমদানি করে, দেশের বাজারে তার কাছাকাছি মূল্য নির্ধারণ করতে চায় সরকার। এতে ভর্তুকির পরিমাণ কমে আসবে।

তিনি বলেন, অকটেন মূলত ধনীরা ব্যবহার করে। ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেলসহ দামি গাড়িতেও অকটেন ব্যবহার হয়। ফলে অকটেন এবং পেট্রলের দাম বাড়ানো হতে পারে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের গাড়িতে ২০ শতাংশ জ্বালানির ব্যবহার কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ডিজেল যেহেতু কৃষি সেচ কাজ এবং সাধারণ মানুষ বেশি ব্যবহার করে, ফলে আপাতত ডিজেলের দাম নাও বাড়তে পারে। তবে ডিজেলের দামও বাড়বে আরো কিছুদিন আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণের পর।

বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘মোট কথা যেকোনোভাবেই হোক জ্বালানি সাশ্রয় করতে হবে। মানুষের কাছে আমার আহ্বান থাকবে নিজ থেকে যতটা পারেন সাশ্রয়ী হোন। এখন একটা সংকটকালীন সময়। সারা বিশ্বে সেটার প্রভাব পড়ছে। বাংলাদেশেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলে আমরা সবাই যদি সাশ্রয়ী হই তবে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমিয়ে আনতে পারব।

খুঁজুন