মক্কা থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত তায়েফ শহরটি ইসলামের ইতিহাস ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব মিলনস্থল। এই শহরের বুকে অবস্থিত ‘মসজিদে ইবনে আব্বাস (রা.)’, যা হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর স্মৃতি বহন করে। তায়েফের আব্বাসী মসজিদ, যা ‘মসজিদে ইবন আব্বাস’ নামে পরিচিত, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর নামে নামকরণ করা হয়েছে।
৬৮ হিজরি (৬৮৬/৮৮ খ্রিস্টাব্দ) তিনি তায়েফে ইন্তেকাল করেন এবং এই মসজিদের পাশেই তাঁর কবর অবস্থিত। তাঁর জানাজার নামাজের ইমামতি করেন মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যা। মসজিদটি তাঁর স্মৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। তাঁর কবরে সমাহিত করার সময় কোরআনের সূরা আল-ফজরের ২৭-৩০ আয়াত পাঠ করা হয়েছিল।
৬৮ হিজরি (৬৮৬/৮৮ খ্রিস্টাব্দ) তিনি তায়েফে ইন্তেকাল করেন এবং এই মসজিদের পাশেই তাঁর কবর অবস্থিত। তাঁর জানাজার নামাজের ইমামতি করেন মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যা। মসজিদটি তাঁর স্মৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। তাঁর কবরে সমাহিত করার সময় কোরআনের সূরা আল-ফজরের ২৭-৩০ আয়াত পাঠ করা হয়েছিল।
মসজিদে ইবন আব্বাস তায়েফের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে অবস্থিত। এটি স্থাপত্যের দিক থেকে সাধারণ হলেও এর ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব অপরিসীম। মসজিদের পাশে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর কবর । হজ, ওমরাহ অথবা কেউ তায়েফ গেলে এখানে দর্শনার্থীরা তাঁর জীবন ও অবদানের কথা স্মরণ করে দোয়া করেন।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) ইসলামের ইতিহাসে একজন বিশিষ্ট সাহাবি হিসেবে পরিচিত। তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর চাচাতো ভাই এবং অত্যন্ত কাছে থেকে তাঁর সাহচর্য লাভ করেছিলেন। তাঁর জ্ঞান, তাকওয়া, এবং তাঁর দ্বারা বর্ণিত হাদিস ও তাফসীর ইসলামী শিক্ষার ক্ষেত্রে অমূল্য অবদান রেখেছে। তিনি সাত বছর বয়স থেকেই রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি রাসূল (সা.)-এর অজুর পানি বহন করতেন, তাঁর পেছনে নামাজে দাঁড়াতেন এবং তাঁর সফরসঙ্গী হতেন। তাঁর অসাধারণ স্মৃতিশক্তি এবং জ্ঞানের তীক্ষ্ণতা তাঁকে ইসলামী শিক্ষার একজন অগ্রগণ্য ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল।
তাঁর জন্মের পর রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর মুখে তাহনীক করেন, যা তাঁর জীবনে তাকওয়া ও হিকমতের প্রভাব ফেলেছিল। তিনি দিনে রোজা রাখতেন, রাতে ইবাদত করতেন এবং আল্লাহর ভয়ে কান্না করতেন, যা তাঁর গালে দুটি রেখার সৃষ্টি করেছিল। তিনি জিবরাঈল (আ.)-কে দুইবার স্বচক্ষে দেখেছিলেন, যা তাঁর আধ্যাত্মিক মর্যাদার প্রমাণ।
তায়েফের আব্বাসী মসজিদ শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, এটি ইসলামের একজন মহান সাহাবির জীবনের সাক্ষ্য বহন করে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর জ্ঞান, তাকওয়া এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সান্নিধ্য তাঁকে ইসলামী ইতিহাসে অমর করে রেখেছে।