Logo
শিরোনাম
বাউল ছালমা হলেন বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ "জয়িতা" পাংশায় মাদক সহ ৯ মামলার আসামী গ্রেফতার ১৬৩ টাকায় তেল বিক্রির ব্যত্যয় ঘটলে ব্যবস্থা নেয়া হবে: ভোক্তার মহাপরিচালক দুর্গাপুরে বালুবাহী হ্যান্ডট্রলির চাপায় প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর নওগাঁ জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু বক্কর, সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত নওগাঁয় প্রাইভেটকার তল্লাসি, ৭২ কেজি গাঁজা সহ যুবক আটক রূপগঞ্জে প্রাইভেটকার চাপায় গৃহবধু নিহত রাঙ্গামাটির বড়ইছড়ি নির্মাণ শ্রমিক বোঝাই ট্রাক খাদে নিহত-২, আহত-২০ মুসলিমদেরকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চলছে নওগাঁয় কম্পিউটার ব্যবসার অন্তরালে অশ্লিল ভিডিও বিক্রি করায় ৩ যুবক আটক

হিজড়া এবং ইন্টারসেক্স বিষয়ক আলাপে ঢুকার আগে একটা জিনিস ক্লিয়ার করি

প্রকাশিত:বুধবার ২৪ জানুয়ারী 20২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪ |

Image

আজহার উদ্দিন অনিক, শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় :

আমি জানি আপনাদের অনেকেই মনে করেন হিজড়া মানে হার্মাফ্রোডাইট/ইন্টারসেক্স/যাদের মেল/ফিমেল দুইধরণেরই জেনিটালিয়া/বৈশিষ্ট্য আছে।

কিন্তু হিজড়া মানে ইন্টারসেক্স না, হিজড়া বলতে মোটাদাগে বাংলাদেশের একটা কমিউনিটিকে বুঝানো হয়, যার মধ্যে ইন্টারসেক্স এবং ট্রান্স দুই ধরণের মানুষই থাকে। হিজড়া শব্দটা একটা কালচারাল আমব্রেলা টার্ম একটা কম্যুনিটির জন্য, শুধুমাত্র ফিজিকালি ইন্টারসেক্স বুঝায় না এটা দিয়ে।  

তবে তর্কের খাতিরে এই লেখায় আমি আপাতত ধরে নিচ্ছি ইন্টারসেক্স = হিজড়া।

একইসাথে আপাতত তর্কের খাতিরে আমি ধরে নিচ্ছি ট্রান্স বলে কিছু নাই। ( আই রিপিট, আপাতত, যাতে আমরা একটু ঠান্ডা মাথায় ইন্টারসেক্স কী জিনিস সেইটা বুঝতে পারি)

  

ইন্টারসেক্স কী?

  

ইন্টারসেক্স হচ্ছে একটা গ্রুপ অফ কন্ডিশন্স, যেইখানে কমন থিম হচ্ছে এই যে একটা মানুষের ফিজিকালি বাইরের দিকে, অর্থাৎ বডির বাইরের দিকে যেই জেনিটালিয়া (যৌনাঙ্গ) থাকে, বডির ভিতরে, ইন্টার্নালি একই যৌনাংগ থাকে না। অর্থাৎ "ছেলেদের" ক্ষেত্রে যেরকম টেস্টিস আর "মেয়েদের" ক্ষেত্রে ওভারি থাকে, এমনটা হয় না। 

(এইগুলা মেডিকাল টার্ম, আমার ইনভেন্ট করা না)

  

আগে এই কন্ডিশনগুলাকে হার্মাফ্রোডাইট বলা হইত। এখন সাধারণত এই টার্ম ব্যবহার করা হয় না। এই কন্ডিশনগুলাকে বলা হয় ডিজঅর্ডারস অফ সেক্স ডেভেলপমেন্ট (DSDs)

  

এই কন্ডিশনগুলার ক্যাটাগরি ৪টা। (এখানে একটু লম্বা এবং বোরিং আলোচনা আছে, চাইলে সামনে স্কিপ করে যাইতে পারেন একটু)

  

১- 46 XX Intersex - এই কন্ডিশনে একজন ব্যক্তির XX ক্রোমোসম থাকে (নারীদের মত) কিন্তু তাদের বাইরের দিকে জেনিটালিয়ার এপিয়ারেন্স থাকে ছেলেদের মত। হরমোনাল ইম্ব্যালেন্সের কারণে এমন হইতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই ব্যক্তিদের নরমাল জরায়ু আর ফেলোপিয়ান টিউব থাকে, অর্থাৎ আদতে শারীরিকভাবে তিনি নারী, তার ছেলেদের মত দেখতে জেনিটালিয়া থাকলেও। 

এই কন্ডিশন হওয়ার বেশ কিছু কারণ আছে, এর মধ্যে হরমোনাল ইম্ব্যালেন্স এবং এরোমাটোজ ডেফিশিয়েন্সি প্রধান। (টার্ম দুইটা মাথায় রাখেন, পরে আমরা ফেরত আসবো এইখানে)

 

২- 46, XY Intersex - এইক্ষেত্রে জাস্ট আগের কেসের উলটো ঘটনা ঘটে। ছেলের ক্রোমোসম থাকলেও শরীরের বাইরের দিকে যেই জেনিটালিয়া থাকে তা থাকে মেয়েদের জেনিটালিয়ার মত দেখতে। শরীরের ভিতরের দিকে টেস্টিস থাকতেও পারে বা নাও থাকতে পারে। এইরকম হওয়ার পিছনেও অনেক কারণ আছে, তার মধ্যে হরমোনাল ইম্ব্যালেন্স, এন্ড্রোজেন ইন্সেন্সিটিভিটি সিন্ড্রোম (এই ডিফেক্টের ১৫০+ ধরণ আছে)। আবারো বলি, টার্মগুলা মাথায় রাখেন, পরে ফেরত আসবো এখানে।

  

৩- True Gonadal Intersex - এদের ওভারিয়ান এবং টেস্টিকুলার টিস্যু দুইটাই থাকে। এই কন্ডিশনটাকে শুধুমাত্র হার্মাফ্রোডাইটের কাছাকাছি বলা যায়, দুই ধরণেরই টিস্যু থাকার কারণে। এই কন্ডিশনের এক্সাক্ট কারণ আমি খুজে পাই নাই।

  

৪- Complex or undetermined intersex - 46 XX বা XY এর বাইরেও কিছু ক্রোমোসম কনফিগারেশন হইতে পারে, যেমন 45 XO, 47 XXY, 47 XXX। এই ধরণের ক্ষেত্রে হয় সেক্স ক্রোমোজম (যেইটা আপনার লিংগ নির্ধারণ করে) সেইটা হয় একটা কম থাকে নাইলে একোটা বেশি থাকে। এই ধরণের কেইসে জেনিটালিয়ার পরিবর্তন না হইলেও হরমোনাল বযালেন্স আর ডেভেলপমেন্টের সমস্যা হয়।

  

বাংলাদেশের পার্স্পেক্টিভে আসার আগে বিশ্বে আগে কী হইত মেডিকালি সেই বিষয়ে একটু ব্রিফ করি।

আগে যদি কোন বাচ্চা ইন্টারসেক্স এইটা ডিটেক্ট করা যাইত, তাহলে ডাক্তাররা এডভাইস করত যে বাইরের দিক থেকে যেই ধরণের জেনিটালিয়া আছে সেই জেনিটালিয়ার সাথে ম্যাচিং জেন্ডারে শিফট করার জন্য নেসেসারি সার্জারি করতে। এইটা করা হইত বাইরে থেকে জেনিটালিয়ার চেহারা দেখে, ক্রোমোসম কনফিগারেশন কী সেইটা দেখে না। (উপরে যেইখানে মেনশন করলাম যে জেনিটালিয়া ছেলের মত হইলেই ক্রোমোসম ছেলেদের এইটা ইন্টারসেক্সদের ক্ষেত্রে ফ্যাক্ট না)। এই সার্জারির ক্ষেত্রে যেকোন এক জেন্ডারের জেনিটালিয়া/টিস্যু অপারেশন করে রিমুভ করা হইত।

   

মেল জেনিটালিয়া রিকন্সট্রাক্ট (অপারেশন করে তৈরী করা) কঠিন দেখে সাধারণত জেনিটালিয়া ক্লিয়ার না হলে ফিমেল জেনিটালিয়া তৈরী করে দেয়ার জণ্য অপারেশন করা হইত, কারণ এইটা সহজ বেশি। 

  

পরে দেখা গেসে জাস্ট ইন্টারসেক্স মানুষদের ক্ষেত্রে ফিজিকাল জেনিটালিয়া দেখতে কেমন সেইটা দেখেই অপারেশন করে দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায় বিষয়টা এমন না। কারণ আগেই বলেছি, এইসব ক্ষেত্রে ক্রোমোসমের ইমব্যালেন্স থাকে, এবং কারো ক্রোমোজোম ছেলের হইলে অর্থাৎ জেনেটিকালি সে ছেলে হইলে, তার জেনিটালিয়া মেয়েদের মত দেখতে হওয়ার কারণে আপনি যতই অপারেশন করে তাকে কমপ্লিটলি মেয়ে বানায়ে দেয়ার চেষ্টা করেন কেন, এইটা পুরোপুরি ঠিকমত কাজ করবে না। সাইকোলজিকাল, নিউরাল, ক্রোমোজোমাল, বিহেভরিয়াল অনেক ইস্যু থেকেই যায় যেইগুলা ইনফ্লুয়েন্স করবে এই মানুষটাকে আসলে কোন জেন্ডার আইডেন্টিটিতে সুইচ করা উচিত।

  

(এই কারণে এখন ইন্টারসেক্স চিলড্রেনদের ক্ষেত্রে ডাক্তাররা সাথে সাথে অপারেশন না করে কিছুটা বড় হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার সাজেশন দেন, যাতে অন্য ফ্যাক্টরগুলো ক্লিয়ার হয়। কারণ কারো কন্ডিশনই হয়ত এক্সাক্টলি সেম না, এবং একেকজনের ক্ষেত্রে হয়ত একেক ট্রিটমেন্ট বেটার কাজে দিবে।)

  

যাই হোক, এই গেল বাইরের বিশ্বের অবস্থা। অবভিয়াসলি বাংলাদেশ এমন না। বাংলাদেশে হিজড়াদের অধিকার নিশ্চিত করা হইসেই মাত্র ১০ বছর আগে ২০১৩ সালে। 

  

বাংলাদেশে তাহলে হিজড়াদের (ইন্টারসেক্স) কী হয়?

  

এই আলাপে ঢুকার আগে একটা প্রশ্ন করি, বুকে হাত দিয়ে আপনি নিজেকে প্রশ্ন করেন, গত ১০ বছরে কি আপনি কোন না কোন সময় হিজড়া শব্দটা গালি/মক করার জন্য কখনো ব্যবহার করেছেন?

আপনি সাক্ষাৎ ফেরেশতা হয়ে না থাকলে, আপনার উত্তর হ্যা হওয়ার কথা।

হিজড়া শব্দটা তাইলে একটা গালি কেন? হিজড়ারা বাজেভাবে টাকা চায় রাস্তাঘাটে এই কারণে এইটা একটা গালি?

নাকি এইটা একটা গালি হওয়ার কারণেই হিজড়াদের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে টাকা চাইতে হয়?

আমি আমার নিজের অভিজ্ঞতায় জানি কোন ছেলে বাচ্চা দেখতে একটু মেয়েলি হইলে বা কোন মেয়ে বাচ্চা দেখতে একটু ছেলেদের মত হইলে তাদেরকে কি পরিমাণ রিডিকিউল করা হয়, ঢাকার সবচাইতে এলিট স্কুল/কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়েও। 

আমি এমনও দেখসি একটা ছেলের স্বাস্থ্য একটু বেশি হওয়ার কারণে তার বুকে একটু চর্বি বেশি জমে যাওয়ার কারণে ছেলেরা জোর করে তার বুকে হাত দিয়ে তাকে হ্যারাজ করতেসে বা মজা নিচ্ছে যে ঐ ছেলের বুক তো মেয়েদের মত। 

আপনার কি ধারণা ঢাকার বাইরে বা অন্যন্য ইকোনমিক ক্লাসে এই সিচুয়েশনটা বেটার?

একটা ছেলের চেহারা মেয়েলি হওয়ার জন্যে বা একটা মেয়ের চেহারা একটু ছেলেদের মত হওয়ার জন্য যদি তার জীবন দুর্বিষহ হয়ে যায়, তাইলে ইন্টারসেক্স বাচ্চাদের কী হাল হয়? 

  

বাকি আলোচনায় যাওয়ার আগে একটা জিনিস মেনে নেই সবাই, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা সমাজে হিজড়া (ইন্টারসেক্স) মানুষদের ফাংশন করা কঠিন। 

আপনি তাদেরকে আপনার বাচ্চার সাথে সেম স্কুলে চাইবেন না, আপনি তাদের চাকরি দিতে চাইবেন না, আপনি তাদের সাথে আপনার পরিচিত কারো বিয়ে হোক এইটাও চাইবেন না। সহজ ভাষায় হিজড়ারা ভয়ানকভাবে মার্জিনালাইজড।

  

এইটা আমার আপনার মত সদ্য জন্ম নেয়া কোন ইন্টারসেক্স শিশুর বাবা মাও জানে। এই কারণে অনেকক্ষেত্রে এমন হইত (এখনো হয় কিনা জানি না), বাচ্চা ইন্টারসেক্স (হিজড়া) হলে সেই বাচ্চাকে বড় করতে যেই ঝামেলা হবে সেই ঝামেলার ভয়ে বাবা মা শিশুকে দিয়ে দিতেন হিজড়া কমিউনিটির কাছে। সেখানেই এই শিশুরা বেড়ে উঠে, স্কুল কলেজের বাইরে। 

(হিজড়া কমিউনিটিতে সবার অরিজিন এমন তা না, এইটা একটা উদাহরণ, ইন্টারসেক্স মানুষদের সোশাল স্ট্যান্ডিং বুঝাতে)।

     

যে শিক্ষা পায় নাই, যারে সমাজ মেনে নিবে না, চাকরি দিবে না, তার রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে টাকা চাওয়া বাদে বেচে থাকার আর কোন উপায় আছে?

  

আমি ধরে নিচ্ছি আমার মত আপনারা সবাইও চান, ইন্টারসেক্স মানুষজন একটা ভাল ফিউচার পাক, তাদের বিরুদ্ধে কোন বৈষম্য না হোক। সেইটা নিশিচত করতে গেলে কী করা লাগবে?

  

১- তাদের সমাজে স্ট্যান্ডিং ইম্প্রুভ করা।

২- তাদের যেসব ফ্যাসিলিটিজ দরকার সেগুলোর ব্যবস্থা করা।

  

এইবার মেইন আলাপে আসি।

  

পুরো ঝামেলাটা শুরু হইসে এক লাইন নিয়েই, শরীফা নামের এক ব্যক্তির শরীর ছেলেদের মত, কিন্তু তার নিজেকে মনে হয় মেয়ে।

  

এইটা নিয়ে আপনাদের যত প্রতিবাদ, যে এইটা শুধু ট্রান্স ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেই খাটে, হিজড়ারা (ইন্টারসেক্স) শরীরের দিক থেকে ছেলে/মেয়ে আর মনের দিক থেকে আরেকরকম হইতেই পারে না। 

  

আচ্ছা। ফলো করেন এই জায়গাটা একটু কষ্ট করে। আমি জানি লেখা অনেক লম্বা হয়ে যাইতেসে, তাও একটু ফোকাস করেন।

  

বাংলাদেশে হেলথকেয়ার কেমন সেইটা তো আপনারা জানেন, রাইট?

ধরে নিচ্ছি জানেন।

  

কোন বাচ্চা ইন্টারসেক্স নাকি ইন্টারসেক্স না, এইটা কিছুক্ষেত্রে জন্মের সময়েই বুঝা যায়, এটেন্ডিং ডাক্তার/স্পেশালিস্ট যদি এটা ধরতে পারে।

সেইটা বেস্ট কেস সিনারিও, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই বিষয়টা বুঝে যাওয়া।

  

কিন্তু বাস্তবতায় নেমে আসেন। আপনার কি মনে হয় এই ২০+ কোটি মানুষের দেশে প্রত্যেক কোনায় ডাক্তার আছে? প্রত্যেক শিশুর জন্মের সময় প্রেজেন্ট থাকা ডাক্তাররাই এই স্পেসিফিক ফিল্ডে এত এক্সপার্ট যে তারা ধরতে পারে কোন বাচ্চা ইন্টারসেক্স?

অনেক বাচ্চার যে হাসপাতালের বাইরে নরমাল ডেলিভারি হয় বা হইত দেশের অনেক জায়গায়, সেইটার কথাও ভাবেন। সেইক্ষেত্রে কেমনে কেউ ডিটেক্ট করবে বাচ্চার এই ধরণের কোন সমস্যা আছে কিনা?

  

এইগুলা গেল সেসব কেস যেগুলায় ক্লিয়ারলি বুঝা যায় যে একটা বাচ্চা ইন্টারসেক্স। 

কিছুক্ষেত্রে একটা বাচ্চা ইন্টারসেক্স কিনা এইটা বুঝা যাওয়া সম্ভব কিছু টেস্ট করে, ক্রোমোজম এনালাইসিস, হরমোনাল লেভেলস, এন্ডোস্কোপিক টেস্ট, এমআরআই ইত্যাদির মাধ্যমে। বলা বাহুল্য, এই টেস্টগুলা সস্তা না, এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাংলাদেশে কোন পরিবারের এত টাকা থাকবেনা এইসব টেস্ট করানোর।

ইন্টারসেক্স বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এমন কেসও থাকে যেইসব ক্ষেত্রে সেই বাচ্চা বয়ঃসন্ধিকালে পৌছানোর আগ পর্যন্ত বুঝা যাবে না তার ইন্টারসেক্স কন্ডিশন, শুধুমাত্র পিউবার্টি বা বয়ঃসন্ধিকালেই ধীরে ধীরে বুঝা যায় যে সেই বাচ্চাটা ইন্টারসেক্স।

  

তাইলে আমরা আপাতত ধরে নিতে পারি যে এমন একটা সিনারিও থাকতেই পারে যে বয়ঃসন্ধিকালে এসে একটা বাচ্চা বুঝা শুরু করতে পারে যে সে হয়ত ছেলে/মেয়ে না, সে হয়ত ইন্টারসেক্স।

  

এখন তাকে যদি ছোটবেলা থেকে তার আউটার জেনিটালিয়ার উপর বেজ করে তাকে এসাইন করা হয় যে সে ছেলে, কিন্তু জেনেটিকালি সে মেয়ে, বয়ঃসন্ধিকালে এসে যখন তার মনে হবে সে মেয়ে, তখন তার কি মনে হবে?

  

তার মনে হবে না যে সে ছেলে, দেখতেও ছেলের মত, কিন্তু মনে মনে সে মেয়ে?

   

অন্য দিকটাও বলি, ধরেন একজন জেনেটিকালি ছেলে, আর আউটার জেনিটালিয়ার দিক থেকে মেয়ে। বয়ঃসন্ধিকালে এসে যদি সে টের পাওয়া শুরু করে যে তারে ছোটবেলা থেকে মেয়ে বলা হইলেও তার নিজেকে ছেলে মনে হচ্ছে, বা মেয়ে হইলেও তার মাসিক হচ্ছে না, তাইলে সে এইটাকে কীভাবে এক্সপ্রেস করবে?

  

তার মনে হবে না যে সে মেয়ে, দেখতেও মেয়েদের মত, কিন্তু মনে মনে সে ছেলে?

  

উপরে ইন্টারসেক্সের কন্ডিশনগুলা নিয়ে আলোচনার সময় কিছু কন্ডিশনের নাম মনে রাখতে বলসিলাম। সেইগুলা এখন আলোচনায় নিয়ে আসি, ব্রিফলি।

  

জেনেটিকালি মেয়ে কিন্তু ফিজিকালি ছেলের মতঃ 

  

১- কঞ্জেনিটাল এড্রেনাল হাইপারপ্লেসিয়া (Congenital adrenal hyperplasia)ঃ বেসিকালি জেনেটিকালি ছেলে/মেয়ে হইলেও একটা স্পেসিফিক এনজাইম না থাকার কারণে মেল সেক্স হরমোন এন্ড্রোজেন অনেক বেশি বেড়ে যায়।

ফলে জেনেটিকালি একটা মেয়ের জেনিটালিয়া ছেলেদের মত দেখতে হইতে পারে, আর এই কন্ডিশন অনেক সেভিয়ার না হইলে বাচ্চার বয়স বৃদ্ধির আগে ডিটেক্ট করা কঠিন।

  

২- মায়ের শরীরে যদি কোন কারণে টেস্টোস্টেরন যায় বা মায়ের শরীরের যদি টেস্টোস্টেরণ তৈরী করে এমন টিউমার থাকে (সাধারণত ওভারিতে হয়), সেইক্ষেত্রেও জেনেটিকালি মেয়ে কিন্তু ফিজিকাল এপিয়ারেন্স ছেলেদের মত এমন হইতে পারে।

  

৩- এরোমাটোজ হচ্ছে এমন এনজাইন যেইটা মেল সেক্স হরমোন কনভার্ট করে এস্ট্রোজেন (ফিমেল সেক্স হরমোন) তৈরী করে। যদি কারো মধ্যে এইটা কম থাকে বা একেবারেই না থাকে, তাহলে সে জেনেটিকালি মেয়ে হইলেও বাইরের দিকে ফিজিকাল এট্রিবিউট তৈরী হবে ছেলেদের মত, কারণ তাদের মেল সেক্স হরমোনই বেশি।  

জেনেটিকালি ছেলে কিন্তু ফিজিকালি মেয়ের মতঃ  

১- টেস্টিস ডেভেলপমেন্টে সমস্যা। যেহেতু টেস্টিস মেল হরমোন তৈরী করে, টেস্টিসের সমস্যা হইলে এমন হইতে পারে যে কেউ জেনেটিকালি ছেলে কিন্তু তার জেনিটালিয়া ছেলেদের মত করে ফর্ম করে নাই। (গonadal dysgenesis)

২- টেস্টোস্টেরন তৈরী করার জন্য দরকারি এনজাইমে ঘাটতি থাকলেও এমন হইতে পারে 

৩- এন্ড্রোজেন ইন্সেন্সিটিভিটি সিনড্রোম- এইক্ষেত্রে কেউ জেনেটিকালি ছেলে হইলেও, X ক্রোমোজমে একটা ডিফেক্টের কারণে বডি এই ছেলেদের মত এপিয়ারেন্স তৈরী করার যেই হরমোনগুলো থাকে, সেগুলোতে রেস্পন্ডই করতে পারে না। ফলে এমন হইতে পারে যে একটা মানুষ ফিজিকালি বাইরের দিক এবং ভিতরের দিক থেকে প্রায় পুরোপুরিই মেয়ে, জাস্ট জেনেটিকালি সে ছেলে।

       

(বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ একটা কমন মিসকন্সেপশন হচ্ছে ইন্টারসেক্স মানুষরা বাচ্চা নিতে পারে না। এইটা পুরোপুরি সত্য না। ইন্টারসেক্স কন্ডিশনের অনেকের পক্ষেই বাচ্চা নেয়া সম্ভব, অর্থাৎ স্পার্ম প্রডিউস করা অথবা প্রেগন্যান্ট হওয়া। সবার ডিজঅর্ডার অফ সেক্স ডেভেলপমেন্ট একই ধরণের বা একই পর্যায়ে না।) 


আরো বেশ কিছু সিনারিও আছে, বাট মূল কথা এইটাই, ইন্টারসেক্স কন্ডিশন সবসময় চাইল্ডবার্থের সময় ডিটেক্ট করা যায় না, আর বাংলাদেশের পার্স্পেক্টিভে সেই প্রবাবলিটি কিছু সিনারিওতে আরো কম। সংক্ষেপে বলতে গেলে, বাংলাদেশের কিছুটা কঞ্জারভেটিভ সমাজে, যেখানে এইসব নিয়ে কথাবার্তা বলা ট্যাবু, সেইখানে বাবা-মা যদি জানতেও পারেন যে সন্তানের ইন্টারসেক্স কন্ডিশন আছে, তা সমাজের ভয়ে চেপে যাওয়া স্বাভাবিক, অথবা ইন্টারসেক্স কন্ডিশন যে বাচ্চার আছে এইটাই বুঝতে না পারাটা স্বাভাবিক। 

(কারণ আমাদের জেনারেশনই জানে না ঠিকমত ইন্টারসেক্স কী জিনিস বা ইন্টারসেক্সের সিম্পটম কী কী, তাইলে প্যারেন্টস কীভাবে জানবে?)

তাইলে এই বাচ্চাগুলা কি স্কুলে গিয়ে তাদের বয়ঃসন্ধিকালে গিয়েই বুঝবে না যে সামথিং ইজ নট রাইট?   

এই সময়েই কি বাচ্চাগুলার মনে হবে না যে হয়ত তাকে এতদিন যেই জেন্ডার হিসেবে বড় করা হইসে, আসলে হয়ত সে সেই জেন্ডারের না?

যেহেতু এই বাচ্চাদের কেউই জেন্ডার স্পেশালিস্ট না, আপনার কোন রোগ হইলে যেমন আমি কোন রোগ এইটা না বুঝলেও কিছু সিম্পটম বা ফিলিংস থেকে বুঝতে পারেন যে সামথিং ইজ রঙ, পিউবার্টি বা আরো পরে যদি একটা মানুষ ইন্টারসেক্স কন্ডিশনের সিম্পটমস প্রথম টের পাওয়া শুরু করে, তখন তারও মনে হবে সামথিং ইজ রঙ, সে ছেলে/মেয়ের ফিজিকাল এপিয়ারেন্সের ব্যাপারে যা জানে, সেইটার বেসিসে সে ছেলে/মেয়ে হইলেও তার নিজেকে ঐ জেন্ডারের মনে হচ্ছে না।

   

এখন আপনি যদি শিশুদের এই বেসিক আন্ডারস্ট্যান্ডিংটা না দেন যে অন্য কোন একটা মানুষ দেখতে ছেলেদের বা মেয়েদের মত হইলেও সে ইন্টারসেক্স হইতে পারে এবং এমন কন্ডিশনের কারণে সে স্কুলে পড়ার মত একটা বয়সে আবিষ্কার করতে পারে যে তার জেনেটিক জেন্ডার হয়ত ডিফারেন্ট (যখন পিউবার্টির হরমোনাল এক্টিভিটির কারণে কিছু সিম্পটম ইন্টেন্স হয়), তাইলে সে কীভাবে বুঝবে যে তার কোন বন্ধু/বান্ধবী যদি এমন কিছুর মধ্য দিয়ে যায়, তাকে মক করা বা তাকে অচ্ছুৎ করে দেয়া উচিত না?

  

বা, ঐ বাচ্চা নিজেও বা কীভাবে বুঝবে যে তার ইন্টারসেক্স কন্ডিশনের কারণে ঐ বয়সে এসে যে তার এরকম ডিফারেন্ট মনে হচ্ছে নিজেকে, এইটা নরমাল একটা জিনিস এবং সে চাইলে মেডিকাল হেল্প সিক করতে পারে বা বাবা-মাকে জানাতে পারে?

  

আপনি যদি বাচ্চাকে এগুলা নাই বুঝান, আপনি যদি মানুষজনকে এইটা নাই বুঝান, তাইলে আল্টিমেটলি হয় প্যারেন্টস ইগ্নোরেন্ট থেকে গিয়ে বাচ্চার কন্ডিশন ইগ্নোর করে যাবে অথবা, নাহয় বাচ্চা লজ্জার কারণেই কখনো তার এই সমস্যার কথা মুখ ফুটে বলবে না, নীরবে সাফার করে যাবে। 

এত লম্বা লেখার পিছনে ইন্সেন্টিভ কয়েকটা।

১- এই পয়েন্টটা ক্লিয়ার করা যে ইন্টারসেক্স একটা বাচ্চার ক্ষেত্রে এমন হইতেই পারে যে কিছুটা বড় হওয়ার পরেই সে আবিষ্কার করবে যে তার এই কন্ডিশন আছে (বিভিন্ন সিম্পটমের মাধ্যমে), তখন এইটা খুব ভালভাবেই সম্ভব যে এতদিন ফিজিকালি দেখতে তাকে মেয়ে মনে হইলেও জেনেটিকালি সে ছেলে বা ভাইস ভার্সা।  

২- ইন্টারসেক্স কন্ডিশন ডিটেক্ট করা এত সহজ না, এবং সহজে সবার জন্য এফোর্ডেবল না রিয়েলিস্টিকালি। দেশে এখনো হস্পিটালের বিল দিতে না পারার কারণে বাচ্চা বিক্রি করে দেয়ার মত ঘটনাও ঘটে। আপনার কি মনে হয় এইসব পরিবার লাখ টাকা খরচ করে এমআরআই বা ক্রোমোজোম এনালাইসিস করাইতে পারবে বাচ্চা ইন্টারসেক্স কিনা এইটা ডিটেক্ট করার জন্য চাইলেই?

      

পোস্টের শুরুতে একটা কথা বলে নিসিলাম, আমরা আপাতত ধরে নিচ্ছি যে ট্রান্স বলে কিছু নাই। সেই এজাম্পশন রেখে আপনি যদি এই পুরো জিনিসটা দেখেন, তাইলে আপনার কাছে এইটা ক্লিয়ার হওয়ার কথা যে ঐ বইয়ে যেই জিনিসটা লেখা, সেইটা দিয়ে যে শুধু ট্রান্সই বুঝাইতে পারে, ইন্টারসেক্স কন্ডিশন বুঝানো সম্ভব না- এইটা একটা ভুল কন্সেপশন। 

  

আপনি যদি চান যে যেই ইন্টারসেক্স মানুষদেরকে ২০১৩ সালে আইন করে স্বীকৃতি দেয়া হইসে তাদের ব্যাপারে এক্সেপ্টেন্স বাড়ুক সমাজে, তাইলে আপনার পাঠ্যবইয়ে তাদের ইঙ্কলুশন মেনে নিতে হবে।

  

আপনাকে এইটাও মেনে নিতে হবে যে জন্ম থেকেই কাউরে হিজড়া হিসেবে আইডেন্টিফাই করা হয় না, এবং অনেক ক্ষেত্রে এই হিজড়া(ইন্টারসেক্স) কমিউনিটির মানুষরা এমন মানুষ যারা হয়ত তাদের ইন্টারসেক্স কন্ডিশন ডায়াগনোজ করার টেস্টের টাকা অথবা যেই সার্জারি দরকার তাদের কোন একটা জেন্ডারে শিফট করানোর জন্য সেইটার টাকা এফোর্ট করতে পারে না দেখেই তারা হিজড়া থেকে গেছে। সেধে সেধে কেউ মার্জিনালাইজড হইতে চায় না।

আপনি যদি চান যে পরের জেনারেশন থেকে ইন্টারসেক্স মানুষেরা মার্জিনালাইজড না হোক, তারা সমান রাইট পাক, তাইলে আপনাকে এইটা নিশ্চিত করা লাগবে যে যেই বয়সে তারা আবিষ্কার করবেন যে তাদের ইন্টারসেক্স কন্ডিশন আছে, (সেইটা শৈশব, কৈশোর বা আরো বড় বয়সেও হইতে পারে, আমরা এস্টাব্লিশ করেছি ইন্টারসেক্স কন্ডিশন সবসময় জন্মের সময় ধরা পড়ে না), সেই বয়সে যাতে তাদের এই আবিষ্কার করা, এবং দরকারি জেন্ডার চেঞ্জের যেই প্রসেস/সার্জারি, এই ট্রান্সফরমেশনের সময় যাতে তাদেরকে রিডিকিউল করা না হয়, তাদেরকে অচ্ছুৎ বানায়ে দেয়া না হয়। যদি তাদের এক্সেপ্টেন্স না থাকে, তাহলে তারা হয় কখনো প্রয়োজনীয় ট্রিটমেন্ট বা প্রসিডিউর নেয়ার সাহসই পাবেন না, আর নাহয় তাদেরকে সাধারণ সমাজ থেকে দূরে সরে গিয়ে হিজড়া কমিউনিটিতে চলে যাইতে হবে।

(আবারো মনে করাই, এখানে ট্রান্সজেন্ডারদের কথা বলা হচ্ছে না, বলা হচ্ছে ইন্টারসেক্স কন্ডিশনে ভোগা ব্যক্তিদের কথা)।

  

এত বিশাল লেখার শেষে এসে যদি কারো আমাকে মাইর দিতে ইচ্ছা না করে, তাইলে আমি আশা করি আপনার হয়ত ইন্টারসেক্স কন্ডিশন, এই কন্ডিশনের কারণে কীভাবে ডায়াগনোসিস বা নেসেসারি ট্রিটমেন্ট/সার্জারি/ট্রান্সফরমেশন কীভাবে ডিলেইড হইতে পারে, কীভাবে দেখতে ছেলে মনে হইলেও জেনেটিকালি একজন নারী বা দেখতে মেয়ের মত হইলেও জেনেটিকালি কেউ ছেলে হইতে পারে সেই বিষয়ে আন্ডারস্ট্যান্ডিং বাড়বে। 

(ভাংগা রেকর্ডের মত আবার বলি, ট্রান্সজেন্ডারের কথা এখানে হচ্ছে না। যে জেনেটিকালি ফিজিকাল এপিয়ারেন্স থেকে ডিফারেন্ট জেন্ডারের সে তার এই কন্ডিশনটা কিছুটা বড় হয়ে আবিষ্কার করার প্রসেসের কথা বলা হচ্ছে।)

  

আশা করি আপনাদের কাছে পরিষ্কার হইসে কীভাবে ফিজিকালি ছেলের মত দেখতে মনে হইলেও একজনের অরিজিনালি/জেনেটিকালি মেয়ে হওয়ার বা নিজেকে মেয়ে মনে হুয়ার মত সিনারিও ঘটতে পারে ইন্টারসেক্স কন্ডিশনের মানুষদের, এবং কেন এই জিনিসটা শিশুদের বুঝানোর মাধ্যমে ইন্টারসেক্স কন্ডিশনের ব্যক্তি বা শিশুদের সমাজে/স্কুলে এক্সেপ্টেন্স তৈরী করাটা জরুরি। 

যদি এক্সেপ্টেন্স না থাকে, তাইলে সে সমাজে ফাংশন করতে পারবে না।

হয় সে ডায়াগনসিস বা ট্রিটমেন্টের অভাবে সারা জীবন সাফার করে কাটায়ে দিবে,

আর নাইলে বাধ্য হয়ে হিজড়া কমিউনিটিতে যোগ দিয়ে বেসিকালি ভিক্ষাবৃত্তিতে যোগ দিতে বাধ্য হবে পেটের ভাত যোগাইতে।


আরও খবর

একজন শুভ্রদেব ও একুশে পদক প্রাপ্তি

মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




মাভাবিপ্রবিতে বঙ্গবন্ধু পরিষদ কর্তৃক মহান শহিদ দিবস পালন

প্রকাশিত:বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

মো: হৃদয় হোসাইন মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি :

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু পরিষদ, মাভাবিপ্রবি কর্তৃক মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে ২১ ফেব্রুয়ারি বুধবার রাত ১২.৫ ঘটিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাশহিদ দের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহীন উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক ড. মো: নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে ক্যাম্পাস্থ শহীদ মিনারে  পুস্পস্তবক অর্পণ করেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ, মাভাবিপ্রবি। 


এসময় অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল হক, অধ্যাপক ড. উমর ফারুক, অধ্যাপক ড. মো. আজিজুল হক, অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ, অধ্যাপক ড. আশরাফ হোসাইন তালুকদার, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী, অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল মাহমুদ, অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদেকীন, ড. আবু জাফর শিবলী, অধাপক ড. সন্ঞ্জয় সাহা, মো: বাবুল হোসেন, ড. শিমুল রায়, মো. আব্দুল হালিমসহ বঙ্গবন্ধু পরিষদের অন্যান্য নেত্রীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর

বাউল ছালমা হলেন বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ "জয়িতা"

বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

পাংশায় মাদক সহ ৯ মামলার আসামী গ্রেফতার

বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




স্মার্ট পার্লামেন্ট প্রতিষ্ঠিত হবে : স্পিকার

প্রকাশিত:সোমবার ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪ |

Image

অচিরেই স্মার্ট পার্লামেন্ট প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি বলেছেন, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিষ্ঠার সাথে পালন করে চলেছেন। জাতীয় সংসদের কাজ আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।

জাতীয় সংসদ ভবনের উত্তর প্লাজায় নবনির্মিত কনফারেন্স রুমে সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন উইং সমূহের মধ্যে বিশেষ সমন্বয় সভায় অংশগ্রহণ করে এসব কথা বলেন। সভায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জাতীয় সংসদের সিনিয়র সচিব কে এম আব্দুস সালাম। আলোচনায় অংশ নেন সংসদ সচিবালয়ের অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সাপোর্ট উইংয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. নূরুজ্জামান, মানব সম্পদ উইংয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহবুবা পান্না, বিএন্ডআইটি অনুবিভাগের মহাপরিচালক যুগ্মসচিব এস এম মঞ্জুর, লেজিসলেটিভ সাপোর্ট উইংয়ের যুগ্মসচিব বেগম ছুমিয়া খানম প্রমুখ।

সভায় স্পিকার বলেন, বছরের শুরুতে সংসদ সচিবালয়ের সকল উইংয়ের অংশগ্রহণে এ ধরণের সমন্বয় সভার গুরুত্ব অনেক। এ ধরনের সমন্বয় সভায় আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা করা সম্ভব। তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন উইং এর সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব অনুযায়ী সমাধান করতে হবে।

এসময় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সাইবার সিকিউরিটি বৃদ্ধি, মানব সম্পদ শাখার সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সংসদ লাইব্রেরিকে ডিজিটালাইজড করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তিনি সংসদ সচিবালয়ের প্রশাসনিক, লেজিসলেটিভ ও প্রকিউরমেন্ট কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন।


আরও খবর

গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, দগ্ধ সাত

বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত:শুক্রবার ০২ ফেব্রুয়ারী 2০২4 | হালনাগাদ:সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ জানালেও, বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ঢাকার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর এবং দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও বাইডেন প্রশাসনের আগ্রহের কথা জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর।

গত ৭ জানুয়ারি শান্তিপূর্ণভাবে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেন সাধারণ মানুষ। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসে ১১ দেশের ১২৭ জন পর্যবেক্ষক। দফায় দফায় সংবাদ সম্মেলনের পর তারা মতামত দেন, নির্বাচন হয়েছে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য।

সরাসরি উপস্থিত থেকে বিভিন্ন দেশের পর্যবেক্ষকরা যখন নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়েছে বলে জানান, তখন পর্যবেক্ষক না পাঠিয়েই ভিন্ন সুর ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। ভোট নিয়ে নিজেদের অসন্তুষ্টির কথা জানায় তারা।

তবে এবার বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়টি নিশ্চিত করলো ওয়াশিংটন। বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ এবং নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে ভবিষ্যতে কাজ করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়।

এসময় মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার জানান, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত তারা।

তিনি বলেন, এ ধরনের সম্পর্ক বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গেই আছে আমাদের। আমরা বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। বাংলাদেশের ক্র্যাকডাউন নিয়েও আমরা উদ্বেগ জানিয়েছি। তবে এর মানে এই নয় যে দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করার দায়িত্ব নেই আমাদের।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন নাশকতাসহ দেশে-বিদেশে নানা অপপ্রচার চালানো হয়। তবে এসবকে পাত্তা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। এর আগেও নির্বাচিত নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার কথা জানিয়েছে দেশটি।

 


আরও খবর



পাটটগ্রামে পৃথক ঘটনায় নিহত ২

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২০ ফেব্রুয়ারী ২০24 | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

বুড়িমারী ইউনিয়নের উফারমারা মৌজাস্থ ঘুন্টি নির্মানাধীন নেসকো(বিদ্যুৎ) ভবনের দক্ষিণ পাশে নিপ্লবের বাড়ীর সামনে  বুড়িমারী-লালমনিরহাটগামী পাকা রাস্তার উপর সড়ক দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তি নিহত হয়। মৃত ব্যক্তি পাটগ্রাম থানাধীন বুড়িমারী কল্লাটারী গ্রামস্থ মোঃ আব্দুর রহিম ওরেফে সোলা মিয়া এর ছেলে আমিনুর রহমান (৩০)। স্থানীয় সুত্রে জানা যায় যে,মোটরসাইকেল চালক  মোঃ মতিজুল ওরফে করিদুল ইসলামের সাথে আমিনুর রহমান নিজ বাড়ি হতে ঘুন্টি বাজার আসার পথে বুড়িমারী ইউনিয়নের উফারমারা মৌজাস্থ ঘুন্টি এলাকায় নির্মানাধীন নেসকোর ভবন (বিদ্যুৎ) এর দক্ষিণ পাশে একই দিক থেকে অর্থাৎ বুড়িমারী থেকে লালমনিরহাট গামী পাথর বোঝাই ট্রাককে অতিক্রম করাকালে ট্রাকের পিছনের চাকায় পিষ্ঠ হয়ে ঘটনাস্থলে নিহত হন এবং মোটরসাইকেল চালক মোঃ মতিজুল ওরফে করিদুল (৪০) গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিক পাটগ্রাম থানা পুলিশ,হাতীবান্ধা হাইওয়ে ও পাটগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের(উদ্ধারকর্মী) একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। আহত ব্যক্তিকে দ্রুত পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। আহত ব্যক্তি বর্তমানে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ চিকিৎসাধীন আছেন। হাতীবান্ধা হাইওয়ে পুলিশ লাশের সুরতল রিপোর্ট প্রস্তুত সহ যাবতীয় কার্যক্রম করেন।

পাথর বোঝাই ট্রাকের চালক ও হেলপার পলাতক। ট্রাকটি বর্তমানে হাতীবান্ধা হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে আছে। 

অপরদিকে ,চৈতের বাজার সংলগ্ন পাটগ্রাম হইতে বুড়িমারীগামী সড়কের পাশে তামাক ক্ষেতে মোঃ শহিদার রহমান এক ব্যক্তির মৃতদেহ পাওয়া যায়। মৃত ব্যক্তি পাটগ্রাম থানাধীন পাটগ্রাম ইউনিয়নস্থ টেপুরগাড়ী গ্রামের ধওলা মিয়ার ছেলে। গত ১৮/০২/২০২৪ খ্রি: রাত্রি অনুমান ১০.০০ ঘটিকার পর যেকোন সময় রাস্তা দেয়ে হাঁটার সময় চলন্ত মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে স্থানীয় লোকজন। উক্ত সংবাদ পেয়ে পাটগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ সঙ্গীও অফিসার ফোর্স সহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পাটগ্রাম থানা পুলিশ মৃত ব্যক্তির সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত সহ যাবতীয় কার্যক্রম শেষে ময়না তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ পুলিশ স্কটে মাধ্যমে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। মৃত ব্যক্তির পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আরও খবর

বাউল ছালমা হলেন বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ "জয়িতা"

বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

পাংশায় মাদক সহ ৯ মামলার আসামী গ্রেফতার

বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




পাকিস্তানে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

নির্বাচনের পর পাকিস্তানের রাজনৈতিক পক্ষগুলো সমীকরণের পর সমীকরণ আর সুযোগ-সুবিধা ও পদ-পদবির টোপ দেওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে। এমনকি কারারুদ্ধ সাবেক প্রধানমন্ত্রী পিটিআই দলের প্রধান ইমরান খান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভেতরও টোপের লোভ পেয়ে বসেছে। ফলে প্রায় ডজনখানেক প্রার্থী এরই মধ্যে ইমরানের পক্ষ ছেড়ে নওয়াজ শরিফের পক্ষে চলে গেছেন। অন্যদিকে নওয়াজ শরিফের পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) এবং বিলাওয়াল ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) সমঝোতার পথে অনেক দূর এগিয়েছে বলে সর্বশেষ খবরে জানা গেছে। তারা একটি পালাক্রমের সরকার গঠনে প্রায় একমত। অর্থাৎ পাঁচ বছর মেয়াদকালের নতুন সরকারে তারা আড়াই বছর করে একে-অপরে সরকার চালানোর বিষয় নিয়ে মতৈক্যে পৌঁছার চেষ্টা করছে। সূত্র : জিও নিউজ, ডন, রয়টার্স, আল-জাজিরা, এনডিটিভি

প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে দেশটির জন্য জোট সরকার গঠন অনিবার্য হয়ে উঠেছে। জোট সরকার গঠন নিয়ে নওয়াজ শরিফ ও বিলাওয়াল ভুট্টোর দল সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে। তারা ক্ষমতার ভাগাভাগিতে সমঝোতার চেষ্টা করছে। তবে কোনো পক্ষই এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলছে না।

পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী যিনিই হন না কেন, আগামী দিনগুলোয় জাতীয় পরিষদে ১৬৯ জন সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখাতে হবে তাকে। পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের ফল অনুসারে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন এবারের নির্বাচনে ৭৫টি আসনে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির দল পিপিপি পেয়েছে ৫৪টি আসন। অর্থাৎ এই দুই-এ মিলে আসন সংখ্যা হচ্ছে ১২৯। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য তাদের প্রয়োজন আরও ৪০ আসন। এ কারণে তারা সুযোগ-সুবিধা ও পদ-পদবির টোপ দিয়ে স্বতন্ত্র এবং অন্য দলগুলোকে সঙ্গে আনার জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এরই মধ্যে ধারণা পাওয়া গেছে, নওয়াজ-বিলাওয়াল জোট সরকারে যুক্ত হতে পারে মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট-পাকিস্তান (এমকিউএম-পি), জেইউআইএফসহ আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল। জোট গড়ার ক্ষেত্রে বিলাওয়ালকে সরকারপ্রধানের পদে বসানোর কৌশল বেছে নিয়েছে পিপিপি। এ নিয়েই দলটি পিএমএল-এনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, পাওয়ার শেয়ারিং ফর্মুলা বা ক্ষমতা ভাগাভাগি সূত্রের অধীনে ক্ষমতায় বসা নিয়ে আলোচনা করছে উভয় দল। এই সূত্রের আওতায় পাঁচ বছরের মেয়াদের অর্ধেক সময়ের জন্য পিপিপি এবং বাকি অর্ধেক সময়ের জন্য পিএমএল-এন তাদের দল থেকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেবেন। এই সম্ভাবনা নিয়েই মূলত আলোচনা চলছে। এ আলোচনার সঙ্গে জড়িত একটি সূত্রের মতে, ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর কেন্দ্র ও প্রদেশে জোট সরকার গঠনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গত রবিবার লাহোরে প্রথমবারের মতো আলোচনায় বসেন পিপিপি ও পিএমএল-এন নেতারা। এ সময়ই অর্ধেক মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের ধারণাটি প্রথমবার আলোচনা করা হয়েছিল। বিলাওয়াল হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উভয় পক্ষই সাধারণ নির্বাচনের পর দেশটিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সহযোগিতা করতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়। বৈঠকে পিপিপির সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, পিপিপির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি এবং পিএমএল-এনের পক্ষ থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ উপস্থিত ছিলেন।

 বৈঠকে উভয় দলের নেতারাই দেশটির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং উন্নতির জন্য সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। জানা গেছে, এ সময় পিএমএল-এন নেতারা প্রধানমন্ত্রীর আকর্ষণীয় পদের দাবি জানালে পিপিপির সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি বলেন, তাদের দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি (সিইসি) এরই মধ্যে বিলাওয়ালকে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য মনোনীত করেছে। দেশটির তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের শীর্ষ এক সহযোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা সংস্থা ডিপিএকে বলেছেন, আমরা ক্ষমতা ভাগাভাগির একেবারে কাছাকাছি পৌঁছেছি। এ সপ্তাহটি গুরুত্বপূর্ণ।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এর বিপরীতে ইমরান খানের পক্ষে নির্বাচন করা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিজয়ী আসন ১০১টি। পার্লামেন্টে এখন যদি তারা একক ব্লকে বা ছোট কোনো দলে যুক্ত হন, তাহলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে জোর পদক্ষেপ নিতে পারেন। সংরক্ষিত আসন বরাদ্দ পেতে পারেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী পদেও প্রার্থী দাঁড় করাতে পারেন। এ ছাড়া জোট গড়ার জন্য অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও আলোচনা করতে পারে স্বতন্ত্রদের দল বা জোট। এর ফলে প্রকারান্তরে ইমরান-সমর্থিতদের পাকিস্তানের ক্ষমতার কেন্দ্রে আবারও দেখা যাবে। এই পরিস্থিতি ইমরানের মুক্তির পথ খুলে যাবে। যদিও আইনি বাধা থাকায় ইমরান নিজে সরকারপ্রধান হওয়ার লড়াইয়ে আপাতত শামিল হতে পারবেন না।

প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, কারাবন্দি ইমরান খানের রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সমর্থিত প্রার্থী, যারা স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, তাদের অন্য দলে যোগ দিতে আইনি কোনো বাধা নেই। ফলে প্রতিপক্ষের নানা টোপের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে অনেকেরই পিটিআই থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে ডজনখানেক বিজয়ী প্রার্থী এ পথে হেঁটেছেনও। যদিও দেশটির সংবাদমাধ্যম এআরওয়াই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবিবার পর্যন্ত অন্তত ছয়জন স্বতন্ত্র প্রার্থী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এনে যোগ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে পিটিআইয়ের সমর্থন নিয়ে লাহোরের একটি আসন থেকে জয়ী শহরটির সাবেক ডেপুটি মেয়র ওয়াসিম কাদির প্রথম এদিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নওয়াজের দলে যোগ দেন। এরপর স্বতন্ত্র হিসেবে পিএমএল-এনে যোগ দিয়েছেন নির্বাচনে জয়ী রাজা খুররাম নওয়াজ, ব্যারিস্টার আকেল, পীর জহুর হুসেইন কুরেশি, সরদার শমসের মাজারি ও ব্যারিস্টার মিয়া খান বুগতি। বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে, জোট সরকার গঠন করা নিয়ে পিএমএল-এন ও পিপিপির মাঝে এখনো সমঝোতা না হওয়ায় পিটিআই-সমর্থিত অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে দলে ভেড়ানোর জন্য যোগাযোগ করে যাচ্ছে পিএমএল-এন।


আরও খবর

সোমবারের মধ্যে গাজায় যুদ্ধবিরতি হতে পারে

মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪