Logo
শিরোনাম

নেশাগ্রস্ত স্বামীর কাছ থেকে রেহাই পেতে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৮ এপ্রিল ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ |

Image

পুলক ঘটক, সিনিয়র সাংবাদিক :

নেশাগ্রস্ত ও বিকৃত স্বভাবের স্বামীর কাছ থেকে রেহাই পেতে গতকাল (১৭ এপ্রিল বুধবার) ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রিয়ন্তী সাহা নামে ১৯ বছর বয়সের এক তরুণী। অত্যাচারিত মেয়েটি স্বামীর কাছ থেকে ডিভোর্স চায়। কিন্তু হিন্দু আইনে ডিভোর্স নেই। পরে “শ্বশুরবাড়িতে হামলা করার সময় চার বোতল ফেনসিডিলসহ” মেয়েটির স্বামী দীপকে প্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

আচ্ছা বলুন দেখি, দীপ “ফেনসিডিলসহ শশুরবাড়িতে হামলা”র ঘটনাটি না ঘটালে আর কোন আইনে পুলিশ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারত? হিন্দু আইনে প্রিয়ন্তী সাহা প্রতিকার পাবে কিভাবে? প্রকৃত আইনে প্রতিকারের সুযোগ না থাকলে বিকৃত পন্থায় কিভাবে কি করতে হয় সে বিষয়ে আমাদের দেশের মানুষ সিদ্ধহস্ত। সবকিছুতেই বিকৃত পন্থার অনুশীলন!

শুরুতেই ঝরে গেছে মেয়েটির মধুময় দাম্পত্য জীবনের সকল সম্ভাবনা। বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী মাত্র এক মাস আগে গরীবের মেয়ে প্রিয়ন্তীর বিয়ে হয়েছিল এক কোটিপতির নেশাগ্রস্ত ছেলে দীপের সাথে। বিয়ের প্রথম রাত থেকেই শুরু হয় অত্যাচার। অভিযোগ অনুযায়ী, দীপ তাকে জোর করে নেশা করাতো; এমনকি স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত সম্পর্কের গোপন মুহুর্তগুলো ফিল্মিং করে ফেসবুকে দিত। 

মেয়েটি ঐ স্বামীর সাথে সংসার করতে রাজি নয়। ছেলের কাকাও নেশাগ্রস্ত দীপের দুরাচারের কথা স্বীকার করেছে। এ পর্যন্ত এই তথ্যগুলি মিডিয়ায় এসেছে। এরপর দুই পরিবারের দ্বন্দ্ব যখন দীর্ঘায়িত হবে, তখন হয়তো ছেলের পক্ষ থেকে মেয়েটির চরিত্রের দোষ ছড়ানো হবে। এসব নিয়ে সমাজে খোশগল্প হবে। কিন্তু এর স্থায়ী আইনগত সমাধান এবং এধরনের অবস্থার শিকার হওয়া মেয়েদের সুস্থ্য স্বাভাবিক দাম্পত্য ভবিষ্যৎ তৈরির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ভাববে না! 

আমরা যখন হিন্দু আইনে বিবাহ বিচ্ছেদ ও মেয়েদের পুনঃবিবাহের আইন চাচ্ছি তখন আমাদের দেশের শিক্ষিত-অশিক্ষিত তথাকথিত প্রগতিশীল কিছু হিন্দু বলছে “হিন্দু বিয়ে জন্মজন্মান্তরের অবিচ্ছেদ্য বন্ধন।” হিন্দু বিয়ে ভাঙা সম্ভব নয়। মেয়েদের পুনরায় বিয়ে হতে পারে না। বাটপারদের এসব কথা বাস্তবসন্মত নয়, প্রিয়ন্তী ও দীপের ঘটনা তার প্রমাণ। এরকম প্রমাণ অসংখ্য। 

প্রিয়ন্তী নামক ১৯ বছরের এই মেয়েটির জন্য বাকি জীবন একাকি কাটানো কতটা ভাল এবং নিরাপদ? বর্তমান স্বামীর সাথে বৈধভাবে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে তাকে অন্য কোনো ভাল যুবকের সাথে বিয়ে দিয়ে সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপনের সুযোগ দিলে কি অধর্ম হবে? অথচ বাংলাদেশের হিন্দু আইনে বিবাহ বিচ্ছেদ এবং নারীর পুনরায় বিবাহের বিধান নেই। ভারতের হিন্দু আইনে আছে; হিন্দু শাস্ত্রেও বিধান আছে। 

বাংলাদেশের হিন্দু আইনে বিবাহ বিচ্ছেদ না থাকা সত্ত্বেও এখন আইনকে পাশ কাটিয়ে বহু দম্পত্তি অবৈধপন্থায় বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাচ্ছে। অবৈধভাবে মেয়েদের নতুন করে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। জীবনের বাস্তবতায় যে বিষয়ের চাহিদা আছে বা অনিবার্যতা আছে, তাকে শুধু আইনগতভাবে বাঁধা দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা যায় না। 

হিন্দু বাটপাররা অবৈধ বিবাহ বিচ্ছেদ, মেয়েদের অবৈধভাবে দ্বিতীয় বিয়ে দেয়া, অবৈধভাবে দাম্পত্য সম্পর্ক করা, অবৈধভাবে সন্তান উৎপাদন এবং সেই অবৈধ সন্তানের উত্তরাধিকার সংক্রান্ত জটিলতা ইত্যাদি সব জিইয়ে রাখতে চায়। সব অবৈধকর্ম মানবে, কিন্তু বৈধ বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আইন প্রণয়ন মানবে না। ইংরেজদের ভগবান হিসেবে বিশ্বাস করে হিংরেজদের রেখে যাওয়া আইন মানবে! 

হিন্দুদের বড় বড় সংগঠন আছে। অথচ বাংলাদেশ হিন্দু আইন সংস্কার পরিষদ ছাড়া হিন্দুদের কোনো সংগঠনের দাবিনামায় প্রিয়ন্তীর মতো বিড়ম্বিত জীবনের মেয়েদের মুক্তির জন্য বা নারী অধিকারের পক্ষে একটিও দাবি নেই। সবচেয়ে বড় বাটপার সেইসব হিন্দু, যারা নিজেদেরকে শিক্ষিত ও প্রগতিশীল দাবি করে; ইসলামী মৌলবাদের বিপক্ষে কথা বলে অথচ হিন্দু সমাজের সমস্যাগুলোর বিষয়ে নিরব থাকে। শুধু নিরব নয়, এরা কেউ প্রকাশ্যে, কেউ নিরবে এবং কেউ কেউ ইনিয়েবিনিয়ে ”হিন্দু বিয়ে জন্মজন্মান্তরের বন্ধন” গল্পই চালিয়ে যাচ্ছে। 

মন্ত্র পরে নাকি নারী ও পুরুষের দুই আত্মা এক করে দেয়া যায়! দুই আত্মার বন্ধন হলেও সেটা আবার পুরুষের জন্য নয়। পুরুষ বিয়ে করে এক বউকে ঘরে পৌঁছে দিয়েই চাইলে এক ঘন্টার মধ্যে আবার আরেকটি বিয়ের জন্য দৌড় দিতে পারে। এক পিঁড়িতে বসেই একাধিক মেয়েকে বিয়ে করতে পারে। আরও বহু নারীর সঙ্গে “জন্মজন্মান্তরের বন্ধন” তৈরি করতে পারে। সবগুলো বিবাহবন্ধনে শুধু নারী আটকাবে, পুরুষ মুক্ত। হিন্দু আইনে পুরুষের জন্য যতখুশি বিয়ে করতে বাধা নেই। বিয়ে ছাড়াও যত্রতত্র গমণে পুরুষের বাধা নেই; কারণ পুরুষের জন্য “সতীত্ব” নয়। 

হিন্দু পুরুষের বহুবিবাহের সুযোগ বন্ধ করার কথা বললে জন্মজন্মান্তরের বন্ধনবাদী দাদারা হৈ হৈ করে বাধা দিতে আসে। বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের দাবি জানালেও প্রগতিশীলতার মুখোশে প্রতিক্রিয়াশীল শয়তনরা আপত্তি করে। আমরা বহুবার শাস্ত্রবিধি দেখিয়ে বলেছি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিবাহ বিচ্ছেদ এবং নারীর পুনরায় বিয়ে দেয়া সনাতন ধর্মে বৈধ। শাস্ত্রগ্রন্থে এর সুস্পষ্ট বিধান আছে; পৌরাণিক আমলে বিবাহ বিচ্ছেদের নজিরও আছে। একজনেরও সামর্থ্য হয়নি শাস্ত্র দেখিয়ে আমাদের দাবি ভুল প্রমাণ করার। কিন্তু পুরুষতান্ত্রিক কায়েমি স্বার্থ ও হীনমন্যতার ঊর্দ্ধে তারা উঠবে না। 

এরা গরু-বাছুর ও পণ্যসামগ্রির মতো মেয়েকে দান করার পক্ষে। শুধু দান নয়, এর নাম আবার “সম্প্রদান”! অর্থাৎ কোনও প্রকার শর্ত ছাড়া, সম্পূর্ণভাবে স্বত্ত্ব ত্যাগ করে ধর্মার্থে কন্যাদান। মেয়ে নাকি দানের বস্তু! দানের মধ্য দিয়ে মেয়ের উপর বাবার আর কোনও স্বত্ব থাকবে না; কন্যা দান করে বাবা পুণ্য অর্জন করবে। বাবার গোত্রেও মেয়েটির আর পরিচয় থাকবে না। একদম গোত্রান্তর! 

অনেকবার বলেছি, তোমরা একটি প্র্যাকটিক্যাল দৃষ্টান্ত আমাকে দেখাও যেখানে, বিয়ের মন্ত্রের মাধ্যমে মেয়েটির গোত্র বদলে গেছে। মেয়েটির শরীরে আর বাবা-মায়ের ডিএনএ নেই –পরীক্ষা করার পর দেখা গেছে বিয়ের পর মেয়েটির সঙ্গে তার স্বামীর অথবা তার শশুর- শাশুড়ির ডিএনএ মিলছে। একজনও ডিএনএ টেস্ট করে পরীক্ষা দিতে রাজি নয়। মেয়েকে দান করেছ, তার সাথে তোমার আর সম্পর্ক নেই! দান করে মেয়েকে কি পর করে দেয়া যায়? তুমি কি বিয়ে দেয়ার পর তোমার মেয়েকে ভিন্ন সম্পর্কে বউদি ডাকতে পারবে? তাহলে গোত্রান্তর কি আসলে মিথ্যা নয়? তোমার মেয়ের গোত্রান্তর হবে কেন বন্ধু? 

শাস্ত্রে কন্যাদানের বিধান আছে, আমরা তা অস্বীকার করছি না। যজ্ঞের পুরোহিতকে স্বালঙ্করা কন্যা দান করলে পুণ্য বেশি হয়। শাস্ত্রে তাই বলা আছে। কিন্তু উপযুক্ত ছেলের কাছে বিয়ে না দিয়ে পুরোহিতকে কন্যাদান করতে কেউ রাজি হয় না। শাস্ত্রে শিশু কন্যাদানকে আরও বেশি মহিমান্বিত করা হয়েছে। আট বছর বয়সী কন্যাদানে পুণ্য অনেক বেশি। অষ্টম বর্ষীয় কন্যার বুড়ো স্বামী মারা গেলে সেই বাচ্চা মেয়েটাকে স্বামীর চিতায় পুড়িয়ে মারলে আরও বেশি পুণ্য অর্জন করা যায়। শাস্ত্রে এসব আছে। কিন্তু সরকার আইন করে সতীদাহ ও বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ করেছে। ভারতে পুরুষের বহুবিবহাও নিষিদ্ধ হয়েছে। এখন কন্যাদানের মতো অসভ্যতা বন্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদন করার সময় এসেছে। মানুষকে উন্নত হতে হবে, আধুনিক সভ্যতা ও জ্ঞানবিজ্ঞানের সমান্তরালে চলতে জানতে হবে। 

আমি বহুবার শাস্ত্র দেখিয়ে বলেছি, কন্যাদান ছাড়াও বিয়ের বিধান আছে। শাস্ত্রে আট প্রকার বিয়ের বিধান আছে। প্রাপ্তবয়স্ক নর-নারীর পারস্পরিক পছন্দে ও সন্মতিতে বিয়ের স্বীকৃতি শাস্ত্রে আছে। সনাতন ধর্ম অনুযায়ী বিশেষ একটি শাস্ত্রের নির্দিষ্ট কোনো বিধান অনুসরণ করার বাধ্যবাদকতা নেই। 

সনাতন ধর্মে উদ্ভট প্রাচীন কিছু প্রথার নজির যেমন আছে তেমনি প্রথার বাইরে গিয়ে উন্নত হওয়ার তাগিদও আছে। সনাতন ধর্ম প্রগতিশীল। পরিবর্তন ও যুগধর্ম অনুসরণ সনাতন শাস্ত্রে অনুমোদিত। যারা সনাতন শাস্ত্রকে প্রতিক্রিয়াশীলতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে নারীর জীবনকে দুর্বিষহ করতে চায় এবং হিন্দু নারীদের দাসীর মতো ব্যবহার করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে নিরন্তর লড়াই এবং জয় আমাদের প্রাপ্য।


আরও খবর



সাপ্তাহিক দর পতনের শীর্ষে ছিল যে ১০ শেয়ার

প্রকাশিত:শুক্রবার ৩১ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৯ জুন ২০২৪ |

Image

বিডি টু ডে ডেস্ক রিপোর্ট:


 সপ্তাহে (২৬-৩০ মে) প্রধান শেয়ারবাজার  ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নিয়েছে ৪১২টি প্রতিষ্ঠান। 


এরমধ্যে ১১৫টির দর বেড়েছে, ২৪৮টির দর কমেছে, ২৭টির দর অপরিবর্তিত ছিল এবং ২২টির লেনদেন হয়নি।


সপ্তাহটিতে সবচেয়ে বেশি দর কমেছে পাইওনিয়ার ইন্সুরেন্স লিমিটেডের। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর ১৯.৫৪ শতাংশ কমেছে। ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় এই তথ্য জানা গেছে।


সাপ্তাহিক দর পতনের শীর্ষ তালিকায় স্থান পাওয়া অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে যমুনা ব্যাংকের ১৭.৩১ শতাংশ, প্রগতি ইন্সুরেন্সের ১৪.৩১ শতাংশ, ইজেনারেশনের ১৩.৫৪ শতাংশ।


এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের ১৩.১৫ শতাংশ, খান ব্রাদার্সের ১২.৯৫ শতাংশ, সালভো কেমিক্যালের ১২.০২ শতাংশ, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের ১১.৯০ শতাংশ, প্রিমিয়ার ব্যাংকের ১১.৩০ শতাংশ এবং ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ১১.১০ শতাংশ শেয়ার দর কমেছে।



আরও খবর



নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নতুন করে গণবিক্ষোভ

প্রকাশিত:বুধবার ১৯ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ |

Image

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গাজায় যুদ্ধ পরিচালনা নীতির বিরুদ্ধে হাজার হাজার ইসরাইলি নাগরিক সোমবার জেরুসালেমে বিক্ষোভ জানিয়েছে।

ইসরাইলি পার্লামেন্টে নেসেটের সামনে থেকে এই বিক্ষোভ শুরু হয়ে পরবর্তীতে তা নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত বাসভবন পর্যন্ত যায়।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, সরকার যেন হামাসের সাথে দরকষাকষি করে তাদের হাতে আটক বাকি পণবন্দীদের মুক্তির উদ্যোগ নেয় এবং আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচনের আয়োজন করে।

গত ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরাইলে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ইসরাইলি নাগরিকদের হত্যা ও পণবন্দী করে

ফিলিস্তিনি মুক্তিকামী সংগঠন হামাস।

 

বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ মূল জনস্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আলাদা করে পুলিশি ব্যারিকেড অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদেরকে পিছু হটতে বাধ্য করে। পরবর্তীতে জলকামান ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়।

নেতানিয়াহু যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা ভেঙে দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর এই বিক্ষোভ শুরু হয়। গত সপ্তাহে মধ্যপন্থী দুই সাবেক জেনারেল বেনি গ্যান্টজ ও গাদি এইসেনকট মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার পর নেতানিয়াহুর এই পদক্ষেপ প্রত্যাশিতই ছিল। নেতানিয়াহুর সাথে যুদ্ধ পরিচালনার প্রক্রিয়া নিয়ে মতভেদের জেরে এই দুই নেতা পদত্যাগ করেন।

 

গ্যান্টজ অক্টোবর মাসে হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের শুরুর দিকে নেতানিয়াহুর জোট সরকারে যোগ দেন এবং যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা গঠনের দাবি জানান।

হোয়াইট হাউস সোমবার জানিয়েছে, মন্ত্রিসভা ভেঙে দেয়ার বিষয়টি ইসরাইলি সরকারের অভ্যন্তরীণ ও নিজস্ব পদক্ষেপ এবং যুক্তরাষ্ট্র নেতানিয়াহুর সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বলেন, ইসরাইলি সরকারে কে থাকবেন বা থাকবেন না, সেটা যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয় নয়।

মিলারকে জিজ্ঞাসা করা হয় ইসরাইলে সরকারি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কট্টর ডানপন্থীদের মতামত বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন কিনা। এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের বিবেচনায় যেসব নীতিমালা শুধু ফিলিস্তিনি জনগণ না, ইসরাইলের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও অকার্যকর, সেগুলোর ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন তার দ্বিমতের কথা প্রকাশ্যে জানাবে।

 

যুক্তরাষ্ট্র এর আগে জানিয়েছিল, যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা ফলপ্রসূ।
সূত্র : ভয়েস অফ আমেরিকার


আরও খবর

যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে ইইউ

বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24




কওমি উদ্যোক্তার’ পঞ্চম বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত:সোমবার ০৩ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ |

Image

মোহাম্মদ হাছানুজ্জামান :

জমকালো আয়োজনে রাজধানীর কাকরাইল ইনস্টিটিউশন অফ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে হাজারো কওমি আলেম ও বেকারদের ব্যবসার পথ দেখিয়ে সাড়া জাগানো প্রতিষ্ঠান ‘কওমি উদ্যোক্তার’ পঞ্চম বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো গত ২ জুন ২০২৪ (রোববার)। 

পূর্বে রেজিস্ট্রেশনকৃত উদ্যোক্তারা অত্যন্ত শৃঙ্খলার সাথে অংশগ্রহণ করেন।  মূল অনুষ্ঠান সকাল ১০:০০ টায় শুরু হওয়ার সময় থাকলেও দেশের ৬৪ জেলা থেকে পাঁচশতাধিক উদ্যোক্তা অনুষ্ঠান স্থলে আসন গ্রহণ করেন অনুষ্ঠান শুরুর ১ ঘণ্টা আগেই। ২০২০ সালে বৈশ্বিক মহামারী করোনার সময় মসজিদ-মাদরাসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন যখন স্থবির হয়ে যায় তখন মাওলানা রোকন রাইয়ানসহ কয়েকজন তরুণ আলেমের হাত ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘কওমি উদ্যোক্তা’ নামে একটি গ্রুপ খোলার মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠানের সূচনা হয়। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে এ গ্রুপে প্রায় ৩ লাখ সদস্য যুক্ত হয়ে নিয়মিত কেনাবেচা করতে থাকেন। পর্যায়ক্রমে তারা বিভিন্ন ক্যাম্পেইন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আলেম উদ্যোক্তা তৈরিতে বিরাট ভূমিকা রাখেন। হাজারো আলেম উলামা ও বেকার মানুষ ‘কওমি উদ্যোক্তা’র মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শায়খ আহমাদুল্লাহ আলেম উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনি যদি একেবারে কম টাকা বিনিয়োগে ব্যবসা শুরু করেন, তাহলে শুরুতে এসব ছোটখাটো পণ্য বিক্রিতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু ভবিষ্যতে প্রায় সব ধরনের পণ্য বিক্রিতে আলেমদের মনোযোগী হতে হবে। শুধু কালোজিরা আর মধু বিক্রি করলে হবে না। যুগোপযোগি সকল হালাল ব্যবসায়ে কওমি আলেমদের এগিয়ে আসতে হবে। এ সময় শায়েখ আহমাদুল্লাহ কওমি উদ্যোক্তার ভূয়সী প্রশংসা করে নিজেও আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে ব্যবসা শুরুর কথা জানান। 


সম্মেলনে ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন এমপি বলেন, আমি এত এত আলেম উদ্যোক্তা দেখে গর্ববোধ করছি। আপনারা দেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যান। দেশকে শক্তিশালী করতে পারে তরুণ উদ্যোক্তারা। কারণ তাদের মধ্যে উদ্ভাবনী শক্তি আছে। তাই কেউ বসে থাকবেন না। সাহস নিয়ে নতুন কিছু শুরু করেন। সাকসেস আসবেই। 

স্টোরেক্স এর চেয়ারম্যান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন আগামীতে এই সম্মেলন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দেখতে চাই্। 

কওমি উদ্যোক্তার কো-ফাউন্ডার হাফেজ মুমিনুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, দেশের বেকার তরুনদের পাশে দাড়াইতেই কওমি উদ্যোক্তার প্রতিষ্ঠা। আমরা স্বপ্ন দেখি একটি বেকারমুক্ত বাংলাদেশের। 

কওমি উদ্যোক্তার ফাউন্ডার মাওলানা রোকন রাইয়ান তার বক্তব্যে বলেন, চলমান কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরো সুগঠিত ও সুচারুরূপে সারাদেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া হবে এবং সকল উদ্যোক্তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য আরো যুগোপযোগি ও  উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে ইনশাআল্লাহ। 

অনুষ্ঠানের কাণ্ডারি কওমি উদ্যোক্তার ফাউন্ডার মাওলানা রোকন রাইয়ানের সভাপতিত্বে ও লোকমান গাজীর সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আসসুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ, বিশেষ অতিথি ছিলেন আইনজীবী ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন এমপি, বিশিষ্ট আলোচক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মাওলানা শরীফ মুহাম্মাদ, বাংলাদেশ আই হসপিটাল মালিবাগের ডিরেক্টর ডা: মাসুদ হাশমী, বিশিষ্ট আলোচক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মাওলানা সাইমুম সাদী, বিজনেস মেন্টর কোচ কাঞ্চন, কন্টেন্ট কিংয়ের ফাউন্ডার মুহাম্মদ ইকরাম, লেখক-সাংবাদিক ও উদ্যোক্তা মাওলানা মিরাজ রহমান, উইট ইনিস্টিউটের ফাউন্ডার নাজিব রাফে, আলেম উদ্যোক্তা ও স্পিকার গাজী সানাউল্লাহ রাহমানী, আওয়ার ইসলাম ২৪ ডটকম সম্পাদক মুফতি হুমায়ুন আইয়ুব, কলরব শিল্পীগোষ্ঠীর নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ বদরুজ্জামান, ইয়েস২০ স্কুলের প্রেসিডেন্ট মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, স্টেডফাস্ট কুরিয়ার লিমিটেডের ফাউন্ডার কে এম রিদওয়ানুল বারী জিওন, আলফ্রেড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ হাছানুজ্জামান মাসউদ সহ আরো উপস্থিত ছিলেন ছোট-বড় পাঁচ শতাধিক উদ্যোক্তা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা।


আরও খবর



দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় ব্যয়বহুল শহর ঢাকা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ |

Image

দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ ব্যয়বহুল শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে জায়গা করে নিয়েছে ঢাকা আর প্রথম অবস্থানটি নিয়েছে ভারতের মুম্বাই সম্প্রতি প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক অর্থনৈতিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান মার্সারেরমার্সার কস্ট অব লিভিং সার্ভে-২০২৪শীর্ষক প্রতিবেদন থেকে তথ্য জানা গেছে 

প্রতিবছর বিদেশিদের জন্য বিশ্বের কোন শহরগুলো কতটা ব্যয়বহুল, সেই তালিকা প্রকাশ করে মার্সার চলতি বছরের তালিকায় দেখা গেছে, বিশ্বে ব্যয়বহুল শহর হিসেবে শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে হংকং এই শহর ছাড়া বিশ্বের বাকি শীর্ষ ব্যয়বহুল শহরগুলো হলোসিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ডের জুরিখ, জেনেভা, বাসেল, বার্ন, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, যুক্তরাজ্যের লন্ডন, বাহামা দ্বীপপুঞ্জের নাসাউ এবং যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস

তালিকায় ১৪০তম অবস্থানে আছে ঢাকা, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থান। গত বছর এই তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল ১৫৪ নম্বরে। সেই হিোবে এবার ঢাকা ১৪ ধাপ এগিয়েছে। তালিকার ১৩৬ নম্বরে জায়গা করে নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে প্রথম হয়েছে মুম্বাই। বছরের তালিকায় ভারতের আরও বেশ কয়েকটি শহর স্থান পেয়েছে। দিল্লির অবস্থান ১৬৫তম, চেন্নাই ১৮৯তম, বেঙ্গালুরু ১৯৫তম, হায়দরাবাদ ২০২তম, পুনে ২০৫তম, কলকাতা ২০৭তম 

ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের শহরের মধ্যে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো ১৯০তম পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের অবস্থান ২২৪তম তবে বিশ্বের ২২৬টি শহর নিয়ে করা এই তালিকায় নেই এশিয়ার আফগানিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ নেপালের কোনো শহরের নাম তালিকায় শীর্ষে রয়েছে হংকং শহরটি গত বছর এবং তার আগের বছরেও শীর্ষে ছিল আর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, বিশ্বের ২২৬টি শহরের অন্তত ২০০ বিষয়কে বিবেচনায় নিয়ে এই তালিকা প্রস্তুত করেছে মার্কিন ফিন্যান্সিয়াল সার্ভে কোম্পানি মার্সার। বিবেচনার বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছেপরিবহন, খাদ্য, পোশাক, গৃহস্থালি সামগ্রী বিনোদনের পেছনে ব্যয়


আরও খবর



ঢাকার বাতাস আজ ‘গ্রহণযোগ্য’

প্রকাশিত:রবিবার ০২ জুন 2০২4 | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ |

Image


ডিজিটাল ডেস্ক:

বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় আজ ৮৩ স্কোর নিয়ে ১৭ নম্বরে অবস্থান করছে ঢাকা। রোববার সকাল ৯টার দিকে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে (একিউআই) ঢাকার এ অবস্থান দেখা গেছে।

এই স্কোর বাতাসের মানকে ‘মাঝারি’ বা ‘গ্রহণযোগ্য’ বলে নির্দেশ করে।

এদিকে, বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় আজ উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা ১৭৯ স্কোর নিয়ে শীর্ষে এবং ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তাও ১৭৯ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা ১৬৭ স্কোর নিয়ে তৃতীয় এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ১৬০ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া ভারতের দিল্লি আজ ১৫২ স্কোর নিয়ে ৬ নম্বরে অবস্থান করছে।

৫১ থেকে ১০০ স্কোর হলে তাকে ‘মাঝারি’ বা ‘গ্রহণযোগ্য’ মানের বায়ু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ এর মধ্যে হলে বাতাসের মান ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’, ১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে একিউআই স্কোরকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে মনে করা হয়।

এছাড়া ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে হলে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয় এবং ৩০১+ একিউআই স্কোরকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের ৫টি বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে। সেগুলো হলো- বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)। দীর্ঘদিন ধরে বায়ু দূষণে ভুগছে ঢাকা। এর বাতাসের গুণমান সাধারণত শীতকালে অস্বাস্থ্যকর হয়ে যায় এবং বর্ষাকালে কিছুটা উন্নত হয়।


আরও খবর