Logo
শিরোনাম

মন খারাপের দিনে নিজেকে সাজাবেন যেভাবে

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২১ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ১৫৪জন দেখেছেন
Image

অফিসে কাজের খুব চাপ, কাছের মানুষটি বুঝতে পারছে না আজকাল, পারিবারিক টানাপোড়েন অথবা অকারণ মন খারাপের দিনে নিজেকে লুকিযে রাখবনে না, মেলে ধরুন নিজেকে নতুন ভাবে আত্মবিশ্বাসের সাথে।

জীবনের পথচলায় গভীর আর বিশাল সমস্যা বা ছোটখাটো বিষয়ে মন খারপ হতে পারে। সে সময়ে কিংবা অসময়ে। তখন চেষ্টা করবেন শিশুদের সঙ্গে সময় কাটাতে। কারণ, শিশুর সারল্য বড়দের মন খারাপ ভাব অনেকটাই কমিয়ে দেয়। যদি কোনো শিশুর সঙ্গে সময় কাটাতে না পারেন, তাহলে পরিচিত কারও সঙ্গে মোবাইলে কথা বলতে পারেন যেকোনো বিষয়ে। এক্ষেত্রে মা-বাবা, ভাই-বোন বা স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধুকে বেছে নিতে পারেন। দেখবেন কথা বলার পর মন খারাপটা কেটে গেছে। 

বেশি বেশি মন খারাপ করলে কর্মক্ষেত্র থেকে এক-দুই দিন ছুটি নিয়ে বাসায় থাকুন। এ সময়টাতে রান্না করতে পারেন, বারান্দাতে থাকা বাগানের পরিচর্চা করতে পারেন আর পারেন বই পড়তে, সিনেমা দেখতে। সবচেয়ে ভালো হয় নিজেকে সাজাতে পারলে। কারণ মেয়েদের সাজলে মন ভালো হয়ে যায়। পছন্দমতো রঙের পোশাক পরতে পারেন। এক্ষেত্রে বেছে নিতে পারেন উজ্জ্বল প্রিন্টের পোশাক। গায়ে কোনো হালকা ফুলেল সুগন্ধ মাখুন। ঠোঁট রাঙিয়ে নিন মিষ্টি গোলাপি লিপ গ্লস আর লিপস্টিকে। তারপর দেখবেন, মন খারাপও আপনাকে ছেড়ে দূরে না পালিয়ে পারছে না!

মন খারাপের দিনে উজ্জ্বল প্রিন্টের নতুন পোশাকটি যেন হয় ‘এলিগ্যান্ট’ ও ‘কিউট’। প্রিন্টেড পোশাকের মেটিরিয়াল হিসেবে আপনি কী বেছে নিচ্ছেন, তার উপরেও মন ভালো হওয়ার অনেক কিছু নির্ভর করে। চেষ্টা করুন শিফন, জর্জেট বা সিল্কের মতো ফ্লোয়ি কোনো কাপড়ের পোশাক পরতে, যাতে আপনাকে দেখতে সুন্দর লাগে। যাদের কোমরের কাছটা সরু, তারা সঙ্গে সরু বেল্ট পরুন। কানে পরতে পারেন ওভারসাইজড হুপ দুল। পায়ে পছন্দের হিল পরতে ভুলবেন না, আর হাতে সুন্দর নকশার হাতঘড়ি থাকলে মন খারাপ দৌড়ে পালাবে।  



আরও খবর



ইউএনওর বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ সেতুমন্ত্রীর ভাগনের

প্রকাশিত:রবিবার ১৭ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ১৪ মে ২০২২ | ১২৮জন দেখেছেন
Image

অনুপ সিংহ, নোয়াখালী প্রতিনিধি

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.খোরশেদ আলম চৌধুরীর বিরুদ্ধে কাদের মির্জার প্রতিপক্ষের নেতাকর্মিদের মামলা দিয়ে হয়নারি করার অভিযোগ তুলেছেন সেতুমন্ত্রীর ভাগনে রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজিস সালেকিন রিমন।    

গতকাল শনিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রামপুর ইউনিয়নের দফাদার ও চেয়ারম্যানের গাড়িতে হামলা এবং ইউএনওর হটকারি সিন্ধান্তের প্রতিবাদে উপজেলার বামনী বাজারে অনুষ্ঠিত এক প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এমন অভিযোগ করেন।

ইউএনওকে উদ্দেশ্য করে সালেকিন রিমন বলেন কোন ব্যক্তির তাবেদারি করবেননা। আপনি সরকারের সিন্ধান্তে জনগণকে সেবা দিতে এসেছেন। আপনি ন্যায় সঙ্গত সিন্ধান্ত নিবেন। এখানে এসে যাচাই বাচাই করে সিন্ধান্ত দিবেন। এর আগে আপনি কোন ব্যক্তির ইশারায় এখানে যদি কোন হটকারি সিন্ধান্ত দেন রামপুরের জনগণ তা মোকাবেলা করবে ইনশাআল্লাহ। টাকা খেয়ে দালালি করবেননা। জনগণকে অশান্তির মধ্যে ফেলবেননা।

এ সময় তিনি ইউএনওর প্রতি সাত দিনের মধ্যে নেতাকর্মিদের বিরুদ্ধে দেওয়া মিথ্যা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান। মুছাপুর ইউনিয়নে ক্লোজরে ৬০০ থেকে ৭০০ একর সরকারি খাস জমি ভূমি দস্যুরা দখল করে নিয়েছেন। কই আপনিতো সেটার ব্যবস্থা নিলেন না। কার নির্দেশে সেখান থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। আপনাকে সাবধান করে দিচ্ছি এটা ওবায়দুল কাদেরের এলাকা। আপনার এখানে চাঁদাবাজি চালানোর সুযোগ নেই। আমি রামপুরের জনগণের ভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যান। চোরা ভোটে নির্বাচিত চেয়াম্যান নয়। যে আপনার হুমকিতে ভয় পেয়ে এখান থেকে চলে যাব। জনগণ আমার সাথে আছে। জনগণকে সাথে নিয়ে আপনার মোকাবেলা করব ইনশআল্লাহ।

দলীয় নেতাকর্মিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আপনারা শান্ত থাকবেন। কোন উশৃঙ্খলা-বিশৃঙ্খলায় জড়াবেননা। কেউ যদি বিশৃঙ্খলা করে আমরা আইনানুগ ভাবে ব্যবস্থা নেব। এ সময় এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। ওই উত্তর দিক থেকে কারো ইশারায় রামপুর চলবেনা। এ রামপুরে কেউ যদি বিশৃঙ্খলা করতে চায় তাঁর বিরুদ্ধে জনগণ ঝাঁপিয়ে পড়বে।

কাদের মির্জাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বিগত দেড় বছর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে কুরুচি অশ্রাব্য ভাষায় এবং ঊনার সহধর্মিণীকে অশ্রাব্য ভাষায় গালি দিয়েছিল আব্দুল কাদের মির্জা। তার কারণে সারা বাংলাদেশ ওবায়দুল কাদেরের মত একজন স্বনামধন্য ব্যক্তিত্বের মানসম্মান ধুলায় মিশে গেছে। শুধু মাত্র তাঁর নিজের স্বার্থের জন্য,তাঁর নিজের মসনদ টিকিয়ে রাখার জন্য,তাঁর ফ্যাসিবাদী মানসিকতার জন্য,লুটপাট করার জন্য,চাঁদাবাজি করার জন্য।  

ভাগনে সালেকিন রিমনের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা বলেন আমি তার বিষয়ে কোন কথা বলতে আমি নারাজ। সেখানে কোন ঘটনা হয়নি। আমাদের ছেলেদের ওপর আক্রমণ করে। উল্টো মিটিং করে ইউএনওকে দোষারোপ করে। আমি কিছু জানিনা। গত তিন মাস আমি কারো বিরুদ্ধেও কথা বলিনা। গত কয়েক দিন আগে ফেসবুকে লাইভ দিছি। আমি কারো বিরুদ্ধে একটা কথাও বলি নাই। আমি জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে কথা বলেছি। আমি এগুলো নিয়ে এখন চিন্তাও করিন। 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.খোরশেদ আলম চৌধুরী অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন,উনি অনেক মিথ্যা বানোয়াট কথা বলতেছে। এটা উনার যে পদ তা পদের সাথে সাংঘর্ষিক। আমাদের টেন্ডার প্রসেসিং যে নিয়ম সে নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডার হইছে। আমরা যাকে ইজারা দিয়েছি তাকে বাজারে ঢুকতে দিচ্ছেনা এবং তাদের সাথে মারধরও হইছে। এ রকম লিখিত অভিযোগ উনার বিরুদ্ধে আমার কাছে দিয়ে গেছে। আমরা সেটা আইন অনুযায়ী তদন্ত করব।

ইউএনও বলেন,থানাতে মামলা দিয়ে থাকলে সেটা আমি দেবনা। থানায় মামলা দিবে যে ভুক্তভোগী সে। আমি মামলা দেব কেন। যদি কোন চেয়ারম্যান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে, কোন কাজে স্বার্থ হানিকর কাজে জড়িত থাকে তাহলে তাঁর চেয়ারম্যান পদ থাকেনা।

তিনি বলেন, মুছাপুরে অলরেডি তিনবার অভিযান করেছি। ঘর গুলো ভেঙ্গে দিয়েছি এবং মুছাপুরের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যে মেম্বার জড়িত তাকে শোকজ করা হইছে। শোকজের জবাব আসছে। আমরা এটা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠাবো। নতুন করে ঘর উঠলে আমরা সে গুলো ভেঙ্গে দেব।

উল্লেখ্য,গত শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের বামনী বাজারের টোল আদায়কে কেন্দ্র করে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজিস সালেকিন রিমন ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল বাহার চৌধুরী অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দোকান ভাঙচুর সহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২জন আহত হয়।

বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজিস সালেকিন রিমন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ভাগনে এবং মেয়র কাদের মির্জার প্রতিপক্ষ উপজেলা আওয়ামী লীগ সমর্থিত। অপরদিকে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল বাহার চৌধুরী মেয়র কাদের মির্জা সমর্থিত। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এমন অভিযোগ উঠে।


আরও খবর



মাদক কারবারের অভয়ারণ্য কু‌মিল্লার বুড়িচং ও সদ‌রের গোলাবা‌ড়ি সীমান্ত !!

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৬ মে ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৮১জন দেখেছেন
Image

নিজস্ব প্রতি‌বেদক,কু‌মিল্লা

কুমিল্লা জেলার ভারত সীমান্তবর্তী উপজেলা বুড়িচং, এই উপজেলাটি যে মাদক পাচার, কারবার ও সেবীদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠছে দিনদিন। অবৈধ মাদকের টাকা, আগ্নেয়াস্ত্র ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে পড়েছে মাদক কারবারি সিন্ডিকেট। এই সীমান্ত এলাকার ওপর দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও সিলেট-কুমিল্লা- ঢাকা মহাসড়ক ও রেলপথের একটি বিশাল অংশ। মাদকের প্রধান বাজার রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত। বহিরাগত মাদকসেবী ও কারবা‌রিরা তো আছেই সেই সাথে সীমান্তবর্তী এ উপজেলার তরুণ, কিশাের-কিশােরী ও যুবকরা দিন দিনই মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। সহজলভ্য হওয়ায় জড়িয়ে পড়ছে মাদক কারবারেও। বিশেষ করে উপজেলার সীমান্তবর্তী পাঁচোড়া, চড়ানল, জগৎপুর, শংকুচাইল, বারেশ্বর ও লড়িবাগ, আনন্দপুর, ঘিলাতলী, নজুপুড়া, জামতলা সহ বিভিন্ন গ্রামে নিত্য নতুন মাদক ব্যবসায়ী হয়ে উঠেছে প্রতিদিনই। এরা বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন কায়দায় মদ, গাঁজা, স্কার্প, বিয়ার, ফেন্সিডিলের পাশাপাশি দেদারে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা। বুড়িচংয়ে ভারতীয় সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রতিদিনই নদীর স্রোতের মত প্রবেশ করছে মাদক। মাদকের ডিলার ও ব্যবসায়ীরা এক শ্রেণীর অসাধু সীমান্তরক্ষী ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ম্যানেজ করে মদ, গাঁজা, বিয়ার, ইয়াবা, ফেন্সিডিলসহ নানা প্রকার মাদক ও ভারতীয় অবৈধ পণ্য ওপাড় থেকে এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে। ফলে যুব ও তরুণ সমাজ মাদকের নীল নেশায় আসক্ত হয়ে দিন দিন ধ্বংসের দিকে পতিত হচ্ছে। সেই সাথে ঘটছে খুন, ডাকাতি, ছিনতাই সহ নানা অপ্রিয়কর ঘটনাও।  ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত জেলার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল ও রাজাপুর ইউনিয়নের প্রায় ১৫ কিলােমিটার অংশ জুড়ে রয়েছে ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা। এর মধ্যে ভারতী সীমান্ত লাগোয়া আনন্দপুর, জঙ্গলবাড়ি, পাহাড়পুর, কোদালিয়া, মিরপুর, শঙ্কুচাইল, হায়দ্রাবাদ, পাঁচোরা, চড়ানল, নবিয়াবাদ এসমস্ত গ্রামের ওপড় দিয়ে ভারত থেকে আসা মাদকের চালান প্রতিদিন পৌঁছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। মাদক পাচারে নিত্য নতুন কৌশল এবং নারী মাদক কারবারির সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে অনেকাংশে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে এর সামান্য কিছু আটক হলেও বেশীর ভাগ মাদকের চালান গোপনে পৌঁছে যাচ্ছে গন্তব্যে। চিহ্নিত ও তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিদের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন মাদককারবার‌রি ও চোরাকারবারি। এদের মাধ্যমেই দেশে আসছে ইয়াবা সহ নানা জাতের মরণ নেশা। 

নাম না প্রকাশে স্থানীয়রা জানায় , সীমান্ত পার হ‌য়ে এপাড়ে আসা মাদকের বড় চালান উপজেলার কংশনগর, জগৎপুর, ময়নামতি সহ বিভিন্ন এলাকায় জড়ো করা হয়। পরে সময় সুযোগ বুঝে এম্বুলেন্স, বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, সিএনজি, পিকআপ সহ নানা পরিবহন পাঠানো হয় রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে। প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে গেলে সীমান্তের চিহ্নিত মাদক কারবারিরা গা-ঢাকা দিয়ে থাকে অথবা সীমান্ত পার হ‌য়ে ভার‌তে অবস্থান করে । সীমান্ত এলাকার বড় বড় মাদক ডিলাদের অধিকাংশই ভারত বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিক হওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।সীমান্ত এলাকার সচেতন স্থানীয়রা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মাদক কারবারিরা বেপরোয়া হয়ে পরছে। মাদকের সাথে সাথে অবৈধ  আগ্নেয়াস্ত্রের ঝনঝনানিও বেড়েছে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে। মাদক কারবারে জড়িতরা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবসার সাথেও জড়িত। পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পবিত্র ঈদের দিন জেলা সদরের গেলাবাড়ি এলাকায় ঈদের জামাতে গোলাগুলিতে একজন গুলিবিদ্ধ হয়। গত ১৩ এপ্রিল বুড়িচং হায়দ্রাবাদ সীমান্তে সাংবাদিক মহিউদ্দিন সরকার নাঈম হত্যায় একাধিক আগ্নেস্ত্রের ব্যবহার করা হয়।  এর আগে জেলার সদর দক্ষিণে র‌্যাবের ওপর মাদক কারবারিদের হামলা ও গোলাগুলিতে গুলিবিদ্ধ হন র‌্যাবের এক সদস্য। এছাড়া নগরীতে কাউন্সিলর সোহেল ও হরিপদ হত্যাকান্ডে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি উদ্বিগ্ন করে তুলেছে প্রশাসনকেও। জেলায় সংঘঠিত  বেশির ভাগ অপরাধের সাথেই প্রত্যক্ষ বা পরোভাবে মাদকের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাওয়া যায়। মাদক একেবারে নির্মূল করা সম্ভব না হলেও সচেনত জনগণের প্রত্যাশা এর প্রসার ও পাচার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণে আরো কঠোর হবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। তবে মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের সচেতনতার বিকল্প নেই বলে মনে করে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান।


আরও খবর



অশনি’র সঙ্কেতে উপকূলে আতঙ্ক

প্রকাশিত:সোমবার ০৯ মে ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | ৪৫জন দেখেছেন
Image

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’। এমন বার্তায় উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্ক ও শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা অনেকটা অনিরাপদ থাকায় তাদের মধ্যে এটি ভীতির বার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বরগুনা কার্যালয় সূত্রের তথ্যমতে, জেলার ২২টি পোল্ডারে ৯৫০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধই ঝুঁকিপূর্ণ। এসব বাঁধের নিকটবর্তী বাসিন্দারা ঝড়ের পূর্বাভাসেই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন।

ফকিরহাটের হাসান মিয়া বলেন, এলাকার প্রায় ৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নড়বড়ে হয়ে আছে। এ জন্য আমতলী তালতলি উপজেলার নদী তীরবর্তী বাঁধ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা সবসময়ই আতঙ্কে থাকেন।

জেলায় ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলা, মহাসেন, ফণীসহ একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায় সাড়ে পাঁচ’শ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেসব বাঁধ এখনও সম্পূর্ণ মেরামত হয়নি। এ অবস্থায় অশনির আগমনের বার্তায় আতঙ্কে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ এলাকার লক্ষাধিক বাসিন্দা।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কাওছার হোসেন বলেন, বাঁধ মেরামত করা জরুরি, আমরা কিছু কিছু এলাকার বাঁধ নির্মাণ ও সংষ্কার করছি।

তিনটি নদীবেষ্টিত বরগুনা জেলার নদী তীরের বাসিন্দাদের অনেকেরই কাছাকাছি পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র নেই। জেলার ১৪ লাখ মানুষের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের বসবাস নদী তীরবর্তী গ্রামে। সেই তুলনায় বরগুনা উপকূলের বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা অনেক কম।

বরগুনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, অশনি মোকাবেলায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

বৃষ্টি শুরু : এদিকে, ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে বরগুনায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বইছে হালকা বাতাস। সোমবার (৯ মে) সকাল থেকে বৃষ্টির সঙ্গে হালকা বাতাস বইতে শুরু করে। এতে ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ।

বরগুনা জেলা রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি ও ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে ৯ মে সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ঘণ্টা বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। বর্তমানে ২নং দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যাচ্ছেন তারা।


আরও খবর



বিএনপি রাজনৈতিক দল নয়, দলের মুখোশ: সজীব ওয়াজেদ জয়

প্রকাশিত:শনিবার ২৩ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | ৯১জন দেখেছেন
Image

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, প্রকৃতপক্ষে বিএনপি কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটি আসলে রাজনৈতিক দলের মুখোশ। এই মুখোশ পরে দুর্বৃত্তরা দেশের সম্পদ লুট ও অর্থ পাচার করে বিদেশে।

দেশের ভেতরে তারা উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিস্তার ঘটায়। এই দল প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যেমন জনসম্পৃক্ততার সম্পর্ক শূন্য, তেমনই এই দলের নেতাদের সঙ্গেও কর্মীদের সম্পর্ক হয় অর্থ লেনদেনের বিনিময়ে। শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে সজীব ওয়াজেদ জয় এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানকে চাহিদা মতো টাকা না দিলে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পান না নিজ দলের নেতাকর্মীরাও। তাই সরকারে থাকলে সাধারণ মানুষের ওপর লুটপাট ও নির্যাতন এবং বিরোধী দলে থাকলে বিদেশিদের কাছে নালিশ ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে দলটি।


আরও খবর



২ দিন পর খুলল নিউ মার্কেট-আশপাশের বিপণীবিতান

প্রকাশিত:শুক্রবার ২২ এপ্রিল 20২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৮৮জন দেখেছেন
Image

টানা দুই দিন বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) খুলেছে রাজধানীর নিউ মার্কেটসহ আশপাশের বিপণীবিতান। শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ৪৮ ঘণ্টার অচলাবস্থার পর নিউ মার্কেট ও আশপাশের বিপণীবিতানগুলো খুললেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা খুবই কম। বর্তমানে অত্র এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত নিউ মার্কেট, গাউছিয়া মার্কেট, নূর ম্যানশন মার্কেট, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট, ঢাকা নিউ সুপার মার্কেট, চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট, নুরজাহান সুপার মার্কেট, গ্লোব শপিং সেন্টার, এলিফ্যান্ট রোড ঘুরে দেখা যায় অধিকাংশ দোকানের বিক্রয়কর্মীরা অলস সময় পার করছেন। রমজানের শুরু থেকেই পহেলা বৈশাখ ও ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে যে জমজমাট বেচাকেনা শুরু হয়েছিল সেটি আর এখন নেই। তবে অন্যান্য সময়ের মতো ফুটপাতে কোনো দোকান বসতে দেখা যায়নি।

ব্যবসায়ীরা জানান, দোকান খোলার সিদ্ধান্ত পেয়েছি আজ ভোরে। এরপর সকালে দোকান খুলেছি। তবে সারাদিনে ক্রেতার পরিমাণ খুবই কম। অনেকে জানেন না যে আজ দোকান খোলা হয়েছে। আশা করছি আগামীকাল থেকে ক্রেতার পরিমাণ বাড়বে।

নিউ মার্কেটের ভেতরের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, স্বাভাবিক অবস্থা ফেরাতে সবকিছু গুছিয়ে নিচ্ছেন বিক্রেতারা। বন্ধ রাখা হয়েছে ৪ নম্বর গেট। ২ নম্বর ফটকের পকেট গেট খুললেও বন্ধ মূল গেট। যে দুটি দোকান ঘিরে সংঘর্ষের সূত্রপাত (ওয়েলকাম ও ক্যাপিটাল ফাস্টফুড) সে দুটিও বন্ধ রাখা হয়েছে। ভেতরের দোকানগুলোতে পুরুষের তুলনায় নারী ও তরুণী ক্রেতাদের সংখ্যাই বেশি।

আগামীকাল শুক্রবার থেকে পুরোদমে সবকিছু খুলে দেওয়ার কথা জানালেন নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন।

তিনি জানান, শান্তিপূর্ণ আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা দোকান খুলতে পেরেছি। আর সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি চাই না। রাতেই আমরা উভয় পক্ষ একত্রে বসে একটি সমাধানে এসেছি। যেকোনো সমস্যায় শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষকদের সঙ্গে এবং ব্যবসায়ীরা আমাদের সঙ্গে কথা বলবেন। কেউ নিজে থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে না। এ অঞ্চলে যারা আছেন তাদের মাধ্যমে একটি কোর কমিটি হবে। তাদের মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান করা হবে।

বুধবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টা থেকে ভোর পর্যন্ত সায়েন্স ল্যাবরেটরির বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) মিলনায়তনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ব্যবসায়ী মালিক সমিতি ও ঢাকা কলেজ কর্তৃপক্ষ, শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সম্মিলিত আলোচনায় দোকান খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে দুটি মামলা করেছে। দুই মামলায় ২৪ জনের নাম উল্লেখসহ এক হাজার ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মোরসালিন (২৬) ও নাহিদ (১৮) নামে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঢাকা কলেজের এক শিক্ষার্থী আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি আছেন রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে। নাহিদের মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা নিউ মার্কেট থানায় মামলা করেছেন।

উল্লেখ্য, গত সোমবার রাত ১২টার দিকে রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ী আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এসময় আহত হন বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যও।

মঙ্গলবার সকালে আবারও সংঘর্ষে জড়ান শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা। মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে তারা ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকেন। ছাত্রদের অনেকে হেলমেট পরে এবং লাঠি হাতে নিয়ে সংঘর্ষে জড়ান। ব্যবসায়ী-কর্মচারীরাও লাঠিসোটা ও লোহার রড নিয়ে ছাত্রদের ওপর হামলা চালানো শুরু করেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ সংঘর্ষ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে গোটা নিউ মার্কেট ও সায়েন্সল্যাব এলাকায়। থেমে থেমে সারাদিন চলে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী এবং প্রায় অর্ধশত ব্যবসায়ী-কর্মচারী আহত হন।


আরও খবর

পচছে আমদানি পেঁয়াজ

সোমবার ১৬ মে ২০২২