Logo
শিরোনাম
বাউল ছালমা হলেন বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ "জয়িতা" পাংশায় মাদক সহ ৯ মামলার আসামী গ্রেফতার ১৬৩ টাকায় তেল বিক্রির ব্যত্যয় ঘটলে ব্যবস্থা নেয়া হবে: ভোক্তার মহাপরিচালক দুর্গাপুরে বালুবাহী হ্যান্ডট্রলির চাপায় প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর নওগাঁ জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু বক্কর, সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত নওগাঁয় প্রাইভেটকার তল্লাসি, ৭২ কেজি গাঁজা সহ যুবক আটক রূপগঞ্জে প্রাইভেটকার চাপায় গৃহবধু নিহত রাঙ্গামাটির বড়ইছড়ি নির্মাণ শ্রমিক বোঝাই ট্রাক খাদে নিহত-২, আহত-২০ মুসলিমদেরকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চলছে নওগাঁয় কম্পিউটার ব্যবসার অন্তরালে অশ্লিল ভিডিও বিক্রি করায় ৩ যুবক আটক

নবনিযুক্ত শিক্ষামন্ত্রীকে মাভাবিপ্রবি পরিবারের শুভেচ্ছা

প্রকাশিত:সোমবার ১৫ জানুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪ |

Image

মো: হৃদয় হোসাইন মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি :

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. ফরহাদ হোসেন। 


রবিবার রাতে ঢাকায় শিক্ষা মন্ত্রীর বনানীর বাসভবনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরহাদ হোসেন, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ আর এম সোলাইমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম এই ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এসময় মাভাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরহাদ হোসেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর সার্বিক সাফল্য, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। 


উল্লেখ্য, নবনিযুক্ত মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে গত বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি ২০২৩) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হন।


আরও খবর



দশমিনা মানবসেবা সংগঠনের উদ্যোগে মানবিক সহায়তা প্রদান

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

মোঃ নাঈম হোসাইন, দশমিনা(পটুয়াখালী):

পটুয়াখালী দশমিনা উপজেলা মানবসেবা সংগঠনের উদ্যোগে মঙ্গবার সকাল ১১ টায় অস্থায়ী কার্যালয়ে মেয়ের চিকিৎসার জন্য অসহায় পিতাকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

 পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দশমিনা ০৪নং ইউনিয়নের ০৯ নাম্বার কাটাখালী গ্রামের মাওলানা আঃ করিমের মেয়ে মোসাঃ কারিমা দীর্ঘদিন বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে বিনা চিকিৎসায় নিজ বসত ঘরেই মৃত্যুর প্রহর গুনছে। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরলে দশমিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে প্রাথমিক চিকিৎসায় সুস্থ হলেও পরে আবার অসুস্থ হয়ে পরে। হাসপাতাল কতৃপক্ষ উন্নত চিকিৎসার জন্য বললেও পারিবারিক ভাবে চিকিৎসার খরচ ব্যাবহুল হওয়ায় কারিমাকে পারিবারিক ভাবে চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সহযোগিতার চাওয়া হলে দশমিনা মানবসেবা সংগঠন সহায়তায় এগিয়ে আসে। মঙ্গবার মানবসেবা সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে কারিমার বাবার হাতে দশহাজার টাকার সহায়তার তুলেদেয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মানসেবা সংঘঠনের সভাপতি এ্যাড. ইকবাল হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি মো. বেল্লাল হোসেন, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক জায়েদ মোল্লা, হাজির হাট জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ ক্কারী মোঃ ওবায়দুল্লাহ হামজা  প্রমূখ।

কারিমার বাবা মাও.আঃ করিম বলেন, আমার মেয়ের চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। আজ মানবসেবা সংগঠনের কাছ থেকে যে সহায়তা পেয়েছি আমি তাদের দোয়া করি। এ ভাবে সামজের লোক এগিয়ে আসলে আমার মেয়েকে চিকিৎসা করিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আসবে।

মানবসেবা সংগঠনের সভাপতি এ্যাড. ইকবাল হোসেন বলেন, এ সংগঠনটি মহামারি করোনার সময় শুরু করি।  এ সংগঠনের সকল সদস্যদের সহযোগিতায় সামাজের অসহায় পরিবারের পাশে যে কোন সমস্যায় নিজেদের সাধ্য অনুসারে সহযোগিতা করে থাকি। এ সহযোগিতা সবসময় চলোমান থাকবে।


আরও খবর

বাউল ছালমা হলেন বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ "জয়িতা"

বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

পাংশায় মাদক সহ ৯ মামলার আসামী গ্রেফতার

বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




পথের কাঁটা তিন চাকার যানবাহন

প্রকাশিত:বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪ |

Image

রোকসানা মনোয়ার : উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দেশের প্রধান মহাসড়কগুলোতে প্রায় অবাধে চলছে তিন চাকার বিভিন্ন যানবাহন। এসব বাহনের কারণে মহাসড়কে দ্রুতগতির বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট, ঘটছে দুর্ঘটনাও। আসন্ন ঈদে স্বাভাবিকের তুলনায় মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাবে কয়েক গুণ।

তখন এই তিন চাকার যান মহাসড়কগুলোতে পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

রেজমিনে গিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে তিন চাকার যান চলাচল করতে দেখা যায়। এসব যানের মধ্যে রয়েছে তিন চাকার ব্যাটারিচালিত ইজি বাইক, পায়ে ও মোটরচালিত রিকশা, ভটভটি, টেম্পো, সিএনজিচালিত অটোরিকশা প্রভৃতি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকার ২০১৫ সালে দেশের ২২টি মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়।

এরপর হাইকোর্ট ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে দেশের সব প্রধান মহাসড়কে তিন চাকার যান না চালানোর আদেশ দিয়ে সেই নিষেধাজ্ঞা আরো জোরদার করেন। সর্বশেষ গত ৪ এপ্রিল এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে সর্বোচ্চ আদালত এক আদেশে বলেন, ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান মহাসড়কে উঠতে পারবে না।

তিন চাকার যানের কারণে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) তথ্য বলছে, দিন দিন পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠছে যে তিন চাকার যানবাহনের দুর্ঘটনার সংখ্যা ২০২১ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে তিন গুণ বেড়েছে। তবে এত কিছুর পরও মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচল বন্ধ করা যায়নি।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

এই মহাসড়কের ১০৫ কিলোমিটার অংশ রয়েছে কুমিল্লাজুড়ে। এর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি এলাকায়ই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ইঞ্জিনচালিত থ্রি-হুইলার, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, রিকশা, ভ্যান। কোথাও কোথাও প্রকাশ্যেই চলছে নছিমন, করিমন, ভটভটিও।

মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, মহাসড়কের ওপরেই সারি সারি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা দাঁড়িয়ে রয়েছে।

এসব তিন চাকার যানবাহনের চালকরা ডেকে ডেকে যাত্রী তুলছেন বিভিন্ন গন্তব্যের। এরপর মহাসড়ক হয়েই এসব যানবাহন চলাচল করছে বিভিন্ন স্থানে। এই এলাকায় মহাসড়কের ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী দুটি লেনই অবৈধ তিন চাকার যানবাহনের দখলে। এ কারণে মহাসড়কের এই অংশে প্রায়ই যানজট লেগে থাকে, ঘটে দুর্ঘটনাও।

দাউদকান্দির গৌরীপুর এলাকার বাসিন্দা ওমর ফারুক বলেন, তিন চাকার যানবাহনের কারণে মহাসড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া মহাসড়কের দাউদকান্দি অংশের বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই যানজট লাগে। সামনের ঈদ যাত্রায় মহাসড়কে যাত্রীদের দুর্ভোগের অন্যতম কারণ হতে পারে এই তিন চাকার যান।

চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজার, সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজি, পদুয়ার বাজার, কুমিল্লা সদরের আলেখারচর বিশ্বরোড, সেনানিবাস এলাকা, বুড়িচংয়ের নিমসার, চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড, দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ, গৌরীপুর, বলদাখাল, শহীদনগর ,গজারিয়ার ভবেরচর এলাকায়ও অবাধে তিন চাকার যানবাহন চলাচল

করতে দেখা গেছে। এসব জায়গার বেশির ভাগ স্থানেই মহাসড়কের ওপরে সিএনজিচালিত অটোরিকশার অঘোষিত স্ট্যান্ড তৈরি করা হয়েছে।

কুমিল্লা-ঢাকা রুটে চলাচলকারী একটি পরিবহনের বাসচালক কবির হোসেন বলেন, অবৈধ এসব তিন চাকার যানবাহনের অনেক চালক আছে, তারা জানেই না কিভাবে মহাসড়কে গাড়ি চালাতে হয়। অনেক সময় তারা হুট করে দ্রুতগতির গাড়ির সামনে চলে আসে। যখন ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার গতিতে একটি বাস চলে তখন এসব নিষিদ্ধ যান হুট করে সামনে চলে এলে হার্ড ব্রেক করে গাড়ি থামাতেও বেকায়দায় পড়তে হয়। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। এখনই এগুলো বন্ধ করা না গেলে ঈদের সময় চরম সমস্যায় পড়তে হবে চালক ও যাত্রীদের।

গাজীপুরে তিন মহাসড়ক

ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-টাঙ্গাইল ও টঙ্গী-ঘোড়াশাল-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে নিত্য যানজট ও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তিন চাকার যানবাহন।

গতকাল শুক্রবার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী স্টেশন রোড পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে, শত শত ইজি বাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এসব যানবাহন সংযোগ সড়কে মুখে, বাসস্ট্যান্ডে, বাজারে এবং গুরুত্ব্বপূর্ণ স্থানে যখন-তখন থামার কারণে মহাসড়কে যানজট লেগেই আছে।

নগরীর গাজীপুরার একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে কথা হয় ইজি বাইকচালক লাল মিয়ার (৪৫) সঙ্গে। তিনি জানান, টঙ্গীর স্টেশন রোড থেকে বাসনের ভোগড়া চৌরাস্তা পর্যন্ত প্রতিদিন কমপক্ষে চার হাজার ইজি বাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করে। এ

বলেন, এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো শুরু করেছি। আগের চেয়ে হাইওয়ে পুলিশের বেশি সদস্য মহাসড়কে তৎপর রয়েছে। কোথাও এসব তিন চাকার যানবাহনকে মহাসড়কে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না। এ ছাড়া যেসব এলাকায় অবৈধ স্ট্যান্ড আছে, সেগুলো উচ্ছেদে আমাদের অভিযান চলবে। আশা করছি, মানুষ কোনো সমস্যা ছাড়াই এবারের ঈদ যাত্রায় ঘরে ফিরতে পারবে। 

জন্য তাঁদের প্রতিদিন স্টেশন রোডে ৫০ এবং বোর্ডবাজারে ৪০ টাকা চাঁদা দিতে হয়।

গাজীপুরা এলাকার বাসিন্দা একটি তৈরি পোশাক কারখানার উৎপাদন কর্মকর্তা আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, ইজি বাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশার চালকরা মহাসড়কে অত্যন্ত বেপরোয়া। তারা ট্রাফিক আইন-কানুনের ধার ধারে না। তাদের কারণে মহাসড়কে যানজট লেগেই থাকে। ১০ মিনিটের পথ যেতে এক ঘণ্টা লাগে।

একই অবস্থা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সালনা, পোড়াবাড়ী, মাস্টারবাড়ি, রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা, হোতাপাড়া, বাঘের বাজার ও মাওনা চৌরাস্তা এলাকায়। অবাধে মহাসড়কে চলছে নিষিদ্ধ ওই সব যানবাহন।  

কালিয়াকৈর পরিবহনের বাসচালক আবদুল লতিফ বলেন, গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তার নিত্য যানজটের অন্যতম কারণ এসব অবৈধ তিন চাকার যানবাহন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই মহাসড়ক

ঢাকা-সিলেট ও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের প্রায় ৭৪ কিলোমিটার অংশ রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। আশুগঞ্জ থেকে শুরু হয়ে বিজয়নগরের সাতবর্গ পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের প্রায় ৩৪ কিলোমিটার এবং বিশ্বরোড থেকে কসবার কুটি পর্যন্ত কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশার বেশ দাপট।

হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়ক দুটিতে বেশি দুর্ঘটনা ঘটার যে ১৩টি কারণ চিহ্নিত করেছে তার মধ্যে তিন চাকার যানের অবাধ চলাচল উল্লেখযোগ্য। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দুই মহাসড়কেই অবাধে তিন চাকার যানবাহন চলাচল করছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কাউতলী, বিশ্বরোড মোড়, আশুগঞ্জ গোলচত্বর এলাকায় মহাসড়কের ওপরেই অবৈধ সিএনজিচালিত অটোরিকশাস্ট্যান্ড। কাউতলীতে অবৈধ স্ট্যান্ডের কারণে একটি সেতু দিয়ে অন্য কোনো যানবাহন চলাচলই করতে পারে না।

বিশ্বরোড মোড়ে কথা হয়, কুমিল্লা ট্রান্সপোর্ট নামের একটি বাসের চালক দুলাল মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, অটোরিকশাগুলো যত্রতত্র ব্রেক কষে। যেখানে-সেখানে যাত্রী নামায়। এ কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটে যায়।

সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ওসি বলেন, মহাসড়কে তিন চাকার যান পুরোপুরি বন্ধ না হলেও নিয়ন্ত্রণে আছে। হাইওয়ে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালালেও লোকবলের সংকটে তিন চাকার যান পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বারবাড়িয়া থেকে আরিচা ঘাট পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার অংশ পড়েছে মানিকগঞ্জ জেলায়। গত দুই দিন এই এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অবাধে চলাচল করছে তিন চাকার ব্যাটারিচালিত ইজি বাইক, পায়ে ও ইঞ্জিনচালিত রিকশা, ভটভটি, টেম্পো, সিএনজিচালিত অটোরিকশা।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের টেপড়া বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন শিবালয় উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স। আজমত আলী এখানে একটি দপ্তরের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। তাঁর বাড়ি প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে মানিকনগর গ্রামে। তিনি জানান, গ্রাম থেকে অফিসে আসতে ইজি বাইক কিংবা মোটরচালিত রিকশা ছাড়া গতি নেই। প্রায় তিন কিলোমিটার ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক দিয়ে আসতে হয়। দুর্ঘটনার ভয় থাকলেও ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ধরেই তাঁকে নিয়মিত অফিস করতে হয়।   

আজমত আলীর মতো অনেককে নিয়েই মহাসড়কে এভাবে দাপিয়ে বেড়ায় তিন চাকার যানবাহন।   

মানিকগঞ্জের গোলড়া হাইওয়ে থানার ওসি বলেন, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে এখন পর্যন্ত তিন চাকার যান চলাচলের জন্য আলাদা লেন নির্মাণ করা হয়নি। নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এ কারণেই তিন চাকার যানবাহন মহাসড়কে ওঠে। এদের বিরুদ্ধে মামলা বা জরিমানা করেও ঠেকানো যাচ্ছে না।

 

 


আরও খবর

গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, দগ্ধ সাত

বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




হাইড্রোজেন হতে পারে ভবিষ্যতের জ্বালানি

প্রকাশিত:সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪ |

Image

জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে জ্বালানি হিসেবে হাইড্রোজেনের ব্যবহার নিয়ে নতুন উদ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। ৩৫০টির বেশি প্রকল্প চলমান রয়েছে হাইড্রোজেন নিয়ে। ২০৩০ সাল নাগাদ এই গ্যাসের পেছনে সর্বমোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াবে ৫০০ বিলিয়ন ডলারে।


হিন্ডেনবার্গ ট্র্যাজেডির পর থেকেই বিতর্কিত জ্বালানির খাতায় নাম লিখিয়েছে হাইড্রোজেন। ১৯৩৭ সালে হাইড্রোজেন গ্যাসে পূর্ণ উড়োজাহাজ হিন্ডেনবার্গের লেজে মাঝআকাশেরি আগুন ধরে যায়। তারপর মাত্র ৩৪ সেকেন্ডের মাথায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো উড়োজাহাজে। প্রাণে বাঁচেননি একজন যাত্রীও।

হাইড্রোজেনকে অনেকেই বলেন ভবিষ্যতের জ্বালানি। তাদের দাবি, গাড়ি চালাতে ও বাসাবাড়িতে এই গ্যাস ব্যবহারের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব। হাইড্রোজেন অর্থনীতি সংকটে থাকা জ্বালানি খাতকে উদ্ধার করতে পারবে বলে আশা তাদের।

হাইড্রোজেন-বিরোধীরা অবশ্য বলছেন, ১৯৭০-এর দশক থেকেই এই গ্যাসে বিনিয়োগ নিয়ে নানা ধরনের গবেষণা চলছে। কিন্তু হাইড্রোজেন গ্যাসের খামতির কারণে কোনো গবেষণাই হালে পানি পায়নি। 

 তবে  হাইড্রোজেন প্রযুক্তি বর্তমান কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ ২০৫০ সালের মধ্যে শতাংশ কমিয়ে আনতে পারবে। পরিমাণে কম হলেও বর্তমান বাস্তবতায় এইটুকু কার্বন নিঃসরণ কমানোও যথেষ্ট গুরুত্ব রাখে। 

তেল-কয়লার মতো জ্বালানির প্রধান উৎস নয় হাইড্রোজেন। এটি মূলত শক্তিবাহক, অনেকটাই বিদ্যুতের মতো। ব্যাটারির মতো সংরক্ষণের মাধ্যম উৎপাদন করতে হয়। নবায়নযোগ্য ও পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করে পানি থেকে হাইড্রোজেনকে আলাদা করা হয়। এই প্রক্রিয়াটি বেশ ব্যয়বহুল, তবে এর খরচ দিন দিন কমে আসছে। 

অপরিচ্ছন্ন জীবাশ্ম জ্বালানি থেকেও হাইড্রোজেন তৈরি করা যায়। তবে প্রযুক্তির সাহায্যে কার্বন আলাদা করে না ফেললে এতে প্রচুর দূষণ হয়। হাইড্রোজেন অনেক জ্বালানির তুলনায় তুলনামূলক বেশি দাহ্য এবং ভারী। থার্মোডায়নামিকসের সূত্রানুসারে, প্রাথমিক জ্বালানিকে হাইড্রোজেনে এবং তারপর হাইড্রোজেনকে ব্যবহারযোগ্য শক্তিতে রূপান্তরিত করতে প্রচুর অপচয় হয়।

১৯৭০-এর দশকে হাইড্রোজেন প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে অনেকগুলো গবেষণা হয়েছে। কিন্তু কোনোটাই বেশিদূর আগায়নি। আশির দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন একটি হাইড্রোজেনচালিত যাত্রীবাহী জেট উড়িয়েছিল কিন্তু প্রথম ফ্লাইট উড়তে পেরেছে মাত্র ২১ মিনিট।

তবে জলবায়ু পরিবর্তনের এই কালে জ্বালানি হিসেবে হাইড্রোজেনের ব্যবহার নিয়ে নতুন উদ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। ৩৫০টির বেশি প্রকল্প চলমান রয়েছে হাইড্রোজেন নিয়ে। ২০৩০ সাল নাগাদ এই গ্যাসের পেছনে সর্বমোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াবে ৫০০ বিলিয়ন ডলারে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৫০ সাল নাগাদ বছরে ৬০০ বিলিয়ন ডলারের হাইড্রোজেন বিক্রি হতে পারে। বর্তমানে বছরে ১৫০ বিলিয়ন ডলারের হাইড্রোজেন বিক্রি হয়। 

এখন প্রধানত সার তৈরিসহ বিভিন্ন শিল্পে এ গ্যাসের ব্যবহার হয়। ভারত শিগগিরই হাইড্রোজেনের জন্য নিলামের আয়োজন করবে। চিলি সরকারি জমিতে হাইড্রোজেন উৎপাদনের জন্য টেন্ডার ডেকেছে। ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ ১২টির বেশি দেশে জাতীয় হাইড্রোজেন প্ল্যান্ট রয়েছে।

তবে এত উত্তেজনার মধ্যে হাইড্রোজেন কী করতে পারে এবং কী করতে পারে না, তা স্পষ্টভাবে জেনে নেওয়া দরকার। জাপানি ও কোরিয়ান প্রতিষ্ঠানগুলো হাইড্রোজেনচালিত গাড়ি বিক্রি করতে আগ্রহী। কিন্তু মুশকিল হলো, ব্যাটারিচালিত গাড়ি প্রায় দ্বিগুণ জ্বালানিসাশ্রয়ী। কিছু ইউরোপীয় দেশ বাসাবাড়িতে পাইপের মাধ্যমে হাইড্রোজেন সরবরাহের আশা করছে। কিন্তু হিট পাম্প অনেক বেশি কার্যকর। এছাড়াও কিছু কিছু পাইপ দিয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস নিরাপদে সরবরাহ করা সম্ভব না। কিছু বড় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান এবং তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসনির্ভর রাষ্ট্র সহ-উৎপাদ কার্বন ঠিকমতো ধরে না রেখেই হাইড্রোজেন তৈরি করতে চায়। কিন্তু তাতে কার্বন নিঃসরণ কমবে না।

তবে হাইড্রোজেন বিশেষায়িত বাজারগুলোকে সাহায্য করতে পারে। বিশেষ করে জটিল রাসায়নিক প্রক্রিয়া ও অতি উচ্চ তাপমাত্রা প্রয়োজন হয় যেসব শিল্পে, সেগুলোতে এই গ্যাস বড় ভূমিকা রাখতে পারবে। বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের ৮ শতাংশের জন্য দায়ী ইস্পাত শিল্প। এই শিল্পে কাজ করতে হয় কয়লা পুড়িয়ে। বায়ুশক্তি দিয়ে কয়লাকে প্রতিস্থাপন করা না গেলেও হাইড্রোজেন দিয়ে করা যাবে। গত আগস্টে হাইড্রোজেন জ্বালানি দিয়ে তৈরি বিশ্বের প্রথম সবুজ ইস্পাত বিক্রি করেছে সুইডিশ প্রতিষ্ঠান হাইব্রিট।