Logo
শিরোনাম

পরাজয় মানুষকে আপন-পর চেনাতে শেখায়

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৪ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

শিক্ষাবিদ  অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী.. ঃ

মানুষ খুব বিস্ময়কর। তার থেকে বড় বিস্ময়কর হলো মানুষকে বোঝা। মানুষ কেবল জিততেই চায়, হারতে চায় না। কে-কিভাবে-কখন-কাকে পা ধরে টেনে নামিয়ে নিজে উপরে উঠবে- এ নিয়ে মানুষের চিন্তার শেষ নেই। জিততে হলে যে হারতে হয় মানুষ তা বুঝতে পারে না। এক একটা পরাজয়ের পিছনে এক একটা জয় লুকিয়ে থাকে। মানুষের মধ্যে সে চেতনাবোধ হারিয়ে যায়। মানুষ এতটাই জেতার নেশায় বুদ হয়ে থাকে যে তার ভিতরের সম্ভাবনাময় শক্তিগুলো ক্রমশ লোপ পেতে থাকে। 

পরাজয় মানুষকে আপন-পর চেনাতে শেখায়। পরাজয় মানুষকে বন্ধু-শত্রু চিনিয়ে দেয়। অদৃশ্য কুশীলবদের পর্দার পিছন থেকে টেনে বের করে সামনে নিয়ে আসে। পরাজয় থেকে মানুষ শিক্ষা নেয়। সে শিক্ষা মানুষকে নতুন করে ভাবতে শেখায় ও পরবর্তী পরিকল্পনা এবং কৌশল নিতে সহায়তা করে। এক একটা পরাজয় এক একটা নতুন অভিজ্ঞতার জন্ম দেয়। সে অভিজ্ঞতা মানুষের শক্তি হয়। মানুষের মধ্যে এক অলৌকিক শক্তি তৈরি করে। 

মানুষের খেলার পিছনের খেলা, তারও পিছনের খেলার হাতগুলো দেখতে পায়। মুখোশের ভিতরের মুখটা তখন কঠিন সত্য হয়ে বেরিয়ে আসে। সে মুখ মানুষের মুখ নয়। কোন এক বিশ্বাসঘাতক বুনো বিড়ালের মুখ হয়। 

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী এ পি জে আব্দুল কালাম বলেছেন, সফলতার গল্প পড়ো না, কারণ তা থেকে তুমি শুধু গল্পটাই পাবে। ব্যর্থতার গল্প পড়ো, তাহলে সফল হওয়ার কিছু উপায় পাবে। এই মহামূল্যবান বাণীটি কতজন উপলব্ধি করার ক্ষমতা রাখে- তা কে জানে। হয়তো সবাই, কিন্তু অভিনয়টাই যে এখন মানুষের কাছে মুখ্য হয়ে উঠেছে। রঙ্গমঞ্চে এভাবে প্রতিদিন মানুষের আত্মার মৃত্যু ঘটছে। আর দেহটা সে মৃত্যুর ভার গ্রহণ করতে করতে একসময় ক্লান্ত হয়ে পড়ছে হয়তোবা। মানুষ যখন পরাজিত হয় তখন সুসময়ের মানুষেরা তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। 

এভাবে পরাজয় মানুষের মধ্যে একাকীত্বের অভিজ্ঞতা তৈরি করে | এই একাকীত্ব মানুষের দৃষ্টির গভীরতা বাড়ায়। এই সময়টাতে মানুষ অকৃতজ্ঞ মানুষদের চিনতে পারে। মানুষ সব সময় জয় আর সফলতার পূজারী হয়। কিন্তু সে জয় আর সফলতা কতটা সার্থক সেটা কখনো বিবেচনায় আনে না। এর  ফলে ব্যক্তির চেয়ে জয় মানুষের কাছে বেশি প্রাধান্য পায়। এভাবে জয়ে আসক্ত মানুষেরা নিজেদের ব্যক্তিত্বের বিনাশ ঘটায়। কখনো নিজেরা শক্ত মেরুদণ্ড নিয়ে দাঁড়াতে পারে না। এটাকে মানুষের প্যারাসাইট বা পরজীবী চরিত্র বলা যেতে পারে। জীবনানন্দের অদ্ভুত আঁধার এক কবিতাটির কথা মনে পড়ে গেলো। 

তিনি বলেছেন, 

অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ-পৃথিবীতে আজ,যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দ্যাখে তারা;যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই – প্রীতি নেই – করুণার আলোড়ন নেই

পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া।যাদের গভীর আস্থা আছে আজো মানুষের প্রতি

এখনো যাদের কাছে স্বাভাবিক ব’লে মনে হয়

মহত্ সত্য বা রীতি, কিংবা শিল্প অথবা সাধনা শকুন ও শেয়ালের খাদ্য আজ তাদের হৃদয়।

কবিতাটি সে মানুষদের চেনাচ্ছে যারা নিজেদের স্বার্থে পরাজয়কে মানতে না পেরে জয়ের অনিশ্চিত গন্তব্যে পাড়ি জমিয়েছে। হয়তো তারা এটাকে জয় ভাবছে, কিন্তু মিছেমিছি এই জয় তাদের কপালে প্রতিদিন পরাজয়ের কলঙ্ক এঁকে দিচ্ছে। জয়ের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে সুবিধাবাদী পরাজিত মানুষেরা। যাদের কোনো নিজেদের বিচার বিবেচনার শক্তি নেই। 

তবুও এতো সব আঁধারের মাঝে আশার বাণী কান পেতে শুনতে হয়। নিজের মুখের ভিতরের মুখ দেখতে হয়। আর্নেস্ট হেমিংওয়ে তার  দিওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সী উপন্যাসে বলেছেন, ‘মানুষ পরাজিত হওয়ার জন্য তৈরি হয়নি। মানুষকে ধ্বংস করা যায় কিন্তু পরাজিত করা যায় না।’ মানুষ কখনো পরাজিত হয় না। মানুষকে পরাজিত করার চেষ্টা  হয়তো চলে। ছদ্মবেশে কিংবা প্রকাশ্যে। যারা এই চেষ্টাটা চালায় তারা জয়কে ভয় পায়। নিজেরা পরাজিত হয়, সেটা বুঝতে না পেরে অন্যের পরাজয়ের উৎসবে মেতে উঠে। 

জয় ঠেকাতে মানুষকে খুন করে যারা জয়ের আনন্দে মেতে উঠে তারা নিজেরা পরাজিত হয়। কখনো নিজের কাছে, কখনো বিবেকের  কাছে, কখনো সময় আর প্রকৃতির কাছে। একটা প্রবাদবাক্য আছে ‘মিথ্যা তখনই জিতে যায় যখন সত্যি বলা লোক গুলো চুপ থাকে।’ কথাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক মানুষ সত্যকে বুকে চেপে নিরপেক্ষতা ও সুবিধাবাদিতার আশ্রয় নেয় বলে অনেক সময় মিথ্যার জয়টা মানুষ দেখে কিন্তু পরাজিত সত্য জানে যা মানুষ জয় দেখছে তা একধরণের দীর্ঘমেয়াদের পরাজয়। 

সত্য কখনো ঘুমিয়ে থাকেনা। মিথ্যার জয়ে সত্য সাময়িক লজ্জিত হয়, অভিমান করে কিন্তু ভেঙে পড়েনা। একটা কথা সময় মনে রাখা দরকার তা হলো অনেক পরাজয়ে ত্যাগ থাকে আবার অনেক জয়ে স্বার্থ থাকে। তবে ত্যাগ কখনো স্বার্থের চেয়ে বড় হতে পারেনা। প্রতিটা জয় কতটা অর্থ থেকে প্রভাবমুক্ত তাও ভেবে দেখা দরকার। 

অবৈধ অর্থ আর সম্পদের কাছে জয় যখন পরাজিত হয় তখন তিলে তিলে গড়ে উঠা স্বপ্নের মৃত্যু হয়। এ মৃত্যু মানুষের মৃত্যু নয়- এ মৃত্যু সভ্যতার, এ মৃত্যু একবিন্দু আবেগের। তারপরও মাঝ রাস্তায় এসে চিৎকার করে একজন নিখুঁত মানুষ এসে চিৎকার করে বলে উঠুক, জয় হোক মানুষের,  .পরাজয় ঘটুক অমানুষদের। ঘুরে দাঁড়াক মানুষ।

 ঘুরে দাঁড়াক সময়। আর বলে উঠুক আবেগের মন, শেকড়ের ছন্দপতন, সব সময় জিততে যেওনা, মাঝে মঝে হারতে হয়। তুমি হারলে মানুষ বুঝবে তুমি তাদের জন্য কত মূল্যবান ছিলে। তুমি নিজে হেরে অন্যকে জিতিয়ে দাও। এই পরাজয়ে গ্লানি নেই, মহাত্যাগ, মহত্ব ও মর্মবাণী আছে। মনে রেখো সব পরাজয়, পরাজয় নয়।


আরও খবর



পুলিশের পক্ষে বললেন খামেনি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইরানের বিক্ষোভের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ি করলেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ১৬ই সেপ্টেম্বর পুলিশি হেফাজতে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর প্রথমবারের মতো সোমবার, এ বিষয়ে বক্তব্য দিলেন খামেনি।

চলমান বিক্ষোভকে পরিকল্পিত দাঙ্গা বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন ইরানের অগ্রগতি থামাতেই দেশ দুটির এ চেষ্টা। এসময় নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ নিয়ে চলমান বিক্ষোভ দমনে সামনের দিনগুলোতে তারা আরও কঠোর হবে বলে আভাস দেন তিনি। খামেনি, ২২ বছর বয়সি মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে এ ঘটনাকে ইরানের শত্রুদের প্ররোচনায় তিক্ত একটি ঘটনা বলে মন্তব্য করেন। বলেন, যারা পুলিশকে আক্রমণ করছে তারা ঠগ, ডাকাত ও দুষ্কৃতিকারীদের কাছে নাগরিকদের অরক্ষিত করে ফেলছে


আরও খবর



হিমাচলে পর্যটকবাহী গাড়ি খাদে পড়ে নিহত ৭

প্রকাশিত:সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২ |
Image

পর্যটকদের নিয়ে খাদে পড়ে খানখান হয়ে গেল গাড়ি। হিমাচল প্রদেশের কুলু জেলায় রোববার রাতের এই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে সাত পর্যটকের। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।

জানা গেছে, রোববার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ কুলু জেলার বানজার এলাকায় ৩০৫ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে এগোচ্ছিল পর্যটকবাহী ওই গাড়িটি। রাতের অন্ধকারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায় গাড়িটি। গভীর খাদে পাথরের ওপর আছড়ে পড়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় গাড়িটি।

স্থানীয়রাই প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় হাসপাতালে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর পাঁচ জনকে কুলু হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বাকি পাঁচ জনের চিকিৎসা চলছে বানজার হাসপাতালেই। তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, মৃতরা রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা এবং দিল্লির বাসিন্দা। কুলুতে তারা সকলেই ঘুরতে এসেছিলেন।

কুলুর জেলা প্রশাসক আশুতোষ গর্গ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনা কবলিত গাড়িটিতে চালক-সহ মোট ১৭ জন ছিলেন। কিন্তু কীভাবে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পাহাড়ি রাস্তায় খাদের ধার দিয়ে গাড়ি চালানোর সময় চালকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়। এ ব্যাপারে প্রশাসনের তরফেও গাড়ির মালিক এবং চালকদের সচেতন করা হয়ে থাকে। তবু দুর্ঘটনা এড়ানো যাচ্ছে না কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।


সূত্র- এনডিটিভি।


আরও খবর

চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল ঘোষণা

মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২




তিনবিঘা সীমান্ত দিয়ে লাশ হস্তান্তর

প্রকাশিত:বুধবার ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

নিজস্ব প্রতিবেদক লালমনিরহাট ;

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নে চলাচলে ভারত নিয়ন্ত্রিত একমাত্র সড়ক তিনবিঘা করিডর দিয়ে ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। বাংলাদেশ-ভারতের পুলিশ ও সীমান্তরক্ষীদের উপস্থিতিতে ৬ সেপ্টেম্বর মঙলবার রাত ৮ টা ২০ মিনিটে নিকট আত্মীয়ের কাছে লাশটি দেওয়া হয়।

পুলিশ জানায়, গত এক সপ্তাহ আগে (৩১ আগস্ট) সকাল ৮ টায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরের লালমনিরহাট সদর উপজেলার তিস্তা সেতুর প্রায় ৫ শ মিটার দূরে নদী ও চর অংশে আটকে থাকা অবস্থায় অজ্ঞাত যুবকের লাশ (২২) ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ও সদর হাসপাতালের মর্গে রাখে। অপরদিকে ভারতের কুচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানায় যুবক হারানোর সাধারণ ডায়েরী করে একটি পরিবার। ভারতীয় মেখলিগঞ্জ থানার পুলিশ তিস্তা নদীর বাংলাদেশ অংশে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধারের সংবাদ জানতে পারে। পরবর্তীতে বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়ন ও বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স ৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সহায়তায় উভয় দেশের পুলিশ উদ্ধারকৃত মরদেহের ছবি, হারানো ডায়েরীর তথ্য/পরিচয় আদান প্রদান করে। এতে ভারতীয় পুলিশ হারিয়ে যাওয়া যুবকের নিকট আত্মীদেরকে ছবি দেখিয়ে নিশ্চিত হয় বাংলাদেশে তিস্তা নদী হতে উদ্ধারকৃত মরদেহের যুবক ভারতীয় নাগরিক শিবনাথ দাস (২২)। তাঁর বাবার নাম মৃত নারায়ন দাস। বাড়ি ভারতের কুচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানার ওয়েস্ট বাংলা এলাকায়।


আরও খবর



ছাত্রলীগের কার্যকলাপ নিয়ে সমালোচনা

প্রকাশিত:শুক্রবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

রোকসানা মনোয়ার :  ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের কার্যকলাপ নিয়ে যে সমালোচনা ও বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। অভ্যন্তরীণ কোন্দল, কমিটি বাণিজ্য, হল দখল, সিট বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি, শিক্ষক লাঞ্ছনা, প্রশ্ন ফাঁসসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শাখা কমিটির নেতাদের বিরুদ্ধে। এর জন্য ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতার অদক্ষতাকে দায়ী করছে খোদ সংগঠনেরই একাংশ।

ছাত্রলীগ নেতাদের এমন কর্মকাণ্ডে বিব্রত হচ্ছে ছাত্রলীগের অভিভাবক আওয়ামী লীগ হাইকমান্ড। এজন্য অবিলম্বে সম্মেলন দাবি এবং বর্তমান কমিটির শীর্ষপর্যায়ের নেতাদের বিতর্কিত কর্মকা-ের জন্য বিচারের দাবিও করছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বড় একটি অংশ।

সংগঠনের সূত্র বলছে, ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের স্বেচ্ছাচারিতায় ক্ষুব্ধ কমিটির অনেক নেতা। অন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই ‘জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক’ লিখে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিচ্ছেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এতে ঠিকমতো মূল্যায়ন না পাওয়ায় কেন্দ্রীয় কমিটির অনেক নেতাই ক্ষুব্ধ।

সংগঠনের  সহসভাপতি সৈয়দ আরিফ হোসেন বলেন, ‘আমাদের সুনির্দিষ্ট একটি গঠনতন্ত্র রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সেই গঠনতন্ত্র মেনে চলছেন না। তারা ছাত্রলীগকে নিজেদের বলয় কাজে ব্যবহার করছেন। যেটা সংগঠনের জন্য অশোভনীয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘সম্মেলন দেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা বর্তমান সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে বারবার অবহিত করার পরও তারা আমাদের কথায় পাত্তা দিচ্ছেন না। নেতৃত্ব বিকাশের পথ যেভাবে নষ্ট হচ্ছে অবিলম্বে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতা নির্বাচন করা প্রয়োজন। এভাব একটা সংগঠন চলতে পারে না। নেত্রী (প্রধানমন্ত্রী) দেশে ফিরলে আশা করি কার্যত পদক্ষেপ নেবেন।

শুধু বর্তমান কমিটির নেতারাই নন, সাবেক ছাত্রনেতারা জয়-লেখকের কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ। তারা বলছেন, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে এ থেকে সংগঠনের উত্তরণের কোনো পথ নেই। বিতর্কিত যেই হোক লাগাম টেনে ধরতে হবে। 

সম্প্রতি ইডেন কলেজের ছাত্রলীগ নেত্রীদের দুই গ্রুপের কর্মকাণ্ডে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ইডেনের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা ও সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। এতে রিভার বিরুদ্ধে দুই ছাত্রীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ভাইরাল করার হুমকি, ছাত্রলীগের মিছিল-মিটিংয়ে শিক্ষার্থীদের জোর করে নিয়ে যাওয়া, সিট বাণিজ্য, ক্যান্টিন থেকে চাঁদা দাবি ইত্যাদি অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া হলের ছাত্রীদের কটূক্তি ও অশালীন বক্তব্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। শুধু অশালীন বক্তব্যই নয়, নিজেদের মধ্যে চুলোচুলি ও সংঘর্ষে লিপ্ত হন ইডেন ছাত্রলীগ নেত্রীরা। এনিয়ে ইডেনে ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করা হয়েছ এবং ১৬ জন নেত্রীকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃতরা এই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ। তারা বলছেন, বর্তমানে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জয়-লেখকের নিজেদেরই মেয়াদ নেই। তারা বহিষ্কারের অধিকারও হারিয়েছেন।

শুধু ইডেন কলেজ নয়, দেশজুড়ে বেশ কিছু শাখা কমিটিতে এক ধরনের অস্থিরতা দেখা যায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে। 

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বরাবরের মতোই নিজেদের পক্ষে সাফাইগান। তিনি বলেন, একটি পক্ষ বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে বিতর্কিত করতে লেগেই থাকে। তাদের ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যে থাকতে পারে।


আরও খবর

পুলিশের পক্ষে বললেন খামেনি

মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২




গ্যাস সংকট কাটাতে নতুন উদ্যোগ

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

দেশে প্রকট হয়ে উঠেছে জ্বালানি সংকট। বিশ্লেষকরা বলছেন, এলএনজি আমদানিতে অর্থনীতির ওপর যে চাপ পড়ছে, তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। ইতোমধ্যে দেশে ডলার সংকটের জন্য একটি বড় কারণ হিসেবে জ্বালানির আমদানি বৃদ্ধিকে দায়ী করছেন অনেকে। এই অবস্থায় গ্যাস সংকট কাটাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য ৪৬টি কূপ খনন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী সাড়ে তিন বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এই কূপগুলো খনন হলে মিলবে ৬২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এতে এলএনজি আমদানি কমানো সম্ভব হবে। এ ছাড়া সমুদ্রসীমায় নতুন খনি আবিষ্কার হলেও জ্বালানির দীর্ঘমেয়াদি সংকটের সমাধান হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা ৪৬টি নতুন কূপ খনন করার পরিকল্পনা করেছি। আগামী সাড়ে তিন বছরে অর্থাৎ ২০২৫ সালের মধ্যে এই কূপগুলো খনন করা হবে। কূপগুলোর খননকাজ শেষ হলে প্রতিদিন ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করছি।

বর্তমানে দেশে দৈনিক ২৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এরমধ্যে ২৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আসছে দেশি উৎস থেকে। দেশি তিনটি কোম্পানি ৮৪৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে। বাকিটা দিচ্ছে বহুজাতিক দুই কোম্পানি শেভরন এবং তাল্লো।

সূত্র জানায়, আগামী শীতে পশ্চিমা দেশগুলোতে ঠান্ডার প্রকোপে বিশ্ববাজারে জ্বালানি আরো এক দফা উচ্চমূল্যের দিকে ছুটতে পারে। তবে শীতের মৌসুমে দেশে গ্যাসের চাহিদা কম থাকায় আন্তর্জাতিক সেই সংকট খুব একটা প্রভাব ফেলবে না।

এ অবস্থায় ৪৬ কূপের মধ্যে বর্তমানে শ্রীকাইলে একটি কূপে খননকাজ চলছে জানিয়ে পেট্রোবাংলা বলছে, এই কূপের খননকাজ পরিদর্শনের জন্য শিগগিরই ওই এলাকায় যাবেন জ্বালানি সচিব, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এর বাইরে এখন ওয়ার্কওভারের কাজ চলছে বিয়ানিবাজার-১ এবং ভোলার টবগিতে। এ ছাড়া শিগগিরই শরীয়তপুর-১ কূপের কাজ শুরু করা হবে। ভোলায় কয়েকটি কূপ খনন করা হবে।


আরও খবর

শিগগিরই বাড়ছে বিদ্যুতের দাম

মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২