Logo
শিরোনাম
মেঘনা নদীতে গোসল করার সময় নিখোঁজ ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার রাজবাড়ীতে ট্রাকের সাথে সংঘর্ষে মোটর সাইকেল আরোহীর মৃত্যু রাজবাড়ীতে আবৃত্তি ও কথামালায় প্রকাশনা উৎসব নওগাঁয় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় স্কুল ছাত্র নিহত-মা ও ছোট বোন আহত মোরেলগঞ্জে শ্রমীকদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করলেন এমপি মিলন লালমনিরহাটে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে মারাগেছে স্কুলছাত্র নওগাঁয় বোরো ধান চাষের শুরুতেই বিদ্যুতের লোড শেডিং, দুঃশ্চিন্তায় কৃষকরা নওগাঁয় ৩৫ কোটি টাকা মূল্যের কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার করেছে পুলিশ কুড়িগ্রামের শীতকাতর অসহায় মানুষের পাশে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেত্রকোনায় বিশ্ব জলাভূমি দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন

সমাজ বদলাতে চরিত্রের পরিবর্তন প্রয়োজন

প্রকাশিত:Wednesday ০৯ November ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ০৩ February ২০২৩ |
Image

মাজহারুল ইসলাম মাসুম, সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক, গবেষক :

প্রতিদিন শিশু, বৃদ্ধা পর্যন্ত ধর্ষিত হচ্ছে। শিক্ষক, পেশাজীবী সব শ্রেণির মানুষ প্রায় সময় দেখা যাচ্ছে ধর্ষণে জড়িত। ইদানীং মাদরাসা অধ্যক্ষ, শিক্ষককে দেখা যাচ্ছে বেশি ধর্ষণে জড়িত হতে। অথচ মাদরাসা শিক্ষক হচ্ছে ইসলামি শিক্ষার গুরু।

সমাজে ভালো কাজের উপদেশ, ধর্মীয় শিক্ষা, ধর্মীয় জ্ঞান মাদরাসা শিক্ষকরা যুগ যুগ ধরে দিয়ে আসছেন। কলেজ, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের ঘৃণ্য খারাপ কাজে নিয়োজিত হতে প্রায় পত্রিকায় খবরে প্রকাশ পাচ্ছে। ধর্ষণ এই চিত্র আজকাল বেশি বেশি প্রকাশ পাচ্ছে। কিন্তু অনেকে বলেন, ধর্ষণ আগেও সমাজে ছিল। তখন নারী সমাজ প্রতিবাদ করত না, তা প্রকাশ পেতও না। তখন নারী সমাজ শিক্ষিত, প্রতিবাদ শিখেছে। তাদের সাহস হয়েছে। তাই ঘটনা খবরের কাগজের খবর হয়ে প্রতিনিয়ত বের হচ্ছে।
অনেকে বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি রয়েছে। ঘটনা ঘটছে। তা ওইসব দেশে তেমন প্রকাশ পায় না। কিন্তু আমাদের দেশে প্রকাশ বেশি। কিন্তু প্রতিবেশী দেশ ভারতেও যৌন হয়রানি, ধর্ষণ ঘটনা বেশ ঘটছে। প্রকাশও পাচ্ছে। নারী জাতিকে স ষ্টা অনেক বেশি সম্মান, মান-মর্যাদা ও অধিকার দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু আমরা কি সেই সম্মান রক্ষা করে চলতে পারছি। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোয় নারীকে সম্মান অধিকার দিয়ে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে। নারী-পুরুষের কোনো ভেদাভেদ উন্নত দেশগুলোয় এখন নেই। শুধু অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে নারী এখনও অবহেলিত।
একসময় আমাদের দেশে নারীদের এসিড মেরে আহত করার বেশ প্রচলন হয়েছিল। প্রতিদিন যুবকরা কিছু কিছু নারীকে যৌন হয়রানি করত। প্রেমের ভ্রান্ত দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হলে তখন এসিড মেরে ওই নারীকে আহত করত। এখন বেশ কম দেখা যায় এসিড নিক্ষেপ। কেন এসিড নিক্ষেপ কমল। কী কারণ রয়েছে এর পেছনে। সমাজ বিজ্ঞানীরা তখনও এ বিষয়ে গবেষণা প্রকাশ করেননি। নিশ্চয় এসিড নিক্ষেপ কমে যাওয়ার পেছনে যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
এখনও আমাদের সমাজে অনিয়ম, অন্যায়, আইন অমান্য, ঘুষ, দুর্নীতি নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় প্রতিদিন অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্যের নানা খবর দেশে আসছে। বর্তমান সরকারও এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে বেশ সোচ্চার। দুর্নীতি দমন কমিশনও এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে সক্রিয়। বেশ কিছু মামলা হয়েছে। অনেক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। নতুন নতুন অনুসন্ধান চলেছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে। পত্রপত্রিকায়ও প্রকাশ পাচ্ছে। সরকারও বেশ কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে বলে ঘোষণা দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি বেশ কম হচ্ছে। কেন এ অবস্থার সৃষ্টি হলো। কিংবা আমাদের উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।
বাংলাদেশি বিপুলসংখ্যক ধনী ব্যক্তি সুইস ব্যাংকে প্রচুর অর্থ জমা রেখেছেন। ব্যাংকে অর্থ কীভাবে জমা হয়েছে, তা নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। শুধু যে বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার হয়েছে তা নাও হতে পারে। এই অর্থ বিদেশে উপার্জিত অর্থ থেকেজমাও হতে পারে। শুধু যে পাচারের টাকা জমা হয়েছে তা নয়।

কেন এসব ঘটছে :

 আমরা এগিয়ে চলেছি। আমাদের চরম উন্নতি হচ্ছে বলে আমাদের রাষ্ট্রীয় ঘোষণা রয়েছে। রাষ্ট্র এগিয়ে চলেছে। কিন্তু জনগণ তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে যেন বারবার হোঁচট খাচ্ছে। চলতি বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষা-দীক্ষা ও উন্নয়নে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এরই পাশাপাশি দেশের সমাজব্যবস্থায় বিভিন্ন কারণে বাড়ছে অস্থিরতা, বাড়ছে অপরাধপ্রবণতা, বাড়ছে হতাহতের ঘটনা।
খবরের কাগজ উল্টালেই চোখে পড়ছে ধর্ষণ, আত্মহত্যা, খুন, শিশু নির্যাতন, সন্ত্রাসবাদ, মাদক, মারামারি আর হানাহানির খবর। সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ মূল্যবোধ তথা মানুষগুলোর নৈতিক অবক্ষয়। পাশাপাশি পারিবারিক বন্ধন ঢিলে হয়ে যাওয়া এবং অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে যাওয়ার
বিষয়টিও উল্লেখযোগ্য।


বাড়ছে পারিবারিক কলহ: পরিবার আমাদের সমাজব্যবস্থার অন্যতম মূল ভিত্তি। এ সময়টায় বিভিন্ন কারণে পারিবারিক কলহের ঘটনা বেড়ে গেছে। বেড়ে গেছে পরিবারের এক সদস্যের হাতে আরেক সদস্যের খুন হওয়ার ঘটনা। স্বামী-স্ত্রীর কলহের জেরে প্রাণ দিতে হচ্ছে নিষ্পাপ শিশুদের।

পারিবারিক কলহের কারণে পরিবারের সবাই একসঙ্গে আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটছে। মানুষ এখন শুধু ঘরের বাইরেই নয়, তার আপনজনদের কাছেও নিরাপদ নয়। বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ বিভাগের তথ্যানুযায়ী বছরে মোট হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪০ শতাংশ সংঘটিত হচ্ছে পারিবারিক কলহের কারণে।


অপরাধ বিশ্লেষক তৌহিদুল হক বলছেন
: অভাব-অনটন, অর্থের প্রতি প্রবল দুর্বলতা, চাওয়া-পাওয়ার অসংগতির কারণে দাম্পত্য কলহ ও স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের প্রতি বিশ্বাসহীনতা, নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অস্থিরতা, অন্য দেশের সংস্কৃতির আগ্রাসন, স্বল্প সময়ে ধনী হওয়ার আকাক্ষা, বিষন্নতা ও মাদকাসক্তিসহ বিভিন্ন কারণে সামাজিক অশান্তি বাড়ছে। পুলিশ সদর দফতর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য মতে, দেশে প্রতিদিন গড়ে খুন হচ্ছে ১৪ থেকে ১৫ জন। আর এর অধিকাংশই পারিবারিক ও সামাজিক অস্থিরতার কারণে।


মনোবিজ্ঞানী মোহিত কামাল জানান
: সমাজে কেউ অপরাধী হয়ে জন্ম নেন না। মানুষ অপরাধী হয়ে ওঠে পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে। বেশিরভাগ সময়ে সে পরিবেশ তার কাছের মানুষরাই তৈরি করে দেয়। কখনও কখনও সমাজে মানুষদের আচরণ, অসহযোগিতার কারণে পরিবারে, সমাজে দ্বন্দ্ব সংঘাতের মাত্রা বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে মানসিক যন্ত্রণা বা মনোকষ্টে ভুগলে এসব হতে পারে। এ জন্য কাউন্সিলিং দরকার। প্রত্যেককে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে।


একাকিত্ব থেকে অশান্তি: একাকিত্ব মানসিক বিষন্নতা সৃষ্টির অনেক বড় একটা কারণ। অনেক সংসারেই স্বামীরা বুঝতে পারেন না তার কাজের ব্যস্ততার কারণে স্ত্রীকে একদম সময় দেওয়া হচ্ছে না। এ জন্য অফিসে গেলে মাঝে মধ্যে স্ত্রীকে ফোন দিতে হবে। মাঝে মধ্যে কী করছে না করছে সেটির খোঁজ নিতে হবে।

অফিস থেকে আসতে দেরি হলে বাসায় জানাতে হবে। নিজের ব্যস্ততার বিষয়টি স্ত্রীকে বোঝাতে হবে। আবার স্ত্রীকেও স্বামীর ব্যস্ততা বুঝতে হবে। ব্যস্ততার মাঝেও সপ্তাহে অন্তত একটা দিন স্ত্রীকে নিয়ে বিনোদনের জন্য পার্ক বা দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে যাওয়া, সিনেমা দেখা, রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। কোনো কারণে স্ত্রী যদি বুঝতে পারে তার স্বামী তাকে যথেষ্ট সময় দিচ্ছেন না, তাহলে তাদের মধ্যে দূরত্বের সৃষ্টিই হবে। একাকিত্বের ফাঁদে পড়ে মেয়েরা অনৈতিক কোনো সম্পর্ক বা মানসিক রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।


দাম্পত্য জীবনে অতৃপ্তি: বিয়ে বা সাংসারিক জীবনে কোনোভাবেই যৌনতাকে বাদ দেওয়া যাবে না। বরং যৌনতাকে ঘিরেই দাম্পত্য জীবনে গতি আসে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, কোনো সংসারে অভাব-অনটন থাকলে যতটা অশান্তি হবে তার চেয়ে ভয়াবহ অশান্তি হবে যদি কোনো দম্পতির যৌনজীবন সুখের না হয়। পরকীয়া বা বিবাহ বিচ্ছেদের সবচেয়ে আদিম কারণ শারীরিক চাহিদা অপূর্ণ থাকা।
 স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি, হতাশা বা দূরত্ব বাড়ার অন্যতম একটি কারণ হলো শারীরিক চাহিদা অপূর্ণ থাকা। আমাদের দেশের অধিকাংশ ছেলে জানে না, একটা মেয়েকে কীভাবে শারীরিকভাবে সুখী করতে হয়। অনেকেই জানেন না, আদিম এই খেলায় ছেলের পাশাপাশি মেয়েরও পরিপূর্ণতা বা সন্তুষ্ট হওয়ার একটা ব্যাপার আছে।

মেয়েদের অর্গাজম ঘটানোর ব্যাপারেও উদাসীন ছেলেরা। ছেলেদের যৌনজ্ঞানের অভাব মেয়েদের চরমানন্দ থেকে বঞ্চিত করে। এভাবে দিনের পর দিন মেয়েরা বঞ্চিত হতে হতে একটা সময় তাদের মধ্যে এক ধরনের উদাসীনতা বা হতাশার সৃষ্টি হয়। আমাদের দেশের ছেলেরা মনে করে, মেয়েরা শুধু ভোগের বস্তু।
বিছানায় নিজের সন্তুষ্টি অর্জন হলেই সব শেষ। সঙ্গীর জৈবিক চাহিদার ব্যাপারে কোনো তোয়াক্কা নেই। এরকম ঘটনা যে শুধু ছেলেদের ক্ষেত্রেই ঘটে, সেটি নয়। অনেক মেয়েও তার সঙ্গীর শারীরিক চাহিদা পূরণে সচেতন, কিংবা আগ্রহী নন। এই শারীরিক অপূর্ণতাই পর-পুরুষ বা পর-নারীতে আগ্রহের সৃষ্টি করে। কাজেই শারীরিক চাহিদা পূরণের ব্যাপারে উভয়কে সচেতন হতে হবে।


আরও খবর



প্লাস্টিকের প্লেট-চামচ নিষিদ্ধ করল ইংল্যান্ড

প্রকাশিত:Tuesday ১০ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Friday ০৩ February ২০২৩ |
Image

যুক্তরাজ্যে প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে এবার ইংল্যান্ডে একবার ব্যবহারযোগ্য খাবারের প্লেট-চামচ-কাঁটাচামচ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রোববার লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দেশটির পরিবেশমন্ত্রী থেরেসে কফি।

মন্ত্রীর এ ঘোষণার মাধ্যমে প্রায় পুরো যুক্তরাজ্যেই প্লাস্টিকের প্লেট-চামচ নিষিদ্ধ হলো। কারণ স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে আগেই এসব নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এখন কেবল বাকি আছে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড।

এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্যে প্রতিদিন বাড়তে থাকা প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দেশটির পরিবেশকর্মীরাও এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ডে প্রতি বছর গড়ে ১১০ কোটি একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের প্লেট এবং ৪০০ কোটি চামচ-কাঁটাচামচ ব্যবহৃত হয়; এবং মাথাপিছু হিসেবে এক একজন ইংল্যান্ডবাসী প্রতি বছর ব্যবহার করেন অন্তত ১৮টি প্লেট এবং ৩৭টি চামচ-কাঁটা চামচ।


আরও খবর



বিনোদন কেন্দ্রে ঘুরতে গিয়ে ফিরলেন লাশ হয়ে

প্রকাশিত:Sunday ২৯ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Friday ০৩ February ২০২৩ |
Image

জামালপুর প্রতিনিধি :

শখ করে বকশীগঞ্জের লাউচাপড়া পর্যটন বিনোদন কেন্দ্রে ঘুরতে এসে ছিলেন শামীম মিয়া (২৬)। ফেরার পথে মোটর সাইকেল দূর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়ে বাড়ি ফিরলেন লাশ হয়ে। রোববার দুপুরে উপজেলার লাউচাপড়া-গাজীর বাজার সড়কে মোটর সাইকেল দূর্ঘটনায় মারা যান শামীম। নিহত শামীম প্রতিবেশী ইসলামপুর উপজেলার গোয়ালেরচর ইউনিয়নের মালমারা গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে। 

জানা যায়, জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গোয়ালেরচর ইউনিয়নের মালমারা গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে শামীম রোববার সকালে বকশীগঞ্জ উপজেলার লাউচাড়া বিনোদন পর্যটন কেন্দ্রে ঘুরতে আসে। বিনোদন কেন্দ্রে ঘুরাঘুরি শেষে বাড়ি ফেরার পথে গাজীর বাজার নামক স্থানে মোটর সাইকেল নিয়ন্ত্রন হারিয়ে রাস্তার পাশে গাছের সাথে ধাক্কা লাগে তার। এতে সে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা মুমুর্ষ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.মুহাম্মদ আজিজুল হক জানান,গাছের সাথে ধাক্কা লাগায় ছেলেটি মাথায় ও বুকে প্রচন্ড আঘাত পেয়েছিলো। হাসপাতালে পৌছাঁর আগেই মারা যায় সে।

গোয়ালেরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুর রহিম সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,সকালে লাউচাপড়া ঘুরতে যায় শামীম। আর দুপুরেই ফিরলো লাশ হয়ে। বিষয়টি দু:খজনক। এই ঘটনায় নিহত শামীমের বাড়িতে শোকের মাতম বইছে।


আরও খবর



মোংলায় বিশ্ব জলাভূমি দিবসে বক্তারা

দূষণ ও দখলের কবল থেকে ম্যানগ্রোভ জলাভূমি সুন্দরবনকে বাঁচাও

প্রকাশিত:Thursday ০২ February 2০২3 | হালনাগাদ:Friday ০৩ February ২০২৩ |
Image

এম.পলাশ শরীফ, বাগেরহাট :

 প্লাস্টিক এবং শিল্প দূষণ ও দখলের কবল থেকে বিশ্ব ঐতিহ্য ম্যানগ্রোভ জলাভূমি সুন্দরবনকে বাঁচাও। পরিবেশের ভারসাম্য, জীববৈচিত্র, কৃষি, মৎস্যসহ খাদ্য নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো জলাভূমি। বাংলাদেশে জীববৈচিত্রের ক্ষেত্রে সমৃদ্ধ উদাহারণ হলো সুন্দরবন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে এই সুন্দরবন আমাদের মায়ের মতো আগলে রাখে। বিশ্ব ঐতিহ্য ম্যানগ্রোভ জলাভূমি সুন্দরবনসহ দেশের সকল জলাভূমি রক্ষায় সরকারকে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে। ২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ব জলাভূমি দিবস উপলক্ষে  মোংলার কাপালিরমেঠ বিলে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপারের আয়োজনে ”সুন্দরবন বাঁচাও” শীর্ষক মানববন্ধনে বক্তারা একথা বলেন।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় বিশ্ব জলাভূমি দিবসের ”সুন্দরবন বাঁচাও” শীর্ষক মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাপা মোংলা আঞ্চলিক শাখার আহ্বায়ক মোঃ নূর আলম শেখ। মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাপা নেতা নাজমুল হক, রাকেশ সানা, শেখ রাসেল, হাছিব সরদার, ছবি হাজরা প্রমূখ। মানববন্ধনে বক্তারা আরো বলেন সম্প্রতি ব্রাজিলের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় , বাংলাদেশের দুটি বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ পরমানু শক্তি কমিশনের ফুড সেফটি এন্ড কোয়ালিটি ডিভিশনের এক যৌথ গবেষণায় সুন্দরবন সংলগ্ন পশুর নদী, মোংলা নদী ও রূপসা নদীর ১৭ প্রজাতির মাছ মাইক্রো প্লাস্টিকের সংক্রমিত হওয়ার ভয়াবহ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। প্লাস্টিক দূষণের ফলে সামুদ্রিক মাছ এখন হুমকির মুখে। আর মাইক্রো প্লাস্টিকে সংক্রমিত মাছ খেলে লিভার ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হবে। ”সায়েন্স অব দ্য টোটাল এনভায়রনমেন্ট” জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা থেকে এসব তথ্য জানা যায়।  তাই দূষণ ও দখলের কবল থেকে বিশ্ব ঐতিহ্য ম্যানগ্রোভ জলাভূমি সুন্দরবন পুনরুদ্ধারের এটাই সময়। সুন্দরবনের খালে বিষ দিয়ে মাছ মারা, নদীতে প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা ও শিল্প দূষণের কবল থেকে সুন্দরবন রক্ষার আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার ও শপথ নিতে হবে। 


আরও খবর



পাঠান সিনেমায় খলনায়িকা দীপিকা !

প্রকাশিত:Friday ১৩ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Friday ০৩ February ২০২৩ |
Image

সবাই জানত ‘পাঠান’ ছবিতে নায়িকা চরিত্রে থাকবেন দীপিকা। এখন শোনা যাচ্ছে, নায়িকা নন বরং খলনায়িকা অর্থাৎ ভিলেন রূপে এই ছবিতে ধরা দেবেন তিনি।

স্পাই-থ্রিলার জনরার মুভিগুলোতে দৃশ্যের বাঁকে বাঁকে টুইস্ট থাকে। ‘পাঠান’ নির্মাতা সিদ্ধার্থ আনন্দ তার আগের ছবি ‘ওয়ার’-এও এরকম টুইস্ট রেখেছিলেন। টাইগার শ্রফের ‘খালিদ’ চরিত্রটিকে তিনি পজিটিভ এবং নেগেটিভ দুই শেডেই দেখিয়েছিলেন। তাই ‘পাঠান’-এও এমনটা ঘটার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অন্তত এমনটাই দাবি করছে নেটপাড়ার একাংশ। তাদের মতে, ‘টাইগার’ সিরিজে ক্যাটরিনা কাইফের চরিত্রের মতো এখানেও দীপিকাকে পাকিস্তানের এজেন্ট দেখানো হতে পারে।

মূলত দীপিকার নেগেটিভ চরিত্রের কথা উঠে এসেছে ফ্যান থিওরি থেকেই। আর সেটা আসছে ছবির ট্রেলার ও গানের কিছু সংলাপ যোগ করে। ভক্ত তত্ত্ব বলছে, জন আব্রাহাম নন পাঠানের আসল ভিলেন দীপিকা। কেন এমন কথা বলছে সেটার কারণও ব্যাখ্যা করেছে তারা। ‘ঝুমে জো পাঠান’ গানে ‘দুশমন গালে লাগ জায়ে’ দিয়ে শত্রু দীপিকার সঙ্গে বন্ধুত্বের বার্তাই দিচ্ছেন শাহরুখ! এরপর ট্রেলারে এক জায়গায় জনকে বলতে শোনা যায়, ‘পাঠান দ্য হান্টার… হান্টেড?’। তারমানে শিকারি শাহরুখ নিজেই এখন শিকারে পরিণত হয়েছে।

অবশ্য সবটাই ভক্তদের কল্পনাপ্রসূত ধারণা। আসলেই দীপিকার চরিত্র কী সেটা বোঝা যাবে আগামী ২৫ জানুয়ারি। ওইদিন হিন্দি, তামিল, তেলেগু ভাষায় মুক্তি পাবে ‘পাঠান’ ছবিটি। এতে ক্যামিও চরিত্রে দেখা যাবে সালমান খানকে। যশরাজ ফিল্মসের ‘স্পাই ইউনিভার্স’র অংশ হিসেবে থাকতে পারেন কবির চরিত্রে হৃতিক রোশনও।


আরও খবর



নওগাঁয় বোরো ধান চাষের শুরুতেই বিদ্যুতের লোড শেডিং, দুঃশ্চিন্তায় কৃষকরা

প্রকাশিত:Thursday ০২ February 2০২3 | হালনাগাদ:Friday ০৩ February ২০২৩ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রিপোর্টার :

নওগাঁয় চলতি ইরি বোরো ধান চাষের ভরা মৌসুমের শুরুতেই বিদ্যুতের ঘনঘন লোড শেডিংএ দেখা দিয়েছে। ফলে ইরি বোরো ধান চাষের জমিতে পানি সেচ দেওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে কৃষকদের মাঝে। সার-তেলের সংকট না থাকলেও ধানের চারা এক চতুর্থাংশ নষ্ট এবং বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করায় ধান উৎপাদনে বাড়তি খরচ হচ্ছে বলেও দাবি ধান চাষি কৃষকদের। চৈত্র মাসে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায় বর্তমান সময়ের দেড়গুণ। সে সময় চাহিদা মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ না হওয়ায় অধিকাংশ জমিতে পানি সেচ এর অভাবে ধান চাষের জমি শুকে ফেটে যায়। ইতি মধ্যেই ধানের জন্য দেশের মধ্যে বিক্ষাত এজেলায় কৃষি পরামর্শের পাশাপাশি ধান উৎপাদন সঠিক রাখতে নওগাঁয় বিদ্যুতের বিশেষ বরাদ্দের বাদি জানানো হয়েছে। 

নওগাঁ গ্রিড (বিদ্যুৎ) বিভাগ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি ইরি বোরো মৌসুমের শুরুতে জেলায় ১শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার পরিবর্তে ৮০ মেগাওয়াটের নিচে সরবরাহ থাকছে। যার ফলে আগের চেয়ে বর্তমানে লোডশেডিং এর পরিমাণ বেড়ে গেছে।

চৈত্র মাসে নওগাঁ জেলায় প্রায় দেড়শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা হয়। 

নওগাঁর বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ধান উৎপাদনে দেশের অন্যতম জেলা নওগাঁয় পুরোদমে শুরু হয়েছে ইরি বোরো চাষ। সার-তেলের সংকট না থাকলেও ইরি বোরো চাষের শুরুতেই দেখা দিয়েছে বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিং। 

এই লোডশেডিং এর মাত্রা বেড়ে যায় প্রতি বছরের চৈত্র মাসে। সে সময় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায় বর্তমান সময়ের দেড়গুণ। চাহিদা মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ না হওয়ায় চৈত্র মাসে সেচ দেওয়া সম্ভব হয় না অনেক বোরো ধান চাষের জমিতে। সে সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় ঘনঘন লোডশেডিংএ সেচের অভাবে ধানের জমি ফেটে যায়। এতে তূলনা মূলক ফেটে যাওয়া জমিতে ফলন কম হয়। 

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার চৌমাশিয়া ও খোর্দ্দনারায়নপুর গ্রামের কৃষক সাজ্জাদ হোসেন মন্ডল, শাহ আলম, নজরুল ইসলাম বাবু সহ জেলা সদর উপজেলার শৈলগাছী বাজার এলাকায় কথা হয় কৃষক আমজাদ হোসেন, করিম হোসেন, আবুল কালাম সহ আরো কযেক জন কৃষকের সাথে। কৃষকরা জানান, গত কয়েক দিনের ঠান্ডায় এক চতুর্থাংশ ইরি বোরো ধানের চারা নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে ধানের চারা বাজার থেকে কিনে প্রতি বিঘায় প্রায় ২ হাজার টাকারও বেশি খরচ হচ্ছে। এসময় কৃষি বিভাগ থেকে পরামর্শ না পাওয়ার অভিযোগ করেন কয়েক জন কৃষক।

নওগাঁ সদরের বোয়ালিয়া গ্রামের মাঠে কৃষক মেহেদী হাসান জানান, জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম সরকারি ভাবে বৃদ্ধি করায় গত বছরের তুলনায় প্রতি বিঘায় এ বছর সেচের দাম ৫শ’ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা বেড়ে দিয়েছে নলকূপের মালিকরা। এ ছাড়াও কিটনাশকের দাম বৃদ্ধি, জমি চাষ,  লাগানো, নিরানী সহ শ্রমিকের মূল্যও বেড়েছে। একারনে গত বছরের চেয়ে এ বছর প্রতি বিঘায় ৩ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা ধান উৎপাদন খরচও বেড়ে গেছে। প্রতি মণ বোরো ধান ১৫শ’ টাকা থেকে ১৬শ’ টাকায় বিক্রি না হলে লোকসান গুণতে হবে বলেও মনে করছেন কৃষকরা।  

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু হোসেন জানান, নওগাঁ জেলায় চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৮৯ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইত্যে মধ্যেই প্রায় ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ (রোপন) সম্পন্ন করেছেন কৃষকরা। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের কৃষি পরামর্শ না পাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আবু হোসেন আরো জানান, প্রয়োজন মত লোকবল না থাকায় কোথাও অসুবিধা হতে পারে। তবে মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারিদের সেল ফোন ও তাদের সাথে যোগাযোগ করার জন্যে বলা হয়েছে কৃষকদের। 

বাংলাদেশ কৃষক সমিতি নওগাঁ জেলা শাখার সহ-সভাপতি মহসিন রেজা জানান, একে তো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করায় বোরো ধানের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। আবার সেচ নির্ভর বোরো ধান বিদ্যুতের লোডশেডিং আরো বেশি হলে সেক্ষেত্রে সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে জ্বালানি তেল দিয়ে ইরি বোরো চাষের জমিতে পানি সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এতে আরো বেড়ে যাবে কৃষকদের উৎপাদন খরচ।

ইরি বোরো উৎপাদন মৌসুমে নওগাঁয় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ রাখার দাবি জানান এই কৃষক নেতা।  

নওগাঁ গ্রিড (বিদ্যুৎ ) বিভাগের উপ-সহকারি প্রকৌশলী সুলতান বায়জিত জানান, বর্তমানে নওগাঁয় ১শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও সেখানে ৭৫ মেগাওয়াট থেকে ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুত সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে, এজন্য মাঝে মাঝে লোডশেডিং চলছে জানিয়ে অতিদ্রুত চাহিদা মতো বিদ্যুৎ পেলে এসমস্যার সমাধান হবে বলেও আশাব্যাক্ত করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, চৈত্র মাসে প্রায় দেড়শ’ ১শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা হয়। ইত্যে মধ্যেই সরকারের উচ্চ পর্যায়ে চাহিদা পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। 

 


আরও খবর