Logo
শিরোনাম
নওগাঁয় চোরাই অটোভ্যান উদ্ধার সহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৩ জন আটক দ্বিতীয় বার আইজিপি পদক পেলেন রাঙ্গাবালী থানার ওসি হেলাল উদ্দিন অপহরণের ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই কিশোরী উদ্ধার সহ অভিযুক্ত যুবক আটক বাউল ছালমা হলেন বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ "জয়িতা" পাংশায় মাদক সহ ৯ মামলার আসামী গ্রেফতার ১৬৩ টাকায় তেল বিক্রির ব্যত্যয় ঘটলে ব্যবস্থা নেয়া হবে: ভোক্তার মহাপরিচালক দুর্গাপুরে বালুবাহী হ্যান্ডট্রলির চাপায় প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর নওগাঁ জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু বক্কর, সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত নওগাঁয় প্রাইভেটকার তল্লাসি, ৭২ কেজি গাঁজা সহ যুবক আটক রূপগঞ্জে প্রাইভেটকার চাপায় গৃহবধু নিহত

সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারীর (কেবলা ক্বাবা ) জীবনি

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ মার্চ ২০২৪ |

Image

মাজহারুল ইসলাম মাসুম, সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক :

সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (কেবলা ক্বাবা ) মাইজভান্ডারী এর জন্ম হয় ১৮২৬ সালে আর মৃত্যু বরণ করেন ১৯০৬ সালে তিনি হলেন মাইজভান্ডারী তরীকার প্রতিষ্ঠাতা । সৈয়দ আহমদ উল্লাহ ছিলেন একজন সুফি সাধক বা পীর । তিনি আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী নামেই বেশি পরিচিত । তার অনুসারীগণ শুরু হতে যে সকল প্রচার প্রকাশনা বাংলা, আরবি, উর্দু এবং ইংরেজি সহ বিভিন্ন ভাষায় ছাপানো হয়েছে তাতে তার নাম গাউছুল আজম হযরত মৌলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী কেবলা ক্বাবা কাদ্দাছাল্লাহু ছিরহুল আজিজ (কঃ) লেখা আছে । তাছাড়াও তিনি গাউছুল আজম, হযরত কেবলা, গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী, বড় মৌলানা, খাতেমুল অলদ, শাই এ লিল্লাহ্ ইত্যাদি উপনামেও বিশেষভাবে পরিচিত বলে একধিক ভাষায় লিখিত বিভিন্ন লেখকের বই এবং নিবন্ধে উল্লেখ আছে ।

আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী পহেলা মাঘ ১২৩৩ বাংলা সন , ইংরেজীতে ১৮২৬ সালের ১৫ই জানুয়ারী বাংলাদেশের বন্দরনগরী চট্টগ্রাম শহর হতে ৪০ কিলোমিটার উত্তরে তৎকালীন প্রত্যন্ত মাইজভান্ডার গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন । তার পিতার নাম সৈয়দ মতিউল্লাহ মাইজভান্ডারী আর মাতার নাম সৈয়দা খায়রুন্নেছা । তার পারিবারিক নাম ছিল সৈয়দ আহমদ উল্লাহ ।

আহমদ উল্লাহর পুর্ব পুরুষ সৈয়দ হামিদ উদ্দিন গৌড় নগরে ইমাম এবং কাজীর পদে নিয়োজিত ছিলেন । গৌড় নগরে মহামারীর কারণে ১৫৭৫ সালে চট্রগ্রামের পটিয়া থানার কাঞ্চন নগরে বসতি স্হাপন করেন । তার নামানুসারে হামিদ গাঁও নামে একটি গ্রামও আছে । তার এক পু্ত্র সৈয়দ আব্দুল কাদের ফটিকছড়ি থানার আজিমনগর গ্রামে ইমামতি উপলক্ষে এসে বসতি স্হাপন করেন । তার পুত্র সৈয়দ আতাউল্লাহ পুত্র সৈয়দ তৈয়বুল্লাহর এবং পুত্র সৈয়দ মতিউল্লাহ মাইজভাণ্ডার গ্রামে এসে বসতি স্হাপন করেন ।
আহমদ উল্লাহ গ্রামের মক্তবের পড়ালেখা শেষ করার পর ১২৬০ হিজরীতে উচ্চ শিক্ষার্জনের উদ্দেশ্যে কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন । তিনি ১২৬৮ হিজরীতে বিশেষ কৃতিত্বের সাথে পরীক্ষায় পাশ করেন । সেখানেই তিনি সর্বোচ্চ পর্যায়ের শিক্ষা সমাপন করে ধর্মীয় নানা অনুষ্ঠানাদিতে আমন্ত্রিত অতিথি বা বক্তা হিসাবে যথেষ্ট সুনামের সাথে ধর্মীয় প্রচার প্রচারণার কাজে লিপ্ত ছিলেন ।


তিনি শিক্ষা জীবন শেষে করে হিজরী ১২৬৯ সালে ব্রিটিশ শাসনাধীন অবিভক্ত ভারতের যশোর অঞ্চলের বিচার বিভাগীয় কাজী পদে যোগদান করেন এবং একই সঙ্গে মুন্সেফী অধ্যায়ন শুরু করেন । পরবর্তিতে ১২৭০ হিজরীতে কাজী পদে ইস্তফা দিয়ে তিনি কলিকাতায় মুন্সী বু আলী মাদ্রাসায় প্রধান মোদাররেছ হিসাবে যোগদান করেন । পরবর্তি সময়ে মুন্সেফী পরীক্ষায় তিনি প্রথম স্থান অধিকার করে ছিলেন ।

আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী হাদিস, তাফসির, ফিকহ, মন্তেক, হিকমত, বালাগত, উছুল, আকায়েদ, ফিলছফা, ফারায়েজ সহ যাবতীয় বিষয়ে অত্যন্ত অভিজ্ঞ ছিলেন । আরবী, উর্দু, বাংলা ও ফারসি ভাষায় তিনি বিশেষ পারদর্শী ছিলেন । ওয়ায়েজ এবং বক্তা হিসাবে তার নামডাক বিশেষ ভাবে ছডিয়ে পড়ে । অল্প কিছু দিন পরই তিনি আধ্যাত্মিক জীবন যাপনে আত্ম নিয়োগ করেন । তখন হতে তিনি বাকি জীবন একজন সুফি সাধক হিসাবে অতিবাহিত করেন ।

আহমদ উল্লাহ হযরত বড়পীর সৈয়দ আব্দুল কাদের জিলানী (কঃ)-এর বংশধর এবং উক্ত তরিকার খেলাফত প্রাপ্ত সৈয়দ আবু শাহামা মুহাম্মদ ছালেহ আল কাদেরী লাহোরী (রঃ) নিকট বায়েত গ্রহনের মাধ্যমে বেলায়ত অর্জন করেন এবং সৈয়দ দেলওয়ার আলী পাকবাজ (রঃ) এর নিকট হতে এত্তাহাদী কুতুবিয়তের ক্ষমতা অর্জন করেন । তিনি দিনে দ্বীনি শিক্ষাদান এবং রাতে এবাদত ও রেয়াজতের মাধ্যমে সময় কাটাতেন । এভাবে কঠোর সাধনার ফলে তিনি আধ্যাত্মিক জগতের সর্বোচ্চ বেলায়ত অর্জন করেছিলেন ।

আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী জীবদ্দশায় তার সুফি তরীকার দীক্ষা সমাজে মানুষের মাঝে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে বহু সুফি প্রতিনিধি বা খলিফা নিয়োগ করেন বলে উল্লেখ রয়েছে ।
আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী ১২৭৬ হিজরীতে ৩২ বছর বয়সে আজিম নগর নিবাসী মুন্সী সৈয়দ আফাজ উদ্দিন আহমদের কন্যা সৈয়দা আলফুন্নেছা বিবির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন । কিন্ত বিয়ের ছয় মাসের মাথায় তার স্ত্রী মারা যান । সেই বছরই তিনি পুনরায় সৈয়দা লুৎফুন্নেছা বিবিকে বিয়ে করেন । ১২৭৮ হিজরী সালে তার প্রথম মেয়ে সৈয়দা বদিউন্নেছা বিবি জন্মগ্রহন করেন । কিন্তু মেয়েটি চার বছর বয়সে মারা যায় । এরপর তার আরোও একটি ছেলে জন্মগ্রহন করে অল্প দিনের মধ্যে মারা যান । অতঃপর ১২৮২ হিজরীতে দ্বিতীয় পুত্র সৈয়দ ফয়জুল হক (রঃ) এবং ১২৮৯ হিজরী সালে দ্বিতীয় কন্যা সৈয়দা আনোয়ারুন্নেছা জন্মগ্রহন করেন । তার দ্বিতীয় পুত্রও পিতার পুর্বে ইন্তেকাল করেন ।
আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী ১৯০৬ সালের ২৩শে জানুয়ারি ১৩১৩ বঙ্গাব্দ ১০ই মাঘ আশি বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন । মাইজভান্ডারেই তিনি সমাহিত হন এবং তার কবরের উপর বর্তমানে আধুনিক স্থাপত্য শৈলী খচিত মাজার বিদ্যমান ।


আরও খবর



বিভক্তি’ নিয়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পাকিস্তানে

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ মার্চ 2০২4 |

Image

পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করতে পাকিস্তান ৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে। কিন্তু ভোটাররা জানান, পাকিস্তানের মানুষ এতটাই বিভক্ত যে তারা নির্বাচনের বিষয়ে কথা বলতে অস্বস্তি বোধ করছে। আমনা নামের লাহোরের এক শিক্ষার্থী বিবিসিকে বলেন, যখন পাকিস্তানের রাজনীতির বিষয় আসে, কারোরই স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার নাই। 

এ ছাড়া রাজনীতি এখন এতটাই মেরুকরণ হয়ে গেছে যে এ নিয়ে মতানৈক্যের ঘটনায় নিজের সন্তান আতা উর রেহমানকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বাবার বিরুদ্ধে।

আতার ভাই আরিফ বিবিসিকে জানিয়েছেন, তাঁর পুরো পরিবার শোকাহত। তাঁর ভাই কাতারে চাকরি করতেন। ছুটিতে এসে পেশোয়ারে বাবার সঙ্গে থাকছিলেন। আতা বাড়ির ছাদে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআইয়) পতাকা টাঙাতে চাইলে দুজনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। যদিও তাঁর বাবা কোনো রাজনৈতিক দল সমর্থন করেন না, তিনি এটি পছন্দও করেন না।

 

২০২২ সালে বিরোধী দলগুলোর অনাস্থা ভোটে ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এখন তিনি দুর্নীতি ও গোপন নথি ফাঁসের অপরাধে কারাভোগ করছেন। তাঁর নির্বাচনে অংশগ্রহণের ওপরও দেওয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।

আরিফ জানান, উত্তপ্ত বাগবিতণ্ডার পর তাঁর বাবা আতাকে গুলি করে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ আতার মৃত্যু নিশ্চিত করেছে।

যদিও এটি একটি বিরল ঘটনা, তবে অনেক লোকজন বলেছে, নির্বাচনের সময় তারা পরিবারের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে।

ইমরান খানের অন্ধ সমর্থক নিদা জিশান বলেন, আমার বোন ও আমি বাবার সঙ্গে তিন মাস কথা বলিনি।

ইমরান খানেকে জেতানোর জন্য নিদা ও তাঁর বোন ২০১৮ সালের নির্বাচনে পিটিআইকে ভোট দিয়েছিলেন।

কিন্তু এটি তাঁদের পরিবারে বিভক্তি সৃষ্টি করে। নিদা বলেন, আমার বাবা খানের নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে একমত নন এবং তাঁর মতে খান ভালো রাজনীতিবিদ নন।

 

অন্য যেসব তরুণের সঙ্গে বিবিসির প্রতিবেদক কথা বলেছেন, তাঁদের মতো নিজের মত প্রকাশে ভীত ছিলেন না নিদা। তিনি বলেন, আমি আমার বাবার সঙ্গে দ্বিমত করে বলতাম, আমি খানকে ও তাঁর ব্যক্তিত্বকে ভালোবাসি। আমি তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার পছন্দ করেছিলাম।

২০২৪ সালের নির্বাচনেও এর ব্যতিক্রম হবে না বলে জানিয়ে নিদা বলেন, কেউ যদি তাঁর সঙ্গে দ্বিমত করে, তাহলে তিনি তাঁদের সঙ্গে দেখা করা বন্ধ করে দেবেন, নয়তো সে আলাপ ঝগড়া পর্যন্ত গড়াবে।

একমত না হলেও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা তাঁর মতামতকে শ্রদ্ধা করেন বলে জানিয়ে নিদা বলেন, আমার বন্ধুর স্বামী অন্য দল থেকে এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তিনি খুব ভালো করেই জানেন, আমি তাঁকে ভোট দেব না, তাই তিনি আমার কাছে সমর্থন চাননি।


আরও খবর



মোরেলগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতার ওপর হামলার ঘটনায় মামলা করে বিপাকে বাদি

প্রকাশিত:সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ মার্চ ২০২৪ |

Image

বাগেরহাট প্রতিনিধি :

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে এক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতার ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় মামলা করে বাদি বিপাকে পড়েছেন। মামলার বাদি ও স্বাক্ষীরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামলা প্রত্যাহার না করলে আবারও মারপিট করে চিরতরে পঙ্গু করে দেওয়া হবে বলে অভিযোগ করেছেন পঞ্চকরণ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহŸায়ক আব্দুল রাজ্জাক খলিফা।

গত ২৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল রাজ্জাকসহ কয়েকজনকে পিটিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করলে রাজ্জাক চিকিৎসা শেষে ৫ ফেব্রæয়ারি ১০ জনের নামে বাগেরহাট আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। যার মামলা নং-৩১/২৪, তারিখ-৫.২.২০২৪।  আদালতের নির্দেশে মোরেলগঞ্জ থানা পুলিশ ওই  অভিযোগপত্রটি ৭  ফেব্রুয়ারি এজাহার হিসেবে গ্রহন করে। এর পর থেকে মামলার বাদি আব্দুল রাজ্জাক ও তার স্বজনদেরকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছে মামলার প্রধান আসামি ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গিয়াস হাওলাদারসহ অপর আসামিরা।

মামলার বাদি আব্দুল রাজ্জাক অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধের কারনে তাদেরকে মারপিট করা হয়েছে। কয়েকটি দোকানের ভাড়াটিয়াকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রাস্তা ও বাজার ঘাটে বের হলেই গালমন্দ করা হয়। মামলা প্রত্যাহার না করলে আরও খারাপ পরিনতির হুমকী দিচ্ছে আসামিরা। পুলিশ রহস্যজনক কারনে এ মামলার আসামিদেরকে গ্রেফতার করছেনা বলেও অভিযোগ বাদির।

  এ বিষয়ে মারপিটের মামলার প্রধান আসামি যুবলীগ নেতা গিয়াস হাওলাদার এসব অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন, তুচ্ছ ঘটনায় আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা এলাকার বাইরে রয়েছি। জামিন নেওয়ার জন্য চেষ্টা করছি। হুমকীর অভিযোগ সঠিক নয়। 


আরও খবর



মিয়ানমারে বিদ্রোহীরা আরও শক্তিশালী হচ্ছে

প্রকাশিত:বুধবার ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ মার্চ ২০২৪ |

Image

১. বিদ্রোহী তৎপরতা তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পরিস্থিতিতে আপাতত না পড়লেও মিয়ানমার বর্তমানে একটি দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে
২. মিয়ানমারের জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ১৪ জানুয়ারি দেশটির চিন রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর পালেতোয়া দখল করে নেয়। শহরটি বাংলাদেশ সীমান্তের পূর্বদিকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আর এর উত্তরে রয়েছে ভারতীয় সীমান্ত


৩. পালেতোয়া দখলের পর উত্তর-পূর্ব অঞ্চলজুড়ে দেশটির জাতিগত সংখ্যালঘুদের ৩টি সুসজ্জিত মিলিশিয়া বাহিনীজোট মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে একটি বড় সমন্বিত আক্রমণও পরিচালনা করে। অপারেশন ১০২৭ নামে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর এসব অভিযানের মুখে ক্রমেই সব রণাঙ্গনে পিয়ীয়ে পড়ছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
৪. ১২ জানুয়ারি যুদ্ধরত আরাকান আর্মিসহ অন্যান্য পক্ষগুলোর মধ্যে চীনের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার মাত্র দুই দিন পরে পালেতোয়ার দখল হাতছাড়া হয় জান্তার। বলা বাহুল্য, চুক্তির প্রভাব কেবল চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে বলেই ধারণা করা হয়েয়ীল।
৫. বিদ্রোহী তৎপরতা তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পরিস্থিতিতে আপাতত না পড়লেও মিয়ানমার বর্তমানে একটি দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
৬. বেসামরিক নাগরিক এবং আন্ডারগ্রাউন্ড নেটওয়ার্ক দ্বারা গঠিত সশস্ত্র প্রতিরোধের নতুন রূপ ইতোমধ্যেই অস্থির মিয়ানমারের জন্য নতুন করে বৃহত্তর অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশে থাকা ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য এর অর্থ কী দাঁড়াচ্ছে তাদের ফেরার সম্ভাবনার কী হবে এখন।
৭. অপারেশন ১০২৭ চীনের সীমান্তবর্তী উত্তর শান রাজ্যে শুরু হয়। এমএনডিএএ, তাং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি আরাকান আর্মির থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের বিদ্রোহী সৈন্যরা দাবি করেছে, প্রদেশে এখন পর্যন্ত তারা শত শত সামরিক ফাঁড়ি এবং বেশ কয়েকটি শহর সীমান্ত প্রবেশদ্বার দখল করেছে।
৮. মাসের শুরুতে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর ঠিক আগে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো জান্তা সৈন্যদের সঙ্গে কয়েক সপ্তাহের ভয়াবহ লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়। ওই সংঘাতের পর বিদ্রোহীরা সামরিক বাহিনীর আঞ্চলিক সদর দপ্তর দখল করে চীনা সীমান্তের কাছে অবস্থিত লাউকাই নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয়।
৯. যদিও যুদ্ধবিরতি চুক্তির অর্থ হচ্ছে চীনা সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় বিদ্রোহীদের অগ্রগতি বন্ধ হয়ে যাবে, বিশেষজ্ঞরা যুদ্ধবিরতি কতদিন ধরে বহাল থাকবে তা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করছেন। কারণ অতীতে ধরনের কয়েক ডজন চুক্তি শেষ পর্যন্ত ভেঙে গিয়েয়ীল।
১০. বিশ্বজুড়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে এখন নতুন প্রশ্ন, মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি দেশটির জান্তার জন্য শেষের শুরু কি না। তবে এরকম কোনো সিদ্ধান্তে আসার সময় এখনো আসেনি।
১১. যুদ্ধবিরতি মূলত উত্তর-পূর্ব মিয়ানমারের চীন সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর জন্য প্রযোজ্য। এটা দেশের বাকি অংশে যেখানে বিদ্রোহ চলছে, সেখানকার জন্য খুব কমই প্রাসঙ্গিক, তিনি বলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অভ পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের বিআইপিএসএস সভাপতি মেজর জেনারেল অব এএনএম মুনিরুজ্জামান।
১২. ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স দাবি করছে, এটি ২৫টি সামরিক চৌকি, এক ডজন শহর এবং চীন মিয়ানমারের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যের অংশ ৫টি প্রধান সীমান্ত ক্রসিং দখল করেছে, তিনি বলেন।
১৩. এই যুদ্ধবিরতি কতদিন বহাল থাকে সেটাই দেখার বিষয়। কারণ যুদ্ধবিরতির সম্মতি আগেও য়ীল, কিন্তু বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। চীন বিশেষভাবে এই যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করেছে যাতে বাণিজ্য পথ খুলে দেওয়া হয় এবং সীমান্তের কাছে বসবাসকারী চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা দেওয়া যায়, বলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ বিআইআইএসএস নামক একটি সরকারি থিংক ট্যাংকের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়ীত্ব পালন করা মুনিরুজ্জামান।
১৪. মুনিরুজ্জামান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মায়ানমারের রাখাইন চিন রাজ্যে বিদ্রোহী দলগুলো আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্তি অর্জন করেছে। সামরিক বাহিনীর তুলনায় তারা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
১৫. এই পরিস্থিতিতে সামরিক জান্তা ভেঙে পড়বে বলেও বিশ্বাস করেন না তিনি। আমার মনে হয়না তা হবে। প্রথমত, মধ্য মিয়ানমারের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো এখনো জান্তার নিয়ন্ত্রণে। দ্বিতীয়ত, জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো মধ্য মিয়ানমার দখলে নিতে আগ্রহী নয়, তাদের স্বার্থ নিহিত রয়েছে তাদের রাজ্যের ক্ষমতা সম্পদের মধ্যে, মুনিরুজ্জামান বলেন। সুতরাং, নতুন করে শক্তিশালী হলেও বিদ্রোহী গোষ্ঠীসমূহ খুব বেশি নিয়ন্ত্রণ অর্জন করতে পারবে না, বলেন তিনি।
১৬. গত বছরের শেষের দিকে জানা যায়, ত্রিপক্ষীয় চুক্তির অধীনে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তিন হাজার রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসন করা হবে। তবে তা আর পরে কখনও হয়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার সম্পর্কিত একটি সূত্র নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থেকে টিবিএসকে বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন উদ্যোগ একটু মন্থর হয়েছে।
১৭. ডিসেম্বরের আগেই প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা য়ীল। বর্তমান পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের জন্য রাখাইন ফিরে যাওয়া নিরাপদ হবে না। আমরা খবর পাচ্ছি, রাখাইনের অন্তত ৬০ শতাংশ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, বলেন ওই কর্মকর্তা।
১৮. তিনি উল্লেখ করেন, মিয়ানমারে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এমনকি বাংলাদেশের দূতাবাসের কর্মকর্তারাও মিয়ানমারে তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসের ব্যবস্থা করতে সমস্যায় পড়েছেন বলে জানান তিনি। বর্তমানে ইয়াঙ্গুনে বাংলাদেশের একটি দূতাবাস এবং রাখাইনে একটি কনস্যুলার সার্ভিস রয়েছে।
১৯. মিয়ানমারের যুদ্ধ পরিস্থিতি চীন, জাপান ভারতের মতো দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে। তাই তারাও সেখানে যুদ্ধ বন্ধ করার চেষ্টা করছে, সংঘাতের অবসান রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে পারে আভাস দিয়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর ঠিক একদিন আগে বলেয়ীলেন কর্মকর্তা।
২০. কিন্তু রোহিঙ্গাদের রাখাইন রাজ্যের কাছাকায়ী অবস্থিত চিন রাজ্যের পালেতোয়া বিদ্রোহীদের দখলের পর যুদ্ধবিরতির সুবাদে প্রত্যাশিত স্থিতিশীল পরিস্থিতির আশা সামান্যই অবশিষ্ট থাকে। আরাকান আর্মি সাবেক আরাকান প্রদেশ নামে পরিচিত রাখাইনেও তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্থিতিশীল পরিস্থিতিও রোহিঙ্গাদের জন্য তেমন কিছু করতে পারবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
২১. সামরিক জান্তার প্রত্যাবাসনে কোনো প্রকৃত আগ্রহ নেই। হয়তে তারা কিছু প্রতীকী প্রত্যাবাসন দেখাবে। সর্বোচ্চ এটুকুই তারা করতে পারে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক শাহাব এনাম খান টিবিএসকে বলেন। মিয়ানমারের সংঘাত খুব শীঘ্রই শেষ হবে না বলেও ধারণা তার।
২২. মিয়ানমারের স্বাধীনতার বছর ১৯৪৮ সাল থেকে দেশটিতে বিদ্রোহ চলছে। সংঘাতটি মূলত জাতিগত দ্বন্দ্ব থেকেই, যেখানে কয়েক ডজন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ছে। কিন্তু ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে অং সান সু চিকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ গ্রেপ্তার এবং পরবর্তীকালে অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে সহিংসভাবে দমনপীড়ন চালানোর পর বিদ্রোহের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
২৩. ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই করা সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট, শান স্টেট আর্মি সাউথ অ্যান্ড নর্থ, আরাকান আর্মি, কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স অর্গানাইজেশন, মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স, চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট, কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন, তাং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি, মন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি।
২৪. প্রত্যাবাসন নিয়ে বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে আগ্রহের অভাব রয়েছে এটি তাদের জন্য মুহূর্তে অগ্রাধিকার নয়। দলের মধ্যে আরাকান আর্মি রয়েছে, যেটি ভবিষ্যতে প্রত্যাবাসন প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হবে, বলেন শাহাব এনাম।
২৫. অধ্যাপক বলেন, ২০২১ সালের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আইনপ্রণেতা এবং রাজনীতিবিদদের দ্বারা গঠিত নির্বাসিত ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট রোহিঙ্গারা যে মিয়ানমারের অংশ তার স্বীকৃতি দিতে শুরু করেছে। স্বীকৃতিকে উৎসাহব্যঞ্জক বলে মনে করেন তিনি।
২৬. তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রত্যাবাসন ইস্যুকে কেবল বাংলাদেশ-মিয়ানমার সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা ভুল। প্রত্যাবাসনকে শুধু দ্বিপাক্ষিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায় না এটিকে বহুস্তরী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে। এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া, বলেন তিনি।
২৭. তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মনোযোগ কেবল সামরিক সরকারের দিকেই নয়, ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট তথা জাতীয় ঐক্য সরকার এবং আরাকান আর্মিসহ বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর দিকেও থাকা উচিত। রোহিঙ্গা রাখাইন জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার দিকে ইঙ্গিত করে শাহাব এনাম বলেন, প্রত্যাবাসন অর্থবহ হওয়ার জন্য এই ব্যবধান কমাতে হবে। রাখাইন-রোহিঙ্গা সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি আরেকটি প্রভাবক যা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে, তিনি ব্যাখ্যা করেন।
২৮. মিয়ানমারে চলমান বিদ্রোহী তৎপরতা জান্তাকে দুর্বল করতে যাচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি অর্থবহ গণতান্ত্রিক সরকার আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য রোহিঙ্গা ইস্যুটির প্রতিটি স্তরের সঙ্গে জড়িত থাকতে হবে, অধ্যাপক শাহাব এনাম বলেন।
২৯. চীন, ভারত এবং রাশিয়ার সঙ্গে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তাতমাদোর সম্পর্কের সুবাদে উদ্ভূত শক্তি-ভারসাম্যের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর সুবিধাজনক অবস্থান বিবেচনা করে বিআইপিএসএসের সভাপতি মুনিরুজ্জামানও নিকট ভবিষ্যতে কোনো অর্থবহ প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা দেখছেন না। তিনি মনে করেন না, বাংলাদেশ সরকার মুহূর্তে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে বিদ্রোহী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে।
৩০. এর আগে শরণার্থী বিশেষজ্ঞ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞানের অধ্যাপক . নাসির উদ্দীন গত বছরের কার্যকর না হওয়া প্রত্যাবাসন পরিকল্পনাটিকে খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করেননি। এমনকি যদি প্রতি বছর পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাও প্রত্যাবাসন করা হয়, এক মিলিয়নেরও বেশি শরণার্থীর মিয়ানমারে ফিরে যেতে ২০০ বছরেরও বেশি সময় লাগবে, তিনি উল্লেখ করেন।
৩১. অধ্যাপক নাসির উদ্দীন আরও বলেন, শরণার্থীদের জন্য বিদেশি অনুদান রেশন কমার পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গারা সম্প্রতি মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার জন্য বেশ আগ্রহী য়ীল। কিন্তু মিয়ানমারে তীব্র সংঘাতের অর্থ হচ্ছে তারা ফেরত যাওয়া নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাববে।
৩২. অধ্যাপক বলেন, নিরাপত্তার দিক থেকে মিয়ানমার এখন ২০১৭ সালের তুলনায় অনেক বেশি অস্থিতিশীল। তাই আমি মনে করি না রোহিঙ্গারা এই পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে বেশি উৎসাহী হবে। পরিস্থিতি সম্পর্কে অধ্যাপক নাসির উদ্দীনের ধারণার মতো রোহিঙ্গা নেতারাও একই মত পোষণ করছেন।
৩৩. টেকনাফ শালবাগান ক্যাম্পের একজন কমিউনিটি নেতা মাঝি নূর হোসেন বলেন, আমার এক ভাগ্নে, এক চাচাতো ভাই এবং কিছু বন্ধু এখনও আরাকানে রাখাইনে অবস্থান করছে। তাদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলি। তারা আমাদের সবসময় বলে যে, সেখানকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোটেও ভালো নয়।
৩৪. তারা বলছে, আমরা যদি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নিয়ে সেখানে ফিরতে না পারি, তাহলে আরাকানে বসবাস করা খুবই কঠিন হবে। বর্তমানে সেখানে নিরাপত্তা শূন্য শতাংশ। বন্ধুবান্ধব এবং আত্মীয়দের পরামর্শ হলো, কেবল যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমার সরকারকে আমাদের নাগরিকত্ব দিতে। পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজি করাতে পারে, তাহলেই যেন দেশে ফিরি।
৩৫. এদিকে প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হওয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা, ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় সম্প্রদায়ের ওপর চাপ, রোহিঙ্গাদের স্থানীয় চাকরি নেওয়া এবং সমুদ্রপথে দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করার মতো চ্যালেঞ্জ সামনে বাড়বে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা আশঙ্কা করেন।
৩৬. শরণার্থীদের জন্য মানবিক অনুদান কমে যাওয়ায় ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের পর এই প্রথমবারের মতো শরণার্থী এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের উন্নয়ন প্রচেষ্টার সমর্থনে সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী ঋণদাতাদের কাছ থেকে ঋণ চেয়েছে বাংলাদেশ।
৩৭. বিআইপিএসএসের সভাপতি মুনিরুজ্জামান বলেন, শরণার্থী কার্যক্রমের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড় করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। তবে তার ভাষায় মানবিক ক্লান্তি এবং ইউক্রেন গাজায় নতুন মানবিক সংকটের উত্থানের কারণে বিদেশি অনুদান বৃদ্ধির সম্ভাবনা এখন ক্ষীণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিম ইউরোপ শরণার্থী কার্যক্রমের মূল দাতা য়ীল উল্লেখ করে