Logo
শিরোনাম

শ্রীনগরে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানকে হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রকাশিত:সোমবার ২০ জুন ২০22 | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ |
Image

শ্রীনগর সংবাদদাতাঃ

মুন্সীগঞ্জ শ্রীনগর উপজেলা পরিষদের নারী ভাইরাস চেয়ারম্যান ও উপজেলা মহিলা  আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি রেহানা বেগকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি ও হাত পা ভেঙ্গে দিবে বলে লাঞ্চিত করার অভিযোগে শ্রীনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে। গতকাল রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রীনগর উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে ‘শ্রীনগর উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগ’-এর ব্যানারে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলা পরিষদ সড়ক  থেকে বের হয়ে বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদের সামনে এসে শেষ হয়। 

মানবন্ধনে নারো নেত্রীরা বলেন,  শ্রীনগর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ এর মতবিনিময় সভার নামে পকেট কমিটি করার প্রতিবাদ করি। এসময় আমাদের নেত্রী 

শ্রীনগর উপজেলা মহিলা  আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রেহানা বেগম আমাদের সাথে পকেট কমিটির প্রতিবাদ জানায়। সেই প্রতিবাদ কে কেন্দ্র করে শ্রীনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী তোফাজ্জল হোসেন প্রকাশ্যে তাকে হত্যার হুমকি, হাত পা ভেঙ্গে দিবে ও লাঞ্চিত করায় আমরা নিন্দা ও ঘৃনা জনাচ্ছি। 

মানববন্ধনে মহিলা আওয়ামীলীগের   পক্ষে বক্তব্য রাখেন, বাড়ৈখালী ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফরোজা মোবারক,  কোলাপাড়া ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুন্নি বেগম, কুকুটিয়া ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি  সেলিনা হোসেন, মহিলা নেত্রী আরমিনের ,  শেলিনা বেগম, আফরুজা মোবারক, আছিমন, নুরজাহান প্রমুখ।


আরও খবর



শিশু আর বয়স্কদের জ্বর-সর্দি-কাশিসহ নানা অসুখ

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৫ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

এখন প্রচণ্ড গরম পড়ছে! তাপমাত্রার এই ব্যাপক তারতম্যে প্রথম শিকার হয় শিশুরা। বড়দের মতো আবহাওয়ার দ্রুত তারতম্যের সাথে শিশুরা নিজেকে মানিয়ে নিতে অনেক সময়ই পারে না। গ্রীষ্মকালের গরম সবার জন্যই কষ্টকর। তবে শিশুরা খুব বেশি স্পর্শকাতর বলে অনেক গরম আবহাওয়ায় সহজে খাপ খাওয়াতে পারে না।

তাই অন্যান্য সময়ের তুলনায় গরমকাল শিশুদের জন্য বেশি কষ্টকর ও অসহনীয় হয়ে ওঠে। তাই জ্বর, পেট খারাপ, সর্দি, কাশিসহ নানা শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয়। গরমে ভাইরাল জ্বরে ভুগতে পারে।

জ্বরের লক্ষণ

শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে বেশি তাপমাত্রাই (>৯৮.৬ ড় ফা.) হলো জ্বর। তবে, জ্বর কোনো রোগ নয়, শরীরের কোনো অসুস্থতা বা সংক্রমণের লক্ষণ অর্থাৎ রোগের উপসর্গ হলো জ্বর ।

বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন ধরনের জ্বর হতে পারে। যেমন ইনফ্লুয়েঞ্জা, ডেঙ্গু, টাইফয়েড, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়া, নিউমোনিয়া, হাম এবং প্রস্রাবের সংক্রমণ ইত্যাদি নানা কারণে জ্বর হতে পারে।

জ্বরের সাধারণ চিকিৎসা

জ্বর কমানোর জন্য প্রথমে দেহের তাপমাত্রা কমানোর ওষুধ প্যারাসিটামল (এইস, নাপা) খাওয়াতে হবে। তবে অনেক সময় ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উপযুক্ত এন্টিবায়োটিক সঠিক মাত্রায় পাঁচ থেকে সাত দিন খেতে হবে। তবে ভাইরাস জ্বরে এন্টিবায়োটিক লাগে না। শিশুদের বেলায় জ্বর হলে একটু বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। মনে রাখতে হবে ৩-৪ দিনের মধ্যে শিশুর জ্বর, সর্দি-কাশি না কমলে এবং জ্বর সাথে যদি শিশুর বেশি বমি হয় বা পাতলা পায়খানা হয়, অনবরত কাঁদতে থাকে, শরীরে গুটি বা দানা দেখা দেয়, খিঁচুনি হয় তাহলে জরুরিভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

প্রয়োজনীয় উপদেশ

  • গরমে শিশুকে নিয়মিত গোসল করাতে হবে এবং ধুলাবালি থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখতে হবে।
  • বাইরে বের হলে শিশুর জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানি সবসময় সাথে রাখতে হবে।
  • ঘেমে গেলে ঘাম মুছে দিতে হবে। শরীরের ঘাম শুকিয়ে গেলে শিশুর ঠান্ডা লাগতে পারে।
  • যতটা সম্ভব শিশুকে সদ্য তৈরি খাবার ও তাজা ফলমূল খাওয়াতে হবে।
  • ত্বক পরিষ্কার রাখতে হবে, যেন র‌্যাশ জাতীয় সমস্যা না হয়।
  • প্রচুর পানি খাওয়াতে হবে, যেন প্রস্রাবের পরিমাণ স্বাভাবিক থাকে।
  • সদ্যজাত শিশুদের সবসময় ঢেকে রাখতে হবে, যেন শরীর উষ্ণ থাকে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন ঘেমে না যায়।
  • গরমের সময় মশা, মাছি, পিঁপড়া ইত্যাদি পোকামাকড়ের প্রকোপ বেড়ে যায়। এগুলো শিশুর অসুস্থতার কারণ হতে পারে। ঘরকে পোকামাকড় মুক্ত রাখতে হবে।
  • গরমের সময় প্রচুর মৌসুমি ফল পাওয়া যায়। মৌসুমি ফল শিশুকে খেতে দিন। জুস করে দিতে পারেন। এতে শিশুর ভিটামিন চাহিদা মিটবে ও শিশুর পুষ্টিরও পূরণ হবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়বে। 

আরও খবর

আজ কলেরার দ্বিতীয় ডোজের টিকা

বুধবার ০৩ আগস্ট ২০২২




রাজধানীর বনানীতে বাস উল্টে পথচারী নিহত

প্রকাশিত:বুধবার ১৩ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

রাজধানীর বনানী কবরস্থান সংলগ্ন ২৩ নম্বর রোডের উল্টোপাশে ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে যাত্রীবাহী বাস উল্টে এক পথচারী নিহত হয়েছেন।

বুধবার (১৩ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বাসটি খুবই বেপরোয়া গতিতে চলছিল।

নিহত পথচারীর নাম রঞ্জু শেখ (৩৫)। তিনি একটি ভবনের সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে চাকরি করতেন। তার বাড়ি রাজবাড়ীতে।

ঘাতক বাসটি জব্দ করা হলেও পালিয়েছেন চালক। বাসটিতে কতজন যাত্রী ছিলেন তা জানা সম্ভব হয়নি।

গুলশান ট্রাফিক জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ট্রাফিক বিভাগের সদস্যদের ডিউটি শুরু হয়েছিল সকাল ৬টায়। কিন্তু তার আগে ঘটনাটি ঘটেছে। আমরা প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি ঘটনাটি আনুমানিক ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঘটেছে।

বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আজম মিয়া বলেন, নিহত রঞ্জু শেখের মরদেহ উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার পর চালক-হেলপার বা অন্য কোনো যাত্রীকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি। এ ঘটনায় আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।


আরও খবর

দল গোছানোর কাজে গতি আনছে আ.লীগ

বুধবার ০৩ আগস্ট ২০২২




সাগরে যাওয়ার আনন্দে জেলেরা

প্রকাশিত:শনিবার ২৩ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ |
Image

টানা ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে বঙ্গোপসাগরে রুপালি ইলিশ শিকারের জন্য নামছে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর উপজেলার কয়েক হাজার জেলে। শুক্রবার (২২ জুলাই) মধ্যরাত থেকে আবার কেউ আজ শনিবার সকাল থেকে সরকারি নিষেধাজ্ঞাকাল কাটিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে গভীর সাগরে ইলিশ শিকারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন।

শুক্রবার মধ্যরাতের পর সাগরে নামার জন্য জেলেদের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। দল বেঁধে গভীর সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। জেলেদের প্রত্যাশা, নিষেধাজ্ঞার ফলে আগের চেয়ে বেশি ইলিশ ধরা পড়বে। এর আগে, ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিনের জন্য মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার।

বড়বাইশদিয়া, মৌডুবী, চালিতাবুনিয়া, চরমোন্তাজসহ রাঙ্গাবালী উপজেলার অর্ধলক্ষাধিক জেলে রয়েছেন। তারা সাগরে যাওয়ার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। শুক্রবার মধ্যরাত কিংবা শনিবার ভোর থেকে মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে দলে দলে গভীর সাগরের দিকে যাত্রা করবেন তারা। জেলেদের সমুদ্রযাত্রার প্রস্তুতির সঙ্গে সঙ্গে রাঙ্গাবালীর মাছের আড়ত, বরফকল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ফিরতে শুরু করেছে প্রাণচাঞ্চল্য।

হাফিজুর রহমান নামে এক জেলে বলেন, ‘মৌসুমের শুরুতেই ৬৫ দিনের অবরোধকালে আমরা মাছ শিকারের জন্য সাগরে নামিনি। দীর্ঘ বিরতির পর আমরা সাগরে মাছ শিকারে যাব। ইলিশ মাছ ধরাই আমাদের একমাত্র পেশা। এ কারণে এত দিন অলস সময় পার করতে হয়েছে। বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় ধারদেনা করে সংসার চালিয়েছি। এখন সমুদ্রে ইলিশ ধরা পড়লে সামনের দিনগুলো ধারদেনা পরিশোধ করতে পারব ইনশাআল্লাহ।’

উপজেলার মৌডুবী ইউনিয়নের জাহাজমারা  সমিতির সভাপতি নজরুল হাওলাদার বলেন, ‘আমাদের জেলেপল্লীতে ৬৫ দিন অলস সময় পার করতে হয়েছে। জেলেরা তাদের জমানো টাকা বসে বসে খেয়েছে। কারণ জেলেরা সাগরের মাছ ধরা ছাড়া অন্য কোনো কাজ করতে পারে না। তাই আমি মনে করি এবার সাগরে ইলিশ মাছ ধরা পড়লে জেলেরা আগের ধারদেনা পরিশোধ করতে পারবে।’

মৎস্য ব্যবসায়ী বনি আমিন ভূঁইয়া বলেন, ‘এত দিনের নিষেধাজ্ঞায় জেলেদের পাশাপাশি আমাদেরও কষ্ট হয়েছে। তবু সেটা আমাদের জন্য অনেক ভালো হয়েছে। কারণ এখন আগের চেয়ে জেলেরো মাছ বেশি পাবেন। আর আমরাও বেশি মাছ বিক্রি করে লাভবান হব।’



আরও খবর

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস

মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২




ইটনায় অবৈধ জালের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৬ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ০৮ আগস্ট ২০২২ |
Image

মুজাহিদ সরকারঃ 

নিরাপদ মাছে ভরবো দেশ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ। জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২২ ইং উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের ইটনায় অবৈধ জালের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাফিসা আক্তার। 

২৬ শে জুলাই মঙ্গলবার সকালে ইটনা উপজেলা নির্বাহি অফিসার নাফিসা আক্তারের নেতৃত্বে ইটনা হাওরে অবৈধ কারেন্ট জাল ও চাইনা জালের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। তখন উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফরিদ আহমদ সহ উপজেলা প্রশাসনের নেতৃবৃন্দ। 

জানা যায়, ইটনা হাওরের মাছ শিকারের সময় জেলেদের কাছ থেকে দুইটা কারেন্ট জাল ও একটা বেড় জাল জব্দ করা হয় এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উপস্থিতিতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। তখন জেলেদের কাউকে নগদ অর্থ জরিমানা করা হয় নাই ও জালের মূল্য আনুমানিক ৬৫-৭০ হাজার টাকা হবে।


আরও খবর



আসলে সত্য মিথ্যা কোনটা ?

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৫ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরীর ফেসবুক থেকে নেয়াঃ

যেটাকে আমরা সত্য ভাবছি সেটা কি আসলেই সত্য? নাকি সত্যের পেছনে সত্য আছে, তার পেছনে আরও সত্য আছে।  সত্যের গভীরতাটা কোথায় গিয়ে ঠেকেছে কেউ কি আমরা জানি।  আমরা চোখ দিয়ে সত্যকে যাচাই করি, মন দিয়ে করি না।  চোখ যে অনেক সময় ধোঁকা দিয়ে থাকে সেটা আমরা অনেক সময় ভেবে দেখি না।  গুণী লোকদের প্রায় বলতে শুনছি এখন তো সত্য নেই, মিথ্যার দাপটে সত্য খুব চাপে আছে।  সত্যের নাকি নিঃশ্বাস বন্ধ হবার মতো অবস্থা। কিংবা মিথ্যার ভয়ে সত্য এমনভাবে লুকিয়েছে যে সত্যকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কি একটা অবস্থা, হয়তো সব সময় এমন ধারণা মানুষই করেছে।  আগেও সত্যকে নিয়ে সন্দেহ অবিশ্বাস ছিল, এখনো আছে।  বদলেছে শুধু সময়, স্থান, কাল পাত্র।  

একটা বিখ্যাত চিত্রকর্মের ভাবার্থ মনে পড়লো।  যেখানে বলা হচ্ছে যেটাকে আমরা সত্য বলে চোখে দেখছি সেটা নাকি সত্য নয়, সত্যের মুখোশ পড়া মিথ্যে।  এ প্রসঙ্গে ফরাসি একজন চিত্রকর জিনলেওন জেরোমের ১৮৮৬ সালে আঁকা বিখ্যাত একটি ছবি he truth is coming out of the well -এর বিষয়বস্তুকে টেনে আনা যায়। উনিশ শতকের একটি লোককথাকে ভিত্তি করে ছবিটি আঁকা হয়েছিল। গল্পটা ছিল এ রকম : একবার সত্য ও মিথ্যা পরস্পরের সঙ্গে দেখা করল কিছু বিষয় মীমাংসার তাগিদে। হাঁটতে হাঁটতে তারা চলে গেল একটা কুয়োর পাশে। মিথ্যা বলল, দেখ, কী পরিষ্কার পানি। চল গোসল করি। বলাবাহুল্য, সত্য বিশ্বাস করেনি মিথ্যার কথা। নিজে পরখ করে দেখল।

 যখন দেখল কুয়োর জল সত্যিই পরিষ্কার তখন মিথ্যার প্রস্তাবে রাজি হলো। দুজনে পোশাক ছেড়ে নেমে পড়ল কুয়োয়। গোসলের মাঝপথে মিথ্যা কুয়ো থেকে উঠে এসে সত্যের পোশাক পরে পালিয়ে গেল। খানিকক্ষণ অপেক্ষা করার পর মিথ্যাকে ফিরতে না দেখে সত্য উঠে এলো কুয়ো থেকে। না, মিথ্যা তো কোথাও নেই, পোশাকও নেই। রাগে অন্ধ হয়ে সত্য বের হলো মিথ্যাকে খুঁজতে কিন্তু নগ্ন সত্যকে দেখে ছি ছি করল সভ্য মানুষ। এমনকি তেড়েও এলো অনেকে। সত্য অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও তাদের বোঝাতে না পেরে রাগে-দুঃখে অপমানে ফের কুয়োয় নেমে গেল। তারপর থেকে সত্যকে আর কখনো কেউ দেখেনি। যাকে দেখেছে কিংবা দেখছে সে সত্যের পোশাক পরা মিথ্যা।

সত্য এখন খুব সস্তা দরে হাট বাজারে  বিক্রি হয়।  হয়তো ভাবতে পারেন এটা কি কখনো সম্ভব।  যেটাই মনে হবে অসম্ভব সেটাই এখন সম্ভব।  টাকা দিয়ে সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য বানানো এখন আর কল্পনা নয় বরং এটাই বাস্তবতা।  এভাবে টাকার কাছে সত্য হারছে।  প্রতিদিন হারছে।  হার না মানা মন নেই, কারণ মানুষগুলোই যে মিথ্যের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।  হারতে হারতে সত্য  কি তবে নির্বাসিত হয়েছে।  কে জানে? সময় হয়তো এর উত্তরটা খুঁজে দেবে।  মিথ্যের কাছে মানুষ বিক্রি হচ্ছে।  

প্রতিদিন এমন বিক্রি হওয়া ক্রীতদাসের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।  বুকে হাত দিয়ে বলুন তো আপনি কি সত্যকে ধারণ করে আছেন নাকি সত্যের মুখোশ পরে মিথ্যের ক্রীতদাসে পরিণত হয়েছেন।  ভয় পাবেন না।  মানুষকে বলার দরকার নেই।  আপনার বিবেককে জিজ্ঞেস করুন।  উত্তরটা হয়তো পেয়েও যেতে পারেন।  মিথ্যের কদর যত বাড়ছে সত্যের মূল্য তত কমছে।  ভাবা যায়।  ভাবতেও লোম খাড়া হয়ে উঠে।  তবুও সেটাই ভাবতে হচ্ছে।  

ধরুন একটা অফিসে সবাই অসৎ।  একজন মাত্র মানুষ রয়েছেন যিনি সৎ থাকতে চান।  অসৎ লোকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে চান।  তিনি কি পারবেন।  সত্যের মুখোশ পরা সব অসৎরা একজোট হয়ে নিজেদের প্রমাণ করবেন সত্যবাদী।  আর সত্যবাদী লোকটা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে হয়ে যাবেন মিথ্যাবাদী।  

অনেক সময় সংখ্যা দিয়ে আমরা সত্যকে মিথ্যে বানিয়ে দেই।  কিন্তু সেটা আসলেই কতটা সত্য তা কখনো খতিয়ে দেখার মতো বিবেচনা শক্তি নিজেদের মধ্যে গড়ে নিতে পারি না। হুমায়ুন আজাদ একটা নিখাদ সত্য কথা বলেছেন, ‘এখানে অসৎরা জনপ্রিয়, সৎ মানুষেরা আক্রান্ত"।  এর সাথে তিনি আরও বলেছেন, সত্য একবার বলতে হয়; সত্য বারবার বললে মিথ্যার মতো শোনায়। মিথ্যা বারবার বলতে হয়; মিথ্যা বারবার বললে সত্য বলে মনে হয়। 

২০০১ সালে সাইকোলজিক্যাল রিভিউয়ে একটি গবেষণাপত্র নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির মনোরোগ বিশেষজ্ঞ জোনাথন হাইড বলেছেন, মানুষ যখন নৈতিক কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তখন মানুষের মধ্যে আবেগের প্রভাবটাই বেশি কাজ করে।  মানুষ কোনো একটি  সিদ্ধান্ত নেবার পর অনেক ধরণের যুক্তি দেখাতে পারে। কিন্তু বাস্তবে বেশিরভাগ সিদ্ধান্ত যুক্তির ভিত্তিতে হয় না। সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয় চোখের পলকে, আর তাতে মুখ্য উপাদান হিসেবে কাজ করে ব্যক্তিগত আবেগ বা চেতনা। 

আবেগ ভালো তবে অতি আবেগ সব সময় ভালো নয়।  কারণ অতি আবেগ সত্যকে দমন করে মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করে।  কারণ সেখানে সবার স্বার্থের চেয়ে নিজের স্বার্থটাই বেশি কাজ করে।  অনেক সময় একপেশে ‘সত্য’ বলার বা দেখানোর কৌশল অবলম্বন করেছে মানুষ।  মনোবিজ্ঞানীরা মানুষের এই কৌশলের নাম দিয়েছেন ‘পল্টারিং’।  মানুষ যখন একটা ভালো কাজ দিয়ে খারাপ কাজটিকে ন্যায়সঙ্গত করার চেষ্টা করে সেটাও ‘পল্টারিং’।  

যেমন দুর্নীতির টাকা দিয়ে কেউ যদি মানুষের চিকিৎসার জন্য একটা হাসপাতাল তৈরি করে দেয়, তবে তার টাকাকে কি সাদা বা সততার টাকা বলা যাবে ? কখনই না।  একটু ভেবে দেখলেই উত্তরটা পেয়ে যাবেন।  মানুষের মিথ্যেকে কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে নিজেকে নীতিমান আর সৎ বানানোর এই কৌশল নতুন নয়, অনেক পুরাতন।  হয়তো আপনার আমার আশপাশের মুখোশ পরা চেনা মুখগুলোর মধ্যে এমন অনেক মানুষ ঘাপটি মেরে বসে আছে।  চারিদিকে তাদের জয় জয়কার হচ্ছে।  কিন্তু পুরোটাই একটা ধোঁকা।  

অনেকে বলে থাকেন সব কিছুই নাকি এখন মিথ্যের শক্তিতে পূর্ণ হয়ে উঠছে।  সত্য প্রতিদিন মার খাচ্ছে, দগ্ধ হচ্ছে, নগ্ন হচ্ছে।  চোখের জলে থমকে দাঁড়াচ্ছে, পথ হারাচ্ছে।  মিথ্যের এতটা শক্তির তাণ্ডবেও আমি এই মিথ্যার সত্যটাকে বিশ্বাস করতে চাই না।  কারণ সততার শক্তি যদি ভিতর থেকেই প্রাণশক্তি নিয়ে উঠে দাঁড়াতে পারে তবে মিথ্যেরা কখনো টিকে থাকতে পারবে না।  আর তা যদি মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে সঞ্চারিত হতে পারে  তবে মিথ্যেরা পরাভূত হবেই হবে।  

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ লেখা কবিতাটির মতো বলে উঠুক সবার মন : আমৃত্যুর দুঃখের তপস্যা এ জীবন, সত্যের দারুণ মূল্য লাভ করিবারে, মৃত্যুতে সকল দেনা শোধ ক'রে দিতে।


আরও খবর

পরাজয় মানুষকে আপন-পর চেনাতে শেখায়

বৃহস্পতিবার ০৪ আগস্ট ২০২২