পচিশ বছর। মিডিয়ার পিচ্ছিল বারান্দায় হাঁটি হাঁটি পা পা করে কেটে গেছে জীবনের এক দীর্ঘ চতুর্থাংশ। এই দীর্ঘ সময়ে কম মুখ তো দেখলাম না! কিন্তু কিছু চরিত্র থাকে, যারা ইতিহাসের পাতায় কোনো অবদানের জন্য নয়, বরং পচা ডোবার জোঁকের মতো শেকড় গেড়ে বসে থাকে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস)-এর বর্তমান নির্বাচন তেমনই এক দুর্গন্ধময় পুকুরে পাথরের ঘা মেরেছে। আর এই পুরো নোংরা নাটকের মূল নায়ক সেই চিরচেনা, কুৎসিত চরিত্রের মানুষ—আবদুর রহমান।
শ্রদ্ধা নামক পবিত্র শব্দটির এর চেয়ে জঘন্য অপব্যবহার পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি হতে পারে না। আমি চশমা পরি না; চোখের দৃষ্টি আমার একদম পরিষ্কার, চারপাশের ভণ্ডামি আর কৃত্রিমতা আমি একদম খোলামেলা চোখেই দেখতে পাই। আর এই খোলা চোখেই তাঁর সাথে জীবনে মোটে দু’বার হাত মেলানোর দুর্ভাগ্যের মুখোমুখি হয়েছি। প্রতিবারই কারণ একটাই—ভোট ভিক্ষা।
সেই হাত মেলানো আর সেই হাসি... সে এক অদ্ভুত পৈশাচিক দৃশ্য। মুখের মাংসপেশিতে জোর করে সেলাই করে বসিয়ে দেওয়া এক কৃত্রিম হাসি। যাকে বলে একেবারে ‘খিঁচ মেরে হাসি’। তাঁর সামনের দুটো দাঁত একটু বড় হওয়ায় আজও রাতের অন্ধকারে ঘুমের ঘোরে হঠাৎ চমকে উঠি।
যাই হোক, এবারও তিনি ছড়ি ঘোরাতে সভাপতি হিসেবে প্যানেল নিয়ে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু একটু অতীতে তাকান, একটু ইতিহাসের পাতা ওল্টান। এই আবদুর রহমান একসময় বাচসাসকে নিজের পৈত্রিক তালুক ভেবেছিলেন। দীর্ঘ বছর ধরে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছিলেন। সংগঠনের বারোটা বাজলেও তিনি কোনো নির্বাচন দেওয়ার নামগন্ধও মুখে আনতেন না। তাঁর এই একচ্ছত্র ক্ষমতার কুৎসিত রাজত্বে ডানহাত হিসেবে সবসময় পাশে থাকত হামিদ মোহাম্মদ জসিম—যাকে মিডিয়াপাড়ার সবাই একবাক্য চেনে ‘কানা জসিম’ নামে।
সংগঠনের গায়ে যখন একের পর এক পেরেক ঠোকা হচ্ছিল, তখন আমাদেরই শ্রদ্ধেয় বড় ভাই সাংবাদিক লিটন এরশাদ, সৈকত সালাউদ্দিন, কামরুল হাসান দর্পণ, ইকবাল করিম নিশান, তুষার আদিত্য ও শপথ চৌধুরী ভাইয়েরা প্রতিবাদে বুক চিতিয়ে না দাঁড়ালে আজ বাচসাসের কংকালটাও খুঁজে পাওয়া যেত না। তাঁদের আপসহীন প্রতিবাদের মুখেই বাধ্য হয়ে তিনি নির্বাচন দিতে সম্মত হয়েছিলেন।
কিন্তু নির্বাচন মানেই তো আর গণতন্ত্র নয়! সেবার আবদুর রহমান ভাই যে নোংরা খেলা খেলেছেন, তা সাংবাদিকতার ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে আছে। কবি বকুল ভাইকে যখন তাঁর বিপরীতে প্যানেল সভাপতি হিসেবে দাঁড় করানো হলো, তখন পর্দার আড়ালে চলল নোংরা টাকার আর ক্ষমতার কুৎসিত খেলা। প্রথম আলোকে ম্যানেজ করে শেষ মুহূর্তে তাঁকে বসিয়ে দেওয়া হলো! আমার সেই বড় ভাই সাংবাদিক নেতার এমন কদর্য নোংরামির কথা জনসমক্ষে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আর এই নোংরা খেলায় তাঁর প্রধান সহায়ক শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছিল চ্যানেল আইয়ের পুরো পরিবার!
এই আবদুর রহমানের একক জিদ ও ক্ষমতার লালসার কারণেই বাচসাস দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছিল। কত মেধাবী আর পরিশ্রমী মুখকে অন্যায়ভাবে বহিস্কার করা হয়েছে কেবল এই একটা মানুষের খামখেয়ালিপনার জন্য।
আজ তিনি আবার সভাপতি পদে দাঁড়িয়েছেন—আল্লাহ মালুম, এবার তিনি এই সংগঠনের কফিনে ঠিক কত ইঞ্চি চওড়া শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন।
সবচেয়ে বড় বেদনাদায়ক ব্যাপার হলো, এই প্যানেলে থাকা মানুষগুলোর অনেকেই আমার আপন ভাই, রক্ত-মাংসের চেনাজানা বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষী। রাহাত সাইফুল আমার দেশীয় ভাই, অসম্ভব ভালো মনের মানুষ এবং অত্যন্ত গোছানো ও সাংগঠনিক প্রাণ। রিমন মাহফুজ ভাই আমার বড় ভাইয়ের মতো ছায়া। মুবিন আমার ছোট ভাই, আর মোস্তফা মতিহার—যাকে নারীকুলের হার্টথ্রব বলা চলে—আমার সেই বন্ধুটি অত্যন্ত পরিশ্রমী ও তুখোড় সাংগঠনিক মানুষ। এই মানুষগুলোর জন্য বুকটা মোচড় দিয়ে ওঠে, কীভাবে তারা এই অন্ধ অপশক্তির বলয়ে বন্দি।
আরে ভাই, সে তো এক জীবন্ত মায়াবী জ্বীন। তাঁর দরকার কেবল ক্ষমতা, সংগঠন রসাতলে যাক বা ছাই হোক তাতে তাঁর কিচ্ছু যায় আসে না। আজ যদি আবার তাঁকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করা হয়, তবে সেটা হবে বাচসাসের কফিনে কেবল শেষ পেরেক মারা নয়—একেবারে চিরকালের জন্য কবর রচনা করা। তাঁর ওই বয়সের ভার আর পচে যাওয়া নীতিহীনতার কথা ভাবলে গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে; মনে হয় সামনে গেলে তাঁর বয়সের কথা ভেবে নয়, বরং পায়ে ধরে ক্ষমা চেয়ে পালিয়ে আসি যে, দয়া করে আমাদের পিছু ছাড়ো। এই প্যানেলে থাকা আমার ভাই-বন্ধুরা যতই ভালো মানুষ হোক না কেন, ওই জিনের দুর্গন্ধময় ছায়ায় তাদের সব আলো ম্লান হয়ে যাচ্ছে।
বাচসাস নির্বচন কার? মানুষের, নাকি কোনো অতৃপ্ত জ্বীনের?
বাচসাস নির্বচন কার? মানুষের, নাকি কোনো অতৃপ্ত জ্বীনের?
পচিশ বছর। মিডিয়ার পিচ্ছিল বারান্দায় হাঁটি হাঁটি পা পা করে কেটে গেছে জীবনের এক দীর্ঘ চতুর্থাংশ। এই দীর্ঘ সময়ে কম মুখ তো দেখলাম না! কিন্তু কিছু চরিত্র থাকে, যারা ইতিহাসের পাতায় কোনো অবদানের জন্য নয়, বরং পচা ডোবার জোঁকের মতো শেকড় গেড়ে বসে থাকে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস)-এর বর্তমান নির্বাচন তেমনই এক দুর্গন্ধময় পুকুরে পাথরের ঘা মেরেছে। আর এই পুরো নোংরা নাটকের মূল নায়ক সেই চিরচেনা, কুৎসিত চরিত্রের মানুষ—আবদুর রহমান। শ্রদ্ধা নামক পবিত্র শব্দটির এর চেয়ে জঘন্য অপব্যবহার পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি হতে পারে না। আমি চশমা পরি না; চোখের দৃষ্টি আমার একদম পরিষ্কার, চারপাশের ভণ্ডামি আর কৃত্রিমতা আমি একদম খোলামেলা চোখেই দেখতে পাই। আর এই খোলা চোখেই তাঁর সাথে জীবনে মোটে দু’বার হাত মেলানোর দুর্ভাগ্যের মুখোমুখি হয়েছি। প্রতিবারই কারণ একটাই—ভোট ভিক্ষা। সেই হাত মেলানো আর সেই হাসি... সে এক অদ্ভুত পৈশাচিক দৃশ্য। মুখের মাংসপেশিতে জোর করে সেলাই করে বসিয়ে দেওয়া এক কৃত্রিম হাসি। যাকে বলে একেবারে ‘খিঁচ মেরে হাসি’। তাঁর সামনের দুটো দাঁত একটু বড় হওয়ায় আজও রাতের অন্ধকারে ঘুমের ঘোরে হঠাৎ চমকে উঠি। যাই হোক, এবারও তিনি ছড়ি ঘোরাতে সভাপতি হিসেবে প্যানেল নিয়ে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু একটু অতীতে তাকান, একটু ইতিহাসের পাতা ওল্টান। এই আবদুর রহমান একসময় বাচসাসকে নিজের পৈত্রিক তালুক ভেবেছিলেন। দীর্ঘ বছর ধরে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছিলেন। সংগঠনের বারোটা বাজলেও
তিনি কোনো নির্বাচন দেওয়ার নামগন্ধও মুখে আনতেন না। তাঁর এই একচ্ছত্র ক্ষমতার কুৎসিত রাজত্বে ডানহাত হিসেবে সবসময় পাশে থাকত হামিদ মোহাম্মদ জসিম—যাকে মিডিয়াপাড়ার সবাই একবাক্য চেনে ‘কানা জসিম’ নামে। সংগঠনের গায়ে যখন একের পর এক পেরেক ঠোকা হচ্ছিল, তখন আমাদেরই শ্রদ্ধেয় বড় ভাই সাংবাদিক লিটন এরশাদ, সৈকত সালাউদ্দিন, কামরুল হাসান দর্পণ, ইকবাল করিম নিশান, তুষার আদিত্য ও শপথ চৌধুরী ভাইয়েরা প্রতিবাদে বুক চিতিয়ে না দাঁড়ালে আজ বাচসাসের কংকালটাও খুঁজে পাওয়া যেত না। তাঁদের আপসহীন প্রতিবাদের মুখেই বাধ্য হয়ে তিনি নির্বাচন দিতে সম্মত হয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচন মানেই তো আর গণতন্ত্র নয়! সেবার আবদুর রহমান ভাই যে নোংরা খেলা খেলেছেন, তা সাংবাদিকতার ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে আছে। কবি বকুল ভাইকে যখন তাঁর বিপরীতে প্যানেল সভাপতি হিসেবে দাঁড় করানো হলো, তখন পর্দার আড়ালে চলল নোংরা টাকার আর ক্ষমতার কুৎসিত খেলা। প্রথম আলোকে ম্যানেজ করে শেষ মুহূর্তে তাঁকে বসিয়ে দেওয়া হলো! আমার সেই বড় ভাই সাংবাদিক নেতার এমন কদর্য নোংরামির কথা জনসমক্ষে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আর এই নোংরা খেলায় তাঁর প্রধান সহায়ক শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছিল চ্যানেল আইয়ের পুরো পরিবার! এই আবদুর রহমানের একক জিদ ও ক্ষমতার লালসার কারণেই বাচসাস দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছিল। কত মেধাবী আর পরিশ্রমী মুখকে অন্যায়ভাবে বহিস্কার করা হয়েছে কেবল এই একটা মানুষের খামখেয়ালিপনার জন্য। আজ তিনি আবার সভাপতি পদে দাঁড়িয়েছেন—আল্লাহ
মালুম, এবার তিনি এই সংগঠনের কফিনে ঠিক কত ইঞ্চি চওড়া শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন। সবচেয়ে বড় বেদনাদায়ক ব্যাপার হলো, এই প্যানেলে থাকা মানুষগুলোর অনেকেই আমার আপন ভাই, রক্ত-মাংসের চেনাজানা বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষী। রাহাত সাইফুল আমার দেশীয় ভাই, অসম্ভব ভালো মনের মানুষ এবং অত্যন্ত গোছানো ও সাংগঠনিক প্রাণ। রিমন মাহফুজ ভাই আমার বড় ভাইয়ের মতো ছায়া। মুবিন আমার ছোট ভাই, আর মোস্তফা মতিহার—যাকে নারীকুলের হার্টথ্রব বলা চলে—আমার সেই বন্ধুটি অত্যন্ত পরিশ্রমী ও তুখোড় সাংগঠনিক মানুষ। এই মানুষগুলোর জন্য বুকটা মোচড় দিয়ে ওঠে, কীভাবে তারা এই অন্ধ অপশক্তির বলয়ে বন্দি। আরে ভাই, সে তো এক জীবন্ত মায়াবী জ্বীন। তাঁর দরকার কেবল ক্ষমতা, সংগঠন রসাতলে যাক বা ছাই হোক তাতে তাঁর কিচ্ছু যায় আসে না। আজ যদি আবার তাঁকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করা হয়, তবে সেটা হবে বাচসাসের কফিনে কেবল শেষ পেরেক মারা নয়—একেবারে চিরকালের জন্য কবর রচনা করা। তাঁর ওই বয়সের ভার আর পচে যাওয়া নীতিহীনতার কথা ভাবলে গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে; মনে হয় সামনে গেলে তাঁর বয়সের কথা ভেবে নয়, বরং পায়ে ধরে ক্ষমা চেয়ে পালিয়ে আসি যে, দয়া করে আমাদের পিছু ছাড়ো। এই প্যানেলে থাকা আমার ভাই-বন্ধুরা যতই ভালো মানুষ হোক না কেন, ওই জিনের দুর্গন্ধময় ছায়ায় তাদের সব আলো ম্লান হয়ে যাচ্ছে।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত