অর্থনীতি ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে জ্বালানি রূপান্তরের আলোচনায় হাইড্রোজেন বর্তমানে একটি আলোচিত বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে। অনেক দেশ জাতীয় হাইড্রোজেন কৌশল গ্রহণ করেছে এবং ইস্পাত, সার ও পরিবহন শিল্পে এর ব্যবহার নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। সিমেন্ট বা রাসায়নিক শিল্পের মতো যে খাতগুলো সরাসরি বিদ্যুৎনির্ভর করা কঠিন, সেখানে কার্বন নিঃসরণ কমাতে পারে হাইড্রোজেন। তবে প্রযুক্তিগত এই বিশাল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে এটি এখনো প্রতিযোগিতায় প্রস্তুত নয়। বিস্তৃত পরিসরে ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই জ্বালানির উৎপাদন ব্যয় এখনো অনেক বেশি.
ঐতিহাসিকভাবে হাইড্রোজেনের বড় অংশই উৎপাদিত হয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লার মতো জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রচলিত পদ্ধতিতে হাইড্রোজেন উৎপাদনের ফলে বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ ঘটে। হাইড্রোজেন মূলত কোনো প্রাথমিক শক্তির উৎস নয়, বরং এটি একটি এনার্জি ক্যারিয়ার বা শক্তি বহনকারী মাধ্যম। পানি থেকে গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদনে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের পাশাপাশি ইলেকট্রোলাইজার, কম্প্রেসর ও সংরক্ষণাগারসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রয়োজন হয়। প্রতিটি ধাপে নতুন যন্ত্রপাতি ও অর্থ বিনিয়োগের কারণে এর সামগ্রিক প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল.
গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হলো এর উচ্চ ব্যয় ও বিপুল বিদ্যুতের ব্যবহার। আধুনিক ইলেকট্রোলাইসিস ব্যবস্থায় এক কেজি হাইড্রোজেন উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়, যার প্রভাব সরাসরি পড়ে উৎপাদন খরচের ওপর। ইউরোপের বিভিন্ন ব্যয় তুলনায় দেখা গেছে, নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করে উৎপাদিত হাইড্রোজেনের খরচ কার্বন ক্যাপচারযুক্ত ব্লু হাইড্রোজেনের দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে। এদিকে সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ এবং ব্যাটারি প্রযুক্তির খরচ গত কয়েক দশকে নাটকীয়ভাবে কমেছে। ফলে কার্বনমুক্ত জ্বালানির বাজারে হাইড্রোজেনের সঙ্গে এই বিকল্প প্রযুক্তিগুলোর তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে.
ইলেকট্রোলাইজার সিস্টেমের মূলধন ব্যয় কিছুটা কমলেও হাইড্রোজেনের চূড়ান্ত উৎপাদন খরচে বিদ্যুতের মূল্য ও স্টোরেজের মতো বিষয়গুলো বড় ভূমিকা রাখে। সোলার প্যানেলের খরচ কমলে তার সুবিধা সরাসরি পাওয়া গেলেও হাইড্রোজেনের পুরো ভ্যালু চেইন তুলনামূলক জটিল। সস্তা নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ পুরো সমস্যার সমাধান নয়, কারণ সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ ২৪ ঘণ্টা সমান হারে উৎপাদিত হয় না। ফলে হাইড্রোজেন প্ল্যান্টের মূলধনী খরচ এবং সার্বিক অর্থনৈতিক সমীকরণ মেটাতে নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। বিভিন্ন সংস্থা আগামীতে খরচ কমার পূর্বাভাস দিলেও, বাস্তবে কাঙ্ক্ষিত ব্যয় হ্রাস অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত হাইড্রোজেন অর্থনীতির মূল দুর্বলতাগুলো থেকেই যাবে।
হাইড্রোজেনের ভবিষ্যৎ: সম্ভাবনা বিপুল, কিন্তু অর্থনীতির পরীক্ষায় এখনো প্রস্তুত নয়
হাইড্রোজেনের ভবিষ্যৎ: সম্ভাবনা বিপুল, কিন্তু অর্থনীতির পরীক্ষায় এখনো প্রস্তুত নয়
অর্থনীতি ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে জ্বালানি রূপান্তরের আলোচনায় হাইড্রোজেন বর্তমানে একটি আলোচিত বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে। অনেক দেশ জাতীয় হাইড্রোজেন কৌশল গ্রহণ করেছে এবং ইস্পাত, সার ও পরিবহন শিল্পে এর ব্যবহার নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। সিমেন্ট বা রাসায়নিক শিল্পের মতো যে খাতগুলো সরাসরি বিদ্যুৎনির্ভর করা কঠিন, সেখানে কার্বন নিঃসরণ কমাতে পারে হাইড্রোজেন। তবে প্রযুক্তিগত এই বিশাল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে এটি এখনো প্রতিযোগিতায় প্রস্তুত নয়। বিস্তৃত পরিসরে ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই জ্বালানির উৎপাদন ব্যয় এখনো অনেক বেশি.ঐতিহাসিকভাবে হাইড্রোজেনের বড় অংশই উৎপাদিত হয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লার মতো জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রচলিত পদ্ধতিতে হাইড্রোজেন উৎপাদনের ফলে বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ ঘটে।
হাইড্রোজেন মূলত কোনো প্রাথমিক শক্তির উৎস নয়, বরং এটি একটি এনার্জি ক্যারিয়ার বা শক্তি বহনকারী মাধ্যম। পানি থেকে গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদনে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের পাশাপাশি ইলেকট্রোলাইজার, কম্প্রেসর ও সংরক্ষণাগারসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রয়োজন হয়। প্রতিটি ধাপে নতুন যন্ত্রপাতি ও অর্থ বিনিয়োগের কারণে এর সামগ্রিক প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল.গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হলো এর উচ্চ ব্যয় ও বিপুল বিদ্যুতের ব্যবহার। আধুনিক ইলেকট্রোলাইসিস ব্যবস্থায় এক কেজি হাইড্রোজেন উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়, যার প্রভাব সরাসরি পড়ে উৎপাদন খরচের ওপর। ইউরোপের বিভিন্ন ব্যয় তুলনায় দেখা গেছে, নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করে উৎপাদিত হাইড্রোজেনের খরচ কার্বন ক্যাপচারযুক্ত ব্লু হাইড্রোজেনের দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে। এদিকে সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ এবং ব্যাটারি প্রযুক্তির খরচ গত কয়েক
দশকে নাটকীয়ভাবে কমেছে। ফলে কার্বনমুক্ত জ্বালানির বাজারে হাইড্রোজেনের সঙ্গে এই বিকল্প প্রযুক্তিগুলোর তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে.ইলেকট্রোলাইজার সিস্টেমের মূলধন ব্যয় কিছুটা কমলেও হাইড্রোজেনের চূড়ান্ত উৎপাদন খরচে বিদ্যুতের মূল্য ও স্টোরেজের মতো বিষয়গুলো বড় ভূমিকা রাখে। সোলার প্যানেলের খরচ কমলে তার সুবিধা সরাসরি পাওয়া গেলেও হাইড্রোজেনের পুরো ভ্যালু চেইন তুলনামূলক জটিল। সস্তা নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ পুরো সমস্যার সমাধান নয়, কারণ সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ ২৪ ঘণ্টা সমান হারে উৎপাদিত হয় না। ফলে হাইড্রোজেন প্ল্যান্টের মূলধনী খরচ এবং সার্বিক অর্থনৈতিক সমীকরণ মেটাতে নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। বিভিন্ন সংস্থা আগামীতে খরচ কমার পূর্বাভাস দিলেও, বাস্তবে কাঙ্ক্ষিত ব্যয় হ্রাস অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত হাইড্রোজেন অর্থনীতির মূল দুর্বলতাগুলো থেকেই যাবে।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত