বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
জাতীয় হামের মধ্যেই চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু
নতুন আতঙ্ক ‘হেমোরেজিক’ রূপ

হামের মধ্যেই চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু

প্রাণঘাতী হামের মধ্যেই চোখ রাঙাচ্ছে এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুজ্বর। প্রতিনিয়ত কেউ না কেউ এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। কিন্তু এবার এই রোগ আরও বেশি বিপজ্জনক হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারণ, সাধারণ ডেঙ্গুর চেয়ে বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে ডেঙ্গুর হেমোরেজিক রূপ।

চিকিৎসকরা বলছেন, যারা আগে একবার আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের দ্বিতীয়বার ভিন্ন ভেরিয়েন্টে সংক্রমণ হলে সেই সংক্রমণ হতে পারে প্রাণঘাতী। এদিকে, সারাদেশে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৭৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বুধবার (১০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১০ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) পাঁচজন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে একজন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) চারজন এবং সিলেট বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজন রয়েছেন।

এছাড়া ৮৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩ হাজার ৬৯৩ জন।

চলতি বছরের এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৯১৭ জন। এর মধ্যে ৬২ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ ও ৩৭ দশমিক ১ শতাংশ নারী। এই বছর ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, দ্বিতীয়বার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও ভাইরাসের মধ্যে জটিল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় অ্যান্টিবডি-ডিপেন্ডেন্ট এনহ্যান্সমেন্ট।

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আহাম্মদ মনজুরুল আজিজ ইমন জানান, জ্বর থাকা, প্লাটিলেট কমে যাওয়া, শরীরে ব্লিডিং এর মেনিফেস্টেশন এবং ফ্লুইড ডিকেড এবিজেন্স থাকা সমস্ত কিছু মিলে বলা হয় হেমোরেজিক ডেঙ্গু। যে প্রথমবার ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়েছে তার যদি দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু হয় এই ধরনের রোগীদের জটিলতা বেশি থাকে।

চলতি মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ কতটা তীব্র হতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে নগর কর্তৃপক্ষের মধ্যেও। তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

ডেঙ্গু শনাক্তকরণ সহজ করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) তাদের পরিচালিত মাতৃসদনগুলোতে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে। একই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ও সচেতনতা কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপই শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি মিশ্র সংক্রমণের ঘটনাও পাওয়া গেছে। বর্তমানে আবহাওয়া ও পরিবেশগত পরিস্থিতির কারণে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। একইসঙ্গে ডেঙ্গুবাহী পূর্ণবয়স্ক মশা ও লার্ভার ঘনত্বও কম রয়েছে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, আগামী কিছুদিনের মধ্যে আবহাওয়ার পরিবর্তন, মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ, থেমে থেমে বৃষ্টিপাত এবং বাতাসের আর্দ্রতা বৃদ্ধি এডিস মশার বংশবিস্তারের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে। ফলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, আমাদের দেশে ডেঙ্গুর চারটি ভ্যারিয়েন্টি উন্মোচিত হয়েছে সেইসঙ্গে মিশ্র ভ্যারিয়েন্ট ও উন্মোচিত হয়েছে। এখন যেই আবহাওয়া ও পরিস্থিতি তাই রোগী কম, ডেঙ্গুবাহী প্রাপ্ত বয়স্ক মশা কম, লার্ভার ঘনত্ব কম। তবে কিছু দিনের মধ্যেই আবহাওয়া বদলালে মৌসুমি বাতাস প্রবেশ করবে সেই সঙ্গে থেমে থেমে বৃষ্টি হবে আর্দ্রতা বাড়বে এই পরিবেশ এডিস মশা বৃদ্ধির জন্য পুরো পারফেক্ট।

তিনি বলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শ ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখামাত্রই পরীক্ষা করতে হবে। আর নগর কর্তৃপক্ষের আহ্বান ঘরের চারপাশ পরিষ্কার রেখে এডিসের বংশবৃদ্ধি রুখতে হবে। সবার সম্মিলিত সচেতনতাই পারে এই ডেঙ্গুর মারাত্মক ঝুঁকি থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করতে।

খুঁজুন