মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলবে বাংলাদেশ : ডি ভিলিয়ার্স রদ্রিকে না পেলেও স্কোয়াড নিয়ে সন্তুষ্ট মরিনহো ট্রাম্পের নতুন শুল্কের পাল্টা পদক্ষেপ ঘোষণা করবে কানাডা সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের পরিবারের মধ্যে চেক বিতরণ জুলাই শহীদ জুবায়েরের বোনের চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী বরগুনায় প্লাস্টিক দূষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সভা শুরুর আগেই ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষ স্মিথের বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিন বিকল বোট থেকে ১৬ জেলেকে উদ্ধার করেছে নৌবাহিনী ভারত সিরিজে আফগানিস্তান দলে ফিরলেন নাভিন ‘কালো দাগ’ মুক্ত সিরিয়া, খুলেছে উন্নয়নের পথ : প্রেসিডেন্ট শারা
ধর্ম জান্নাতুল বাকি: ইতিহাস ও মর্যাদা

জান্নাতুল বাকি: ইতিহাস ও মর্যাদা

জান্নাতুল বাকি, ‘বাকিউল গারকাদ’ নামেও পরিচিত, মদিনা মুনাওয়ারার একটি ঐতিহাসিক কবরস্থান। মসজিদে নববীর পূর্ব দিকে অবস্থিত এই কবরস্থানটি মুসলিম বিশ্বের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও সম্মানিত। এটি মহানবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর পবিত্র হাতে প্রতিষ্ঠিত এবং এখানে তাঁর পরিবারের সদস্য, সাহাবা, তাবেয়ি এবং অসংখ্য মুসলিম ব্যক্তিত্ব সমাহিত আছেন। এই লেখায় জান্নাতুল বাকির ইতিহাস, মর্যাদা, এবং এর সঙ্গে জড়িত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হলো।
কবরস্থানের সূচনা

জান্নাতুল বাকির ইতিহাস শুরু হয় নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর সময়ে। ঐতিহাসিক সূত্রমতে, এই কবরস্থানের জন্য স্থানটি আল্লাহ তাআলার নির্দেশে নির্বাচিত হয়। সর্বপ্রথম এখানে দাফন করা হয় সাহাবি উসমান ইবনে মাজউন (রা.)-কে। তিনি নবী (সা.)-এর দুধভাই ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর নবী (সা.) বলেন, “আমাকে আদেশ দেওয়া হয়েছে তাকে বাকিউল গারকাদে দাফন করার জন্য।” (মুসতাদরাকে হাকিম: ১১/১৯৩)। এই ঘটনার মাধ্যমে জান্নাতুল বাকি কবরস্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীকালে এটি ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হয়ে আজকের বিশাল আকার ধারণ করেছে।

প্রাথমিকভাবে এই স্থানটি ছিল ‘আওসাজ’ নামক কাঁটাযুক্ত ফুলের গাছের বাগান। দাফনের সুবিধার্থে এই গাছগুলো পরে কেটে ফেলা হয়। উসমান ইবনে মাজউন (রা.)-এর পাশে পরবর্তীকালে নবী (সা.)-এর পুত্র ইবরাহিম (রা.)-কে দাফন করা হয়, যা এই কবরস্থানের প্রতি মুসলিমদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেয়।

জান্নাতুল বাকির মর্যাদা অপরিসীম। নবী (সা.) নিজে এই কবরস্থানের প্রতি বিশেষ মমতা ও ভালোবাসা পোষণ করতেন। তিনি প্রায়শই রাতে একাকী এখানে এসে কবরবাসীদের জন্য দোয়া করতেন। 
সমাহিত বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব

জান্নাতুল বাকিতে প্রায় ১০,০০০ সাহাবি সমাহিত আছেন বলে ইমাম মালিক (রহ.) উল্লেখ করেছেন। এছাড়া নবী (সা.)-এর পরিবারের সদস্য, তাবেয়ি, পীর-আউলিয়া এবং অসংখ্য মুসলিম ব্যক্তিত্বের কবর এখানে রয়েছে। কিছু উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব হলেন:
• নবীকন্যা ফাতেমা (রা.)
• তৃতীয় খলিফা ও নবী (সা.)-এর জামাতা উসমান (রা.)
• উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.)
• নবীজির চাচা আব্বাস (রা.)
• নবীপুত্র ইবরাহিম (রা.)
• নবীদৌহিত্র হাসান (রা.)
• নবীকন্যা রোকাইয়া (রা.)
• খলিফা আলী (রা.)
• আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.)
• সাআদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)
• আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)
• নবীজির দুধমা হালিমা সাদিয়া (রা.)
জিয়ারতের সময় ও ব্যবস্থাপনা

জান্নাতুল বাকি ফজর ও আসর নামাজের পর জিয়ারতের জন্য খোলা থাকে। ফজরের পর তিন ঘণ্টা এবং আসরের পর এক ঘণ্টা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। কবরস্থানটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং নিরাপত্তাকর্মীরা দর্শনার্থীদের প্রতি আন্তরিক। বর্তমানে কবরস্থানের সম্মুখভাগে নতুন কবর দেওয়া হয় না, কারণ এখানে সাহাবাদের কবর রয়েছে। তবে মদিনাবাসী এবং হজ পালনকারীদের মৃত্যু হলে তাদের এখানে দাফন করা হয়।

সৌদি সরকার জান্নাতুল বাকি দুইবার সংস্কার করেছে। প্রথম সংস্কার হয় বাদশাহ ফয়সাল বিন আবদুল আজিজের সময়। এ সময় কবরস্থানের উত্তর দিকে সম্প্রসারণ করা হয় এবং ছয় হাজার মিটার ভূমি যুক্ত করা হয়। পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হয় যাতে বৃষ্টির মৌসুমে দর্শনার্থীদের অসুবিধা না হয়। দ্বিতীয় সংস্কার হয় বাদশাহ ফাহাদের আমলে। এ সময় আশপাশের মহল্লা ও সড়ক কবরস্থানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্তমানে কবরস্থানটি ১,৭২৪ মিটার দীর্ঘ মর্মর পাথরের দেয়াল ও লোহার জালি দিয়ে ঘেরা। মৃতদের গোসল ও কাফনের জন্যও এখানে আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে।

উসমানি খিলাফতের সময় সাহাবাদের কবরে গম্বুজ ও স্থাপনা ছিল। তবে ওয়াহাবি আন্দোলনের পর সৌদি কর্তৃপক্ষ এগুলো অপসারণ করে কবরগুলো মাটির সঙ্গে সমান করে দেয়। বর্তমানে কোনো কবরে নামফলক নেই, তাই কোন কবর কার তা চিহ্নিত করা সম্ভব নয়। জান্নাতুল বাকি শুধু একটি কবরস্থান নয়, বরং এটি ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের একটি জীবন্ত প্রতীক। এখানে সমাহিত ব্যক্তিদের প্রতি নবী (সা.)-এর ভালোবাসা এবং কিয়ামতের দিন তাঁদের সান্নিধ্য লাভের প্রতিশ্রুতি এই কবরস্থানকে মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র করে তুলেছে। মদিনা মুনাওয়ারায় গিয়ে জান্নাতুল বাকি জিয়ারত করা মুসলিমদের জন্য একটি আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা, যা তাদের ঈমানকে আরও দৃঢ় করে।

খুঁজুন