প্রায় এক যুগ আগে আব্বাস ছিলেন কম্বোডিয়ার খেমার জনগোষ্ঠীর একজন সাধারণ মানুষ।মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ রহ.-এর হাত ধরে সেদিন তাঁর জীবনে যে পরিবর্তন এসেছিল, গতকাল মদিনা খানকার মাহফিলে দাঁড়িয়ে তিনি সেই স্মৃতিই তুলে ধরলেন—শুধু নিজের জীবনের নয়, খানকা ও মসজিদ কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ৩৫টি নওমুসলিম পরিবারের, ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনে ঘটে যাওয়া ইতিবাচক পরিবর্তনেরও। তাঁদের এই বদলে যাওয়া জীবনযাত্রা দেখে আশপাশের আরও অনেক মানুষ ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নিতে আগ্রহী হচ্ছেন—এই কথাগুলোই ছিল দিনের অন্যতম হৃদয়স্পর্শী মুহূর্ত।
এই আবেগঘন স্মৃতিচারণ ছিল খাস মোজাদ্দেদিয়া তরিকার কম্বোডিয়ার মদিনা খানকায় প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠিত পবিত্র মিলাদুন্নবী মাহফিলের একটি বিশেষ মুহূর্ত।
অনুষ্ঠানের শুরুতে নওমুসলিম শিশু-কিশোররা পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করে। ছোট ছোট শিশুদের কণ্ঠে কোরআন তেলাওয়াত মাহফিলের পরিবেশকে আরও আবেগঘন ও হৃদয়স্পর্শী করে তোলে। কোরআন তেলাওয়াতকারী ও মাহফিলে অংশগ্রহণকারী ৪০ জন শিশু-কিশোরকে উৎসাহ ও ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে চকলেট উপহার দেওয়া হয়।
এরপর কম্বোডিয়ান ও বাংলাদেশি মুসলিমরা প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ এর শানে নাতে রাসূল পরিবেশন করেন। মাহফিলে মদিনা খানকার প্রতিষ্ঠাতা, কবি, লেখক ও ইসলামী চিন্তাবিদ মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ রহ.-এর কম্বোডিয়ায় হিজরতের জীবন, দাওয়াতি কার্যক্রম এবং ইসলামের খেদমতে তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
মাহফিলে অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই নওমুসলিম। তবে তাঁদের পোশাক-পরিচ্ছদ, আচরণ ও ধর্মীয় অনুশীলনে ইসলামী জীবনধারার প্রতি আন্তরিক অনুরাগ ও অনুসরণ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। পুরুষ কিংবা নারী, শিশু কিংবা কিশোর—সবার মধ্যেই ধর্মীয় রীতি-নীতির প্রতি সচেতনতা দেখে আমি গভীরভাবে মুগ্ধ হয়েছি।
মাহফিলে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সাওসল, মুসলিম কমিউনিটির অন্যতম নেতা মোহাম্মদ সোলায়মান, প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইমাম হোসাইন, মশিউর রহমান ও মোহাম্মদ ইয়াসিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য মুসলিম ও নওমুসলিমগণ।
মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া—এই পবিত্র মাহফিলে একজন উপস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাওয়াও আমার জন্য বিশেষ সৌভাগ্য ও আনন্দের বিষয়।
সবশেষে খাস মোজাদ্দেদিয়া তরিকার প্রধান খলিফা মোহাম্মদ শামীম আখতার মা. আ. সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন। তাঁর বক্তব্য ও মোনাজাতের মাধ্যমে মাহফিলের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
আর দিনের সবচেয়ে আনন্দময় ও স্মরণীয় ঘটনা ছিল—তাঁরই মাধ্যমে ৬ জন স্থানীয় ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করেন।
পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে আরও ১৩ জন ইসলাম গ্রহণ করেন।
আলহামদুলিল্লাহ।
কম্বোডিয়ার মাটিতে প্রিয় নবী এর ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে কোরআন তেলাওয়াত, নাতে রাসূল আলোচনা ও দোয়া—আর দিনের শেষ প্রান্তে ৬ জন মানুষের ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নেওয়া—সমগ্র দিনটিকে সত্যিই স্মরণীয় করে রাখবে।
আল্লাহ তাআলা নবাগত মুসলিমদের ঈমানের ওপর অটল রাখুন, তাঁদের বাহ্যিক ও আত্মিক জীবনকে আরও সুন্দর করুন এবং আমাদের আধ্যাত্মিক শিক্ষক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ র. এর শুর করা পরিশুদ্ধতার আমন্ত্রণ ও মানবিক কার্যক্রমকে বর্তমান হুজুরের মাধ্যমে আরও বিস্তৃত করুন। আমিন।
কম্বোডিয়ার মদিনা খানকায় মিলাদুন্নবী মাহফিল
কম্বোডিয়ার মদিনা খানকায় মিলাদুন্নবী মাহফিল
প্রায় এক যুগ আগে আব্বাস ছিলেন কম্বোডিয়ার খেমার জনগোষ্ঠীর একজন সাধারণ মানুষ।মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ রহ.-এর হাত ধরে সেদিন তাঁর জীবনে যে পরিবর্তন এসেছিল, গতকাল মদিনা খানকার মাহফিলে দাঁড়িয়ে তিনি সেই স্মৃতিই তুলে ধরলেন—শুধু নিজের জীবনের নয়, খানকা ও মসজিদ কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ৩৫টি নওমুসলিম পরিবারের, ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনে ঘটে যাওয়া ইতিবাচক পরিবর্তনেরও। তাঁদের এই বদলে যাওয়া জীবনযাত্রা দেখে আশপাশের আরও অনেক মানুষ ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নিতে আগ্রহী হচ্ছেন—এই কথাগুলোই ছিল দিনের অন্যতম হৃদয়স্পর্শী মুহূর্ত। এই আবেগঘন স্মৃতিচারণ ছিল খাস মোজাদ্দেদিয়া তরিকার কম্বোডিয়ার মদিনা খানকায় প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠিত পবিত্র মিলাদুন্নবী মাহফিলের একটি বিশেষ মুহূর্ত। অনুষ্ঠানের শুরুতে নওমুসলিম শিশু-কিশোররা পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করে। ছোট ছোট শিশুদের কণ্ঠে কোরআন তেলাওয়াত মাহফিলের পরিবেশকে আরও আবেগঘন ও হৃদয়স্পর্শী করে তোলে। কোরআন তেলাওয়াতকারী ও মাহফিলে অংশগ্রহণকারী ৪০ জন শিশু-কিশোরকে উৎসাহ
ও ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে চকলেট উপহার দেওয়া হয়। এরপর কম্বোডিয়ান ও বাংলাদেশি মুসলিমরা প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ এর শানে নাতে রাসূল পরিবেশন করেন। মাহফিলে মদিনা খানকার প্রতিষ্ঠাতা, কবি, লেখক ও ইসলামী চিন্তাবিদ মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ রহ.-এর কম্বোডিয়ায় হিজরতের জীবন, দাওয়াতি কার্যক্রম এবং ইসলামের খেদমতে তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। মাহফিলে অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই নওমুসলিম। তবে তাঁদের পোশাক-পরিচ্ছদ, আচরণ ও ধর্মীয় অনুশীলনে ইসলামী জীবনধারার প্রতি আন্তরিক অনুরাগ ও অনুসরণ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। পুরুষ কিংবা নারী, শিশু কিংবা কিশোর—সবার মধ্যেই ধর্মীয় রীতি-নীতির প্রতি সচেতনতা দেখে আমি গভীরভাবে মুগ্ধ হয়েছি। মাহফিলে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সাওসল, মুসলিম কমিউনিটির অন্যতম নেতা মোহাম্মদ সোলায়মান, প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইমাম হোসাইন, মশিউর রহমান ও মোহাম্মদ ইয়াসিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য মুসলিম ও নওমুসলিমগণ। মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া—এই পবিত্র মাহফিলে একজন উপস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাওয়াও আমার
জন্য বিশেষ সৌভাগ্য ও আনন্দের বিষয়। সবশেষে খাস মোজাদ্দেদিয়া তরিকার প্রধান খলিফা মোহাম্মদ শামীম আখতার মা. আ. সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন। তাঁর বক্তব্য ও মোনাজাতের মাধ্যমে মাহফিলের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। আর দিনের সবচেয়ে আনন্দময় ও স্মরণীয় ঘটনা ছিল—তাঁরই মাধ্যমে ৬ জন স্থানীয় ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে আরও ১৩ জন ইসলাম গ্রহণ করেন। আলহামদুলিল্লাহ। কম্বোডিয়ার মাটিতে প্রিয় নবী এর ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে কোরআন তেলাওয়াত, নাতে রাসূল আলোচনা ও দোয়া—আর দিনের শেষ প্রান্তে ৬ জন মানুষের ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নেওয়া—সমগ্র দিনটিকে সত্যিই স্মরণীয় করে রাখবে। আল্লাহ তাআলা নবাগত মুসলিমদের ঈমানের ওপর অটল রাখুন, তাঁদের বাহ্যিক ও আত্মিক জীবনকে আরও সুন্দর করুন এবং আমাদের আধ্যাত্মিক শিক্ষক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ র. এর শুর করা পরিশুদ্ধতার আমন্ত্রণ ও মানবিক কার্যক্রমকে বর্তমান হুজুরের মাধ্যমে আরও বিস্তৃত করুন। আমিন।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত