মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
কমিশন বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ: বিআরটিসির ডিজিএম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুদকে আবেদন • ইন্দোনেশিয়ায় ২ গণ্ডারের গর্ভধারণে বিপন্ন প্রজাতি রক্ষায় নতুন আশার আলো • যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণ কাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ • আইনজীবী ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসনের ঝুঁকিতে অভিবাসী শিশুরা • অনলাইন জালিয়াতি দমনে ফিলিপাইনে ২৪৪ বিদেশি কর্মী আটক • সেভর ইন্টারন্যাশনাল পেল ‘বর্ষসেরা মাইস উদ্যোগ ২০২৬’ পুরস্কার • মানব দেহের ভেতরে ২৮ হরফের গুপ্ত নকশা • প্রাণীর কল্যাণ নিশ্চিতে চসিক ও সিভাসু যৌথভাবে কাজ করবে : চসিক মেয়র • যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেবে না : ট্রাম্প • বরিশালে ৯০ কেজি গাঁজাসহ ১ ব্যক্তি গ্রেপ্তার
আইন আদালত কমিশন বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ: বিআরটিসির ডিজিএম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুদকে আবেদন

কমিশন বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ: বিআরটিসির ডিজিএম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুদকে আবেদন

 বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) ডিজিএম (ভারপ্রাপ্ত-নির্মাণ) মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, কমিশন বাণিজ্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে তদন্তের আবেদন করা হয়েছে। রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি সম্প্রতি এ অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মো. মনিরুজ্জামান ১৯৯৯ সালে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে বিআরটিসিতে যোগদান করেন। পরে ২০০৩ সালে সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার এবং পরবর্তীতে ম্যানেজার (কারিগরি) পদে জাতীয়করণ হন। চাকরির প্রথম এক দশকে তিনি তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন এবং বিভিন্ন ডিপো ও ওয়ার্কশপে দায়িত্ব পালন করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৯ সালের জুলাই থেকে ২০১৩ সালের মার্চ পর্যন্ত তেজগাঁও কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানার ডিজিএম হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিপুল অঙ্কের আর্থিক অনিয়মে জড়িত ছিলেন। অভিযোগকারীর দাবি, কারখানার যন্ত্রাংশ ক্রয় ও অন্যান্য ব্যয়ের ক্ষেত্রে কমিশন গ্রহণের মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকার অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।

পরে নারায়ণগঞ্জ বাস ডিপো এবং কল্যাণপুর বাস ডিপোতে দায়িত্ব পালনকালের সময়ও বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা গ্রহণ ও অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ডিপোগুলোর আর্থিক অবস্থার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধির অসঙ্গতি রয়েছে।

এছাড়া ২০২৩ সালে প্রধান কার্যালয়ে ডিজিএম (ওয়ার্কস) হিসেবে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পাওয়ার পর অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজে অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ অডিট এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, কল্যাণপুর ডিপোর একটি অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ক্যাশিয়ারের বিরুদ্ধে মামলা ও সাজা হলেও মনিরুজ্জামানের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আসেনি। পাশাপাশি জোয়ারসাহারা ডিপো, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও নির্মাণ বিভাগে দায়িত্ব পালনের সময় অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও তোলা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিআরটিসির চেয়ারম্যান মো. আব্দুল লতিফ মোল্লা বলেন, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রতিষ্ঠান তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বিআরটিসিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অভিযোগগুলো সত্য হলে তা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক শৃঙ্খলা ও সুশাসনের জন্য ক্ষতিকর। তিনি দ্রুত ও স্বাধীন তদন্তের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সচিব ড. মো. শফিকুল আলম বলেন, বিআরটিসির মতো জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির অভিযোগ জনগণের অর্থের অপচয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। তার মতে, শক্তিশালী অডিট ব্যবস্থা ও কার্যকর নজরদারি ছাড়া এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করা কঠিন।

অন্যদিকে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি দুদকে উত্থাপিত হয়েছে, তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করবে। এ বিষয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

খুঁজুন