রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে "ট-র্চা-র সেল"! • রংপুরে মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার - ৯টি • বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-৪-এ ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ, দালালদের মাধ্যমে দ্রুত সেবা পাওয়ার দাবি • বিশ্ব ডিম দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে বিএলআরআইতে বর্ণাঢ্য আয়োজন • ঘুষ ছাড়া মেলে না সেবা নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ • সোনাইমুড়ীর সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হকের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ • বিএনপি সরকারের সাত মাসে ৩২ কূপ খনন, যুক্ত হচ্ছে প্রায় ১৪৮ এমএমসিএফ গ্যাস • ঢাকার বস্তিতে যক্ষ্মা স্ক্রিনিংয়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার ডলার দেবে জাপান • আবেগ, অশ্রুতে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে মেসির বিদায় • কমিশন বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ: বিআরটিসির ডিজিএম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুদকে আবেদন
ধর্ম কুরাইশ বংশে জন্ম নিলেন এক শিশু

কুরাইশ বংশে জন্ম নিলেন এক শিশু

আরবের আকাশে তখনো ভোর হয়নি। অন্ধকার শুধু রাতের নয়, ছায়া হয়ে নেমে এসেছিল মানুষের হৃদয়ে। গোত্রের অহংকারে ভাঙা ছিল সমাজের বন্ধন, শক্তিশালীরা দুর্বলকে গিলে খেত অনায়াসে। 

নারী ছিল অবমাননার প্রতীক, কন্যাশিশু জন্ম নিলেই মাটির নিচে চাপা পড়ত। দাসেরা মানুষ হিসেবে নয়, পণ্য হিসেবে গণ্য হতো। মূর্তির সামনে মানুষ নতজানু, অথচ মানবতার সামনে কেউ নত হতে জানত না। চারদিকে এক গাঢ় আঁধার—যেন মরুর অনন্ত ধূলিঝড় গ্রাস করে নিয়েছে আশার আলো। 

ঠিক তখনই, ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের রবিউল আউয়ালের এক ভোরে, মক্কার সম্মানিত কুরাইশ বংশে জন্ম নিলেন এক শিশু। নাম রাখা হলো মুহাম্মদ—“প্রশংসিত।” জন্মের আগেই পিতাকে হারালেন তিনি; ছয় বছর বয়সে মায়ের স্নেহও চলে গেল। 

এতিমের নিঃসঙ্গতা তার জীবনের সঙ্গী হলো, তবুও সেই একাকীত্ব তাকে ভেঙে দিল না, বরং গড়ে তুলল মানবতার গভীরতায় সিক্ত এক মমতাময় হৃদয়। 

দাদা আব্দুল মুত্তালিব, পরে চাচা আবু তালিবের স্নেহে বড় হতে হতে শিশুটি নিজেকে আলাদা করে তুললেন। ভেড়া চরাতে চরাতে কিংবা ব্যবসার কাজে মানুষের সঙ্গে মিশতে মিশতে তিনি প্রমাণ করলেন—সত্যবাদিতা কোনো শব্দ নয়, বরং জীবনের মূল ভিত্তি। তার সততা এতটাই দীপ্তিমান হয়ে উঠল যে, মক্কার মানুষ তাকে নাম দিল “আল-আমিন” বা অতুলনীয় বিশ্বস্তজন। 

যৌবনে তিনি ব্যবসার কাজে বের হলেন, আর তার সততা নজরে পড়ল ধনী ব্যবসায়ী নারী খদিজার। তিনি শুধু তার কাজে মুগ্ধ হলেন না, বরং তাকে জীবনসঙ্গী করে নিলেন। এভাবেই মুহাম্মদ পেলেন জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শান্তির ছায়া। 

কিন্তু চারপাশের অমানবিকতা তাকে শান্ত থাকতে দিল না। রাতের পর রাত তিনি হারিয়ে যেতেন মক্কার উপকণ্ঠের হেরা গুহায়। পাহাড়ের নীরবতায় বসে ভাবতেন—কেন এত অন্যায়? কেন এত অবিচার? কোথায় মানবতার মুক্তি?

খুঁজুন