সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
কয়েকদিনের মধ্যেই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা আগামী অর্থবছরে ৮ বিভাগীয় ক্যান্সার হাসপাতাল চালুর আশাবাদ স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর টেকসই উন্নয়নে পরিবেশ সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভারসাম্য জরুরি: পরিবেশমন্ত্রী পরিকল্পিতভাবে জাকাত ব্যবস্থাপনা দারিদ্র্য দূরীকরণে সহায়ক হতে পারে: ধর্মমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়েই যুগোপযোগী করা হবে কোম্পানি আইন : বাণিজ্যমন্ত্রী শেখ হাসিনা-শেখ রেহানাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ২৯ অক্টোবর নিম্নমানের শিশু খাদ্যসহ নানা অনিয়ম, চাঁদপুরে ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা ডিএমপি মতিঝিল বিভাগের অভিযানে ৭৫ জন গ্রেফতার ফেনী কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে বই উৎসব ব্যাটিং ব্যর্থতায় শ্রীলংকার কাছে হারল বাংলাদেশ
দেশের খবর কয়েকদিনের মধ্যেই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা

কয়েকদিনের মধ্যেই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা

 সরকারি উদ্যোগ ও বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস আমদানির ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দেশে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর  অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

আজ রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘এনার্জি সিকিউরিটি ইন বাংলাদেশ : ফ্রম ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট টু এ রেজিলেন্ট এনার্জি ট্রানজিশন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ড. তিতুমীর বলেন, বর্তমান সরকার যখন দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল। আর্থিকভাবে এ খাত তীব্র সংকটে ভুগছিল এবং কৌশলগতভাবেও কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা ছিল না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আজকের যে পরিস্থিতি, তাতে পূর্বতন নীতিমালার মাধ্যমে আমাদের একটি প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ফাঁদে ফেলা হয়েছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকার কৌশলগতভাবে দেশের জ্বালানি খাতকে চরম আমদানিনির্ভর করে গড়ে তুলেছিল। বর্তমান জ্বালানি সংকট বাংলাদেশের জনগণ, শিল্প খাত ও সার্বিক বিনিয়োগের ওপর পরিকল্পিতভাবে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ ‘জ্বালানি মিশ্রণ’-এর দিকে এগিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেন উপদেষ্টা।

তিনি জানান, জাতীয় পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে সরকার নতুন এলএনজি অবকাঠামো নির্মাণ, পাইপলাইন সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন এবং দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন কূপ খননসহ বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়ে অধ্যাপক ড. তিতুমীর স্পষ্ট করে বলেন, শতভাগ আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরই কেবল কেন্দ্রটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালে এটি সম্পূর্ণ কার্যক্ষম হতে পারবে। “যেকোনো মূল্যে সবার আগে আমরা সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই,” বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, ভিএলসি কার্গোতে সরাসরি গ্যাস আমদানি করা সম্ভব হলে দেশে এলপিজির দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। বিগত সরকার সব ক্ষেত্রে অলিগার্ক (স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী)-দের প্রতিষ্ঠিত করে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি পর্যায়ে গ্যাস আমদানির নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে খোলা বাজারে এলপিজির মূল্য নিশ্চিতভাবেই সাধারণ মানুষের নাগালে আসবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি নীতিসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত কখনো স্বল্পমেয়াদি চিন্তা থেকে নেওয়া উচিত নয়; বরং জাতীয় স্বার্থ, দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয় বিবেচনা করেই এসব নীতি নির্ধারণ করতে হবে।

জ্বালানি নিরাপত্তার প্রকৃত অর্থ হলো- সহজলভ্য, নির্ভরযোগ্য ও ক্রমবর্ধমান পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা মন্তব্য করে ড. তিতুমীর বলেন, একই সঙ্গে এমন একটি স্থিতিস্থাপক অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যা অস্থিতিশীল আর্থিক পরিস্থিতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ এবং বৈচিত্র্যময় বহিঃখাতের ভারসাম্যে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।

সেমিনারে বিআইআইএসএস-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমান, এসটেক্স ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মনজুর আলম প্রধানসহ খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

খুঁজুন