সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
টেকসই উন্নয়নে পরিবেশ সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভারসাম্য জরুরি: পরিবেশমন্ত্রী পরিকল্পিতভাবে জাকাত ব্যবস্থাপনা দারিদ্র্য দূরীকরণে সহায়ক হতে পারে: ধর্মমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়েই যুগোপযোগী করা হবে কোম্পানি আইন : বাণিজ্যমন্ত্রী শেখ হাসিনা-শেখ রেহানাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ২৯ অক্টোবর নিম্নমানের শিশু খাদ্যসহ নানা অনিয়ম, চাঁদপুরে ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা ডিএমপি মতিঝিল বিভাগের অভিযানে ৭৫ জন গ্রেফতার ফেনী কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে বই উৎসব ব্যাটিং ব্যর্থতায় শ্রীলংকার কাছে হারল বাংলাদেশ বৃক্ষরোপণ শেষে নারী চালকের রিকশায় চড়লেন বিসিসি প্রশাসক শিরীন সাইফুর রহমান শুধু বিএনপির গৌরব নন, জাতির সম্পদ: রুহুল কবির রিজভী
দেশের খবর টেকসই উন্নয়নে পরিবেশ সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভারসাম্য জরুরি: পরিবেশমন্ত্রী

টেকসই উন্নয়নে পরিবেশ সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভারসাম্য জরুরি: পরিবেশমন্ত্রী

টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরিবেশ সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা অপরিহার্য বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

তিনি বলেন, “পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা মোকাবিলায় দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে আধুনিক প্রযুক্তি, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং সফল অভিজ্ঞতা বিনিময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”

আজ সচিবালয়ে পরিবেশ মন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে সুন্দরবনের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের আওতায় গঠিত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের পরবর্তী সভা এবং রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার সংরক্ষণে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রোটোকলের ধারাবাহিকতায় পরবর্তী দ্বিপক্ষীয় সভা দ্রুত বাংলাদেশে আয়োজনের বিষয়ে দুপক্ষই একমত পোষণ করেন।

বৈঠকে আন্তঃসীমান্ত এশীয় হাতি সংরক্ষণে পরবর্তী দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ভারতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ ছাড়া পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, আন্তঃসীমান্ত পরিবেশগত ঝুঁকি, কার্বন ক্রেডিট, ক্ষতিকর কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং সবুজ অর্থনীতির (গ্রিন ইকোনোমি) বিকাশ নিয়ে ফলপ্রসূ মতবিনিময় হয়।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ ও ভারত নিকট প্রতিবেশী হওয়ায় দুই দেশের পরিবেশ, নদী ও প্রতিবেশগত স্বার্থ পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যা, খরা, আন্তঃসীমান্ত নদী ও জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা, বিপজ্জনক বায়ুদূষণ এবং জীববৈচিত্র্েযর অবক্ষয়ের মতো সংকটগুলো কেবল কোনো একক ভৌগোলিক সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়। এসব চ্যালেঞ্জ সামলাতে পারস্পরিক আস্থা, উপাত্ত আদান-প্রদান এবং কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা জরুরি।

বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে ইতিবাচক ও গঠনমূলক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী উল্লেখ করে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের জনগণের কল্যাণ ও টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে।

সাক্ষাৎকালে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম সুন্দরবনসহ বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন প্রতিবেশগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে যৌথ উদ্যোগের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, “সুন্দরবন দুই দেশেরই অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ, যা ভয়াবহ জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা বলয় হিসেবে কাজ করে। এর প্রতিবেশ ও ঐতিহ্য রক্ষায় যৌথ গবেষণা, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা অভিজ্ঞতা বিনিময় আরও বাড়ানো প্রয়োজন।”

বৈঠকে আন্তঃসীমান্ত বায়ুদূষণ ও নদীদূষণ নিরসনে বৈজ্ঞানিক তথ্য আদান-প্রদান, সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং কার্যকর সমন্বয় প্রবর্তনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের মানুষের কল্যাণ ও পারস্পরিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে পরিবেশ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথভাবে কাজ করার সম্ভাবনার কথা তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যকার প্রথাগত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

খুঁজুন