মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় তেলের দাম ফের বেড়েছে। এর প্রভাবে বিনিয়োগকারীরা সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আরও বেশি সতর্ক হয়ে উঠেছেন। এ অবস্থায় শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে এবং সরকারি বন্ডের সুদ কয়েক দশকের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
অপরিশোধিত তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। হরমুজ প্রণালীতে ইরানের একটি দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালানোর পর পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
কয়েক সপ্তাহের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর নতুন করে সামরিক উত্তেজনা শুরু হলো। ওই সময়ে শান্তি আলোচনা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই থেমে যায় এবং ওয়াশিংটন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর ‘অর্থনৈতিক ভাবে শ্বাসরোধ’ করার অভিযান চালানোর লক্ষ্য ঘোষণা করে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। আপাতত এ নৌপথ বন্ধ থাকার আশঙ্কা থাকায় জ্বালানির দাম শিগগির কমার সম্ভাবনাও কম। ফলে, বিশ্ববাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
এর সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সরকারি ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ এবং করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপুল পরিমাণ ঋণপত্র বিক্রির চাপ যোগ হওয়ায় সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা বেড়েছে। এতে সরকারের ঋণ নেওয়ার খরচও বাড়ছে।
যুক্তরাজ্যের ৩০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদ ১৯৯৮ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। দেশটির ১০ বছর মেয়াদি সরকারি ঋণের সুদও ২০০৭-০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময়ের পর্যায়ে রয়েছে।
জাপানের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদ ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদও ২০০৭ সালের সর্বোচ্চ মাত্রার কাছাকাছি রয়েছে। দেশটির ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদও আর্থিক সংকটের সময়কার পর্যায়ে উঠেছে।
গামা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের রাজীব দে মেলো বলেন, ‘বন্ডের সুদ এমনিতেই বাড়ছিল। এর মধ্যে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা এবং তেলের দামের ওপর এর প্রভাব বিনিয়োগকারীদের বন্ড নিয়ে আরও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান পর্যায়ের সুদ এশিয়ার শেয়ারবাজারের জন্য স্পষ্টতই চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ওপর নির্ভরশীল প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’
এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে। কম সুদের হারের ওপর নির্ভর করে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দর কমে যাওয়ায় টোকিও ও সিউলের বাজারে বড় চাপ তৈরি হয়েছে।
হংকং, সাংহাই, সিডনি, সিঙ্গাপুর, ওয়েলিংটন, তাইপে ও ম্যানিলার শেয়ারবাজারেও উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে।
এর আগে ওয়াল স্ট্রিটের তিনটি প্রধান সূচকেই দরপতন হয়েছিল।
আগামী এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি তথ্য প্রকাশিত হবে। এসব তথ্য আগামী দুই সপ্তাহ পর ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী বৈঠকে সুদের হার বাড়ানো হবে কি না, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, বাজারে বর্তমানে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৭০ শতাংশ ধরে নেওয়া হচ্ছে।
ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর মাইকেল বারও সুদের হার বাড়ার প্রত্যাশা জোরদার করেছেন। তিনি বলেছেন, মূল্যস্ফীতি যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে অনড় থাকে, তাহলে নীতিনির্ধারকদের সুদের হার বাড়ানোর জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত।
তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘তথ্য-উপাত্তের প্রবণতা যদি আমাকে এ বিষয়ে আস্থা দেয় যে মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের দিকে কমছে, তাহলে আমাদের নীতিগত অবস্থান মূল্যায়নের জন্য আরও কিছুটা সময় নেওয়া যেতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে মূল্যস্ফীতি যথেষ্ট কমছে না বলে মনে হলে আমাদের দ্রুত ও দৃঢ়ভাবে সুদের হার বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ায় এশিয়ার শেয়ারবাজারে পতন, বেড়েছে তেলের দাম
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ায় এশিয়ার শেয়ারবাজারে পতন, বেড়েছে তেলের দাম
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় তেলের দাম ফের বেড়েছে। এর প্রভাবে বিনিয়োগকারীরা সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আরও বেশি সতর্ক হয়ে উঠেছেন। এ অবস্থায় শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে এবং সরকারি বন্ডের সুদ কয়েক দশকের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। অপরিশোধিত তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। হরমুজ প্রণালীতে ইরানের একটি দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালানোর পর পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। কয়েক সপ্তাহের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর নতুন করে সামরিক উত্তেজনা শুরু হলো। ওই সময়ে শান্তি আলোচনা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই থেমে যায় এবং ওয়াশিংটন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর ‘অর্থনৈতিক ভাবে শ্বাসরোধ’ করার অভিযান চালানোর লক্ষ্য ঘোষণা করে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। আপাতত এ নৌপথ বন্ধ থাকার আশঙ্কা থাকায় জ্বালানির দাম শিগগির কমার সম্ভাবনাও কম। ফলে, বিশ্ববাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে। এর সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সরকারি ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ এবং করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপুল
পরিমাণ ঋণপত্র বিক্রির চাপ যোগ হওয়ায় সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা বেড়েছে। এতে সরকারের ঋণ নেওয়ার খরচও বাড়ছে। যুক্তরাজ্যের ৩০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদ ১৯৯৮ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। দেশটির ১০ বছর মেয়াদি সরকারি ঋণের সুদও ২০০৭-০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময়ের পর্যায়ে রয়েছে। জাপানের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদ ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদও ২০০৭ সালের সর্বোচ্চ মাত্রার কাছাকাছি রয়েছে। দেশটির ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদও আর্থিক সংকটের সময়কার পর্যায়ে উঠেছে। গামা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের রাজীব দে মেলো বলেন, ‘বন্ডের সুদ এমনিতেই বাড়ছিল। এর মধ্যে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা এবং তেলের দামের ওপর এর প্রভাব বিনিয়োগকারীদের বন্ড নিয়ে আরও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমান পর্যায়ের সুদ এশিয়ার শেয়ারবাজারের জন্য স্পষ্টতই চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ওপর নির্ভরশীল প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে। কম সুদের হারের ওপর নির্ভর করে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দর কমে যাওয়ায় টোকিও ও সিউলের বাজারে বড় চাপ তৈরি
হয়েছে। হংকং, সাংহাই, সিডনি, সিঙ্গাপুর, ওয়েলিংটন, তাইপে ও ম্যানিলার শেয়ারবাজারেও উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে। এর আগে ওয়াল স্ট্রিটের তিনটি প্রধান সূচকেই দরপতন হয়েছিল। আগামী এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি তথ্য প্রকাশিত হবে। এসব তথ্য আগামী দুই সপ্তাহ পর ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী বৈঠকে সুদের হার বাড়ানো হবে কি না, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, বাজারে বর্তমানে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৭০ শতাংশ ধরে নেওয়া হচ্ছে। ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর মাইকেল বারও সুদের হার বাড়ার প্রত্যাশা জোরদার করেছেন। তিনি বলেছেন, মূল্যস্ফীতি যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে অনড় থাকে, তাহলে নীতিনির্ধারকদের সুদের হার বাড়ানোর জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত। তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘তথ্য-উপাত্তের প্রবণতা যদি আমাকে এ বিষয়ে আস্থা দেয় যে মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের দিকে কমছে, তাহলে আমাদের নীতিগত অবস্থান মূল্যায়নের জন্য আরও কিছুটা সময় নেওয়া যেতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তবে মূল্যস্ফীতি যথেষ্ট কমছে না বলে মনে হলে আমাদের দ্রুত ও দৃঢ়ভাবে সুদের হার বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত