সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
খেলাধুলা মেসির সামনে এবার ইংল্যান্ড-পরীক্ষা

মেসির সামনে এবার ইংল্যান্ড-পরীক্ষা

ফুটবল ক্যারিয়ারে সম্ভাব্য সব ট্রফি আর রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন। কিন্তু ৩৯ বছর বয়সে এসেও লিওনেল মেসির ঝুলিতে একটি অভিজ্ঞতা ছিল একেবারেই অধরা—আন্তর্জাতিক ফুটবলে কখনো ইংল্যান্ডের মুখোমুখি না হওয়া। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে। কাতার বিশ্বকাপের শিরোপাধারী আর্জেন্টিনা এবার তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। আগামী বুধবার আটলান্টায় বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় সেমিফাইনালের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে মাঠে নামবে আলবিসেলেস্তেরা।

আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা জার্সিতে ২০০-এর বেশি ম্যাচ খেলে ১২৫টি গোল করলেও, দীর্ঘ দুই দশকের ক্যারিয়ারে ‘থ্রি লায়ন্স’দের বিরুদ্ধে কখনো মাঠে নামার সুযোগ পাননি আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই জাদুকর।

কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি একপর্যায়ে হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হলেও, অতিরিক্ত সময়ের রোমাঞ্চে ৩-১ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে মেসি জালের দেখা না পেলেও, চলতি বিশ্বকাপে ৮ গোল করে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন তিনি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাও এখন মেসি।

মেসিকে নিয়ে সাবেক তারকাদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

বিবিসির ফুটবল পণ্ডিত মিকাহ রিচার্ডস মনে করেন, মাঠের গতিতে ইংল্যান্ড হয়তো এগিয়ে থাকবে, তবে আর্জেন্টিনার আসল শক্তি মেসির মস্তিস্ক। তিনি বলেন, "আর্জেন্টিনা দলটাই খেলে মেসির জন্য। মাঠের ভেতর তিনি এমন সব পজিশন নেন যা অবিশ্বাস্য। তার ব্যক্তিত্ব ও ফুটবলীয় আভা বিশ্ব ফুটবলে অনন্য।"

অন্যদিকে, সাবেক ইংলিশ স্ট্রাইকার ওয়েন রুনি একে দেখছেন ইংল্যান্ডের জন্য একটি বড় সুযোগ হিসেবে। তার মতে, মেসি নিচে নেমে রক্ষণভাগে সাহায্য করেন না, যা ইংলিশ ডিফেন্ডারদের জন্য বাড়তি সুবিধা দেবে। রুনি বলেন, "মেসি আর্জেন্টিনার রক্ষণের দুর্বলতা হতে পারে। তবে জুড বেলিংহামের মতো তিনিও যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন। তাকে আটকে রাখার একমাত্র উপায় হলো শতভাগ মনোযোগ ও ডিফেন্ডারদের মধ্যে সঠিক বোঝাপড়া।"

এদিকে বিবিসি রেডিওর বিশ্লেষক ক্রিস সাটন মনে করেন, ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল ও তার শিষ্যরা এই ম্যাচের জন্য মুখিয়ে আছেন। বর্তমান আর্জেন্টিনা দলকে অপরাজেয় মনে না হলেও, তারা যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি থেকে ম্যাচ বের করে নিতে ওস্তাদ।

২১ বছর পর ঐতিহাসিক দ্বৈরথ

ফুটবল ইতিহাসে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের বৈরিতা অত্যন্ত পুরোনো ও রাজনৈতিকভাবেও সংবেদনশীল। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ও শতাব্দীর সেরা গোল, কিংবা ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহ্যামের সেই বিখ্যাত লাল কার্ড—দুদলের লড়াই মানেই ছিল মাঠ ও মাঠের বাইরের চরম উত্তেজনা।

দীর্ঘ ২১ বছর পর এই দুই পরাশক্তি কোনো সিনিয়র আন্তর্জাতিক ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে। ২০০৫ সালে মেসির অভিষেকের পর দুদল মাত্র একবারই মুখোমুখি হয়েছিল। কিন্তু হাঙ্গেরির বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচেই মাত্র ৩০ সেকেন্ডে লাল কার্ড দেখায় নিষিদ্ধ ছিলেন ১৮ বছর বয়সি মেসি। ফলে জেনেভার সেই প্রীতি ম্যাচে তার আর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা হয়নি, যেখানে ইংল্যান্ড ৩-২ ব্যবধানে জিতেছিল।

দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল বিশেষজ্ঞ টিম ভিকারির মতে, "আর্জেন্টাইন সমর্থকদের কাছে ইংল্যান্ডই প্রধান প্রতিপক্ষ। তাই ইংলিশদের বিরুদ্ধে না খেলে মেসির ক্যারিয়ার শেষ হলে তা অসমাপ্তই থেকে যেত।"

মেসির প্রিয় প্রতিপক্ষ যারা

পরিসংখ্যান বলছে, বড় দলগুলোর বিপক্ষে গোল করতে বরাবরই পছন্দ করেন মেসি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার সবচেয়ে প্রিয় প্রতিপক্ষ বলিভিয়া (১২ ম্যাচে ১১ গোল)। এছাড়া ইকুয়েডর ও ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ৭টি করে এবং ব্রাজিলের বিপক্ষে রয়েছে ৫টি গোল। ইউরোপীয় দলগুলোর মধ্যে ক্রোয়েশিয়া, সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্সের বিপক্ষে ৩টি করে গোল রয়েছে তার, যার মধ্যে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের জোড়া গোলটি অন্যতম। অন্তত দুটি ম্যাচ খেলেছেন এমন দলগুলোর মধ্যে কেবল কাতারই মেসিকে গোলবঞ্চিত রাখতে পেরেছে।

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা নায়কের ক্যারিয়ারের এই অপূর্ণ অধ্যায়টি পূর্ণ হতে দেখার জন্য এবং দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর এই ব্লকবাস্টার লড়াই উপভোগ করতে বুধবার রাতে চোখ থাকবে গোটা বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর।

খুঁজুন