নিউজিল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই সতর্কবার্তা পেয়েছিল যে, টম ফিলিপস নামের এক ব্যক্তি তার সন্তানদের নিয়ে পালিয়ে যেতে পারেন এবং তার কাছে বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। কিন্তু এসব সতর্কসংকেতের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
চার বছর ধরে সন্তানদের নিয়ে আত্মগোপনে থাকা ফিলিপসের বহুল আলোচিত শিশু অপহরণ মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে মঙ্গলবার এ তথ্য উঠে এসেছে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পুলিশের গুলিতে টম ফিলিপস নিহত হন। এর আগে প্রায় চার বছর ধরে তিনি তার তিন সন্তানকে নিয়ে নিউজিল্যান্ডের উত্তর দ্বীপের ওয়াইকাটো অঞ্চলের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন।
ঘন জঙ্গলের মধ্যে একাধিক অস্থায়ী শিবির স্থাপন করে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলতেন। এ সময় সাধারণ মানুষ বেশ কয়েক বার তাকে দেখলেও এবং সিসিটিভিতে বেশ কয়েকবার দেখা গেলেও পুলিশ তাকে ধরতে পারেনি।
মঙ্গলবার প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশুদের অপহরণের আগেই ফিলিপসকে নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে বেশ কয়েকটি সতর্কবার্তা এসেছিল। সন্তানদের নিয়ে এটাই ছিল তার দ্বিতীয়বারের মতো নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ফিলিপস শিশুদের পরিবার, বন্ধু ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে যে ক্ষতি করেছিলেন, বিভিন্ন সংস্থা দীর্ঘ সময় ধরে সেটিকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি, ছোট করে দেখেছে অথবা পুরোপুরি উপেক্ষা করেছে।’
সরকারের শিশু বিষয়ক মন্ত্রী লুইস আপস্টন ফিলিপসের সন্তানদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমাদের সুরক্ষায় আমাদের সংস্থাগুলো সম্ভাব্য সব বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেয়নি। এ জন্য আমরা গভীরভাবে দুঃখিত।’
২১১ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে শিশুদের অপহরণের আগের সময় থেকে শুরু করে গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রাণঘাতী বন্দুকযুদ্ধের পর তাদের উদ্ধারের সময় পর্যন্ত পুরো ঘটনাপ্রবাহ পর্যালোচনা করা হয়েছে।
ফিলিপস প্রথমবার তার তিন সন্তানকে নিয়ে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে নিখোঁজ হন। ১৮ দিন পর তিনি জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসেন।
এর আগে তিনি একটি সমুদ্রসৈকতে নিজের গাড়ি রেখে যান। গাড়িটি জোয়ারের পানির সীমার নিচে পাওয়া যায়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সে সময় পুলিশ ধারণা করেছিল, ‘টম ফিলিপস নিজের এবং সন্তানদের মৃত্যুর ঘটনা সাজিয়েছেন।’
১৮ দিন পর জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এলে পুলিশের সময় ও সম্পদ অপচয়ের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সে সময় পুলিশ ‘গুরুতরভাবে আশঙ্কা করেছিল যে তিনি আবারও সন্তানদের নিয়ে পালিয়ে যেতে পারেন’। কিন্তু এই আশঙ্কার কথা শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়নি।
একই সময়ে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার লাইসেন্স হারানোর পরও পুলিশ ফিলিপসের অস্ত্রগুলো শনাক্ত ও জব্দ করতে ব্যর্থ হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘অতিরিক্ত এসব পদক্ষেপ নেওয়া হলে শিশুদের আরও দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হতো।’
ফিলিপস দ্বিতীয়বার সন্তানদের নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার আগের দুই মাসেও সমাজকর্মীরা শিশুদের বড় সৎভাই-বোনদের কাছ থেকে পাওয়া উদ্বেগের বিষয়গুলো যথাযথভাবে আমলে নেননি।
তাদের একজন সরাসরি জানতে চেয়েছিলেন, ‘শিশুরা আবার নিখোঁজ হলে এর দায় কি সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওপর পড়বে?’
অন্যজন মন্ত্রণালয়ে একটি হলফনামাও জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটি কখনো পড়েই দেখা হয়নি।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, ওই বক্তব্যটি পড়া হলে তারা ফিলিপসকে প্রশ্নের মুখে ফেলতেন। তিনি আরও বলেন, বক্তব্যটি ‘ভীষণ উদ্বেগজনক’ ছিল।
নিউজিল্যান্ডের শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রধান নির্বাহী আমান্ডা মালু বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনটি পড়া ‘কষ্টকর এবং কিছু ক্ষেত্রে অত্যন্ত বেদনাদায়ক’ ছিল।
তিনি বলেন, ‘আমরা যেভাবে শোনা উচিত ছিল, সেভাবে শুনিনি। এই পরিবার আমাদের কাছ থেকে আরও ভালো সেবা পাওয়ার অধিকার রাখত।’
নিউজিল্যান্ডের সংস্থাগুলো শিশু অপহরণের ঘটনায় সতর্ক সংকেত উপেক্ষা করেছিল
নিউজিল্যান্ডের সংস্থাগুলো শিশু অপহরণের ঘটনায় সতর্ক সংকেত উপেক্ষা করেছিল
নিউজিল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই সতর্কবার্তা পেয়েছিল যে, টম ফিলিপস নামের এক ব্যক্তি তার সন্তানদের নিয়ে পালিয়ে যেতে পারেন এবং তার কাছে বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। কিন্তু এসব সতর্কসংকেতের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। চার বছর ধরে সন্তানদের নিয়ে আত্মগোপনে থাকা ফিলিপসের বহুল আলোচিত শিশু অপহরণ মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে মঙ্গলবার এ তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পুলিশের গুলিতে টম ফিলিপস নিহত হন। এর আগে প্রায় চার বছর ধরে তিনি তার তিন সন্তানকে নিয়ে নিউজিল্যান্ডের উত্তর দ্বীপের ওয়াইকাটো অঞ্চলের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। ঘন জঙ্গলের মধ্যে একাধিক অস্থায়ী শিবির স্থাপন করে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলতেন। এ সময় সাধারণ মানুষ বেশ কয়েক বার তাকে দেখলেও এবং সিসিটিভিতে বেশ কয়েকবার দেখা গেলেও পুলিশ তাকে ধরতে পারেনি। মঙ্গলবার প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশুদের অপহরণের আগেই ফিলিপসকে নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে বেশ কয়েকটি সতর্কবার্তা এসেছিল। সন্তানদের নিয়ে এটাই ছিল তার দ্বিতীয়বারের মতো নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ফিলিপস শিশুদের পরিবার, বন্ধু ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে যে ক্ষতি করেছিলেন, বিভিন্ন
সংস্থা দীর্ঘ সময় ধরে সেটিকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি, ছোট করে দেখেছে অথবা পুরোপুরি উপেক্ষা করেছে।’ সরকারের শিশু বিষয়ক মন্ত্রী লুইস আপস্টন ফিলিপসের সন্তানদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমাদের সুরক্ষায় আমাদের সংস্থাগুলো সম্ভাব্য সব বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেয়নি। এ জন্য আমরা গভীরভাবে দুঃখিত।’ ২১১ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে শিশুদের অপহরণের আগের সময় থেকে শুরু করে গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রাণঘাতী বন্দুকযুদ্ধের পর তাদের উদ্ধারের সময় পর্যন্ত পুরো ঘটনাপ্রবাহ পর্যালোচনা করা হয়েছে। ফিলিপস প্রথমবার তার তিন সন্তানকে নিয়ে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে নিখোঁজ হন। ১৮ দিন পর তিনি জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসেন। এর আগে তিনি একটি সমুদ্রসৈকতে নিজের গাড়ি রেখে যান। গাড়িটি জোয়ারের পানির সীমার নিচে পাওয়া যায়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সে সময় পুলিশ ধারণা করেছিল, ‘টম ফিলিপস নিজের এবং সন্তানদের মৃত্যুর ঘটনা সাজিয়েছেন।’ ১৮ দিন পর জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এলে পুলিশের সময় ও সম্পদ অপচয়ের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সে সময় পুলিশ ‘গুরুতরভাবে আশঙ্কা করেছিল যে তিনি আবারও সন্তানদের নিয়ে পালিয়ে যেতে পারেন’। কিন্তু এই আশঙ্কার
কথা শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়নি। একই সময়ে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার লাইসেন্স হারানোর পরও পুলিশ ফিলিপসের অস্ত্রগুলো শনাক্ত ও জব্দ করতে ব্যর্থ হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘অতিরিক্ত এসব পদক্ষেপ নেওয়া হলে শিশুদের আরও দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হতো।’ ফিলিপস দ্বিতীয়বার সন্তানদের নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার আগের দুই মাসেও সমাজকর্মীরা শিশুদের বড় সৎভাই-বোনদের কাছ থেকে পাওয়া উদ্বেগের বিষয়গুলো যথাযথভাবে আমলে নেননি। তাদের একজন সরাসরি জানতে চেয়েছিলেন, ‘শিশুরা আবার নিখোঁজ হলে এর দায় কি সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওপর পড়বে?’ অন্যজন মন্ত্রণালয়ে একটি হলফনামাও জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটি কখনো পড়েই দেখা হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, ওই বক্তব্যটি পড়া হলে তারা ফিলিপসকে প্রশ্নের মুখে ফেলতেন। তিনি আরও বলেন, বক্তব্যটি ‘ভীষণ উদ্বেগজনক’ ছিল। নিউজিল্যান্ডের শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রধান নির্বাহী আমান্ডা মালু বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনটি পড়া ‘কষ্টকর এবং কিছু ক্ষেত্রে অত্যন্ত বেদনাদায়ক’ ছিল। তিনি বলেন, ‘আমরা যেভাবে শোনা উচিত ছিল, সেভাবে শুনিনি। এই পরিবার আমাদের কাছ থেকে আরও ভালো সেবা পাওয়ার অধিকার রাখত।’
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত