ইবনে তাইমিয়া (৬৬১-৭২৮ হিঃ)
ওহাবী-সালাফীদের মান্যবর ইমাম ইবনে তাইমিয়া (৬৬১-৭২৮ হিঃ) বলেন-
فتعظيم المولد، واتخاذه موسمًا، قد يفعله بعض الناس، ويكون له فيه أجر عظيم لحسن قصده، وتعظيمه لرسول الله صلى الله عليه وسلم، كما قدمته لك أنه يحسن من بعض الناس، ما يستقبح من المؤمن المسدد.
-“আমি ইতোপূর্বে আলোচনা করছি যে মিলাদকে মানুষেরা মৌসুমীভাবে পালন করে তা’জিম করে থাকে, এতে তাদের অনেক সাওয়াব হবে। আর এটাও সুস্পষ্ট যে, কিছু লোক এটাকে হাসান মনে করে, কারণ সঠিক মু’মিন ব্যক্তি মন্দ কাজ করে না।”
[ইবনে তাইমিয়া, একতেদ্বাউল সিরাতাল মুস্তাকিম ২/১২৬ পৃ.
দারুল আ‘লামুল কিতাব, বয়রুত, লেবানন]
❏ ইমাম ইবন কাসির (رحمة الله) [৭০১-৭৭৪ হিঃ]
ইমাম ইবন কাসির (رحمة الله) [৭০১-৭৭৪ হিঃ] তার বিখ্যাত সীরাত গ্রন্থে লিখেন :
ইবলিশ শয়তান জীবনে ঠিক এই সময়টাতেই খুব বেশি কেঁদেছে বা আফসোস করেছে।
أن إبليس رن أربع رنات حين لعن وحين أهبط وحين ولد رسول الله صلى الله عليه وسلم وحين أنزلت الفاتحة
১. আল্লাহ যখন তাকে অভিশপ্ত হিসেবে ঘোষণা দিলেন,
২. যখন তাকে বেহেস্ত থেকে বিতাড়িত করা হল,
৩. নূর নবীজীর (ﷺ) দুনিয়াতে আগমনের সময় এবং
৪. সূরা ফাতিহা নাযিল হবার সময়
[সূত্রঃ ইবন কাসির, আল আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা - ১৬৬]
❏ ইমাম ইবন কাসির (رحمة الله) [৭০১-৭৭৪ হিঃ] হাদিসে সুয়াইবাহ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন,
"এমন জঘন্য কাফের যার দোষ বর্ণনায় (আল-কুরআনে) এসেছে যে, তার হাত ধ্বংস হয়েছে, তার স্থায়ী নিবাস চির জাহান্নাম। আহমদ (ﷺ) এর আবির্ভাবে খুশী হয়ে সর্বদা সোমবার আসলে তার (মত কাফির) থেকে (যদি) আজাব হালকা করা হয়, তবে কিরূপ ধারণা হতে পারে সে ব্যক্তির ব্যাপারে, যার জীবন আহমদ (ﷺ) বিষয়ে আনন্দিত ছিল এবং তাওহীদবাদী হয়ে ইন্তেকাল করেছেন?
❏ ইবনে কাইয়্যুম (ওফাতঃ ৭৫১ হিঃ)
ওহাবী-সালাফীদের মান্যবর ইমাম ইবনে কাইয়্যুম তার কিতাবে বলেন যে,
নবী করীম (ﷺ) ওনার মিলাদ মাহফিলে সুললিত কন্ঠস্বর শ্রবণ করা কিংবা ধর্মীয় বিষয় শ্রবণ করার মাধ্যমে অন্তরে প্রশান্তি লাভ হয়। কারণ নবী করীম (ﷺ) ওনার থেকে শ্রুতাকে নূর দেওয়া হয়ে থাকে।
● মাদারেকুছ ছালিকিন-৪৯৮ পৃ:
যুগে যুগে ঈদ-এ-মিলাদুন্নী (ﷺ) উদযাপিত হচ্ছে, আলহামদুলিল্লাহ।
পবিত্র ১২ রবিউল আউয়াল, জসনে জুলুসে, ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আন্তর্জাতিক শান্তি মহাসমাবেশ, ১৪৪৮ হিজরী,২৬ শে আগষ্ট -২০২৬।
রেজ:- বুধবার,সময়:- সকাল ৮,০০ ঘটিকা,
স্থান:- ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান রমনা ঢাকা বাংলাদেশ।
আপনারা মুমিন মুসলমান সকলেই আমন্ত্রিত।
বিভিন্ন শতাব্দীর মুহাদ্দিস, মুফাসসির, মুজাদ্দিদ ও অতীত আলেমগণের যুগে যুগে ঈদে মিলাদুন্নী (ﷺ) উদযাপন।
❏ ইমাম হযরত হাসান বসরী (رحمة الله) [২১-১১০ হিঃ]
ইমাম হযরত হাসান বসরী (رحمة الله) [২১-১১০ হিঃ]
[বিশিষ্ট তাবিয়ী, যিনি শতাধিক সাহাবায়ে কিরাম (রা) গণের সাক্ষাত লাভ করেছিলেন] তিনি বলেন-
قال الحسن البصرى رحمة الله عليه وَدِدْتُّ لَوْ كَانَ لِىْ مِثْلُ جَبَلِ اُحُدٍ ذَهْبًا فَاَنْفَقْتُهٗ عَلٰى قِرَاءَةِ مَوْلِدِ النَّبِىِّ صَلّٰى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
অর্থ: ‘আমার একান্ত ইচ্ছা হয় যে, আমার যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ থাকতো তাহলে তা পবিত্র মীলাদুন্নবী (ﷺ) উপলক্ষে ব্যয় করতাম।’সুবহানাল্লাহ!
[আন নি'মাতুল কুবরা আলাল আলাম ৮ পৃষ্ঠা]
❏ ইমাম শাফেয়ী (رحمة الله) [১৫০-২০৪ হিঃ]
বিশ্ব বিখ্যাত ফকীহ ইমাম তাহাবী (رحمة الله) ইমাম শাফেয়ী (رحمة الله) এর কওল নকল করে লিখেন-
إن أفضل الليالي ليلة مولده صلى الله عليه وسلم ثم ليلة القدر-
-‘‘নিশ্চয়ই ইবাদতের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম রাত হলো ঈদে মিলাদুন্নবী (ﷺ) এর রাত্রি বা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর শুভাগমনের রাত্র (১২ই রবিউল আউয়াল) তারপর হলো শবে-ই-কদরের রাত্রি।’’
👉আল্লামা শায়খ ইউসূফ নাবহানী : যাওয়াহিরুল বিহার : ৩/৪২৬ পৃ :
মারকাযে আহলে সুন্নাহ বি বারকাতে রেযা, গুজরাট হতে প্রকাশিত।
❏ ইমাম শাফেয়ী (رحمة الله) [১৫০-২০৪ হিঃ] আরও বলেন-
قَالَ اَلاِمَامُ الشَّافِعِىُّ رَحِمَهُ اللهُ مَنْ جَمَعَ لِمَوْلِدِ النَّبِىِّ صَلّٰى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ اِخْوَانًا وَهَيَّاَ طَعَامًا وَاَخْلٰى مَكَانًا وَعَمَلَ اِحْسَانًا وَصَارَ سَبَبًا لِقِرَائَتِهٖ بَعَثَهُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَ الصِّدِّيْقِيْنَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِيْنَ وَيَكُوْنُ فِىْ جَنَّاتِ النَّعِيْمِ.
অর্থ: ‘যে ব্যক্তি পবিত্র মীলাদুন্নবী (ﷺ) উদযাপন উপলক্ষে :
★লোকজন একত্রিত করলো,
★খানাপিনার ব্যবস্থা করলো,
★জায়গা নির্দিষ্ট করলো এবং এ জন্য উত্তমভাবে তথা সুন্নাহ ভিত্তিক আমল করলো তাহলে উক্ত ব্যক্তিকে আল্লাহ পাক হাশরের দিন ছিদ্দীক্ব, শহীদ ছলিহীনগণের সাথে উঠাবেন এবং উনার ঠিকানা হবে জান্নাতে নায়ীমে।’ সুবহানাল্লাহ!
[আন নি'মাতুল কুবরা আলাল আলাম ১০ পৃষ্ঠা]
❏ হযরত জুনাইদ বাগদাদী (رحمة الله) [২২০-২৯৭ হিঃ]
হযরত জুনাইদ বাগদাদী (رحمة الله) [২২০-২৯৭ হিঃ] বলেন-
قال جنيد البغدادى رحمة الله عليه مَنْ حَضَرَ مَوْلِدَ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَظَّمَ قَدَرَهٗ فَقَدْ فَازَ بِالاِيْمَانِ.
অর্থ: “যে ব্যক্তি পবিত্র মীলাদুন্নবী (ﷺ) এর আয়োজনে উপস্থিত হবে এবং উপযুক্ত সম্মান প্রদর্শন করবে সে বেহেশ্তী হবে।” সুবহানাল্লাহ!
[আন নি'মাতুল কুবরা আলাল আলাম ৮ পৃষ্ঠা]
❏ ইমাম আবু জাফর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ তাহাবী (رحمة الله) [২২৯- ৩২১ হিজরী]
হানাফী মাযহাবের বিখ্যাত ইমাম হযরত ইমাম তাহাবী (رحمة الله) (২২৯- ৩২১ হিজরী) তিনি বলেছেন,
ونقل الطحاوي عليه الرحمة في حواشي المختار عن بعض الشافعية أن أفضل الليالي ليلة مولده عليه الصلاة والسلام ثم ليلة القدر ثم ليلة الإسراء والمعراج ثم ليلة عرفة ثم ليلة الجمعة ثم ليلة النصف من شعبان ثم ليلة العيد
অর্থ: রাত সমূহের মধ্যে উত্তম রাত হচ্ছেঃ
★পবিত্র মীলাদুন্নবী (ﷺ) এর রাত,
★ অতঃপর লাইলাতুল কদরের রাত,
★অতঃপর মিরাজ শরীফের রাত,
★ অতঃপর আরাফার রাত,
★অতঃপর জুমুয়ার রাত,
★অতঃপর ১৫ শাবানের রাত,
★অতঃপর ঈদের রাত।”
● তাফসীরে রুহুল মায়ানী ১৯/ ১৯৪, সূরা ক্বদরের তাফসীরে।
❏ ইমাম হযরত ইমাম মারূফ কারখী (رحمة الله) [৭৫০-৮১৫ ইং]
বিখ্যাত ইমাম হযরত ইমাম মারূফ কারখী (رحمة الله) [৭৫০-৮১৫ ইং] বলেন-
قال المعروف الكرخى رحمة الله عليه مَنْ هَيَّأَ طَعَامًا لاَجْلِ قِرَائَةِ مَوْلِدِ النَّبِىِّ صَلّٰى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَمَعَ اِخْوَانًا وَاَوْقَدَ سِرَاجًا وَلبِسَ جَدِيْدًا وَتَبَخَّرَ وَتَعَطَّرَ تَعْظِيْمًا لِمَوْلِدِ النَّبِىِّ صَلّٰى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَشَرَهُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَ الْفِرْقَةِ الاُوْلٰى مِنَ النَّبِيّنَ وَكَانَ فِىْ اَعْلٰى عِلِّيِّيْن.
অর্থ: “যে ব্যক্তি পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী (ﷺ) উপলক্ষে খাদ্যের আয়োজন করে, অতঃপর লোকজনকে জমা করে, মজলিসে আলোর ব্যবস্থা করে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন নতুন পোশাক পরিধান করে, সুঘ্রাণ ও সুগন্ধি ব্যবহার করে, আল্লাহ পাক তাকে নবী আলাইহিমুস সালামগণের প্রথম কাতারে হাশর করাবেন এবং সে জান্নাতের সুউচ্চ মাক্বামে অধিষ্ঠিত হবেন।” সুবহানাল্লাহ্!
[আন নি'মাতুল কুবরা আলাল আলাম ৮ পৃষ্ঠা]
❏ হযরত ইমাম সাররী সাকতী (رحمة الله) [ওফাতঃ ৮৬৭ ইং]
হযরত ইমাম সাররী সাকতী (رحمة الله) [ওফাতঃ ৮৬৭ ইং] বলেন-
قال السر سقتى رحمة الله عليه مَنْ قَصَدَ مَوْضعًا يُقْرَأُ فِيْهِ مَوْلِِدُ النَّبِىِّ صَلّٰى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَدْ قَصَدَ رَوْضَةً مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ لاَنَّهٗ مَا قَصَدَ ذٰلِكَ الْمَوْضعَ اِلا لِمُحَبَّةِ النَّبِىِّ صَلّٰى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
অর্থ: “যে ব্যক্তি পবিত্র মীলাদুন্নবী (ﷺ) উদযাপন করার জন্য স্থান নির্দিষ্ট করলো সে যেন নিজের জন্য জান্নাতে একটি বাগান নির্দিষ্ট করলো। কেননা সে তা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক (ﷺ) উনার মুহব্বতের জন্যই করেছে। আর রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, যে ব্যক্তি আমাকে ভালবাসবে সে আমার সাথেই জান্নাতে থাকবে।” সুবহানাল্লাহ্!
[আন নি'মাতুল কুবরা আলাল আলাম ১০ পৃষ্ঠা]
❏ ইমাম ফখরুদ্দিন রাজি (رحمة الله) [১১৫০-১২১০ ইং]
ইমাম ফখরুদ্দিন রাজি (رحمة الله) [১১৫০-১২১০ ইং] বলেন-
مَا مِنْ شَخْصٍ قَرَاَ مَوْلِدَ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلٰى مِلْحٍ اَوْ بُرٍّ اَوْشَىء اٰخَرَ مِنَ الْمَأكُوْلاتِ اِلا ظَهَرَتْ فِيْهِ الْبَركَةُ فِىْ كُلِّ شَىء. وَصَلَ اِِلَيْهِ مِنْ ذٰلِكَ الْمَأكُوْلِ فَاِنَّهٗ يَضْطَرِبُ وَلا يَسْتَقِرُّ حَتى يَغْفِرَ اللهُ لاٰكِلِهٖ.
অর্থ: যে ব্যক্তি পবিত্র মীলাদুন নবী (ﷺ) উদযাপন করে লবণ, গম বা অন্য কোন খাদ্য দ্রব্যের উপর ফুঁক দেয়, তাহলে এই খাদ্য দ্রব্যে অবশ্যই বরকত প্রকাশ পাবে। এভাবে যে কোন কিছুর উপরই পাঠ করুক না কেন, তাতে বরকত হবেই। উক্ত খাদ্য-দ্রব্য মীলাদুন্নবী (ﷺ) উদযাপনকারীর জন্য আল্লাহ পাকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, এমনকি তাকে ক্ষমা না করা পর্যন্ত সে ক্ষান্ত হয় না।” সুবহানাল্লাহ!
[আন নি'মাতুল কুবরা আলাল আলাম ৯ পৃষ্ঠা]
❏ ইমাম নাসিরুদ্দীন মোবারক ইবনে বাতাহ (رحمة الله):
৪র্থ যুগের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ইমামুল আল্লামাহ নাসিরুদ্দীন মোবারক ইবনে বাতাহ (رحمة الله) পবিত্র মিলাদ সম্পর্কে নিজ ফতোয়ায় লিখেন,
মহানবী (ﷺ) ওনা জন্ম রাতে কোন ব্যক্তি কিছু অর্থকরি ব্যয় করলে এবং জনগনকে সমবেত করে তাদেরকে পানাহার করালে বা রাসূল (ﷺ) ওনার জন্ম সম্পর্কে বর্ণিত হাদীস সমূহ এবং অলোকিক ঘটনা শুনালে তা যদি সব রাসূল (ﷺ) ওনার জন্মের প্রতি আনন্দ ও খুশি প্রকাশ করার জন্য হয়ে থাকে তাহলে শরীয়ত মতে তা জায়েজ আর এসব কাজের জন্য সংশ্লীষ্ঠ কর্তাকে ছওয়াব প্রদান করা হয়,যদি তার উদ্দেশ্য ভাল হয়।
● আদ-দুররুল মুনাজ্জম ফী আমলে ওয়া হুকমে মাওলিদুন নাবীয়্যিল আযম-পৃষ্ঠা-নং-১৯৭-১৯৮।
❏ মুহাদ্দিস ইমাম ইবনুল জাওযী (رحمة الله) [ওফাত. ৫৯৭ হি.] বলেন-
لا زال أهل الحرمين الشريفين والمصر واليمن والشام وسائر بلاد العرب من المشرق والمغرب يحتفلون بمجلس مولد النبى صلى الله عليه وسلم ويفرحون بقدومه هلال شهر ربيع الأول و يهتمون اهتماما بليغا على السماع والقراءة لمولد النبى صلى الله عليه وسلم وينالون بذلك أجرا جزيلا وفوزا عظيما-
“মক্কা, মদীনা, ইয়ামন, শাম ও তামাম ইসলামী বিশ্বের পূর্ব ও পশ্চিমবাসীরা সবসময় হুজুর (ﷺ) এর বেলাদাত শরীফের ঘটনায় মীলাদ মাহফিল আয়োজন করত। তারা রবিউল আউয়াল মাসের নতুন চাঁদ উদিত হলে খুশি হয়ে যেত এবং হুজুরের মিলাদ শুনা ব্যাপারে ও পড়ার সীমাহীন গুরুত্বারোপ করত। আর মুসলমানগণ এসব মাহফিল কায়েম করে পরিপূর্ণ প্রতিদান ও আধ্যত্মিক কামিয়াবী হাছিল করত।”
[ইমাম যওজীঃ তার লিখিত বয়ানুল মিলাদুন্নবী- ৫৮ পৃ.]
❏ ইমাম ইবনুজ জাওযী (رحمة الله) বলেন-
"যে কাফের আবু লাহাবের বিরোদ্ধে আল-কুরআন নাজিল হয়েছে এবং যার জন্য জাহান্নাম নির্ধারিত, সে আবু লাহাবও যদি হুজুর (ﷺ) এর মিলাদুন্নবী উপলক্ষে খুশি হওয়াতে সুফল পায়, তাহলে তাঁর উম্মতের মধ্যে যে একত্ববাদী মুসলমান এবং তাঁর মিলাদুন্নবীতে (ﷺ) আনন্দিত হয় তাঁর মহব্বতে যথাসাধ্য দান করে,
তার অবস্থা কী হবে? আমি কসম করে বলছি যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’য়ালার পক্ষ হতে তার বিনিময় এ হবে যে, তিনি সর্বব্যাপী অনুগ্রহ দ্বারা তাকে জান্নাতুন নাঈমে প্রবেশ করাবেন।’
● ইবনে জাওজীঃ বয়ানুল মিলাদুন্নবী
● ইমাম কুস্তালানীঃ মাওয়াহিবে লাদুনিয়া ১ম জিল্দ ২৭ পৃঃ,
● ইমাম জুরকানীঃ জুরকানী ১ম জিল্দ ১৩৭ পৃঃ
❏ ইমাম ইবনে হজর আসকালানী (رحمة الله) (৭৭৩-৮৫২ হিঃ)
ফতহুল বারী শরহে বুখারী শরীফের মধ্যে এ মাসআলা নিয়ে বিশদ আলোচনা করে তিনি বলেনঃ
ﻓﻴﺤﺘﻤﻞ ﺍﻥ ﻳﻜﻮﻥ ﻣﺎﻳﺘﻌﻠﻖ ﺑﺎﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻣﺨﺼﻮﺻﺎ ﻣﻦ ﺫﺍﻟﻚ ﺑﺪﻟﻴﻞ ﻗﺼﺔ ﺍﺑﻰ ﻃﺎﻟﺐ ﻛﻤﺎﺗﻘﺪﻡ ﺍﻧﻪ ﺧﻔﻒ ﻋﻨﻪ ০
"যদিও কোন স্বপ্ন শরিয়তের দলিলরূপে গণ্য হয় না, কিন্তু এখানে হযরত আব্বাস (رضي الله عنه) এর স্বপ্ন আবু লাহাবের আজাব লাঘব হওয়ার ব্যাপারে কেবলমাত্র নবী করিম (ﷺ) সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ার দরুণ দলিলরূপে গণ্য হতে পারে। অন্য কারো স্বপ্ন শরিয়তের দলিলরূপে গণ্য হবে না। তারপর আবু তালেবের আজাব কম হওয়ার প্রসঙ্গ দলিলরূপে উল্লেখ করেছেন।"
[ইমাম আসকালানী: ফাতহুল বারী শরহে বুখারী, ৯ম খন্ড, ১৫৪ পৃ:]
-----
ঈদে মিলাদুন্নবী (ﷺ) প্রসঙ্গঃ
শাব্দিক অর্থে জশনে জুলুসে ঈদে মীলাদুন্নবী (ﷺ)ঃ
جشن (জশন) একটি ফার্সী শব্দ যার অর্থ খুশি বা আনন্দ আর جلوس শব্দটি আরবী। তার অর্থ সম্পর্কে فيروز اللغات এর ৪৬২ নং পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে-
اميروں اورباد شايوں كى سوارى كسى خاص موقع پر بھت سے لوگوں کا اکٹھے ھوکر بازاروں غيره ميں سے گزرنا -
‘‘জুলুস হলো অনেক লোক কোন খাছ বা বিশেষ সময়ে একত্রিত হয়ে আমীর ও বাদশাহদের সাওয়ারী নিয়ে বাজার ও শহরের মধ্যে দিয়ে অতিক্রম করা।’’
ঈদে মীলাদুন্নবী (ﷺ) অর্থ রাসূল (ﷺ)- এর দুনিয়ায় শুভাগমন উপলক্ষ্যে আনন্দ পালন করা। সুতরাং জশনে জুলুসে ঈদে মীলাদুন্নবী (ﷺ) অর্থ- হলো রাসূলে করিম (ﷺ) এর দুনিয়ায় আগমন বা মীলাদুন্নবী (ﷺ) উপলক্ষ্যে আনন্দ শুভাযাত্রা বের করা।
প্রচলিত অর্থে জশনে জুলুসে ঈদে মীলাদুন্নবী (ﷺ)
১২ রবিউল আউয়াল তারিখে রাসূল (ﷺ) এর দুনিয়ায় শুভাগমন উপলক্ষ্যে অনেক রাসূল প্রেমিক মুসলমানগণ একত্রিত হয়ে পবিত্র ও সুন্দর পোষাক পরিচ্ছদ পরিধান করে আতর গোলাপ গায়ে মেখে কালামে পাক, নাতে রাসূল (ﷺ) এবং নবী করিম (ﷺ) এর প্রতি দরূদ ও সালাম পাঠ করে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ) এর নামে শ্লোগান দিয়ে রাস্তায় বা শহরে শুভাযাত্রা সহকারে আনন্দের সহিত নবী করিম (ﷺ) এর শুভগমন ও তৎসম্বলিত ঘটনাবলীর আলোচনার যে বিরাট মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় তার নাম জশনে জুলুসে ঈদে মীলাদুন্নবী (ﷺ)।
অতএব, এখন আমি “জশনে জুলুসে ঈদে মীলাদুন্নবী (ﷺ) উদযান করাকে হারাম, নাজায়েয ও গোনাহের কাজ ইত্যাদি ফতোয়া দানকারী আলেমদের নিকট জানতে চাই উপরে বর্ণিত আমল সমূহ বা কাজগুলো থেকে কোন্ কোন্ আমল গুনাহ ও নাজায়েয যার কারণে আপনারা পবিত্র জশনে জুলুসকে হারাম ফতোয়া দিচ্ছেন। বলতে পারবেন কি? কিয়ামত পর্যন্ত কোন উত্তর মিলবে না।
ওহাবিরা বাতিল, কিতাব থেকে দলিল
ওহাবিরা বাতিল, কিতাব থেকে দলিল
ইবনে তাইমিয়া (৬৬১-৭২৮ হিঃ) ওহাবী-সালাফীদের মান্যবর ইমাম ইবনে তাইমিয়া (৬৬১-৭২৮ হিঃ) বলেন-فتعظيم المولد، واتخاذه موسمًا، قد يفعله بعض الناس، ويكون له فيه أجر عظيم لحسن قصده، وتعظيمه لرسول الله صلى الله عليه وسلم، كما قدمته لك أنه يحسن من بعض الناس، ما يستقبح من المؤمن المسدد.-“আমি ইতোপূর্বে আলোচনা করছি যে মিলাদকে মানুষেরা মৌসুমীভাবে পালন করে তা’জিম করে থাকে, এতে তাদের অনেক সাওয়াব হবে। আর এটাও সুস্পষ্ট যে, কিছু লোক এটাকে হাসান মনে করে, কারণ সঠিক মু’মিন ব্যক্তি মন্দ কাজ করে না।”[ইবনে তাইমিয়া, একতেদ্বাউল সিরাতাল মুস্তাকিম ২/১২৬ পৃ. দারুল আ‘লামুল কিতাব, বয়রুত, লেবানন] ❏ ইমাম ইবন কাসির (رحمة الله) [৭০১-৭৭৪ হিঃ] ইমাম ইবন কাসির (رحمة الله) [৭০১-৭৭৪ হিঃ] তার বিখ্যাত সীরাত গ্রন্থে লিখেন :ইবলিশ শয়তান জীবনে ঠিক এই সময়টাতেই খুব বেশি কেঁদেছে বা আফসোস করেছে।أن إبليس رن أربع رنات حين لعن وحين أهبط وحين ولد رسول الله صلى الله عليه وسلم وحين أنزلت الفاتحة১. আল্লাহ যখন তাকে অভিশপ্ত হিসেবে ঘোষণা দিলেন,২. যখন তাকে বেহেস্ত থেকে বিতাড়িত করা হল,৩. নূর নবীজীর (ﷺ) দুনিয়াতে আগমনের সময় এবং৪. সূরা ফাতিহা নাযিল হবার সময়[সূত্রঃ ইবন কাসির, আল আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা - ১৬৬] ❏ ইমাম ইবন কাসির (رحمة الله) [৭০১-৭৭৪ হিঃ] হাদিসে সুয়াইবাহ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন,"এমন জঘন্য কাফের যার দোষ বর্ণনায় (আল-কুরআনে) এসেছে যে, তার হাত ধ্বংস হয়েছে, তার স্থায়ী নিবাস চির জাহান্নাম। আহমদ (ﷺ) এর আবির্ভাবে খুশী হয়ে সর্বদা সোমবার আসলে তার (মত কাফির) থেকে (যদি) আজাব হালকা করা হয়, তবে কিরূপ ধারণা হতে পারে সে ব্যক্তির ব্যাপারে, যার জীবন আহমদ (ﷺ) বিষয়ে আনন্দিত ছিল এবং তাওহীদবাদী হয়ে ইন্তেকাল করেছেন? ❏ ইবনে কাইয়্যুম (ওফাতঃ ৭৫১ হিঃ) ওহাবী-সালাফীদের মান্যবর ইমাম ইবনে কাইয়্যুম তার কিতাবে বলেন যে,নবী করীম (ﷺ) ওনার মিলাদ মাহফিলে সুললিত কন্ঠস্বর শ্রবণ করা কিংবা ধর্মীয় বিষয় শ্রবণ করার মাধ্যমে অন্তরে প্রশান্তি লাভ হয়। কারণ নবী করীম (ﷺ) ওনার থেকে শ্রুতাকে নূর দেওয়া হয়ে থাকে।● মাদারেকুছ ছালিকিন-৪৯৮ পৃ: যুগে যুগে ঈদ-এ-মিলাদুন্নী (ﷺ) উদযাপিত হচ্ছে, আলহামদুলিল্লাহ। পবিত্র ১২ রবিউল আউয়াল, জসনে জুলুসে, ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আন্তর্জাতিক শান্তি মহাসমাবেশ, ১৪৪৮ হিজরী,২৬ শে আগষ্ট -২০২৬।রেজ:- বুধবার,সময়:- সকাল ৮,০০ ঘটিকা,স্থান:- ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান রমনা ঢাকা বাংলাদেশ। আপনারা মুমিন মুসলমান সকলেই আমন্ত্রিত। বিভিন্ন শতাব্দীর মুহাদ্দিস, মুফাসসির, মুজাদ্দিদ ও অতীত আলেমগণের যুগে যুগে ঈদে মিলাদুন্নী (ﷺ) উদযাপন। ❏ ইমাম হযরত হাসান বসরী (رحمة الله) [২১-১১০ হিঃ] ইমাম হযরত হাসান বসরী (رحمة الله) [২১-১১০ হিঃ][বিশিষ্ট তাবিয়ী, যিনি শতাধিক সাহাবায়ে কিরাম (রা) গণের সাক্ষাত লাভ করেছিলেন] তিনি বলেন-قال الحسن البصرى رحمة الله عليه وَدِدْتُّ لَوْ كَانَ لِىْ مِثْلُ جَبَلِ اُحُدٍ ذَهْبًا فَاَنْفَقْتُهٗ عَلٰى قِرَاءَةِ مَوْلِدِ النَّبِىِّ صَلّٰى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.অর্থ: ‘আমার একান্ত ইচ্ছা হয় যে, আমার যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ থাকতো তাহলে তা পবিত্র মীলাদুন্নবী (ﷺ) উপলক্ষে ব্যয় করতাম।’সুবহানাল্লাহ![আন নি'মাতুল কুবরা আলাল আলাম ৮ পৃষ্ঠা] ❏ ইমাম শাফেয়ী (رحمة الله) [১৫০-২০৪ হিঃ] বিশ্ব বিখ্যাত ফকীহ ইমাম তাহাবী (رحمة الله) ইমাম শাফেয়ী (رحمة الله) এর কওল নকল করে লিখেন-إن أفضل الليالي ليلة مولده صلى الله عليه وسلم ثم ليلة القدر--‘‘নিশ্চয়ই ইবাদতের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম রাত হলো ঈদে মিলাদুন্নবী (ﷺ) এর রাত্রি বা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর শুভাগমনের রাত্র (১২ই রবিউল আউয়াল) তারপর হলো শবে-ই-কদরের রাত্রি।’’👉আল্লামা শায়খ ইউসূফ নাবহানী : যাওয়াহিরুল বিহার : ৩/৪২৬ পৃ : মারকাযে আহলে সুন্নাহ বি বারকাতে রেযা, গুজরাট হতে প্রকাশিত। ❏ ইমাম শাফেয়ী (رحمة الله) [১৫০-২০৪ হিঃ] আরও বলেন-قَالَ اَلاِمَامُ الشَّافِعِىُّ رَحِمَهُ اللهُ مَنْ جَمَعَ لِمَوْلِدِ النَّبِىِّ صَلّٰى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ اِخْوَانًا وَهَيَّاَ طَعَامًا وَاَخْلٰى مَكَانًا وَعَمَلَ اِحْسَانًا وَصَارَ سَبَبًا لِقِرَائَتِهٖ بَعَثَهُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَ الصِّدِّيْقِيْنَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِيْنَ وَيَكُوْنُ فِىْ جَنَّاتِ النَّعِيْمِ.অর্থ: ‘যে ব্যক্তি পবিত্র মীলাদুন্নবী (ﷺ) উদযাপন উপলক্ষে :★লোকজন একত্রিত করলো, ★খানাপিনার ব্যবস্থা করলো,★জায়গা নির্দিষ্ট করলো এবং এ জন্য উত্তমভাবে তথা সুন্নাহ ভিত্তিক আমল করলো তাহলে উক্ত ব্যক্তিকে আল্লাহ পাক হাশরের দিন ছিদ্দীক্ব, শহীদ ছলিহীনগণের সাথে উঠাবেন এবং উনার ঠিকানা হবে জান্নাতে নায়ীমে।’ সুবহানাল্লাহ![আন নি'মাতুল কুবরা আলাল আলাম ১০ পৃষ্ঠা] ❏ হযরত জুনাইদ বাগদাদী (رحمة الله) [২২০-২৯৭
হিঃ] হযরত জুনাইদ বাগদাদী (رحمة الله) [২২০-২৯৭ হিঃ] বলেন-قال جنيد البغدادى رحمة الله عليه مَنْ حَضَرَ مَوْلِدَ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَظَّمَ قَدَرَهٗ فَقَدْ فَازَ بِالاِيْمَانِ.অর্থ: “যে ব্যক্তি পবিত্র মীলাদুন্নবী (ﷺ) এর আয়োজনে উপস্থিত হবে এবং উপযুক্ত সম্মান প্রদর্শন করবে সে বেহেশ্তী হবে।” সুবহানাল্লাহ![আন নি'মাতুল কুবরা আলাল আলাম ৮ পৃষ্ঠা] ❏ ইমাম আবু জাফর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ তাহাবী (رحمة الله) [২২৯- ৩২১ হিজরী] হানাফী মাযহাবের বিখ্যাত ইমাম হযরত ইমাম তাহাবী (رحمة الله) (২২৯- ৩২১ হিজরী) তিনি বলেছেন, ونقل الطحاوي عليه الرحمة في حواشي المختار عن بعض الشافعية أن أفضل الليالي ليلة مولده عليه الصلاة والسلام ثم ليلة القدر ثم ليلة الإسراء والمعراج ثم ليلة عرفة ثم ليلة الجمعة ثم ليلة النصف من شعبان ثم ليلة العيدঅর্থ: রাত সমূহের মধ্যে উত্তম রাত হচ্ছেঃ ★পবিত্র মীলাদুন্নবী (ﷺ) এর রাত,★ অতঃপর লাইলাতুল কদরের রাত,★অতঃপর মিরাজ শরীফের রাত, ★ অতঃপর আরাফার রাত, ★অতঃপর জুমুয়ার রাত, ★অতঃপর ১৫ শাবানের রাত, ★অতঃপর ঈদের রাত।”● তাফসীরে রুহুল মায়ানী ১৯/ ১৯৪, সূরা ক্বদরের তাফসীরে। ❏ ইমাম হযরত ইমাম মারূফ কারখী (رحمة الله) [৭৫০-৮১৫ ইং] বিখ্যাত ইমাম হযরত ইমাম মারূফ কারখী (رحمة الله) [৭৫০-৮১৫ ইং] বলেন-قال المعروف الكرخى رحمة الله عليه مَنْ هَيَّأَ طَعَامًا لاَجْلِ قِرَائَةِ مَوْلِدِ النَّبِىِّ صَلّٰى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَمَعَ اِخْوَانًا وَاَوْقَدَ سِرَاجًا وَلبِسَ جَدِيْدًا وَتَبَخَّرَ وَتَعَطَّرَ تَعْظِيْمًا لِمَوْلِدِ النَّبِىِّ صَلّٰى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَشَرَهُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَ الْفِرْقَةِ الاُوْلٰى مِنَ النَّبِيّنَ وَكَانَ فِىْ اَعْلٰى عِلِّيِّيْن.অর্থ: “যে ব্যক্তি পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী (ﷺ) উপলক্ষে খাদ্যের আয়োজন করে, অতঃপর লোকজনকে জমা করে, মজলিসে আলোর ব্যবস্থা করে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন নতুন পোশাক পরিধান করে, সুঘ্রাণ ও সুগন্ধি ব্যবহার করে, আল্লাহ পাক তাকে নবী আলাইহিমুস সালামগণের প্রথম কাতারে হাশর করাবেন এবং সে জান্নাতের সুউচ্চ মাক্বামে অধিষ্ঠিত হবেন।” সুবহানাল্লাহ্![আন নি'মাতুল কুবরা আলাল আলাম ৮ পৃষ্ঠা] ❏ হযরত ইমাম সাররী সাকতী (رحمة الله) [ওফাতঃ ৮৬৭ ইং] হযরত ইমাম সাররী সাকতী (رحمة الله) [ওফাতঃ ৮৬৭ ইং] বলেন-قال السر سقتى رحمة الله عليه مَنْ قَصَدَ مَوْضعًا يُقْرَأُ فِيْهِ مَوْلِِدُ النَّبِىِّ صَلّٰى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَدْ قَصَدَ رَوْضَةً مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ لاَنَّهٗ مَا قَصَدَ ذٰلِكَ الْمَوْضعَ اِلا لِمُحَبَّةِ النَّبِىِّ صَلّٰى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.অর্থ: “যে ব্যক্তি পবিত্র মীলাদুন্নবী (ﷺ) উদযাপন করার জন্য স্থান নির্দিষ্ট করলো সে যেন নিজের জন্য জান্নাতে একটি বাগান নির্দিষ্ট করলো। কেননা সে তা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক (ﷺ) উনার মুহব্বতের জন্যই করেছে। আর রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, যে ব্যক্তি আমাকে ভালবাসবে সে আমার সাথেই জান্নাতে থাকবে।” সুবহানাল্লাহ্![আন নি'মাতুল কুবরা আলাল আলাম ১০ পৃষ্ঠা] ❏ ইমাম ফখরুদ্দিন রাজি (رحمة الله) [১১৫০-১২১০ ইং] ইমাম ফখরুদ্দিন রাজি (رحمة الله) [১১৫০-১২১০ ইং] বলেন-مَا مِنْ شَخْصٍ قَرَاَ مَوْلِدَ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلٰى مِلْحٍ اَوْ بُرٍّ اَوْشَىء اٰخَرَ مِنَ الْمَأكُوْلاتِ اِلا ظَهَرَتْ فِيْهِ الْبَركَةُ فِىْ كُلِّ شَىء. وَصَلَ اِِلَيْهِ مِنْ ذٰلِكَ الْمَأكُوْلِ فَاِنَّهٗ يَضْطَرِبُ وَلا يَسْتَقِرُّ حَتى يَغْفِرَ اللهُ لاٰكِلِهٖ.অর্থ: যে ব্যক্তি পবিত্র মীলাদুন নবী (ﷺ) উদযাপন করে লবণ, গম বা অন্য কোন খাদ্য দ্রব্যের উপর ফুঁক দেয়, তাহলে এই খাদ্য দ্রব্যে অবশ্যই বরকত প্রকাশ পাবে। এভাবে যে কোন কিছুর উপরই পাঠ করুক না কেন, তাতে বরকত হবেই। উক্ত খাদ্য-দ্রব্য মীলাদুন্নবী (ﷺ) উদযাপনকারীর জন্য আল্লাহ পাকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, এমনকি তাকে ক্ষমা না করা পর্যন্ত সে ক্ষান্ত হয় না।” সুবহানাল্লাহ![আন নি'মাতুল কুবরা আলাল আলাম ৯ পৃষ্ঠা] ❏ ইমাম নাসিরুদ্দীন মোবারক ইবনে বাতাহ (رحمة الله):৪র্থ যুগের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ইমামুল আল্লামাহ নাসিরুদ্দীন মোবারক ইবনে বাতাহ (رحمة الله) পবিত্র মিলাদ সম্পর্কে নিজ ফতোয়ায় লিখেন,মহানবী (ﷺ) ওনা জন্ম রাতে কোন ব্যক্তি কিছু অর্থকরি ব্যয় করলে এবং জনগনকে সমবেত করে তাদেরকে পানাহার করালে বা রাসূল (ﷺ) ওনার জন্ম সম্পর্কে বর্ণিত হাদীস সমূহ এবং অলোকিক ঘটনা শুনালে তা যদি সব রাসূল (ﷺ) ওনার জন্মের প্রতি আনন্দ ও খুশি প্রকাশ করার জন্য হয়ে থাকে তাহলে শরীয়ত মতে তা জায়েজ আর এসব কাজের জন্য সংশ্লীষ্ঠ কর্তাকে ছওয়াব প্রদান করা হয়,যদি তার উদ্দেশ্য ভাল হয়।● আদ-দুররুল মুনাজ্জম ফী আমলে ওয়া হুকমে মাওলিদুন নাবীয়্যিল আযম-পৃষ্ঠা-নং-১৯৭-১৯৮। ❏ মুহাদ্দিস ইমাম ইবনুল জাওযী (رحمة الله) [ওফাত. ৫৯৭
হি.] বলেন-لا زال أهل الحرمين الشريفين والمصر واليمن والشام وسائر بلاد العرب من المشرق والمغرب يحتفلون بمجلس مولد النبى صلى الله عليه وسلم ويفرحون بقدومه هلال شهر ربيع الأول و يهتمون اهتماما بليغا على السماع والقراءة لمولد النبى صلى الله عليه وسلم وينالون بذلك أجرا جزيلا وفوزا عظيما-“মক্কা, মদীনা, ইয়ামন, শাম ও তামাম ইসলামী বিশ্বের পূর্ব ও পশ্চিমবাসীরা সবসময় হুজুর (ﷺ) এর বেলাদাত শরীফের ঘটনায় মীলাদ মাহফিল আয়োজন করত। তারা রবিউল আউয়াল মাসের নতুন চাঁদ উদিত হলে খুশি হয়ে যেত এবং হুজুরের মিলাদ শুনা ব্যাপারে ও পড়ার সীমাহীন গুরুত্বারোপ করত। আর মুসলমানগণ এসব মাহফিল কায়েম করে পরিপূর্ণ প্রতিদান ও আধ্যত্মিক কামিয়াবী হাছিল করত।”[ইমাম যওজীঃ তার লিখিত বয়ানুল মিলাদুন্নবী- ৫৮ পৃ.] ❏ ইমাম ইবনুজ জাওযী (رحمة الله) বলেন-"যে কাফের আবু লাহাবের বিরোদ্ধে আল-কুরআন নাজিল হয়েছে এবং যার জন্য জাহান্নাম নির্ধারিত, সে আবু লাহাবও যদি হুজুর (ﷺ) এর মিলাদুন্নবী উপলক্ষে খুশি হওয়াতে সুফল পায়, তাহলে তাঁর উম্মতের মধ্যে যে একত্ববাদী মুসলমান এবং তাঁর মিলাদুন্নবীতে (ﷺ) আনন্দিত হয় তাঁর মহব্বতে যথাসাধ্য দান করে,তার অবস্থা কী হবে? আমি কসম করে বলছি যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’য়ালার পক্ষ হতে তার বিনিময় এ হবে যে, তিনি সর্বব্যাপী অনুগ্রহ দ্বারা তাকে জান্নাতুন নাঈমে প্রবেশ করাবেন।’● ইবনে জাওজীঃ বয়ানুল মিলাদুন্নবী● ইমাম কুস্তালানীঃ মাওয়াহিবে লাদুনিয়া ১ম জিল্দ ২৭ পৃঃ, ● ইমাম জুরকানীঃ জুরকানী ১ম জিল্দ ১৩৭ পৃঃ ❏ ইমাম ইবনে হজর আসকালানী (رحمة الله) (৭৭৩-৮৫২ হিঃ) ফতহুল বারী শরহে বুখারী শরীফের মধ্যে এ মাসআলা নিয়ে বিশদ আলোচনা করে তিনি বলেনঃﻓﻴﺤﺘﻤﻞ ﺍﻥ ﻳﻜﻮﻥ ﻣﺎﻳﺘﻌﻠﻖ ﺑﺎﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻣﺨﺼﻮﺻﺎ ﻣﻦ ﺫﺍﻟﻚ ﺑﺪﻟﻴﻞ ﻗﺼﺔ ﺍﺑﻰ ﻃﺎﻟﺐ ﻛﻤﺎﺗﻘﺪﻡ ﺍﻧﻪ ﺧﻔﻒ ﻋﻨﻪ ০"যদিও কোন স্বপ্ন শরিয়তের দলিলরূপে গণ্য হয় না, কিন্তু এখানে হযরত আব্বাস (رضي الله عنه) এর স্বপ্ন আবু লাহাবের আজাব লাঘব হওয়ার ব্যাপারে কেবলমাত্র নবী করিম (ﷺ) সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ার দরুণ দলিলরূপে গণ্য হতে পারে। অন্য কারো স্বপ্ন শরিয়তের দলিলরূপে গণ্য হবে না। তারপর আবু তালেবের আজাব কম হওয়ার প্রসঙ্গ দলিলরূপে উল্লেখ করেছেন।"[ইমাম আসকালানী: ফাতহুল বারী শরহে বুখারী, ৯ম খন্ড, ১৫৪ পৃ:]----- ঈদে মিলাদুন্নবী (ﷺ) প্রসঙ্গঃ শাব্দিক অর্থে জশনে জুলুসে ঈদে মীলাদুন্নবী (ﷺ)ঃ جشن (জশন) একটি ফার্সী শব্দ যার অর্থ খুশি বা আনন্দ আর جلوس শব্দটি আরবী। তার অর্থ সম্পর্কে فيروز اللغات এর ৪৬২ নং পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে- اميروں اورباد شايوں كى سوارى كسى خاص موقع پر بھت سے لوگوں کا اکٹھے ھوکر بازاروں غيره ميں سے گزرنا - ‘‘জুলুস হলো অনেক লোক কোন খাছ বা বিশেষ সময়ে একত্রিত হয়ে আমীর ও বাদশাহদের সাওয়ারী নিয়ে বাজার ও শহরের মধ্যে দিয়ে অতিক্রম করা।’’ ঈদে মীলাদুন্নবী (ﷺ) অর্থ রাসূল (ﷺ)- এর দুনিয়ায় শুভাগমন উপলক্ষ্যে আনন্দ পালন করা। সুতরাং জশনে জুলুসে ঈদে মীলাদুন্নবী (ﷺ) অর্থ- হলো রাসূলে করিম (ﷺ) এর দুনিয়ায় আগমন বা মীলাদুন্নবী (ﷺ) উপলক্ষ্যে আনন্দ শুভাযাত্রা বের করা। প্রচলিত অর্থে জশনে জুলুসে ঈদে মীলাদুন্নবী (ﷺ) ১২ রবিউল আউয়াল তারিখে রাসূল (ﷺ) এর দুনিয়ায় শুভাগমন উপলক্ষ্যে অনেক রাসূল প্রেমিক মুসলমানগণ একত্রিত হয়ে পবিত্র ও সুন্দর পোষাক পরিচ্ছদ পরিধান করে আতর গোলাপ গায়ে মেখে কালামে পাক, নাতে রাসূল (ﷺ) এবং নবী করিম (ﷺ) এর প্রতি দরূদ ও সালাম পাঠ করে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ) এর নামে শ্লোগান দিয়ে রাস্তায় বা শহরে শুভাযাত্রা সহকারে আনন্দের সহিত নবী করিম (ﷺ) এর শুভগমন ও তৎসম্বলিত ঘটনাবলীর আলোচনার যে বিরাট মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় তার নাম জশনে জুলুসে ঈদে মীলাদুন্নবী (ﷺ)। অতএব, এখন আমি “জশনে জুলুসে ঈদে মীলাদুন্নবী (ﷺ) উদযান করাকে হারাম, নাজায়েয ও গোনাহের কাজ ইত্যাদি ফতোয়া দানকারী আলেমদের নিকট জানতে চাই উপরে বর্ণিত আমল সমূহ বা কাজগুলো থেকে কোন্ কোন্ আমল গুনাহ ও নাজায়েয যার কারণে আপনারা পবিত্র জশনে জুলুসকে হারাম ফতোয়া দিচ্ছেন। বলতে পারবেন কি? কিয়ামত পর্যন্ত কোন উত্তর মিলবে না।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত