মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
শাহজালাল বিমানবন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আনা বিপুল পরিমাণের ল্যাপটপ ও ট্যাব জব্দ ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপে অভিযোগ: চসিকের উচ্ছেদ অভিযান ভাষা শিখে বিনা খরচে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জাপানে চাকরির সুযোগ : মাহদী আমিন চট্টগ্রাম বন্দরে নিলাম-অযোগ্য ১২৬ কনটেইনার পণ্য ধ্বংস করা হচ্ছে জিম্বাবুয়ে টি-টোয়েন্টি দলে ফিরলেন ক্রিমার মহানবীর (সা.) আদর্শে হিংসা-বিদ্বেষ পরিহারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির কিউট-বিএসপিএ স্পোর্টস কার্নিভাল ২০২৬ শুরু মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলবে বাংলাদেশ : ডি ভিলিয়ার্স রদ্রিকে না পেলেও স্কোয়াড নিয়ে সন্তুষ্ট মরিনহো
জাতীয় শাহজালাল বিমানবন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আনা বিপুল পরিমাণের ল্যাপটপ ও ট্যাব জব্দ

শাহজালাল বিমানবন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আনা বিপুল পরিমাণের ল্যাপটপ ও ট্যাব জব্দ

 হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) অভিযানে একই আমদানিকারকের দু’টি পৃথক চালান থেকে বিপুল পরিমাণ ল্যাপটপ, ট্যাব, আইপ্যাড ও গাড়ির যন্ত্রাংশে মিথ্যা ঘোষণা, পরিমাণগত অসামঞ্জস্য, অস্বাভাবিক কম মূল্য ঘোষণা এবং পণ্যের প্রকৃত তথ্য গোপনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

দুটি চালানের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সারদার গ্লোবাল ট্রেড (বিআইএন: ০০৯১১৩৬৪৫-০১১১) এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ফাহিম ফাইভ স্টার লিমিটেড।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম চালানটির এডব্লিউবি নম্বর ৯৯৭-৬৬৮৯০৭৫১ এবং সংশ্লিষ্ট বিল অব এন্ট্রি (বি/ই) নম্বর ৮২১১৮৬, যার তারিখ ১৩ আগস্ট, ২০২৬। এ চালানে ঘোষিত মূল্য ছিল মাত্র ৩ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার। তবে কায়িক পরীক্ষা ও মূল্যায়নের পর সংশোধিত মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৫২৭ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ২৭ লাখ ৮৫ হাজার ৫৮৪ টাকা।

কায়িক পরীক্ষায় এ চালানে ৫৪৩টি এইচপি কোর আই-৫ ল্যাপটপ, ১৮৭টি এইচপি কোর আই-৩ ল্যাপটপ এবং মিনি পিসি হিসেবে ঘোষিত আরও ১০টি এইচপি কোর আই-৫ ল্যাপটপ পাওয়া যায়। এছাড়া ৫৫টি ট্যাব ও পাঁচটি আইপ্যাড পাওয়া গেছে। অর্থাৎ এ চালানে মোট ৭৪০টি ল্যাপটপ এবং ৬০টি ট্যাব বা আইপ্যাড পাওয়া যায়। ঘোষণার তুলনায় অতিরিক্ত ৪৩টি ল্যাপটপ থাকার বিষয়টিও পরীক্ষণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে দ্বিতীয় চালানটির এডব্লিউবি নম্বর ৯৯৭-৬০৫০০৪৫১ এবং সংশ্লিষ্ট বি/ই  নম্বর ৮২১১০৮, যার তারিখও ১৩ আগস্ট, ২০২৬। এ চালানে ঘোষিত মূল্য ছিল ২ হাজার মার্কিন ডলার। কায়িক পরীক্ষা ও মূল্যায়নের পর সংশোধিত মূল্য দাঁড়িয়েছে ৬৪ হাজার ২৫৯ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৯ লাখ ৩৫ হাজার ৯৮৬ টাকা।

এই চালানে কায়িক পরীক্ষায় ৪৬টি কোর আই-৩ এবং ৩৮১টি কোর আই-৫ ল্যাপটপসহ মোট ৪২৭টি ল্যাপটপ পাওয়া যায়। পাশাপাশি পাওয়া যায় ৩৫টি ট্যাব ও পাঁচটি আইপ্যাড। ঘোষণার তুলনায় অতিরিক্ত ৩৯টি ল্যাপটপ পাওয়া গেছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা জানায়, দু’টি চালানে ঘোষিত মোট মূল্য ছিল ৫ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার। তবে কায়িক পরীক্ষা ও মূল্যায়নের পর সম্মিলিত মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৮৬ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৭ লাখ ২১ হাজার ৫৭০ টাকা। অর্থাৎ ঘোষিত মূল্যের তুলনায় মূল্যায়িত মূল্য প্রায় ৩০ দশমিক ৫ গুণ বেশি। দুই চালান থেকে মোট ১ হাজার ১৬৭টি ল্যাপটপ এবং ১০০টি ট্যাব/আইপ্যাড পাওয়া গেছে।

অভিযানে পাওয়া উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ল্যাপটপ বাহ্যিক অবস্থা দেখে ব্যবহৃত (ইউজড) বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। পরীক্ষণ প্রতিবেদনে এসব পণ্য সম্পর্কে ‘বাহ্যিক অবস্থা অনুযায়ী ব্যবহৃত হতে পারে’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের মতে, এ ধরনের ব্যবহৃত পণ্য প্রচলিত আমদানি নীতি আদেশ অনুযায়ী আমদানি নিষিদ্ধ পণ্যের আওতাভুক্ত।

এছাড়া ক্যাপাসিটর, রাবার সিল ও-রিং, গ্যাসকেট রাবার ও ফিটিংস হিসেবে ঘোষিত বিভিন্ন পণ্য কায়িক পরীক্ষায় গাড়ির যন্ত্রাংশ হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। এসব পণ্যের ক্ষেত্রে এইচএস কোড পরিবর্তনের বিষয়টিও পরীক্ষণ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এনবিআর জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৩ আগস্ট চালান দু’টির খালাস কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে ২৩ আগস্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে কায়িক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।

মিথ্যা ঘোষণা, অস্বাভাবিক কম মূল্য ঘোষণা, ঘোষণার অতিরিক্ত পণ্য আমদানি, পণ্যের প্রকৃত তথ্য গোপন এবং আমদানি নিষিদ্ধ ব্যবহৃত পণ্য আনার অভিযোগে কাস্টমস আইন, ২০২৩ এবং সংশ্লিষ্ট আমদানি নীতি আদেশ অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর শুল্ক-কর ফাঁকি, মিথ্যা ঘোষণা এবং নিষিদ্ধ পণ্য আমদানি প্রতিরোধে তাদের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

খুঁজুন