এক সকালে ফজরের নামাজ শেষে হাঁটতে বেরিয়েছি। মোড়ে এসে থমকে দাঁড়ালাম। তিন দিক জুড়ে ফুলের বাগান, সামনের রাস্তা ঝকঝকে পরিষ্কার। ভোরের নরম আলোয় জায়গাটিকে মনে হচ্ছিল কারও পরম যত্নে সাজানো এক উঠান।
জায়গাটি দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায়, আমার আধ্যাত্মিক শিক্ষকের মাজার শরীফের খুব কাছে। যতবার এই পথ দিয়ে গিয়েছি, মনের ভেতর এক অদ্ভুত ভালোলাগা কাজ করেছে, কিন্তু সময়ের অভাবে থামা হয়নি। গত আগস্টের সফরে ওই এলাকায় দুই রাত তিন দিন ছিলাম। সেই সকালে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানলাম মোড়টির ইতিহাস।
আগে জায়গাটির নাম ছিল ‘শাবানার মোড়’। শাবানা নামে এক ভদ্রমহিলা সেখানে চা বিক্রি করতেন। তাঁর নামেই মানুষের মুখে মুখে পরিচিতি পেয়েছিল মোড়টি।
পরে সেখানকার এক বাড়ির মালিক, বাবু ভাই, নিজের সুন্দর ভাবনাকে কাজে রূপ দেন। নিজের ও আশপাশের প্রতিবেশীদের বাড়ির সামনে, তিন দিকে প্রায় ৫০০ ফুট জুড়ে গড়ে তোলেন ফুলের বাগান। নিয়মিত গাছের পরিচর্যা করেন, আর বাগানের সামনের রাস্তা প্রতিদিন নিজ হাতে পরিষ্কার করেন। তাঁর সঙ্গে আমার দেখা হয়নি, কিন্তু এলাকার মানুষের মুখে মুখে ফেরে তাঁর এই কাজের গল্প।
নানা ফুলগাছের মধ্যে আছে বেশ কয়েকটি বকুলগাছ। সেই বকুলগাছগুলোর সুবাদে মোড়টি এখন স্থানীয় মানুষের কাছে ‘বকুলতলার মোড়’ নামে পরিচিত।
কাকতালীয়ভাবে, আমার আধ্যাত্মিক শিক্ষকের ডাকনামও বকুল। তাই এই নামটি আমার কাছে শুধু একটি জায়গার নাম নয়, ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার এক নাম।
একদিন শাবানার জীবিকার সূত্রে পরিচিত হয়েছিল মোড়টি; পরে বাবু ভাইয়ের যত্নে সেখানে গড়ে উঠেছে নতুন পরিচয়।
সবচেয়ে আনন্দের কথা, বাবু ভাইয়ের দেখাদেখি এলাকার আরও অনেকে নিজেদের বাড়ির সামনে ফুলের বাগান করছেন। একজনের ভালো অভ্যাস ছড়িয়ে পড়ছে প্রতিবেশীদের মধ্যে। আর সেই কাজের সুফল পাচ্ছেন পথিকও—গাছের সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্ন রাস্তা সবার চলার পথকে সুন্দর করে তুলছে।
মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন বাবু ভাইয়ের এই উত্তম কাজের উত্তম বিনিময় দান করেন, আর তাঁর লাগানো প্রতিটি গাছকে তাঁর জন্য সদকায়ে জারিয়া হিসেবে কবুল করেন।
এমন উদ্যোগে সময়, শ্রম আর কিছু খরচ লাগে। গাছের যত্ন নিতে গিয়ে কিছুটা হাঁটাচলা ও শারীরিক পরিশ্রমও হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। শুরুটা ছোট হতে পারে—নিজের বাড়ির সামনেটুকু পরিচ্ছন্ন রাখা, সামর্থ্য অনুযায়ী কয়েকটি গাছ লাগানো এবং যত্ন নেওয়া। আমরা প্রত্যেকে নিজের চারপাশটুকুর দায়িত্ব নিলে অনেক পাড়া ও রাস্তা এভাবেই বদলে যেতে পারে।
বকুলতলার মোড়ে দাঁড়িয়ে আমার একটি পুরোনো স্বপ্নের কথা মনে পড়ল—নিজের গ্রাম থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে ইউনিয়ন ও পুরো উপজেলাকে ফুলে-সবুজে সুন্দর করে তোলা। ভাবনাটি অনেকের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছি, কিন্তু এখনো বাস্তবে রূপ দিতে পারিনি। বাবু ভাইয়ের উদ্যোগ সেই স্বপ্নের পথে কাজ শুরু করার নতুন অনুপ্রেরণা দিল।
সবার সহযোগিতা ও দোয়া চাই, যেন ভাবনাটিকে বাস্তবে রূপ দিতে পারি। সুযোগ থাকলে আপনার বাড়ির সামনেও একটি ফুলগাছ লাগিয়ে যত্ন নিন। চাইলে ছবিটি মন্তব্যে ভাগ করে নিতে পারেন।
হয়তো একদিন আমাদের পথেও বকুল ফুটবে। আর সেই পথ দিয়ে হাঁটতে গিয়ে আমার মনে পড়বে আরেক বকুলের কথা।
প্রতিবেশীর ইতিবাচক প্রভাব:
প্রতিবেশীর ইতিবাচক প্রভাব:
এক সকালে ফজরের নামাজ শেষে হাঁটতে বেরিয়েছি। মোড়ে এসে থমকে দাঁড়ালাম। তিন দিক জুড়ে ফুলের বাগান, সামনের রাস্তা ঝকঝকে পরিষ্কার। ভোরের নরম আলোয় জায়গাটিকে মনে হচ্ছিল কারও পরম যত্নে সাজানো এক উঠান। জায়গাটি দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায়, আমার আধ্যাত্মিক শিক্ষকের মাজার শরীফের খুব কাছে। যতবার এই পথ দিয়ে গিয়েছি, মনের ভেতর এক অদ্ভুত ভালোলাগা কাজ করেছে, কিন্তু সময়ের অভাবে থামা হয়নি। গত আগস্টের সফরে ওই এলাকায় দুই রাত তিন দিন ছিলাম। সেই সকালে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানলাম মোড়টির ইতিহাস। আগে জায়গাটির নাম ছিল ‘শাবানার মোড়’। শাবানা নামে এক ভদ্রমহিলা সেখানে চা বিক্রি করতেন। তাঁর নামেই মানুষের মুখে মুখে পরিচিতি পেয়েছিল মোড়টি। পরে সেখানকার এক বাড়ির মালিক, বাবু ভাই, নিজের সুন্দর ভাবনাকে কাজে রূপ দেন। নিজের ও আশপাশের প্রতিবেশীদের বাড়ির সামনে, তিন দিকে প্রায় ৫০০ ফুট জুড়ে গড়ে তোলেন ফুলের বাগান। নিয়মিত গাছের পরিচর্যা করেন, আর বাগানের সামনের রাস্তা প্রতিদিন নিজ হাতে পরিষ্কার করেন।
তাঁর সঙ্গে আমার দেখা হয়নি, কিন্তু এলাকার মানুষের মুখে মুখে ফেরে তাঁর এই কাজের গল্প। নানা ফুলগাছের মধ্যে আছে বেশ কয়েকটি বকুলগাছ। সেই বকুলগাছগুলোর সুবাদে মোড়টি এখন স্থানীয় মানুষের কাছে ‘বকুলতলার মোড়’ নামে পরিচিত। কাকতালীয়ভাবে, আমার আধ্যাত্মিক শিক্ষকের ডাকনামও বকুল। তাই এই নামটি আমার কাছে শুধু একটি জায়গার নাম নয়, ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার এক নাম। একদিন শাবানার জীবিকার সূত্রে পরিচিত হয়েছিল মোড়টি; পরে বাবু ভাইয়ের যত্নে সেখানে গড়ে উঠেছে নতুন পরিচয়।সবচেয়ে আনন্দের কথা, বাবু ভাইয়ের দেখাদেখি এলাকার আরও অনেকে নিজেদের বাড়ির সামনে ফুলের বাগান করছেন। একজনের ভালো অভ্যাস ছড়িয়ে পড়ছে প্রতিবেশীদের মধ্যে। আর সেই কাজের সুফল পাচ্ছেন পথিকও—গাছের সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্ন রাস্তা সবার চলার পথকে সুন্দর করে তুলছে। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন বাবু ভাইয়ের এই উত্তম কাজের উত্তম বিনিময় দান করেন, আর তাঁর লাগানো প্রতিটি গাছকে তাঁর জন্য সদকায়ে জারিয়া হিসেবে কবুল করেন। এমন উদ্যোগে সময়, শ্রম আর কিছু খরচ লাগে।
গাছের যত্ন নিতে গিয়ে কিছুটা হাঁটাচলা ও শারীরিক পরিশ্রমও হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। শুরুটা ছোট হতে পারে—নিজের বাড়ির সামনেটুকু পরিচ্ছন্ন রাখা, সামর্থ্য অনুযায়ী কয়েকটি গাছ লাগানো এবং যত্ন নেওয়া। আমরা প্রত্যেকে নিজের চারপাশটুকুর দায়িত্ব নিলে অনেক পাড়া ও রাস্তা এভাবেই বদলে যেতে পারে। বকুলতলার মোড়ে দাঁড়িয়ে আমার একটি পুরোনো স্বপ্নের কথা মনে পড়ল—নিজের গ্রাম থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে ইউনিয়ন ও পুরো উপজেলাকে ফুলে-সবুজে সুন্দর করে তোলা। ভাবনাটি অনেকের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছি, কিন্তু এখনো বাস্তবে রূপ দিতে পারিনি। বাবু ভাইয়ের উদ্যোগ সেই স্বপ্নের পথে কাজ শুরু করার নতুন অনুপ্রেরণা দিল।সবার সহযোগিতা ও দোয়া চাই, যেন ভাবনাটিকে বাস্তবে রূপ দিতে পারি। সুযোগ থাকলে আপনার বাড়ির সামনেও একটি ফুলগাছ লাগিয়ে যত্ন নিন। চাইলে ছবিটি মন্তব্যে ভাগ করে নিতে পারেন। হয়তো একদিন আমাদের পথেও বকুল ফুটবে। আর সেই পথ দিয়ে হাঁটতে গিয়ে আমার মনে পড়বে আরেক বকুলের কথা।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত