রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে "ট-র্চা-র সেল"! • রংপুরে মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার - ৯টি • বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-৪-এ ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ, দালালদের মাধ্যমে দ্রুত সেবা পাওয়ার দাবি • বিশ্ব ডিম দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে বিএলআরআইতে বর্ণাঢ্য আয়োজন • ঘুষ ছাড়া মেলে না সেবা নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ • সোনাইমুড়ীর সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হকের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ • বিএনপি সরকারের সাত মাসে ৩২ কূপ খনন, যুক্ত হচ্ছে প্রায় ১৪৮ এমএমসিএফ গ্যাস • ঢাকার বস্তিতে যক্ষ্মা স্ক্রিনিংয়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার ডলার দেবে জাপান • আবেগ, অশ্রুতে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে মেসির বিদায় • কমিশন বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ: বিআরটিসির ডিজিএম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুদকে আবেদন
ধর্ম ঋণ থেকে মুক্তি লাভের দোয়া

ঋণ থেকে মুক্তি লাভের দোয়া

ধর্ম ডেস্ক : ঋণ, ধার-কর্জ এক ধরনের বোঝা। ঋণগ্রস্ত থাকার কারণে দুশ্চিন্তা, অশান্তি ঘিরে ধরে। ঋণ থেকে ‍মুক্তি পেতে অনৈতিক পথ অবলম্বন করেন অনেকে।

এর থেকে মুক্তি পেতে মানুষের প্রধান দায়িত্ব হলো- আল্লাহ তায়ালার কাছে ঋণ থেকে আশ্রয় চাওয়া এবং দোয়া করা, তিনি যেন ঋণ ছাড়াই সব প্রয়োজন পূরণ করে দেন। 

রাসূলুল্লাহ  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর কাছে ঋণ থেকে আশ্রয় চাইতেন। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দোয়া করতেন-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ المَسِيحِ الدَّجَّالِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِالمَحْيَا وَفِتْنَةِ المَمَاتِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ المَأْثَمِ وَالمَغْرَمِ 

অর্থাৎ, ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাই। মাছীহ দাজ্জালের ফেতনা থেকে আশ্রয় চাই। জীবনের ফেতনা ও মৃত্যুর ফেতনা থেকে আশ্রয় চাই। ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে গোনাহ ও ঋণ থেকে আশ্রয় চাই। (সহীহ বুখারী, হাদীস, ৮৩২)

আরেক হাদিসে হজরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দোয়া করতেন,

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الهَمِّ وَالحَزَنِ، وَالعَجْزِ وَالكَسَلِ، وَالجُبْنِ وَالبُخْلِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ، وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ

অর্থাৎ, ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই দুঃখ-দুশ্চিন্তা থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, ভীরুতা ও কার্পণ্য থেকে, ঋণের বোঝা ও মানুষের প্রাবল্য (-এর শিকার হওয়া) থেকে। - (সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৩৬৯)

এই দোয়া করার পাশাপাশি ঋণ থেকে মুক্ত থাকার জন্য কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে। তাহলো-

>> বিশেষ প্রয়োজন এবং নির্দিষ্ট সময়ে পরিশোধের প্রবল ধারণা ছাড়া ঋণ না নেওয়ার দৃঢ় সংকল্প করা।

>> আয় ও ব্যয়ের মাঝে সমন্বয় করে চলা।

>> নামডাক, কৃত্রিমতা ও লোক দেখানো আয়োজন থেকে দূরে থাকা। 

>> যেসব কাজ আপনার জীবন ও সম্পদে বরকত আনতে সহায়তা করে তা গুরুত্বের সাথে করা। আর যেগুলো বরকত নষ্ট করে তা থেকে সযত্নে বেঁচে থাকা। একই সঙ্গে আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়াও করা।

>> বিশেষ প্রয়োজনে ঋণ নিতে হলে সময়মত পরিশোধের নিয়ত রাখা এবং এর জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা। আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করা। 

নিয়ত, দোয়া ও সত্যিকার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে আল্লাহর সাহায্য সঙ্গে থাকে। তিনি পরিশোধ বা মুক্তির ব্যবস্থা করে দেন। হাদিসে এসেছে, যে মানুষের সম্পদ পরিশোধের নিয়তে (ঋণ) নেয়, আল্লাহ তার পক্ষ থেকে পরিশোধ করে দেন। আর যে আত্মসাতের উদ্দেশ্যে নেয়, আল্লাহ তা ধ্বংস করে দেন। -(সহীহ বুখারি, হাদিস, ২৩৮৭)

>> সময়মত পরিশোধ না করলে ঋণদাতা থেকে কখনো কষ্টদায়ক আচরণ প্রকাশিত হতে পারে। এক্ষেত্রে ধৈর্যধারণ করা ও পাল্টা জবাব না দেওয়া কর্তব্য। কোনো বিশেষ কারণ থাকলে তাকে নম্রভাবে বুঝিয়ে বলা উচিত। 

একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক লোকের কাছ থেকে একটি উটনী ঋণ নিয়েছিলেন। সে তা চাইতে এসে কঠোর ব্যবহার করল। তখন উপস্থিত সাহাবীগণ তার সাথে ঠিক তেমন ব্যবহার করতে চাইলেন। 

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বাধা দিয়ে বললেন, ‘তাকে বলতে দাও। পাওনাদারের কিছু বলার আছে।’ এরপর তাদেরকে তাকে একটি উটনী কিনে দিতে বললেন। তারা খুঁজে এসে বললেন, আমরা (এর সমকক্ষ উটনী পাইনি) এর চেয়ে উৎকৃষ্টই শুধু পেয়েছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটাই কিনে দাও। (জেনে রেখ) তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে, যে পরিশোধে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর। -(বুখারি, হাদিস, ২৩৯০)

>> ঋণ দেওয়ার জন্য দাতার কৃতজ্ঞতা আদায় করা, তার জন্য দোয়া করা। এতে সে খুশি হবে এবং ঋণদানে উৎসাহ বোধ করবে। 

আবদুল্লাহ ইবনে আবী রাবিয়া রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুনাইনের যুদ্ধের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছ থেকে ত্রিশ বা চল্লিশ হাজার (দিরহাম?) ঋণ নিয়েছিলেন। যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে তিনি তা পরিশোধ করলেন এবং বললেন, আল্লাহ তোমার পরিবারে ও সম্পদে বরকত দান করুন। ঋণের বিনিময় তো হল পরিশোধ ও কৃতজ্ঞতা।

بَارَكَ اللَّهُ لَكَ فِي أَهْلِكَ وَمَالِكَ

-(মুসনাদে আহমাদ, হাদিস, ১৬৪১০; সুনানে নাসায়ী, হাদিস, ৪৬৮৩)

খুঁজুন