মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপে অভিযোগ: চসিকের উচ্ছেদ অভিযান ভাষা শিখে বিনা খরচে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জাপানে চাকরির সুযোগ : মাহদী আমিন চট্টগ্রাম বন্দরে নিলাম-অযোগ্য ১২৬ কনটেইনার পণ্য ধ্বংস করা হচ্ছে জিম্বাবুয়ে টি-টোয়েন্টি দলে ফিরলেন ক্রিমার মহানবীর (সা.) আদর্শে হিংসা-বিদ্বেষ পরিহারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির কিউট-বিএসপিএ স্পোর্টস কার্নিভাল ২০২৬ শুরু মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলবে বাংলাদেশ : ডি ভিলিয়ার্স রদ্রিকে না পেলেও স্কোয়াড নিয়ে সন্তুষ্ট মরিনহো ট্রাম্পের নতুন শুল্কের পাল্টা পদক্ষেপ ঘোষণা করবে কানাডা
অর্থ ও বাণিজ্য সয়াবিনের রাজত্বে রাইস ব্র্যান

সয়াবিনের রাজত্বে রাইস ব্র্যান

রান্নাঘরের আলমারিতে এতদিন সয়াবিন তেলের একচেটিয়া আধিপত্য থাকলেও, বর্তমানে সেই জায়গা দখল করতে দ্রুত এগিয়ে আসছে ‘রাইস ব্র্যান অয়েল’। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা আর ডলার সংকটের এই সময়ে, দেশীয় ধানের তুষ থেকে তৈরি এই তেল কেবল স্বাস্থ্যকর বিকল্পই নয়, বরং দেশের খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠছে। ধানের তুষ থেকে ‘সুপার ফুড’: অনেকেই জানেন না, আমরা যে ধান খাই, তার ওপরের পাতলা আবরণ বা তুষ—যা এতদিন অবহেলায় পড়ে থাকত—তা থেকেই তৈরি হচ্ছে এই বিশেষ ভোজ্যতেল। বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে ধান উৎপাদন হওয়ায় এর কাঁচামাল নিয়ে কোনো সংশয় নেই। ফলে, সয়াবিন তেলের জন্য বিদেশের দিকে তাকিয়ে না থেকে দেশীয় এই সম্পদ কাজে লাগানোর সুযোগ এখন তুঙ্গে। কেন রাইস ব্র্যান অয়েলের দিকে ঝুঁকছেন স্মার্ট গৃহিণীরা পুষ্টিবিদদের মতে, রাইস ব্র্যান অয়েল এখন ‘হার্ট-ফ্রেন্ডলি’ তেল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। এর প্রধান বিশেষত্বগুলো হলো: এই শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (LDL) কমাতে জাদুর মতো কাজ করে। সয়াবিন তেলের তুলনায় এটি উচ্চ তাপমাত্রায় রান্নার জন্য বেশি উপযোগী। ভাজাপোড়া করলেও এর পুষ্টিগুণ সহজে নষ্ট হয় না। রান্নায় কোনো কড়া গন্ধ না থাকায় খাবারের আসল স্বাদ ও ঘ্রাণ অটুট থাকে। ত্বকের উজ্জ্বলতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। ‘সানশাইন’ থেকে ‘এসিআই’—প্রতিযোগিতায় সবাই: রাজধানীর সুপারশপগুলো ঘুরে দেখা যায়, স্বাস্থ্যসচেতন ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ এখন রাইস ব্র্যান অয়েল। মুনতাহা নামে এক নিয়মিত ক্রেতা বলেন, "দুই বছর আগে স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা ভেবে রাইস ব্র্যান অয়েল নেওয়া শুরু করি। এখন আর সয়াবিনে ফিরতে ইচ্ছে করে না; তেলটা বেশ হালকা, রান্নার পর ভারী বা চটচটে ভাব থাকে না।" বর্তমানে বাজারের বড় বড় শিল্প গ্রুপ যেমন—আকিজ ইনসাফ গ্রুপের ‘সানশাইন’, এসিআই, মেঘনা গ্রুপ ও বাংলাদেশ এডিবেল অয়েল লিমিটেড তাদের ব্র্যান্ডগুলোকে গ্রাহকদের কাছে তুলে ধরছে। বাস্তব চ্যালেঞ্জ ও আগামীর সম্ভাবনা: অবশ্য সয়াবিনের চেয়ে দাম কিছুটা বেশি হওয়ায় মধ্যবিত্তের নাগালে আসতে এখনো লড়াই করতে হচ্ছে এই তেলকে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি সরকারি প্রণোদনার মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমানো যায় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে পুষ্টি সচেতনতা বাড়ানো যায়, তবে অদূর ভবিষ্যতে সয়াবিনের ওপর নির্ভরশীলতা অনেকাংশেই কমে আসবে। আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে স্বনির্ভর হওয়ার পথে রাইস ব্র্যান অয়েল কেবল একটি পণ্য নয়, এটি একটি নীরব বিপ্লব। রান্নাঘরের এই ছোট্ট পরিবর্তনই বদলে দিতে পারে জাতীয় অর্থনীতির বড় এক সমীকরণ।

খুঁজুন