শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটককে চিঠি

ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটককে চিঠি


কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাঝে যারা গুজব, মিথ্যা তথ্য এবং অপপ্রচার করেছেন তাদেরকে চিহ্নিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। বিভিন্ন আন-ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ, গ্রুপ, কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের পেজ, ইউটিউব চ্যানেল প্রকাশিত কনটেন্ট তদারকি করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।



বাংলাদেশের আইনের প্রতি জবাবদিহিতায় ফেসবুক, ইউটিউব এবং টিকটকের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি’র মাধ্যমে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে উল্লেখ করে পলক বলেন, তাদের প্রতিনিধিদের স্বশরীরে উপস্থিত হতে বলা হবে চিঠিতে।


বুধবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী পলক।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে বাংলাদেশের আইনের আলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার উল্লেখ করে পলক বলেন, ফেসবুক আমেরিকার সরকারের কথা অক্ষরে অক্ষরে মানে। তেমনি বাংলাদেশের আইন, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নিরাপত্তা বিবেচনা করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। অর্থ উপার্জনের জন্য কোন কিছুর তোয়াক্কা করবে না, এটা আমরা মানতে পারি না। নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থ ছাড়া নাগরিকদের কোনো স্বার্থ রক্ষায় তারা সচেষ্ট না।

আলোচনার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে স্বশরীরে প্রতিনিধি পাঠানোর উল্লেখ করে চিঠি দেওয়া হবে জানিয়ে পলক আরও বলেন, বিটিআরসি’র মাধ্যমে আগামী রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে চিঠি দেওয়া হবে। ৩ দিন বা ৭ দিন সময় দিয়ে একটা নির্দিষ্ট দিনে তাদেরকে স্বশরীরে প্রতিনিধি পাঠাতে বলা হবে। তারা যদি প্রতিনিধি পাঠায় তাহলে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি না পাঠায়, তাহলে আমরা আমাদের মত ব্যবস্থা নেবো। সেক্ষেত্রে ‘রেস্ট্রিকশন’ করা হতে পারে।

গুজব প্রচারে দেশিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদেরও মনিটরিং করা হবে উল্লেখ করে পলক বলেন, এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে একটি মামলা চলমান যার শুনানি রয়েছে আগামী ২৭ জুলাই। সেই মামলায় কী রায় আসে তার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সোশ্যাল মিডিয়া এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটদের মনিটরিং করা হচ্ছে। তাদের কারোরই কোন জবাবদিহিতা নেই। তারা তো নিবন্ধিত না, সংবাদ মাধ্যম না, যাচাইকৃত উৎস না। তারা ফেসবুকে একটা জিনিস দেখেই শেয়ার করে দিচ্ছে, যা ইচ্ছে হলো পোস্ট করে দিলো। তারা মনে করছে, ফেসবুকই একটা নিউজ মিডিয়া। এজন্য ফেসবুকেরও দায় আছে। তারা শুধু অর্থ আয়ের জন্য জান-মাল, আইন, ধর্মীয় মূল্যবোধ কোন কিছুর তোয়াক্কা করবে না, এটা একটা দায়িত্বশীল সরকার হিসেবে মেনে নিতে পারি না।

দেশিয় উদ্যোক্তাদের ফেসবুক-ইউটিউবের মতো কোন প্ল্যাটফর্ম তৈরির পরিকল্পনা থাকলে সরকার তাতে সহায়তা করবে উল্লেখ করে পলক বলেন, ফেসবুক, ইউটিউবে বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে দেশের অর্থ বাইরে চলে যাচ্ছে। দেশের কনটেন্ট, ডাটা বাইরে যাচ্ছে। অথচ দেশেই যদি এমন কোন প্ল্যাটফর্ম থাকতো তাহলে বিজ্ঞাপনের অর্থ, ডাটা ও কনটেন্ট দেশেই থাকতো। মূল ধারার অনেক গণমাধ্যম এখন ওটিটি’র মত ডিজিটাল মাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করছে। এভাবে যদি দেশেই কোনো প্ল্যাটফর্ম করা যায়, আর এমন যদি কোনো আইডিয়া কোনো উদ্যোক্তার থাকে তাহলে সরকার সহায়তা করবে।

খুঁজুন