শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফোনাশক্তি, মানসিক-স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে শিশুরা

ফোনাশক্তি, মানসিক-স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে শিশুরা

প্রযুক্তিনির্ভর এই বিশ্বে স্মার্টফোন বর্তমান শিশু–কিশোরদের পড়াশোনা থেকে শুরু করে প্রাত্যহিক সব কাজের অন্যতম অনুষঙ্গ। মানুষের জীবনে প্রযুক্তি যেমনি সুফল বয়ে আনছে, তেমনি এর মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারে বাড়ছে নানাবিধ সমস্যা। অতিমাত্রায় মোবাইল ব্যবহারে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ। মোবাইলের গেম আশক্তিতে নষ্ট হচ্ছে অর্থ বিনষ্ট হচ্ছে লেখাপড়া। বড়দের পাশাপাশি দিনের অধিকাংশ সময় মোবাইলের পেছনে ব্যয় করছে শিশুরা। সারাদেশের ন্যায় এমন চিত্র শালিখাতেও। শিশুদের মোবাইল অশক্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় অভিভাবকসহ সচেতন মহল। মাঝেমধ্যে ফোন কিনে না দেওয়ায় গলায় ফাঁস দেওয়া ও বাড়ি থেকে অন্যত্র চলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে এখানে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, টিকটক, ফেসবুক, ইউটিউব, গেমে আসক্ত হয়ে পড়াশোনাবিমুখ হচ্ছে শিশু–কিশোরেরা। একই সঙ্গে তাদের পরিপূর্ণ মানসিক ও শারীরিক বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এসব ডিভাইসগুলো। মোবাইলের অপব্যবহারে বাড়ছে অপরাধপ্রবণতাও। স্কুল-কলেজে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ থাকলেও তা মানছে না অনেকে। উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে তৈরি করছে টিকটক ও রিলস ভিডিও। অনলাইন থেকে পাওয়া অর্থের লোভে অধিকাংশ সময় মোবাইলের পেছনেই ব্যয় করছে কিশোরেরা।

এদিকে ফোন দিয়ে খাবার খাওয়ানো, ও শিশুর কান্না থামানো যেন এখনকার বাবা-মা’র আবশ্যকীয় কাজ। দুবছরের শিশু থেকে পঞ্চাশোর্ধ লোকেদের নিত্যসময়ের সঙ্গী এখন মোবাইল ফোন। শিশুদের মোবাইল অশক্তি দূর করতে শিশুদের পেছনে সময় দেওয়া, শিশুদের ভালো কাজের প্রশংসাপূর্বক পুরস্কৃত করা, শিশুদের সামনে মোবাইল ব্যবহার বন্ধ করা, সৃজনশীল কাজে সম্পৃক্ত করা, সহনশীলতার সঙ্গে শিশুদের প্রতি সদাচার করা, খেলাধুলা সাথে সম্পৃক্ত করা, শিশুদেরকে অকারণে ফোন ব্যবহার করতে না দেওয়াসহ নানাবিধ পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

ছয়-সাত ইঞ্চির এই ডিভাইস যেন শিশু–কিশোরদের ধ্যানজ্ঞান। প্রতিদিন রাত জেগে স্মার্টফোনের গেমসে বুঁদ হয়ে থাকে এই শিশু–কিশোরেরা। সামনে বই, খাতা, কলম রাখা থাকলেও কিন্তু তা থেকে তার নজর কিছুতেই সরছে না। অনলাইনের যুগে শিশুদের ঘাড়ে যেন অভিশাপ হয়ে এসেছে স্ক্রিন আসক্তি। স্মার্টফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ কিংবা কম্পিউটারেই তাদের রাত-দিন পার হচ্ছে। এমনকি খাবার টেবিলে বসেও চলে ফোন চাপাচাপি। মোবাইল অশক্তি যেন চিন্তার বড় কারণ হয়প দাড়িয়েছে। যে বয়সে শিশু-কিশোরদের বইয়ের পাতা উল্টে নতুন নতুন অধ্যায় ধরার কথা, সে বয়সে তারা ব্যস্ত গেমসের লেভেল পার হওয়াতেই। অনেকে আবার বিভিন্ন ধরনের অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েছে।

সরকারি আইডিয়াল স্কুলের বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রীর অভিভাবক জানান, স্কুল ফাঁকি দিয়ে ফোন নিয়ে পড়ে থাকে তাঁদের সন্তান। আবার ফোন কিনে না দিলেও স্কুল যাওয়া বা নাওয়া–খাওয়া বন্ধ করে তারা। এমনকি আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে আদায় করছে ফোন। অনেকটা নিরুপায় হয়ে ফোন কিনে দিতে বাধ্য হচ্ছেন অভিভাবকবৃন্দ।

শ্রী ইন্দ্রনীল গবেষণা ইনিস্টিউটের প্রধান সংগঠক ইন্দ্রনীল বিশ্বাস, ‘দার্শনিক জালাল উদ্দীনের’ একটি উক্তি উল্লেখ করে বলেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত যা তাহাই বিষ আর প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে পাশাপাশি সন্তানকে চার দেয়ালের বাইরে মুক্ত হাওয়ায় বেড়াতে নিয়ে যাওয়াসহ নানা কর্মকাণ্ড হতে পারে আসক্তির প্রতিষেধক। তা না হলে স্ক্রিনের আলো শিশুর ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিয়ে যেতে পারে। শিশু-কিশোরদেরকে কাউন্সিল করে এই মোবাইল আশক্তি কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব বলেও মনে করেন এই গবেষক।

চিকিৎসক বিজয় কৃষ্ণ বলেন, অতিরিক্ত মুঠোফোন আসক্তির কারণে চোখ ও মস্তিষ্কের নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। কিশোর বয়সে যারা মুঠোফোন আসক্ত হয়, তাদের চোখের দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, অস্থিরতা, ঘুমের সমস্যা হয়।পাশাপাশি মোবাইল আশক্তিতে মস্তিক থেকে ডেপামিন নিঃসরন হয়। যে কারণে তাদের শারীরিক বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়।

খুঁজুন