মোতালেব শাহ আল মাইজভান্ডারী :
আহলে হাদিস, ওহাবী, লা-মাজহাবী, সালাফী নামধারী ঈমানহরণকারী এবং ইসলামী ঐতিহ্য ধ্বংসকারীরা কথায় কথায় শিরক বিদাত শিরক বিদাত করে। আর মুখে মুখে বলে তারা সলফে সালহীন তথা সাহাবা, তাবেঈন, তাবে তাবেঈনদের পথ অনুস্মরণ করে। অথচ বিশিষ্ট জনদের কবর পাকা, কবরের উপর গম্বুজ কিংবা ছাদ নির্মান সাহাবাদের সুন্নাত।
আহলে হাদিস, ওহাবী, লা-মাজহাবী, সালাফী নামধারী ঈমানহরণকারী এবং ইসলামী ঐতিহ্য ধ্বংসকারীরা কথায় কথায় শিরক বিদাত শিরক বিদাত করে। আর মুখে মুখে বলে তারা সলফে সালহীন তথা সাহাবা, তাবেঈন, তাবে তাবেঈনদের পথ অনুস্মরণ করে। অথচ বিশিষ্ট জনদের কবর পাকা, কবরের উপর গম্বুজ কিংবা ছাদ নির্মান সাহাবাদের সুন্নাত।
তারা এখন দেশে দেশে মাজার ভাঙার প্রজেক্ট হাতে নিয়ে নামে বেনামে অনেক সন্ত্রাসী গ্রুপ নিয়োগ দিয়েছে। যাদের কাজ হলো মাজার দেখলেই ভেঙে বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়া। ফেসবুকেও তারা খুব সোচ্চার। প্রায়ই শুনি তাদের মাজার ভাঙার হুমকি। তাঁদের নাপাক হাত থেকে সাহাবা, ওলি বা ইসলামের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ কবর বা মাজার কিছুই রক্ষা পায় না। বোমা মেরে তা উড়িয়ে দেয়। তারা নাকি ইসলামকে বিদাতমুক্ত করছে। সৌদি ওহাবীদের দেখাদেখি আমাদের দেশের কিছু আমপারা পড়া হামবড়া লাফিয়ে উঠে আর ঘোষণা দেয় বাংলাদেশে অবস্থিত আল্লাহর ওলিদের মাজার ধ্বংস করবে। নিচে প্রমাণ দেখুন কবর পাকা করা, কবুরের উপর গম্বুজ তৈরি করা এবং কবরের উপরে ছাদ নির্মান করা সাহাবা রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের সুন্নাত।
সৌদি আরবে ওহাবীরা দুই পর্যায়ে, ১৮০৬ ও ১৯২৫ সালে তিনটি কবর ব্যতীত (রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আর তার দুই সাহাবী হযরত আবু বকর ও হযরত উমর (রাঃ) এর পবিত্র রওজা) অন্য সব সাহাবী ও ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের রওযা সমুহ বোল্ডোজার দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। এভাবে ইসলামের ইতিহাসের অনেক মূল্যবান নিদর্শন বিনষ্টের মাধ্যমে অপূরণীয় ক্ষতি সাধণ করা হয়েছে। তাদের এভাবে মাজার ভাঙার পিছনে যুক্তি ছিল হযরত আলীর (রা) একটি হাদিস যা ইবনে মাজাহ, তিরমিজি সহ কিছু হাদিস গ্রন্থে স্হান পেয়েছে। তা নিয়ে গত পোস্টে আলোচনা করেছি।
কবর পাকা ও এর উপরে গম্বুজের প্রমাণ
ইসলামিক ফউন্ডেশন বুখারী হাদিস নং ১৩০৮ আর তৌহিদ ফউন্ডেশন হাদিস নং ১৩৯০>
“হযরত সুফিয়ান তাম্মার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রওযা উটের কুজের ন্যায় উঁচু দেখেছেন।”
হযরত আলীর (রা) হাদিস যদি কাফের-মুশরিক-
মুসলমান সবার উঁচু কবর মাটির সাথে মিশিয়ে দেবার কথা বলা হতো তাহলে নবীজি (সা) এর কবর উঁচু হতো না। মক্কা বিজয়ের পর নবীজি ল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবা থেকে সব মুর্তি ভেঙ্গে কাবাকে পবিত্র করেছিলেন। মুর্তি ভাঙা আর মাজার ভাঙা এক জিনিস নয়। আরও কিছু সহীহ হাদিস থেকে আমরা দেখি কবর পাকা করা না জায়েজ কিনা।
উক্ত কিতাবদ্বয়ের পরবর্তী হাদিস> “হযরত উরওয়া (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল মালিকের শাসনামলে (৮৬ হিজরীতে) একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওযা মুবারকের এক দিকের দেয়াল ধসে গেলে সাহাবায়ে কেরাম তা মেরামত শুরু করেন। মেরামতের সময় হঠাত এক খানা পা দৃষ্টি গোচর হল। উপস্থিত লোকজন মনে করলেন হয়তোবা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পা মুবারক হতে পারে। কিন্তু তথায় উপস্থিত হযরত উরওয়া রা (হযরত আয়েশা রা এর ভাগিনা) সমবেত লোকদের উদ্দেশ্যে বললেন, না আল্লাহর কসম, এটা নবী করীম (সা) এর পা মুবারক নয়। এটা তো হযরত উমর (রা) এর পা।” এটা বুঝা গেল সাহাবা কেরামই সর্ব প্রথম নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, হযরত আবু বক্কর (রা) ও হযরত ঊমর (রা) এর রওযা পাকা করেছিলেন।
উল্লেখ্য যে, হযরত উমর (রা) উম্মুল মুমেনিন হযরত জয়নাব বিনতে জাহাশ (রা) এর মাজারের উপর গম্বুজ নির্মাণ করেছিলেন। উম্মুল মুমেনিন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা) মক্কায়্য অবস্থিত তাঁর ভাই হযরত আব্দুর রাহমান (রা) এর কবরের উপর গম্বুজ নির্মাণ করেন। তায়েফে অবস্থিত হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) এর কবরের উপর বিশিষ্ট তাবীঈ মুহাম্মাদ বিন
হানফিয়া (র) গম্বুজ নির্মাণ করেছিলেন। (দেখুন মুন্তাকা সরহে মুয়াত্তা ও বাদায়ে সানায়ে।
কবরকে নামাজের স্থান বানাতে নিষেধ করা হয়েছে কিন্তু কবর জিয়ারত না করতে বা কবর ধ্বংস করতে বলা হয়নি। বরং কবর জিয়ারত করলে মৃত্যুর কথা স্মরণ হবে সে কথাও হাদিসে এসেছে। কবর বা মাজার ভাঙা এসব ওহাবী আকিদা আর তারাই সন্ত্রাসির মাধ্যমে ইসলামকে কলুসিত করে যাচ্ছে। আল্লাহ আমাদেরকে তাদের কুমন্ত্রনা থেকে রক্ষা করুন।
মাজার নাই ফেরাউনের,
মাজার নাই নমরুদের,
মাজার নাই আবু লাহাবের,
মাজার নাই আবু জাহেলের,
মাজার নেই ইয়াজিদের,
মাজার নাই ইবনে ওহাবের,
☞ কোরআনে বর্নিত প্রায় সকল নবী রাসুলের সন্ধান আছে, সবার মাজার আছে,
☞ খোলফায়ে রাশেদিনের মাজার আছে,
☞ মাজহাবের ইমাম গনের মাজার আছে,
☞ জামানার মোজ্জাদেদের মাজার আছে।
☞ হাদিসের ইমাম দের মাজার আছে,
☞ তাফসীরের ইমাম দের মাজার আছে,
☞ তরিকতের ইমাম দের মাজার আছে,
☞ যারা ভারতবর্ষে ইসলাম এনেছেন তাদের মাজার আছে,
☞ যারা ভারতবর্ষে কোরান-হাদিস এনেছেন উনাদেরও মাজার আছে,
☞ সুতরাং যারা মাজারের পক্ষে ও তাজিমকারি তারাই সঠিক পথে রয়েছেন,
এতে কোন সন্দেহ নাই ।।