অনেকেই অলি-আউলিয়াদের মর্যাদা এবং মাজার জিয়ারতের গুরুত্ব নিয়ে কোরআনের সঠিক ব্যাখ্যা জানতে চান। সূরা ইউনুস থেকে শুরু করে সূরা কাহাফ—পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের সম্মান ও জীবন্ত থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। মূলত আল্লাহর বন্ধুদের ভালোবাসা মানেই আল্লাহকে ভালোবাসা। আসুন, তাঁদের উসিলায় আল্লাহর রহমত ও বরকত অন্বেষণ করি।
(পুরো বিষয়টির মূলবিন্দু জানতে পোস্টটি পড়ুন)
আল্লাহর অলিদের মর্যাদা, তাঁদের সান্নিধ্য এবং বরকত লাভের বিষয়ে বেশ কিছু আয়াত রয়েছে। সুফি গবেষক ও আলেমরা এই আয়াতগুলোর আলোকেই মাজার জিয়ারতের বৈধতা ও গুরুত্ব বর্ণনা করেন।
কোরআনের আলোকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নিচে তুলে ধরা হলো:
১. আল্লাহর বন্ধুদের (অলি) মর্যাদা
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন যে, তাঁর প্রিয় বান্দাদের কোনো ভয় বা দুশ্চিন্তা নেই:
"মনে রেখো, যারা আল্লাহর বন্ধু (অলি), তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।"
— (সূরা ইউনুস, আয়াত: ৬২)
সুফিদের মতে, এই সম্মান দুনিয়া ও আখেরাত—উভয় জাহানের জন্যই। তাই তাঁদের কবরের পাশে যাওয়া মানেই একজন সম্মানিত ব্যক্তির সান্নিধ্যে যাওয়া।
২. আল্লাহর অলিরা মৃত নন
অনেকে মনে করেন কবরে শুয়ে থাকা ব্যক্তি মৃত, তাই সেখানে গিয়ে লাভ নেই। কিন্তু কোরআন বলছে ভিন্ন কথা:
"আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়, তাদের মৃত বলো না; বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা বোঝ না।"
— (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৫৪)
যদিও এই আয়াতটি শহীদদের সম্পর্কে, কিন্তু সুফি উলামায়ে কেরাম বলেন, আল্লাহর অলিরা তাঁদের নফসকে আল্লাহর জন্য কুরবানি করে আধ্যাত্মিক জীবন লাভ করেন। তাই তাঁদের রূহানি উপস্থিতি অনুভব করা সম্ভব।
৩. নেক বান্দাদের অসিলা বা মাধ্যম তালাশ করা
কোরআনে আল্লাহ তাআলা তাঁর নৈকট্য লাভের জন্য মাধ্যম বা 'অসিলা' খুঁজতে নির্দেশ দিয়েছেন:
"হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং তাঁর নৈকট্য লাভের জন্য 'অসিলা' (মাধ্যম) অন্বেষণ করো..."
— (সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৩৫)
জিয়ারতকারীরা যখন মাজারে যান, তখন তাঁরা সেই মহান ব্যক্তির আমল ও সম্মানের উসিলা দিয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, যা এই আয়াতের মর্মার্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
৪. আসহাবে কাহাফের স্মৃতি রক্ষা (মসজিদ নির্মাণ)
পবিত্র কোরআনে আসহাবে কাহাফ (গুহাবাসী পুণ্যবান যুবক)-দের ঘটনার বর্ণনায় দেখা যায়, তাঁদের ইন্তেকালের পর লোকেরা সেই স্থানে ইবাদতগাহ বা মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল:
"...যারা তাদের বিষয়ে জয়ী হলো, তারা বলল— আমরা অবশ্যই তাদের পাশে একটি মসজিদ নির্মাণ করব।"
— (সূরা আল-কাহাফ, আয়াত: ২১)
মুফাসসিরিনদের মতে, পবিত্র ব্যক্তিদের কবরের পাশে বরকত লাভের উদ্দেশ্যে মসজিদ বা স্মৃতি চিহ্ন রাখা কোরআন দ্বারা সমর্থিত একটি প্রাচীন রীতি।
৫. ক্ষমাপ্রার্থনার জন্য বিশেষ স্থান ও ব্যক্তি
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:.তারা যখন নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল, তখন তারা যদি আপনার (রাসূলের) কাছে আসত এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইত এবং রাসূলও তাদের জন্য ক্ষমা চাইতেন, তবে তারা অবশ্যই আল্লাহকে তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু হিসেবে পেত।"
— (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৬৪)
সুফিগণ মনে করেন, যদিও এই আয়াতটি সরাসরি রাসূল (সা.)-এর শানে, তবে রাসূলের উত্তরসূরি হিসেবে অলি-আল্লাহদের সান্নিধ্যে গিয়ে তওবা করা বা দোয়া করা দ্রুত কবুল হওয়ার একটি মাধ্যম।
সারকথা
পবিত্র কোরআনের নির্যাস হলো— যারা আল্লাহর প্রিয়, তাঁদেরকে ভালোবাসা এবং তাঁদের স্মৃতিধন্য স্থানকে সম্মান করা মূলত আল্লাহকেই সম্মান করার শামিল। তবে মনে রাখতে হবে, কোরআনের শিক্ষা অনুযায়ী সেজদা এবং ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্য। অলিদের মাজারে যাওয়া হয় কেবল তাঁদের প্রতি সম্মান জানাতে এবং তাঁদের উসিলায় আল্লাহর রহমত পাওয়ার আশায়।
(পুরো বিষয়টির মূলবিন্দু জানতে পোস্টটি পড়ুন)
আল্লাহর অলিদের মর্যাদা, তাঁদের সান্নিধ্য এবং বরকত লাভের বিষয়ে বেশ কিছু আয়াত রয়েছে। সুফি গবেষক ও আলেমরা এই আয়াতগুলোর আলোকেই মাজার জিয়ারতের বৈধতা ও গুরুত্ব বর্ণনা করেন।
কোরআনের আলোকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নিচে তুলে ধরা হলো:
১. আল্লাহর বন্ধুদের (অলি) মর্যাদা
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন যে, তাঁর প্রিয় বান্দাদের কোনো ভয় বা দুশ্চিন্তা নেই:
"মনে রেখো, যারা আল্লাহর বন্ধু (অলি), তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।"
— (সূরা ইউনুস, আয়াত: ৬২)
সুফিদের মতে, এই সম্মান দুনিয়া ও আখেরাত—উভয় জাহানের জন্যই। তাই তাঁদের কবরের পাশে যাওয়া মানেই একজন সম্মানিত ব্যক্তির সান্নিধ্যে যাওয়া।
২. আল্লাহর অলিরা মৃত নন
অনেকে মনে করেন কবরে শুয়ে থাকা ব্যক্তি মৃত, তাই সেখানে গিয়ে লাভ নেই। কিন্তু কোরআন বলছে ভিন্ন কথা:
"আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়, তাদের মৃত বলো না; বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা বোঝ না।"
— (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৫৪)
যদিও এই আয়াতটি শহীদদের সম্পর্কে, কিন্তু সুফি উলামায়ে কেরাম বলেন, আল্লাহর অলিরা তাঁদের নফসকে আল্লাহর জন্য কুরবানি করে আধ্যাত্মিক জীবন লাভ করেন। তাই তাঁদের রূহানি উপস্থিতি অনুভব করা সম্ভব।
৩. নেক বান্দাদের অসিলা বা মাধ্যম তালাশ করা
কোরআনে আল্লাহ তাআলা তাঁর নৈকট্য লাভের জন্য মাধ্যম বা 'অসিলা' খুঁজতে নির্দেশ দিয়েছেন:
"হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং তাঁর নৈকট্য লাভের জন্য 'অসিলা' (মাধ্যম) অন্বেষণ করো..."
— (সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৩৫)
জিয়ারতকারীরা যখন মাজারে যান, তখন তাঁরা সেই মহান ব্যক্তির আমল ও সম্মানের উসিলা দিয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, যা এই আয়াতের মর্মার্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
৪. আসহাবে কাহাফের স্মৃতি রক্ষা (মসজিদ নির্মাণ)
পবিত্র কোরআনে আসহাবে কাহাফ (গুহাবাসী পুণ্যবান যুবক)-দের ঘটনার বর্ণনায় দেখা যায়, তাঁদের ইন্তেকালের পর লোকেরা সেই স্থানে ইবাদতগাহ বা মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল:
"...যারা তাদের বিষয়ে জয়ী হলো, তারা বলল— আমরা অবশ্যই তাদের পাশে একটি মসজিদ নির্মাণ করব।"
— (সূরা আল-কাহাফ, আয়াত: ২১)
মুফাসসিরিনদের মতে, পবিত্র ব্যক্তিদের কবরের পাশে বরকত লাভের উদ্দেশ্যে মসজিদ বা স্মৃতি চিহ্ন রাখা কোরআন দ্বারা সমর্থিত একটি প্রাচীন রীতি।
৫. ক্ষমাপ্রার্থনার জন্য বিশেষ স্থান ও ব্যক্তি
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:.তারা যখন নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল, তখন তারা যদি আপনার (রাসূলের) কাছে আসত এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইত এবং রাসূলও তাদের জন্য ক্ষমা চাইতেন, তবে তারা অবশ্যই আল্লাহকে তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু হিসেবে পেত।"
— (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৬৪)
সুফিগণ মনে করেন, যদিও এই আয়াতটি সরাসরি রাসূল (সা.)-এর শানে, তবে রাসূলের উত্তরসূরি হিসেবে অলি-আল্লাহদের সান্নিধ্যে গিয়ে তওবা করা বা দোয়া করা দ্রুত কবুল হওয়ার একটি মাধ্যম।
সারকথা
পবিত্র কোরআনের নির্যাস হলো— যারা আল্লাহর প্রিয়, তাঁদেরকে ভালোবাসা এবং তাঁদের স্মৃতিধন্য স্থানকে সম্মান করা মূলত আল্লাহকেই সম্মান করার শামিল। তবে মনে রাখতে হবে, কোরআনের শিক্ষা অনুযায়ী সেজদা এবং ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্য। অলিদের মাজারে যাওয়া হয় কেবল তাঁদের প্রতি সম্মান জানাতে এবং তাঁদের উসিলায় আল্লাহর রহমত পাওয়ার আশায়।