শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
সুফিবাদ মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের অন্যতম আধ্যাত্মিক পুরুষ

মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের অন্যতম আধ্যাত্মিক পুরুষ

মাজহারুল ইসলাম মাসুম, সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক :

১৩৫৬ হিজরীর ৯ই জিলহজ, ১৯৩৭ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারি, ২৭শে মাঘ, ১৩৪৪ বঙ্গাব্দ বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় পৃথিবীতে শুভাগমন করেন, প্রিয় নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ৩০তম পবিত্র বংশধর, তার পিতা গাউসে জামান হযরত আল্লামা শাহ্সুফি সাইয়্যিদ আবুল বশর আল হাসানী ও মা হযরত সাইয়্যেদা জাহানারা বেগম (রহঃ) এর কোল আলো করে, শায়খুল ইসলাম, হুযুর গাউসুল ওয়ারা হযরাতুলহাজ্ব আল্লামা শাহ্সুফি সাইয়্যিদ মইনুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী (কাদ্দাসাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ) পুণ্যভূমি মাইজভাণ্ডার শরীফে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি 'তরিক্বা-এ-মাইজভাণ্ডারীয়া' এর মহান প্রবর্তক হুযুর গাউসুল আযম হযরত সাইয়্যিদ আহমদউল্লাহ্ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী (কঃ) এর ভ্রাতুষ্পুত্র 'ত্বরিকা-এ-মাইজভাণ্ডারীয়া'র প্রাণপুরুষ গাউসুল আযম হযরত সাইয়্যিদ গোলামুর রহমান বাবাভাণ্ডারী (কাদ্দাসাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ) এর স্নেহধন্য পৌত্র।

জন্মের পর থেকেই তিনি যে মাতৃগর্ভ থেকে মহান এক অলি আল্লাহ্ হয়ে এসেছেন, তার প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি মাঝে মাঝে বলতেন 'কালু বালা'। রুহের জগতে মহান আল্লাহ্ যখন সমস্ত রুহকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, "আমি কি তোমাদের রব নই?" তখন "কালু বালা" বলে সকলে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। আল্লাহর বিশেষ বান্দা ব্যাতীত সকলেই সেই স্মৃতি ভুলে যায়।

স্বীয় পিতা ও তৎকালীন যুগশ্রেষ্ঠ ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে তিনি কুরআন, হাদীস, ফিকহ্সহ বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করেন।
১৯৬২ সালের ৫ই এপ্রিল, মহান ২২শে চৈত্র গাউসুল আযম হযরত সাইয়্যিদ গোলামুর রহমান বাবাভাণ্ডারী (কাদ্দাসাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ) এর পবিত্র ওরশ শরীফে তার পিতা তাকে বায়াতে খাস বা বিশেষ বায়াতের মাধ্যমে 'ত্বরিকা-এ-মাইজভাণ্ডারীয়া' এর দায়িত্ব অর্পন করেন।

"অজেয় মহাকালকে জয় করেছেন হযরত সাইয়্যিদ মইনুদ্দীন আহমদ আল হাসানী (কঃ)।" সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী

শত শত বা হাজার হাজার নয় লক্ষ লক্ষ মানুষ তার সাহচর্যে এসে দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেছেন আর অগণিত মানুষ খুঁজে পেয়েছেন মুক্তির পথ। মানবপ্রেমের মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার সন্ধানই ছিল তার মৌলিক দর্শন। তিনি ছিলেন প্রিয় নবিজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আদর্শের প্রতিচ্ছবি।

তার অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, জ্ঞানের উৎকর্ষ ও আধ্যাত্নিক শক্তি জাতিসংঘ, ইউনেস্কোর মত আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মেও তাকে উচ্চ মর্যাদার আসনে আসীন করেছে।

যতবারই প্রতিকূলতা এসেছে, বীরদর্পে অবতীর্ণ হয়েছেন সম্মুখ সমরে। মহান আল্লাহর প্রতি অটল আস্থা ও ধৈর্যের সাথে দুর্গম পথ পারি দিয়েছেন।
ইমাম হোসাইন (আঃ) এর সুযোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে প্রমাণ করতে গিয়ে, নিজেকে উৎসর্গ করে দিয়েছেন দ্বীনের জন্য। বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও দূরদর্শী পদক্ষেপে, বাংলাদেশে প্রিয় নবিজী (দ) এর প্রেমকে সুদৃঢ় ভিত্তিতে দাড় করিয়েছেন।

পৃথিবীর উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম তিনি ইসলামের অমীয় বাণী, মূল ধারা প্রচার প্রসারে যেমন কৃতিত্ব দেখিয়েছেন, তেমনি বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও তার বিচরণ ছিল। তাই তিনি একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের প্রাণস্পন্দন। মানুষের মনকে তিনি জয় করতে পেরেছেন বলেই তার স্বর্গীয় সুষমায় পরিপূর্ণ সেই চেহারা মুবারক ও হাসি, মানব অন্তরে চিরস্থায়ীভাবে স্থান করে নিয়েছেন।

অসংখ্য মসজিদ, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে তিনি শরিয়তের খেদমত করেছেন। সর্বসম্মতিক্রমে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে সুন্নীজনতার অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেছেন। আবার তরিক্বতের সংস্কারও করেছেন। ১৯৮৭ সালে তিনি মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে প্রথম 'রাহমানিয়া মইনীয়া দরসে নেজামি মাদ্রাসা, হেফজখানা ও এতিমখানা কমপ্লেক্স' নামে মাদ্রাসা ও এতিমখানা কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করলেন। তিনি বলেন, "শরীয়তের অনুসরণ ছাড়া তরিক্বতপন্থী হওয়া যায় না। প্রিয় নবিজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) এর পবিত্র সুন্নাহ্ অনুসরণে আউলিয়া-এ-কেরামের দেখানো পথে চলুন।"

"তরিক্বা-এ-মাইজভাণ্ডারীয়া"কে তিনি বৈশ্বিক রূপদান করেছেন। বিশ্বদরবারে এ তরিক্বার মহৎ দর্শনকে পরিচিত করেছেন।

এ ব্যাপক দায়িত্বের মাঝেও তিনি প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের পতাকাকে গৌরবের সাথে বিশ্বসভায় তুলে ধরেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের যে কোন প্রয়োজনে, দূর্যোগে-সংকটে তার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা সর্বজনস্বীকৃত। মানবতার জন্য তিনি নিবেদিত প্রাণ ছিলেন। অসহায় মানুষকে স্বাবলম্বী করার জন্য তিনি টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। রিকশা, অটোরিকশা, সেলাই মেশিন বিতরণ করে তাদের ভাগ্যোন্নয়নের চেষ্টা করেন। ১৯৭০, ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড়, ১৯৮৮, ১৯৯৮ সালের বন্যাসহ বলে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগে তিনি ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেছেন।

তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্যই হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। শিক্ষাবৃত্তি, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, ত্রাণ বিতরণ, আত্নকর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ ৫০টিরও বেশি মানবসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

অর্থাৎ শরীয়ত, তরিক্বত, সুন্নীয়ত, দেশ ও মানবতা এ পাঁচটি ক্ষেত্রে তিনি অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন। সে কথা আমার নয়, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সনামধন্য সংস্থা ও ব্যক্তিবর্গের স্বীকৃতি।

১৯৯৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সানফ্রান্সিসকোতে, 'International Association of Sufism' আয়োজিত 'International Sufi Symposium' এ বিশ্বের শীর্ষ সুফি সাধক, ইসলামি স্কলার ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, গবেষকগণ তাকে 'Sheikhul Islam' উপাধিতে ভূষিত করেন। উল্লেখ্য যে, তিনি আজীবন সুফিজম বিষয়ক এ বিখ্যাত আন্তর্জাতিক সংস্থার Honorable Advisor বা সম্মানিত উপদেষ্টা ছিলেন।

২০০০ সালের ২৮-৩১শে আগস্ট, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে United Nations বা জাতিসংঘের সদরদপ্তরে বিশ্বের শীর্ষ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের নিয়ে আয়োজিত 'The Millennium World Peace Summit' এর পেনালিস্ট স্পিকার হিসেবে তার অংশগ্রহণ, বক্তব্যে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় 'The Charter of Madinah' বা "মদীনা সনদ" এর তাৎপর্য তুলে ধরা, জাতিসংঘ সদর দপ্তরে উপস্থিত সকলকে নিয়ে প্রিয় নবিজী (দ) এর প্রতি সালাতু সাল

খুঁজুন