মাজহারুল ইসলাম মাসুম, সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক, গবেষক :
১৩৫৬ হিজরীর ৯ই জিলহজ, ১৯৩৭ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারি, ২৭শে মাঘ, ১৩৪৪ বঙ্গাব্দ বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় পৃথিবীতে শুভাগমন করেন, প্রিয় নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ৩০তম পবিত্র বংশধর, তার পিতা গাউসে জামান হযরত আল্লামা শাহ্সুফি সাইয়্যিদ আবুল বশর আল হাসানী ও মা হযরত সাইয়্যেদা জাহানারা বেগম (রহঃ) এর কোল আলো করে, শায়খুল ইসলাম, হুযুর গাউসুল ওয়ারা হযরাতুলহাজ্ব আল্লামা শাহ্সুফি সাইয়্যিদ মইনুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী (কাদ্দাসাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ) পুণ্যভূমি মাইজভাণ্ডার শরীফে জন্মগ্রহণ করেন।
১৩৫৬ হিজরীর ৯ই জিলহজ, ১৯৩৭ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারি, ২৭শে মাঘ, ১৩৪৪ বঙ্গাব্দ বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় পৃথিবীতে শুভাগমন করেন, প্রিয় নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ৩০তম পবিত্র বংশধর, তার পিতা গাউসে জামান হযরত আল্লামা শাহ্সুফি সাইয়্যিদ আবুল বশর আল হাসানী ও মা হযরত সাইয়্যেদা জাহানারা বেগম (রহঃ) এর কোল আলো করে, শায়খুল ইসলাম, হুযুর গাউসুল ওয়ারা হযরাতুলহাজ্ব আল্লামা শাহ্সুফি সাইয়্যিদ মইনুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী (কাদ্দাসাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ) পুণ্যভূমি মাইজভাণ্ডার শরীফে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি 'তরিক্বা-এ-মাইজভাণ্ডারীয়া' এর মহান প্রবর্তক হুযুর গাউসুল আযম হযরত সাইয়্যিদ আহমদউল্লাহ্ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী (কঃ) এর ভ্রাতুষ্পুত্র 'ত্বরিকা-এ-মাইজভাণ্ডারীয়া'র প্রাণপুরুষ গাউসুল আযম হযরত সাইয়্যিদ গোলামুর রহমান বাবাভাণ্ডারী (কাদ্দাসাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ) এর স্নেহধন্য পৌত্র।
জন্মের পর থেকেই তিনি যে মাতৃগর্ভ থেকে মহান এক অলি আল্লাহ্ হয়ে এসেছেন, তার প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি মাঝে মাঝে বলতেন 'কালু বালা'। রুহের জগতে মহান আল্লাহ্ যখন সমস্ত রুহকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, "আমি কি তোমাদের রব নই?" তখন "কালু বালা" বলে সকলে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। আল্লাহর বিশেষ বান্দা ব্যাতীত সকলেই সেই স্মৃতি ভুলে যায়।
স্বীয় পিতা ও তৎকালীন যুগশ্রেষ্ঠ ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে তিনি কুরআন, হাদীস, ফিকহ্সহ বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করেন।
১৯৬২ সালের ৫ই এপ্রিল, মহান ২২শে চৈত্র গাউসুল আযম হযরত সাইয়্যিদ গোলামুর রহমান বাবাভাণ্ডারী (কাদ্দাসাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ) এর পবিত্র ওরশ শরীফে তার পিতা তাকে বায়াতে খাস বা বিশেষ বায়াতের মাধ্যমে 'ত্বরিকা-এ-মাইজভাণ্ডারীয়া' এর দায়িত্ব অর্পন করেন।
"অজেয় মহাকালকে জয় করেছেন হযরত সাইয়্যিদ মইনুদ্দীন আহমদ আল হাসানী (কঃ)।"সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী
শত শত বা হাজার হাজার নয় লক্ষ লক্ষ মানুষ তার সাহচর্যে এসে দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেছেন আর অগণিত মানুষ খুঁজে পেয়েছেন মুক্তির পথ। মানবপ্রেমের মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার সন্ধানই ছিল তার মৌলিক দর্শন। তিনি ছিলেন প্রিয় নবিজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আদর্শের প্রতিচ্ছবি।
তার অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, জ্ঞানের উৎকর্ষ ও আধ্যাত্নিক শক্তি জাতিসংঘ, ইউনেস্কোর মত আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মেও তাকে উচ্চ মর্যাদার আসনে আসীন করেছে।
যতবারই প্রতিকূলতা এসেছে, বীরদর্পে অবতীর্ণ হয়েছেন সম্মুখ সমরে। মহান আল্লাহর প্রতি অটল আস্থা ও ধৈর্যের সাথে দুর্গম পথ পারি দিয়েছেন।
ইমাম হোসাইন (আঃ) এর সুযোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে প্রমাণ করতে গিয়ে, নিজেকে উৎসর্গ করে দিয়েছেন দ্বীনের জন্য। বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও দূরদর্শী পদক্ষেপে, বাংলাদেশে প্রিয় নবিজী (দ) এর প্রেমকে সুদৃঢ় ভিত্তিতে দাড় করিয়েছেন।
পৃথিবীর উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম তিনি ইসলামের অমীয় বাণী, মূল ধারা প্রচার প্রসারে যেমন কৃতিত্ব দেখিয়েছেন, তেমনি বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও তার বিচরণ ছিল। তাই তিনি একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের প্রাণস্পন্দন। মানুষের মনকে তিনি জয় করতে পেরেছেন বলেই তার স্বর্গীয় সুষমায় পরিপূর্ণ সেই চেহারা মুবারক ও হাসি, মানব অন্তরে চিরস্থায়ীভাবে স্থান করে নিয়েছেন।
অসংখ্য মসজিদ, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে তিনি শরিয়তের খেদমত করেছেন। সর্বসম্মতিক্রমে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে সুন্নীজনতার অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেছেন। আবার তরিক্বতের সংস্কারও করেছেন। ১৯৮৭ সালে তিনি মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে প্রথম 'রাহমানিয়া মইনীয়া দরসে নেজামি মাদ্রাসা, হেফজখানা ও এতিমখানা কমপ্লেক্স' নামে মাদ্রাসা ও এতিমখানা কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করলেন। তিনি বলেন, "শরীয়তের অনুসরণ ছাড়া তরিক্বতপন্থী হওয়া যায় না। প্রিয় নবিজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) এর পবিত্র সুন্নাহ্ অনুসরণে আউলিয়া-এ-কেরামের দেখানো পথে চলুন।"
"তরিক্বা-এ-মাইজভাণ্ডারীয়া"কে তিনি বৈশ্বিক রূপদান করেছেন। বিশ্বদরবারে এ তরিক্বার মহৎ দর্শনকে পরিচিত করেছেন।
এ ব্যাপক দায়িত্বের মাঝেও তিনি প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের পতাকাকে গৌরবের সাথে বিশ্বসভায় তুলে ধরেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের যে কোন প্রয়োজনে, দূর্যোগে-সংকটে তার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা সর্বজনস্বীকৃত। মানবতার জন্য তিনি নিবেদিত প্রাণ ছিলেন। অসহায় মানুষকে স্বাবলম্বী করার জন্য তিনি টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। রিকশা, অটোরিকশা, সেলাই মেশিন বিতরণ করে তাদের ভাগ্যোন্নয়নের চেষ্টা করেন। ১৯৭০, ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড়, ১৯৮৮, ১৯৯৮ সালের বন্যাসহ বলে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগে তিনি ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেছেন।
তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্যই হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। শিক্ষাবৃত্তি, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, ত্রাণ বিতরণ, আত্নকর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ ৫০টিরও বেশি মানবসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
অর্থাৎ শরীয়ত, তরিক্বত, সুন্নীয়ত, দেশ ও মানবতা এ পাঁচটি ক্ষেত্রে তিনি অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন। সে কথা আমার নয়, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সনামধন্য সংস্থা ও ব্যক্তিবর্গের স্বীকৃতি।
১৯৯৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সানফ্রান্সিসকোতে, 'International Association of Sufism' আয়োজিত 'International Sufi Symposium' এ বিশ্বের শীর্ষ সুফি সাধক, ইসলামি স্কলার ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, গবেষকগণ তাকে 'Sheikhul Islam' উপাধিতে ভূষিত করেন। উল্লেখ্য যে, তিনি আজীবন সুফিজম বিষয়ক এ বিখ্যাত আন্তর্জাতিক সংস্থার Honorable Advisor বা সম্মানিত উপদেষ্টা ছিলেন।
২০০০ সালের ২৮-৩১শে আগস্ট, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে United Nations বা জাতিসংঘের সদরদপ্তরে বিশ্বের শীর্ষ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের নিয়ে আয়োজিত 'The Millennium World Peace Summit' এর পেনালিস্ট স্পিকার হিসেবে তার অংশগ্রহণ, বক্তব্যে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় 'The Charter of Madinah' বা "মদীনা সনদ" এর তাৎপর্য তুলে ধরা, জাতিসংঘ সদর দপ্তরে উপস্থিত সকলকে নিয়ে প্রিয় নবিজী (দ) এর প্রতি সালাতু সালাম পাঠের মত বিরল অর্জনই প্রমাণ করে, তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামি নেতা ও যুগশ্রেষ্ঠ আধ্যাত্নিক সাধক।
একই বছরের সেপ্টেম্বরে মধ্য এশিয়ার দেশ উজবেকিস্তানের তাসখন্দে বিশ্বের শিক্ষা, ধর্ম, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য বিষয়ক শীর্ষ সংস্থা UNESCO আয়োজিত 'International Workshop on Sufism' এ তিনি পেনালিস্ট স্পিকার হিসেবে অংশগ্রহণ করেন, যা একজন সুফি হিসেবে তার উচ্চ মর্যাদাকে সত্যায়িত করেছে। এমনকি "Tashkent Islamic University" তাকে বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করে।
২০০৫ সালে 'Gold Coast' খ্যাত আফ্রিকা মহাদেশের দেশ ঘানার রাজধানীতে ঘানা জাতীয় কাউন্সিল ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক ইসলামি সংস্থা, 'Universal Islamic Centre' তাকে 'The Grand Ambassador for Islam and Universal Peace' অর্থাৎ 'ইসলাম ও বিশ্বশান্তির দূত' হিসেবে ভূষিত করে।
একজন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব হওয়ায়, স্বাভাবিকভাবেই দেশের শীর্ষ পর্যায় ও রাজনৈতিক মহলে তার পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা ছিল। তবে তিনি কোন স্বার্থে জড়িত না হয়ে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার চেষ্টা করেছেন। প্রতিবছর মহান ১২ই রবিউল আউয়াল, পবিত্র ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (দ) এর সমাবেশে তিনি দল-মত নির্বিশেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে অতিথি হিসেবে দাওয়াত দিতেন। এভাবে ভিন্ন মতের মাঝে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে একটি যোগসূত্র স্থাপন করতেন।
সুফিবাদের জন্য অবদান এবং দেশের পতাকাকে বিশ্বসভায় সম্মানের সাথে উড্ডীন করার জন্য, ২০০৩ সালে ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটে 'বাংলাদেশ সুফি মজলিশ' আয়োজিত সম্মেলনে, বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে 'বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সুফি' সম্মাননা পদক গ্রহণ করেন।
বিশ্বের সকল শীর্ষ সুফি দার্শনিকদের সাথে তার সুসম্পর্ক ও নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। আবার বাংলাদেশের পীর মাশায়েখ, আলেম ওলামাদেরও তিনি ছিলেন মধ্যমণি। ১৯৮৮ সালে উপমহাদেশের বিখ্যাত বিদ্যাপীঠ, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নীয়া আলিয়া মাদ্রাসা ময়দানে ১১০০০ এরও বেশি শীর্ষস্থানীয় সুন্নী পীর মাশায়েখ, ওলামায়ে কেরামগণ তাকে "আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত"র প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দিলেন,
"সুন্নীয়তের জন্য রক্ত দিতে হলে, আমি মইনুদ্দীনই সর্বপ্রথম রক্ত দিতে প্রস্তুত আছি।"
তিনি ছিলেন একজন অবিসংবাদিত নেতা। সকলকে তিনি এক স্থানে এনে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে সক্ষম হন। এ কথা অনস্বীকার্য যে, হযরত সাইয়্যিদ মইনুদ্দীন আহমদ আল হাসানী (কঃ) বাংলাদেশে 'পবিত্র ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (দ)' ও 'শাহাদাত-এ-কারবালা' মাহ্ফিল প্রতিষ্ঠায় প্রধান ও অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। আজ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার যে রাষ্ট্রীয়ভাবে পবিত্র ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (দ) উদযাপন করছে, এর জন্য তার অবদানকে শ্রদ্ধাভরে মুসলিম জাহান চিরকাল স্মরণ রাখবে। তিনি বলেছেন,
"রাষ্ট্রীয়ভাবে পবিত্র ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (দ) উদযাপিত হলে এ দেশে অভাব-অনটন-হাহাকার থাকবে না।"
১৯৮৮ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'আঞ্জুমান-এ-রাহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়া'। এটি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ইসলামি ও সুফিবাদী আদর্শের সংগঠন। ১৯৮৮ সাল থেকে এ সংগঠনই প্রতি বছর রাজধানী ঢাকায় বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম পবিত্র জশনে জুলুসে 'ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (দ)' আয়োজন করে আসছে। শিক্ষা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবতার সেবায় এ সংগঠন উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে আসছে।
আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ক রক্ষায় হযরত সাইয়্যিদ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী (কঃ) সমগ্র বিশ্বে একজন রোল মডেল। তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শীর্ষক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি বাংলাদেশের ভিন্ন ধর্মের শীর্ষ প্রতিনিধিদের নিয়ে সেমিনার, গোল টেবিল আলোচনা আয়োজন করেছেন। তিনি বলেন,
"সকল ধর্মের মর্মকথা, মানবপ্রেম ও মানবতা"
ইসলামি সংস্কৃতি রক্ষায় তিনি 'হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী ক্যালিগ্রাফি ফাউন্ডেশন' প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৮ সালে এ ফাউন্ডেশন জাতীয় জাদুঘরে ১০ দিনব্যাপী ''10th National Calligraphy Exhibition and Competition" এর আয়োজন করেছে।
'The Fountain', 'The Drops of Truth', 'The Way of Salvation' তার রচিত প্রসিদ্ধ গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম। 'মইনীয়া প্রকাশনী' প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি কুরআন সুন্নাহ্, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত এর আক্বিদা, তাসাউফ ও 'তরিক্বা-এ-মাইজভাণ্ডারীয়া' এর বিশুদ্ধ জ্ঞান সম্বলিত বহু গ্রন্থ, সাময়িকী প্রকাশ ও পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন।
মহাকালের কাছে পৃথিবীর সবকিছু অসহায় আত্নসমর্পণে বাধ্য হয়। সেই অজেয় মহাকালকেও জয় করেছেন হযরত সাইয়্যিদ মইনুদ্দীন আহমদ আল হাসানী (কঃ)। মহাকাল পরাজয় বরণ করে মহাপুরুষদের কাছে। কারণ তাদের মহৎ কর্ম অবিনশ্বর। তাদের স্মরণকে, পৃথিবীর চিরায়ত বিধানও বিস্মৃত করতে পারে নি। তাই তারা চিরঞ্জীব সত্তা হয়ে বেঁচে থাকবেন কোটি মানুষের হৃদয়ে, ইতিহাসের পাতায় তাদের নাম লেখা থাকবে সোনালি হরফে।
যাকে লেখনীতে, ভাষায়, বর্ণনায় তুলে ধরা অসাধ্য, সেই ক্ষণজন্মা মহাত্মা, নবীকরিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ৩০তম পবিত্র বংশধর, শায়খুল ইসলাম, ত্বরীকা-এ-মাইজভাণ্ডারীয়ার মহান দিকপাল, ইমামে আহলে সুন্নাত, বিশ্বশান্তির দূত, হুযুর গাউসুল ওয়ারা, হযরাতুলহাজ্ব আল্লামা শাহ্সূফি সাইয়্যিদ মইনুদ্দীন আহমদ আল হাসানী ওয়াল হোসাইনী মাইজভাণ্ডারী (কাদ্দাসাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ)।
তার কয়েকটি অমূল্য বাণী :
"প্রিয় নবিজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রেম, দরুদ ও সালাম ইহকালীন ও পরকালীন মুক্তির পাথেয়।"
"রাষ্ট্রীয়ভাবে পবিত্র ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (দ) উদযাপিত হলে এ দেশে অভাব-অনটন-হাহাকার থাকবে না। রাষ্ট্রের নেতৃবৃন্দ নবী অলিমুখী হয়ে গেলে মহান আল্লাহ্ এ দেশের মাটির নিচে থাকা অগাধ খনিজ সম্পদ এদেশের মানুষকে দিয়ে দিবেন।"
"সুন্নীয়তের জন্য রক্ত দিতে হলে, আমি মইনুদ্দীনই সর্বপ্রথম রক্ত দিতে প্রস্তুত আছি।
"আমি সকলকে আমার ছেলে মেয়ের মতই ভালোবাসি।"
"ভালোবাসা দিয়ে সবকিছু জয় করা যায়। জোড় করে কিছুই পাওয়া যায় না।"
"সকল ধর্মের মর্মকথা, মানবপ্রেম ও মানবতা"
"শরীয়তের অনুসরণ ছাড়া তরিক্বতপন্থী হওয়া যায় না। প্রিয় নবিজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) এর পবিত্র সুন্নাহ্ অনুসরণে আউলিয়া-এ-কেরামের দেখানো পথে চলুন।"
"যদি কখনো আমার সন্ধান না পাও, মন থেকে আমাকে স্মরণ করিও। আমিই তোমার কাছে পৌঁছে যাবো।"
১৭ই রমজান, ১৪৩২ হিজরী, ঐতিহাসিক বদর দিবস, ২রা ভাদ্র ১৪১৮ বঙ্গাব্দ, ১৭ আগষ্ট, ২০১১ খ্রিস্টাব্দে নশ্বর এ ধরণীকে বিদায় জানিয়ে আপন স্রষ্টা, মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আ'লামিনের প্রেমময় সান্নিধ্যের উদ্দ্যেশ্যে যাত্রা করেন।
আজ পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষ তার অবদানকে স্মরণ করছে৷ শান্তি-সম্প্রীতিপূর্ণ মানবিক বিশ্ব প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন আমাদেরকে তিনি দেখিয়েছেন, আমরা যেন সে লক্ষ্যে অগ্রসর হতে পারি এবং নিজেদের জীবনে তার আদর্শের প্রতিফলন ঘটাতে পারি, মহান আল্লাহ্ আমাদেরকে শক্তি দিন।