শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
সুফিবাদ নবীজির পবিত্র রওজা মোবারক জিয়ারতের ফযীলত

নবীজির পবিত্র রওজা মোবারক জিয়ারতের ফযীলত

★. মদীনা থেকেই ঈমানের আলো সারা বিশ্বে বিচ্ছুরিত হয়েছিল।শেষ যুগে মানুষ যখন ঈমান থেকে বিচ্যুত হতে থাকবে,তখন ঈমান তার গৃহে তথা মদীনার দিকে ফিরে আসবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,‘ঈমান মদীনার দিকে ফিরে আসবে,যেভাবে সাপ তার গর্তের দিকে ফিরে আসে’।
[সহিহ বুখারি, হাদীস: ১৮৭৬]

★. দাজ্জাল মক্কা-মদিনায় ঢুকতে পারবে না: দাজ্জালের আবির্ভাবে ফিতনা যখন বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়বে, পৃথিবীবাসী ভীত থাকবে। পৃথিবীর সর্বত্র বিচরণ করতে সক্ষম হলেও তখন সে পবিত্র মদীনায় প্রবেশ করতে পারবে না। হাদীস শরীফে আছে,হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) সূত্রে বর্ণিত,রাসুলুল্লাহ (ﷺ)
ইরশাদ করেন,‘মক্কা ও মদীনা ছাড়া এমন কোনো শহর নেই,যেখানে দাজ্জালের প্রবেশে বিপর্যস্ত করবে না। মক্কা-মদীনার প্রতিটি প্রবেশপথ ফেরেশতারা সারিবদ্ধ হয়ে পাহারা দেবেন। তখন মদীনা তার অধিবাসীদেরসহ তিনবার কেঁপে উঠবে।আর সব কাফির ও মুনাফিক মদীনা ছেড়ে চলে যাবে’।
[সহিহ বুখারি,হাদীস : ১৮৮১]

হজরত আবু বাকরা (রা.) সূত্রে বর্ণিত,রাসুলুল্লাহ(ﷺ) ইরশাদ করেন, ‘মদিনা মুনাওয়ারায় মাসিহ দাজ্জালের প্রভাব পড়বে না,তখন তার সাতটি প্রবেশপথ থাকবে, প্রত্যেক প্রবেশপথে দুজন করে ফেরেশতা পাহারারত থাকবেন। [বুখারি,হাদিস:১৮৭৯]
হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন,‘একদা রাসুলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের দাজ্জাল সম্পর্কে দীর্ঘ বর্ণনা দেন। তাতে এ কথাও বলেন যে মদিনার প্রবেশপথে দাজ্জালের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। সেদিন একজন মানুষ যে শ্রেষ্ঠ মানুষদের অন্তর্ভুক্ত হবে,সে দাজ্জালের কাছে গিয়ে বলবে যে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তুমি ওই দাজ্জাল,যার ব্যাপারে আমাদের রাসুলুল্লাহ (ﷺ) সাবধান করেছেন। দাজ্জাল তার সঙ্গীদের বলবে,আমি যদি তাকে হত্যা করে আবার জীবিত করতে পারি,তবে কি তোমরা আমার প্রভুত্বে সন্দেহ করবে? তারা বলবে, না। তখন সে ওই ব্যক্তিকে হত্যা করে আবার জীবিত করবে।ওই ব্যক্তি বলবে,আল্লাহর কসম! আমি এখন আরো নিশ্চিত হলাম যে তুমি দাজ্জাল। তখন দাজ্জাল বলবে, তাকে আমি হত্যা করব। কিন্তু সে আর তাকে হত্যা করতে সক্ষম হবে না।
[বুখারি,হাদিস : ১৮৮২]

★. হেজাজ থেকে আগুন বের হবে: হজরত আবু হুরাইরা (রা.) সূত্রে বর্ণিত,রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন,‘ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না,যতক্ষণ হেজাজের জমিন থেকে এমন ভয়াবহ আগুনের আবির্ভাব হবে না,যার ফলে বুসরার উটের গর্দানও আলোকিত হয়ে যাবে। [বুখারি : হাদিস : ৭১১৮]

★. মক্কার দিকে অগ্রসরমাণ শত্রুবাহিনী ভূমিধসে পতিত হবে:
হজরত উম্মে সালামা (রা.) সূত্রে বর্ণিত,রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন,‘জনৈক আশ্রয় গ্রহণকারী বাইতুল্লাহ শরিফে আশ্রয় গ্রহণ করবে। তখন তাকে পাকড়াও করার জন্য সৈন্য পাঠানো হবে। কিন্তু ওই দল যখন বাইদা নামক স্থানে এসে পৌঁছবে, তখন ভূমিধসে সবাই তলিয়ে যাবে। উম্মে সালামা (রা.) বলেন, আমি আরজ করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! তাদের মধ্যে যদি কেউ এমন হয় যে সে এই দলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেনি; বরং তাদের জোরপূর্বক নেওয়া হয়েছে, তাদেরও কি এ শাস্তি দেওয়া হবে? তখন রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করলেন, হ্যাঁ, সবাই ভূমিধসে পতিত হবে, যদিও কিয়ামতের দিন যার যার নিয়তের ওপর ফায়সালা করা হবে। [সহিহ মুসলিম,হাদিস : ২৮৮২]

★. কিয়ামতের আগে কাবা শরিফ ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে: হজরত আবু হুরাইরা (রা.) সূত্রে বর্ণিত,রাসুলুল্লাহ (ﷺ)
ইরশাদ করেন,‘(কিয়ামতের পূর্বে) কাবা শরিফকে হাবশার (বর্তমানে আবিসিনিয়া) জনৈক ব্যক্তি ধ্বংস করবে,যার পা চিকন হবে।
[বুখারি,হাদিস : ১৫৯১]
আবু দাউদ শরীফ ও অন্যান্য হাদিসের কিতাবের বর্ণনায় রয়েছে যে,ওই ব্যক্তি কাবা শরিফের গুপ্তধন আত্মসাৎ করার জন্য কাবা শরিফ ধ্বংস করবে।

[আবু দাউদ, হাদিস : ৪৩০৯]
মুসনাদে আহমাদের বর্ণনায় রয়েছে,ওই ব্যক্তি কাবা শরিফের গিলাফ ও অন্যান্য সম্পদ কেড়ে নেবে।যেন আমি দেখছি,জনৈক টাকমাথা ও বাঁকা পাবিশিষ্ট ব্যক্তি কোদাল ও কুঠার দিয়ে কাবা ঘরে আঘাত করছে।
[মুসনাদে আহমাদ,হাদিস : ৭০৫৩]

হজরত সাউবান (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের গুপ্তধন নিয়ে তিন ব্যক্তি যুদ্ধ করবে,যারা সবাই খলিফার সন্তান,কিন্তু ওই ধন তারা একজনও পাবে না। অতঃপর পূর্বদেশ থেকে কালো পতাকাবাহীরা বের হবে,যারা তোমাদের এমনভাবে হত্যা করবে,যা এর আগে কেউ করেনি।বর্ণনাকারী বলেন,এরপর রাসুলুল্লাহ (ﷺ) আরো কিছু কথা বলেন,যা আমার এখন স্মরণে নেই। অতঃপর বললেন, যখন তোমরা তাকে দেখবে,তার হাতে বাইআত গ্রহণ করবে,বরফের ওপর হামাগুড়ি দিয়ে এসে হলেও,কেননা তিনি হলেন আল্লাহর খলিফা মাহদি। [সুনানে ইবনে মাজাহ,হাদিস : ৪০৮৪]

এ হাদিসে গুপ্তধনের ব্যাখ্যায় আল্লামা সিন্দি (রহ:) বলেন,এর দ্বারা আরবের রাজত্ব বোঝানো হয়েছে। ইমাম ইবনে কাসির (রহ:) বলেন, এখানে বাহ্যত গুপ্তধন দ্বারা কাবা শরিফের গুপ্তধনই উদ্দেশ্য হওয়া বোঝা যায়।সঙ্গে সঙ্গে এ কথাও বোঝা যায় যে কিয়ামতের আগে ওই কালো পতাকাবাহীরা ইমাম মাহদির সঙ্গে যুক্ত হবেন এবং মাহদির দলভুক্ত হবেন।
[হাশিয়াতুস সিন্দি আলা ইবনে মাজাহ : ২/৫১৮]

খুঁজুন